সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


২০ মার্চ ২০২৫ ১৪:১৫

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায়ে পরিণত হবে
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যানুসারে, ২০৪০ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যা ইহুদি সম্প্রদায়কে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায়ে পরিণত হবে। এই বৃদ্ধির মূল কারণ হলো, উচ্চ প্রজনন হার এবং অভিবাসন। গবেষণায় আরও জানা গেছে যে, ২০১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আগত মুসলিম অভিবাসীর সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। বর্তমানে, দেশটিতে তিন-চতুর্থাংশ মুসলিম-ই হয় অভিবাসী অথবা অভিবাসীদের সন্তান। অভিবাসনের কারণে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সালে আমেরিকান মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৩.৪৫ মিলিয়ন এবং ২০৫০ সালের মধ্যে তা ৮.১ মিলিয়নে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যার গড় বয়স অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের তুলনায় কম। এর অর্থ হলো, মুসলিমদের প্রজনন হার বেশি। ফলস্বরূপ আমেরিকায় আগামী দশকগুলোয় মুসলিম জনসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর জেরে মুসলিমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মের নিরিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠীতে পরিণত হবে। আমেরিকায় দ্রুতগতিতে ও উল্লখযোগ্যহারে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়লেও তা কখনোই খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে ছাপিয়ে যেতে পারবে না। তুলনায় কম থাকবে মুসলমান জনসংখ্যা। তা সত্ত্বেও ধর্মীয় কাঠামোর পরিবর্তন আমেরিকার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এই রূপান্তর সেদেশের সামাজিক ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। রয়টার্স।

চীন থেকে সাবমেরিন পেল পাকিস্তান, চিন্তায় ভারত!
বন্ধু চীনের থেকে হাঙর ক্যাটাগরির আরেকটি সাবমেরিন হাতে পেল পকিস্তান। এ ধরনের মোট আটটি হাঙর ক্লাস ডুবোজাহাজ পাকিস্তানকে দেয়ার কথা চীনের। এর মধ্যে উক্ত সাবমেরিনটি দ্বিতীয় বলে জানা গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত ১৩ মার্চ মধ্যাঞ্চলীয় শহর উহানে ইয়াংজি নদীর তীরে চায়না শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন এ সাবমেরিনটিকে পানিতে নামায়। এই সাবমেরিনটি ডিজেল-বৈদ্যুতিক হাঙর শ্রেণির। এই হাঙর সাবমেরিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ওয়াইস আহমেদ বিলগ্রামি জোর দিয়ে বলেন, অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সর দিয়ে সজ্জিত হাঙর শ্রেণির সাবমেরিনগুলো এ অঞ্চলে সামুদ্রিক শৃঙ্খলার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
চীনের কাছ থেকে পাকিস্তান যে আটটি সাবমেরিন কেনার জন্য চুক্তি করেছে এর মধ্যে শেষ চারটি পাকিস্তানের বন্দর নগরীতে করাচি শিপইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস দ্বারা নির্মিত হবে। এই হাঙর শ্রেণির সাবমেরিন চীনের ০৩৯এ সাবমেরিনের ‘রফতানি সংস্করণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। চীনের সেই সাবমেরিনে ৩৮ জন ক্রু-সহ বিশেষ বাহিনীর সৈন্যদের জন্য আটটি জায়গা রয়েছে এবং টর্পেডো এবং অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তা সজ্জিত।
এদিকে দ্বিতীয় হাঙর সাবমেরিন হাতে পাওয়ায় আরব সাগরে পাকিস্তানের সামরিক শক্তি আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন পাকিস্তানের জন্য হ্যাঙ্গর সাবমেরিন তৈরি করলেও তা ভারতের জন্য বড় কোনো হুমকি হবে না। ভারত অতীতেও পাকিস্তানকে পানিতে মাত করেছে এবং আরব সাগরে সামরিক শক্তির দিক থেকে ভারত এখনো পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ভারতের কাছে রাফালের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং আইএনএস আরিঘাটের মতো পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন রয়েছে। এদিকে ভারতের কাছে আইএনএস অরিহান্ত, এস৩ (আইএনএস আরিঘাট), এস৪ পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালাস্টিক সাবমেরিন আছে। এছাড়া একাধিক প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন রয়েছে। এছাড়া ভারত রাশিয়া থেকে লিজ নেয়া একটি পারমাণবিক সাবমেরিন ব্যবহার করা শুরু করবে শিগগিরই। হিন্দুস্তান টাইমস।

