কেশবপুরে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট, দিশেহারা খামারিরা


২০ মার্চ ২০২৫ ১৫:১৮

এম এম আবদুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) : কেশবপুরে গবাদি পশুর প্রধান খাদ্য বিচালির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে গরুর অন্যান্য সুষম খাদ্যের দামও। গত কয়েক বছর ধরে কেশবপুরের প্রধান প্রধান নদী খনন না করায় সৃষ্ট বন্যার কারণে অধিকাংশ নিচু এলাকায় গত মওসুমে আমন ধান আবাদ হয়নি। এ কারণে বিচালির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ৫০০ টাকায়ও মিলছে না এক পোন (২০ গণ্ডা) বিচালি। এতে দিশেহারা হয়ে অনেক খামারি লোকসান এড়াতে কম দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন ।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার প্রধান প্রধান নদী খনন না করার কারণে সৃষ্ট পানিবদ্ধতায় অধিকাংশ নিচু এলাকার গত আমন মৌসুমে ধানের আবাদ হয়নি। এছাড়া চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় হাজার হেক্টর কম জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। তাছাড়া বোরো ধান ঘরে উঠতে সময় লাগবে আরো এক থেকে দেড় মাস। এর ফলে গবাদিপশুর খাবার বিচালির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এ উপজেলায় খামারের মাধ্যমে বহু মানুষ গরু মোটাতাজাকরণ করে থাকেন। এর বাইরেও অধিকাংশ পরিবার এক থেকে দুটি করে গরু মোটাতাজাকরণ করে পরিবারে স্বচ্ছলতার জোগান দেয়। এর পাশাপাশি দুধের গরু পালনও দেখা যায়। অধিকাংশ চাষির গরুর বিচালির জোগান মেটাতে বাড়ির আঙিনায় ১-২ কাঠা জমিতে উন্নতজাতের ঘাসের প্লট রয়েছে।
এতে মধ্যবিত্তরা গরু কিনে ৩-৪ মাস পালনের পর বেচে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালায়। কিন্তু বর্তমান গবাদি পশুর প্রধান খাবার বিচালির তীব্র সংকটসহ অন্যান্য সুষম খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। মঙ্গলকোট গ্রামের খামারি আব্দুল্লাহ বলেন, বিচালির অভাবে গবাদিপশু পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। বেশি দাম দিয়ে কোনোরকম বিচালি কিনে আনলেও গরুর খাদ্যাভাব মিটানো যাচ্ছে না, গরু শুকিয়ে যাচ্ছে। গরুর শুকনো বা সুষম খাবারের দামও বেড়ে গেছে।
ধানের কুঁড়া, গমের ভুসি, সরিষার খৈলের দামও রেড়েছে অস্বাভাবিক। বিচালির পোন কিনতে হচ্ছে ৫০০ টাকায়। তাও পাওয়া যাচ্ছে না। সামনে বোরো ধান না ওঠা পর্যন্ত বিচালির দাম আর কমবে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পৌর এলাকার সরফাবাদ গ্রামের গরু খামারি আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বিচালির পোন কিনতে হচ্ছে ৫০০ টাকায়। এছাড়া ধানের কুঁড়োর কেজি ২০ টাকা, গমের ভুসির কেজি ৪৭ টাকা, সরিষার খৈল কেজি ৫০ টাকা, সয়াবিন খৈল কেজি ৬৫ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বিচালির অভাবে তিনি কম দামে একটি গরু বেচে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রণিসম্পদ অফিসার ডা. অলোকেশ কুমার সরকার বলেন, এ উপজেলায় ২৬৯টি গরুর খামার রয়েছে। গাভির খামার রয়েছে ১৭১টি। মোট গরু রয়েছে ৯৪ হাজার ৫৩৪টি। বিচালি এসব গরুর প্রধান খাদ্য। খাদ্যের চাহিদা মেটাতে জমিতে ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধ করতে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।