রোজা রাখছেন অমুসলিমরাও
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত একাধিক অমুসলিম প্রবাসী রমজানের পবিত্রতা ও ঐক্যের আবহ অনুভব করতে নানা উপায়ে অংশ নিচ্ছেন। মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে রোজা রাখা, ইফতারে যোগ দেওয়া এবং প্রকাশ্যে খাবার না খাওয়ার মাধ্যমে তারা সংহতি ও বোঝাপড়ার এক সুন্দর উদাহরণ সৃষ্টি করছেন। দুবাইয়ের এক ব্রিটিশ শিক্ষিকা সোফি মিড বলেন, ‘আমার শিক্ষার্থীরা রোজা রেখে স্কুলে আসে। তাদের অভিজ্ঞতা বোঝার জন্য আমিও রোজা রাখা শুরু করি।’ তিনি বলেন, ইফতারের সময় খেজুর, তাহিনির সঙ্গে খেজুর এবং এক কাপ কারাক চা তার পছন্দের খাবার হয়ে উঠেছে। সোফি আরও জানান, রমজান মাসে তিনি তার আবায়া সংগ্রহ থেকে পোশাক বেছে নেন। খালিজ টাইমস।

রোজা রেখেও বিশ্বরেকর্ড
কাবুঙ্গা নামে পরিচিত মিশরীয় ক্রীড়াবিদ আশরাফ মাহরুস রমজান মাসে রোজা রেখে ২৭৯ টনের ট্রেন টেনে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। কায়রোর প্রধান রেলওয়ে স্টেশন, রামসেস স্টেশনে শত শত দর্শক এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কমিটির উপস্থিতিতে কাবুঙ্গা একটি ইঞ্জিন এবং বেশ কয়েকটি বগি সমন্বিত ১০ মিটার (৩৩ ফুট) লম্বা একটি ট্রেন টেনে নিয়ে যান। কাবুঙ্গা প্রথমবারের মতো রোজা রেখে অংশগ্রহণ করায় এমন কিছু হয়নি, তিনি এর আগে ২২১ টনের ট্রেন টেনে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন এবং এবার তিনি নিজের রেকর্ডটিই ভেঙেছেন। তুর্কি সংবাদ সংস্থার সাথে কথা বলতে গিয়ে কাবুঙ্গা বলেন, প্রথম দিনে থাকা অবস্থায় তিনি মাত্র ৩৭ সেকেন্ডে ১০৭ মিটার ২ টনের একটি কার্ট টেনেছেন। তারপর আমি ১০০ মিটার এক টনের গাড়ি বহন করে ৬০ সেকেন্ডের সীমা অতিক্রম করলাম। কাবুঙ্গা ফ্রিস্টাইল কুস্তিতেও তার দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। এ কৃতিত্বের পর তিনি বলেন, ‘আমি প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম যে, রমজানে রোজা রেখেও আমরা আমাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পারি, কিছুই অসম্ভব নয়’। জে এন।

খোলা জায়গায় নামাজ পড়ায় ভারতে শিক্ষার্থী গ্রেফতার
ভারতের উত্তরপ্রদেশে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলা জায়গায় নামাজ পড়ার অভিযোগে পুলিশ এক ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে। গত ১৬ মার্চ রোববার উত্তরপ্রদেশের মিরাটে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে হোলি উদযাপনকে কেন্দ্র করে একদল ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নামাজ পড়তে দেখা যায় এমন একটি ভিডিও প্রকাশের পর স্থানীয় হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর বিক্ষোভের পর খালিদ প্রধানকে (খালিদ মেওয়াতি) গ্রেফতার
করা হয়।
এই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খালিদ প্রধান এবং তিনজন নিরাপত্তা কর্মীকে বরখাস্ত করেছে এবং ভিডিওটি আপলোডকারী খালিদ প্রধানের বিরুদ্ধে পুলিশ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে। রোববার সার্কেল অফিসার সদর দেহাত শিব প্রতাপ সিং পিটিআইকে বলেন, ‘আইআইএমটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নামাজ পড়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে খালিদ প্রধানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
গত ১৫ মার্চ শনিবার গঙ্গা নগর থানার এসএইচও অনুপ সিং জানান, কার্তিক হিন্দু নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) ধারা ২৯৯ (যেকোনো শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত এবং বিদ্বেষপূর্ণ কাজ) এবং তথ্য প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন-২০০৮-এর প্রাসঙ্গিক বিধানের অধীনে একটি মামলা করা হয়েছে।

এর আগে আইআইএমটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র সুনীল শর্মা বলেছিলেন, একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে যে, একটি খোলা জায়গায় নামাজ পড়া হয়েছিল এবং ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার’ জন্য এর ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল। স্থানীয় হিন্দু গোষ্ঠীগুলো সমাবেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং হোলির সময় ভিডিওটি প্রচারের সময় উল্লেখ করে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাক গলানোর অধিকার’ নেই : আরাঘচি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে ইরানকে সতর্ক করার পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের পররাষ্ট্রনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো অধিকার নেই।’ সম্প্রতি গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের মানবিক সহায়তা অবরোধের প্রতিবাদে লোহিত সাগরে ইসরাইলি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোয় পুনরায় আক্রমণ চালানোর হুমকি দেয়ার পর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ওপর বড় আকারের সামরিক হামলা শুরু করেছেন ট্রাম্প। হুথিদের পাশাপাশি তিনি ইরানকেও সতর্ক করে বলেন, তাদের অবিলম্বে এ গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা উচিত। আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, ‘ইরানের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের কোনো কর্তৃত্ব বা অধিকার মার্কিন সরকারের নেই। সেই যুগের অবসান ১৯৭৯ সালেই হয়েছিল।’
গত ১৫ মার্চ শনিবার ট্রাম্প বলেন, তিনি ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ধারাবাহিক বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আনসারুল্লাহ আন্দোলনের কর্মকাণ্ডের জন্য ইরানকে ‘সম্পূর্ণ জবাবদিহি’ করার হুমকি দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আরাঘচি গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সরকারের গণহত্যা যুদ্ধের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি ‘ইসরাইলি গণহত্যা ও সন্ত্রাসবাদের’ প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে এবং ‘ইয়েমেনি জনগণের হত্যা’ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বার্তায় বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত বছর একটি গণহত্যামূলক শাসনব্যবস্থার কাছে ২৩ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তর করেছিলেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘৬০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণরূপে দায়ী করছে।’ ইরনা।

১৪ বছর পর মুক্তি পাচ্ছেন ইরানের গৃহবন্দি বিরোধী নেতা
দীর্ঘ ১৪ বছর গৃহবন্দি থাকার পর ইরানের বিরোধীদলীয় নেতা মেহদী কাররুবিকে গত ১৭ মার্চ সোমবার মুক্তি দেয়া হচ্ছে। ২০১১ সালে আরব বিশ্বে ব্যাপক বিক্ষোভের সমর্থনে সমাবেশের ডাক দেয়ার কারণে তাকে আটক করা হয়েছিল। কাররুবির রাজনৈতিক মিত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী মীর হোসেইন মুসাভিকেও আগামী মাসগুলোয় গৃহবন্দি থেকে মুক্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কাররুবির ছেলে হোসেইন। তিনি উদারপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সম্পর্কিত সংবাদ ওয়েবসাইট জামারানকে এ তথ্য জানান। কাররুবির বয়স বর্তমানে ৮৭ এবং মুসাভি বয়স ৮৩। তারা ২০০৯ সালের নির্বাচনে সংস্কারবাদী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ পুনরায় নির্বাচিত হন। ফলাফল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়, যা ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ নামে পরিচিত। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে ২০১১ সালে কাররুবি ও মুসাভিকে আটক করা হয়, যদিও তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি বা বিচার করা হয়নি।
হোসেইন কাররুবি জামারানকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তার বাবার সাথে সাক্ষাৎ করে বলেছেন যে বিচার বিভাগের প্রধানের নির্দেশে সোমবার তার গৃহবন্দিত্ব প্রত্যাহার করা হয়। তবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বাড়িতে উপস্থিত থাকবেন। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ কাররুবির মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও মুসাভির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। গত বছর হোসেইন কাররুবি এনসাফ নিউজকে বলেছিলেন, মুসাভি বন্দি থাকা অবস্থায় তার বাবা নিজের মুক্তির জন্য কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় কাররুবি ও মুসাভিকে মুক্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রয়টার্স।

ইফতার মাহফিল থেকে ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা মমতার
কিছুদিন আগে বিধানসভায় ‘ধর্মযুদ্ধে’র সাক্ষী থেকেছে পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছিলেন বিরোধীরা। গত ১৭ মার্চ সোমবার বিকেলে ফুরফুরার ইফতার থেকে বিরোধীদের সেই ‘কুৎসা’র জবাব দিলেন মমতা। সম্প্রীতি-ঐক্যের বার্তা দিয়ে তিনি জানান, রাজ্যের অন্যান্য সব ধর্মাবলম্বীর উৎসবে তিনি শুভেচ্ছা জানান। সেখানে যান, তেমনই মুসলমানদের অনুষ্ঠানে যান। অভিনন্দন জানান। এতে প্রশ্ন তোলার কী আছে, পালটা প্রশ্ন তৃণমূল নেত্রীর। এদিন বিকেল সোয়া ৫টা নাগাদ হুগলির ফুরফুরায় পৌঁছে যান মমতা। প্রায় এক দশক পর ইফতারে ফুরফুরায় গেলেন তিনি। সেখানে সরকারি ইফতারে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন ফুরফুরার পীরজাদারা। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও সারেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই মঞ্চ থেকেই তার বার্তা, ‘আমি দোল-হোলিতেও শুভেচ্ছা জানিয়েছি। দুর্গাপূজোয় যাই। রমজানেও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’ একইসঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশে পালটা প্রশ্ন ছুড়ে মমতা বলেন, ‘কাশী বিশ্বনাথে গেলে তো প্রশ্ন তোলেন না! দুর্গাপূজায় গেলে তো প্রশ্ন তোলেন না! বাংলার মাটি সম্প্রীতির মাটি। সম্প্রীতি-ঐক্যই আমাদের বার্তা।’ বিরোধীরা বিশেষ করে বিজেপি বার বার মুসলমানদের তোষণের অভিযোগ তোলেন মমতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে এবার বিধানসভায় কার্যত ধুন্ধুমার বাঁধিয়ে দিয়েছিলেন বিরোধী বিধায়করা। এমনকি এদিন দিল্লি যাওয়ার আগেও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ভোট এসেছে তাই ওদের কথা মনে পড়েছে। ভোট চলে গেলে ভুলে যাবেন।’ এমন প্রেক্ষাপটে মমতার বার্তা শুনে রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, ফুরফুরার ইফতারের মঞ্চ থেকে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে মমতা বুঝিয়ে দিলেন, জাত-পাত-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের মুখ্যমন্ত্রী তিনি। সিয়াসত ডেইলি।

আওরঙ্গজেবের সমাধি ধ্বংসের হুমকি উগ্র হিন্দুদের
ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের খুলদাবাদে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবি তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ঠঐচ) ও বজরং দল। তারা সমাধির দ্রুত অপসারণে দাবি তুলে বলেছেন, এখনই অত্যাচারী মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণ না করা হলে বাবরি মসজিদের মতোই তা ধ্বংস করা হবে। যেটি ১৯৯২ সালে ধ্বংস করেছিল করসেবকরা। এমনকি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ঠঐচ) ও বজরং দল হুঁশিয়ারি দিয়েছে, গত ১৭ মার্চ সোমবার থেকেই মহারাষ্ট্রজুড়ে আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তারা। যদি সরকার তাদের দাবি না মানে তাহলে তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাবেন। সেটাই হয়েছে! সোমবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। এবং খুলদাবাদে আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের জন্য স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রে এখন উত্তাল পরিস্থিতি।
মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে লেখা স্মারকলিপিতে, ভিএইচপি উল্লেখ করেছে, ‘আওরঙ্গজেব ধর্মান্তরিত হতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে শিখ গুরু গোবিন্দ সিংয়ের দুই পুত্রকে হত্যা করেছিলেন। মরাঠা যোদ্ধা রাজা ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজকে নির্যাতন ও হত্যা করেছিলেন এবং কাশী, মথুরা, সোমনাথে মন্দির ভেঙে দিয়েছিলেন। তাই আওরঙ্গজেবের যেকোনও স্মৃতিস্তম্ভ যন্ত্রণা এবং দাসত্বের প্রতীক, তাই সমাধিটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা উচিত।’ হিন্দুস্তান টাইমস।

সিরিয়ার অস্থায়ী সংবিধানে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একটি অস্থায়ী সংবিধানে স্বাক্ষর করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ বছর পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে। আহমেদ আল-শারার বাহিনী ব্যাপক আক্রমণ চালিয়ে বাশার আল-আসাদের সরকারকে উৎখাত করার তিন মাস পর সাংবিধানিক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করলেন তিনি। গত ১৩ মার্চ বৃহস্পতিবার সাংবিধানিক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করার সময় আল-শারা বলেন, এটি ‘সিরিয়ার জন্য একটি নতুন ইতিহাসের সূচনা করবে বলে প্রত্যাশা করছি। এর মাধ্যমে আমরা নিপীড়নের পরিবর্তে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব।’
সংবিধান খসড়া কমিটির সদস্য আব্দুল হামিদ আল-আওয়াক বলেন, আগের সংবিধানের কিছু বিষয় নতুন সংবিধানেও বজায় থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধানকে মুসলিম হতে হবে এবং আইনশাস্ত্রের প্রধান উৎস হিসেবে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আল জাজিরার সাংবাদিক রেসুল সেরদার দামেস্ক থেকে জানিয়েছেন, নেতাদের ধর্মীয় সম্পৃক্ততার ওপর আইন চালু করার প্রশ্নটি একটি ‘বিতর্কিত বিষয়’ ছিল। এ সাংবাদিক আরও বলেন, ‘এ বিষয়টি সংবিধানের একটি ধারা হবে কি না, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। কিন্তু এখন এটা স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রপ্রধানকে মুসলিম হতে হবে।’ সংবিধান খসড়া কমিটির সদস্য আব্দুল হামিদ আল-আওয়াক বলেন, এই নথিতে মত প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং নারীদের ‘সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার’ নিশ্চিত করার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সিরিয়ার নড়বড়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি ‘সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য’ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে। বিবিসি।

স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফেরত চাইলেন ফরাসি এমপি
যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেওয়া বিখ্যাত ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন ফরাসি সদস্য। রাফায়েল গ্লাকসম্যান নামে ওই সদস্যের মতে, ফ্রান্স ঠিক যে কারণে মূর্তিটি উপহার দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর সেই মূল্যবোধ ধারণ করে না। তার এ মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। গত রোববার (১৬ মার্চ) ফ্রান্সের সেন্টার-লেফট রাজনৈতিক দল প্লেস পাবলিকের এক সম্মেলনে গ্লাকসম্যান বলেন, আমেরিকানরা এখন স্বৈরশাসকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা স্বাধীন গবেষকদের বরখাস্ত করছে। তাই আমরা বলছি, আমাদের স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফিরিয়ে দিন। আমরা এটি আপনাদের উপহার দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারা এটি অপমান করছেন। তাই এটি আমাদের কাছেই ভালো থাকবে।
গ্লাকসম্যান বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার নীতি থেকে সরে এসেছে। তিনি ট্রাম্পের ইউক্রেন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন ও গবেষণা খাতে বাজেট কাটছাঁটের বিরোধিতা করেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র) যদি আপনাদের সেরা গবেষকদের বরখাস্ত করতে চান, যদি বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের স্বাধীনতা ধ্বংস করতে চান, তাহলে আমরা (ফ্রান্স) তাদের স্বাগত জানাবো। যেসব বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিতে পরিণত করেছেন, তাদের আমরা ফ্রান্সে কাজের সুযোগ দেবো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্য ও জলবায়ু গবেষণায় বরাদ্দ কমিয়েছেন ও শত শত বিজ্ঞানীকে বরখাস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। গ্লাকসম্যান ফ্রান্সের উগ্র-ডানপন্থি নেতাদেরও সমালোচনা করেন, যারা ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের নীতির সমর্থক। তার মতে, ফরাসি কট্টরপন্থিরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট কমানোর এই নীতির সপক্ষে কাজ করছে, যা বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞান ও স্বাধীন মতপ্রকাশের জন্য হুমকি। ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর।

ইউক্রেনকে ন্যাটোয় যুক্ত না করার ‘কঠিন’ নিশ্চয়তা চায় রাশিয়া
ইউক্রেনের সঙ্গে যে কোনো শান্তি চুক্তিতে ‘লৌহকঠিন’ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি করেছে রাশিয়া, যেখানে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। গত সোমবার (১৭ মার্চ) রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো এ মন্তব্য করেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন, যা ইউক্রেন এরই মধ্যে মেনে নিয়েছে। তবে পুতিন জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে। এর আগে রোববার ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছিলেন, তিনি মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা করেছেন ও যুদ্ধের সমাপ্তির উপায় নিয়ে ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন।
রুশ সংবাদমাধ্যম ইজভেস্তিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রুশকো বলেন, রাশিয়া শান্তি চুক্তিতে দৃঢ় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করা যাবে না। সেই সঙ্গে ইউক্রেনে কোনোভাবেই ন্যাটোর সেনা মোতায়েন করা চলবে না। তিনি আরও বলেন, শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর কেবল নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক মোতায়েন নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। ইউরোপীয় মিত্রদের বোঝা উচিত যে, শুধুমাত্র ইউক্রেনকে ন্যাটো থেকে বাদ দেওয়া ও সেখানে বিদেশি সেনা মোতায়েন নিষিদ্ধ করলেই প্রকৃত নিরাপত্তা আসবে। তখন ইউক্রেন এবং সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, কারণ সংঘাতের মূল কারণগুলোর একটি মুছে যাবে। রয়টার্স।

ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের মানবিক সহায়তা অবরোধের প্রতিবাদে লোহিত সাগরে ইসরাইলি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোয় পুনরায় আক্রমণ চালানোর হুমকি দেয়ার পর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ওপর বড় আকারের সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১০১ জন। হুথি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি বলেছেন, ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং ১০১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় মার্কিন হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন। এদিকে হুথি পরিচালিত আল-মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশে মার্কিন বিমান হামলায় চার শিশু ও এক মহিলাসহ কমপক্ষে ১১ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এ হামলা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযান। ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সকল হুথি বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনাদের সময় শেষ। আপনাদের আজ থেকেই আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। যদি তা না করেন, তাহলে আপনাদের ওপর নরক নেমে আসবে!’ ট্রাম্প হুথিদের প্রধান সমর্থক ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তাদের অবিলম্বে এ গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা উচিত। তিনি বলেন, যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেয়, তাহলে ‘যুক্তরাষ্ট্র আপনাকে সম্পূর্ণরূপে দায়ী করবে এবং আমরা কোনো রকম নম্রতা দেখাব না!’ হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরো এ হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী হামলার জবাব দিতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।’ রয়টার্স ও আল-জাজিরা।

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ২০৫ জন নিহত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চালানো এ হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৫ জনে এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা গাজায় স্থল হামলার হুমকি দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা গত মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) জানিয়েছে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। গাজার বিভিন্ন স্থানে চালানো এ হামলায় দক্ষিণের খান ইউনিসে অন্তত ৭৭ জন এবং গাজার উত্তর অংশে ২০ জন নিহত হয়েছেন। বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়েছে, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে একজন ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আক্রমণ যতদিন প্রয়োজন, ততদিন চলবে এবং এটি শুধু বিমান হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং স্থল অভিযানও চালানো হতে পারে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরাইলি সেনারা গাজায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারে। অন্যদিকে, হামাস ইসরাইলের এ আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নেতানিয়াহু এবং তার উগ্রপন্থি সরকার পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে। হামাস আরও বলেছে, ইসরাইল গাজার নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ‘বিশ্বাসঘাতক হামলা’ চালাচ্ছে এবং বন্দিদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থায় হামাস মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করে। আল-জাজিরা।

কোর্টের আদেশ অমান্য করে ট্রাম্পের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন!
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ফেডারেল আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শতাধিক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এল সালভাদরে পাঠিয়েছে। এ বিতাড়ন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে, কারণ আদালত স্পষ্টভাবে এ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। এ পদক্ষেপ নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। গত ১৫ মার্চ শনিবার রাতে ডিস্ট্রিক্ট জজ জেমস ই. বোয়াসবার্গ এক আদেশে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসীদের বিতাড়ন থেকে বিরত থাকতে বলেন। এই আদেশের মূল কারণ ছিল এলিয়েন এনিমিস এক্ট (অষরবহ ঊহবসরবং অপঃ) যা ১৭৯৮ সালে প্রণীত এবং মার্কিন ইতিহাসে মাত্র তিনবার সকল ক্ষেত্রেই যুদ্ধকালীন সময়েÑ ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেন যে, ভেনেজুয়েলার অপরাধী গোষ্ঠী ঞৎবহ ফব অৎধমঁধ যুক্তরাষ্ট্রে ‘অনুপ্রবেশ’ করেছে, যা তার মতে, একটি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি। ফলে, তিনি এই প্রাচীন আইনটি আবার কার্যকর ঘোষণা করেন এবং নির্বাসনের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসী বহনকারী ফ্লাইট আকাশে ছিল।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং একে আইন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে প্রশাসন কীভাবে এই নির্বাসন কার্যকর করল, সে বিষয়ে তদন্ত চেয়ে গত সোমবার (১৮ মার্চ) মামলাকারীরা নতুন একটি মামলা দায়ের করেছেন। তারা চাচ্ছেন, ফেডারেল বিচারক যেন সরকারি কর্মকর্তাদের শপথবদ্ধভাবে ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য করেন যে, তারা আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছে কি না। হোয়াইট হাউস এই বিতাড়নের সিদ্ধান্তকে যুক্তিসঙ্গত বলে দাবি করেছে। তাদের দাবি, দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া ঠিক হবে না। তবে সমালোচকরা বলছেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া গণহারে অভিবাসী বিতাড়ন মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও আইনি ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। এপি।

 

মিয়ানমারে জান্তার বিমান হামলায় ১২ জন নিহত
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের দখলদারিত্ব ও সহিংসতার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। এবার দেশটির মান্দালয়ের কাছে লেতপানহ্লা গ্রামে বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী, যেখানে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, বেসামরিক এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। গত ১৪ মার্চ শুক্রবার বিকেলে, মান্দালয় শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তরে পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ)-এর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এ গ্রামটি জান্তাবিরোধী গেরিলা বাহিনীর দখলে ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকার দিন দিন বেসামরিক জনগণের ওপর বিমান হামলা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা দেশটিতে ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট তৈরি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, হামলার সময় লোকজন বাজারে যাচ্ছিল। আকস্মিক বিমান হামলায় বহু মানুষ হতাহত হন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিহতদের তালিকা প্রস্তুত করছি, এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।’ তবে পিডিএফ ইউনিটের দাবি, এ হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৭ জন। প্রত্যক্ষদর্শী ৬২ বছর বয়সী মিন্ট সোয়ে বলেন, ‘আমি যখন লুকিয়ে ছিলাম, তখনই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। বাইরে এসে দেখি, পুরো বাজার এলাকা আগুনে পুড়ছে।’ হামলার পর গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জান্তার এ হামলার ফলে অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং খাদ্য ও চিকিৎসার সংকট তৈরি হয়েছে। জান্তা বাহিনীর এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও, এই হামলার নৃশংসতা ও বর্বরতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে জান্তা সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চাইছে, যা মিয়ানমারের সংকট আরও গভীর করছে। এ ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জান্তা সরকার যতদিন দমন-পীড়ন চালাবে, ততদিন মিয়ানমারে শান্তি ফিরবে না। দেশটির রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিবিসি।

দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করল যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করল ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার (১৪ মার্চ) মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত আমেরিকা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘৃণা করেন। তাই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই নিয়ে শনিবার (১৫ মার্চ) দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তরফে বলা হয়েছে, তাদের দেশের রাষ্ট্রদূতকে অসম্মান করা হয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। দুই দেশের মধ্যে ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার’ বজায় রাখতে আমেরিকাকে অনুরোধ জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের সামাজিক মাধ্যমে মার্কো রুবিও লেখেন, ‘রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম রাসুল এমন একজন রাজনীতিক যিনি আমেরিকা ও ট্রাম্পকে ঘৃণার চোখে দেখেন। তাই তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আমাদের আলোচনার কিছু নেই। ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এক সেমিনারে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত রাসুল ট্রাম্পের শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের সমালোচনা করেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ট্রাম্পের মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন আন্দোলন হচ্ছে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ। আমেরিকা ক্রমবর্ধমান জাতিগত বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে গিয়ে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ ফলাচ্ছে, যা অনুচিত। তরুণ বয়সে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন ইব্রাহিম রাসুল। উল্লেখ্য, গত মাসে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষকদের দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আইনের কথা উল্লেখ করে ওই দেশে সহায়তা বন্ধ করে দেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আইন ব্যবহার করে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের জমি জব্দ করে নেওয়া হচ্ছে। এএফপি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান