ড. আহসান হাবীব ইমরোজ রচিত ‘জাগো বীর নয়া শতাব্দীর’ড. আহসান হাবীব ইমরোজ রচিত ‘জাগো বীর নয়া শতাব্দীর’
২০ মার্চ ২০২৫ ১১:১৫
আব্দুল হালীম খাঁ
বক্তৃতায় প্রাণ সঞ্চারকারী বক্তা, বিশিষ্ট লেখক ড. আহসান হাবীব ইমরোজ রচিত গ্রন্থ ‘জাগো বীর নয়া শতাব্দীর’ চমৎকার ছন্দবদ্ধ নাম। আগুন রঙের প্রচ্ছদ আর মুষ্ঠিবদ্ধ হাতের ছবি দেখে মনে হয় ভেতরে জ্বলে ওঠার কথা আছে। স্মরণ করিয়ে দেয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার সেই সাহস সঞ্চারকারী অমরবাণী ‘বল বীর চির উন্নত মম শির! শির নেহারি আমারি নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির।
আহসান হাবীব ইমরোজ মাত্র কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করে ইতিমধ্যে পাঠক মহলে সাড়া জাগিয়েছেন। এতে তার লেখার শক্তিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। তার লেখায় রয়েছে নানা রকম নতুন নতুন সম্পদ।
আমাদের এই সময়ের সকল লেখকই কাব্য সাহিত্য ও ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। সবাই একই রূপ গতানুগতিক ধারার স্রোত বহিয়ে যাচ্ছেন। পাঠকগণ সেই গতানুগতিক ও সীমাবদ্ধ ধারায় ঝিম ধরে পড়েছেন। নতুনত্ব ও নতুন কিছু চিন্তা করার কিছু এবং অন্য কোন জগতের আলো দেখতে পাচ্ছেন না। চারিদিকে দরজা জানালা রুদ্ধ কেমন একটা গুমোট ভাব। তরুণরা সব সময় নতুন বার্তা শুনতে চায়। নতুন পথে চলতে চায়। কিন্তু কে শোনাবে তাদেরকে নতুন বার্তা। কে নতুন চিন্তা করার এবং নতুন দিগন্তে অভিযানের আহবান জানাবে। বাহিরে ঝলমলে আলো অথচ তরুণেরা বৃদ্ধদের মতো রুদ্ধ ঘরের খাঁচায় বন্দী। আহ কি কষ্ট! যেন অন্ধকার নিঝুম গভীর রাত। আহ্! কেউ যদি দরজা খুলে দিত অথবা দরজায় একটা টোকা দিত। তাহলে প্রাণে সাড়া পাওয়া যেত।
আহসান হাবীব ইমরোজ কি রুদ্ধ ঘরে টোকা দিয়েছেন। তিনি কি তরুণদের রুদ্ধ দরজা ভেঙে বাইরে আসার আহবান জানিয়েছেন। তিনি কি আলো ঝলমাল নতুন দিগন্তের আহবান জানিয়েছেন। তিনি কি ঊষার অরুণ তরুণদের নতুন নতুন স্বপ্ন দেখানোর নায়ক। নতুন পথ দেখানো আর বুকে সাহসের বীজ বপনকারী। অজানাকে জানা, ভয় জয়কারী সাহসী সেনা নায়ক।
আমার তো তাকে তাই মনে হয়েছে। তিনি শুধু একজন লেখক নন। ‘জাগো বীর নয়া শতাব্দীর’ গ্রন্থটি পড়ে আমার তাই মনে হয়েছে। তিনি পাঠক মনে বিশেষ করে তরুণদের মনে প্রাণে সাহস, উৎসাহ, প্রেরণা এবং আশা, ভালবাসার বীজ ছড়িয়ে যাচ্ছেন। নতুন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। দিক থেকে দিগন্তে তাড়াচ্ছেন। এটা আমার চাপাবাজি নয়। সম্মানিত পাঠকের সামনে একটি ন্যায্য বাস্তব ঘটনা বলছি। শুনুন একজন সোলায়মান খানের বক্তব্য ‘বাংলাদেশের একটি গ্রাম থেকে ওঠে এসে দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট- এ পড়ে আমেরিকায় পিএইচডি করতে আসা, কেবলমাত্র মহান আল্লাহর অশেষ রহমতেই সম্ভব হয়েছে। এই লম্বা সফরের পেছনে ছিলো আমার শৈশবের কিছু অদম্য স্বপ্ন, যেগুলো নির্মিত হয়েছিলো বাবার দেওয়া বিভিন্ন বইয়ের ভিত্তিতে। এর মাঝে অন্যতম ‘মোরা বড় হতে চাই’ বইয়ের লেখাগুলো আমার স্বপ্ন বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যুগ-যুগ ধরে এই বই শিশু-কিশোরদের স্বপ্ন বুননে এক বড় অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে, ইনশাআল্লাহ্’
(কলমবাজির কৈফিয়ত)
গ্রন্থটি সম্পর্কে বলার আগে সম্মানিত পাঠক ভাইবোনদের কাছে লেখকের এক চিলতে পরিচয় তুলে ধরছি। তিনি অন্যান্য লেখকের মত ঘরে বসে কিছু বইপত্র ঘেঁটে গ্রন্থটি লেখেননি। তিনি দুনিয়া ঘুরে-ঘুরে দেখে-দেখে চিন্তা-ভাবনা করে ইঞ্চি-ইঞ্চি হিসাব করে অতীত ও বর্তমান পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে, শিশু-কিশোর যুব সমাজের প্রতি তার দায়িত্ব কি; কিভাবে অনুর্বার মাঠে চাষ করা যায়। কিভাবে বাগানে ফুল ফোঁটানো যায়। কিভাবে মুখে-মুখে কথার ঝর্ণা বহানো যায়। কিভাবে রুদ্ধ প্রাণে আশা, সুর ও স্বপ্ন ভরিয়ে তোলা যায়। ইত্যাদি ভরে দিতে চেয়েছেন। এবার তাহলে তার পরিচয়ঃ
রক্তস্নাত নব্য-স্বাধীনতা চৌদিকে জীবন-স্পন্দনের ঢেউ এনেছে। সারাদেশে তরুণদের বেশ ক’টি বাঁধভাঙ্গা অত্যুঙ্গ সমাবেশে যেতে হয়েছে। আমিতো নই বক্তা; আমড়া গাছের তক্তা। অগত্যা কিছু গল্প বলে তাদের তুষ্ট করতে সচেষ্ট হয়েছি মাত্র।
করোনাপূর্ব চার বছর আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ায় শত দেশের আন্ডারগ্রেড স্টুডেন্টদের কয়েক সেমিস্টার ‘লিডারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ‘কোর্স নেয়ার সুযোগ হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী এবং তুরস্ক, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া সফরকালীন সেমিনার, সভা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বক্তব্য দিতে হয়েছে। সর্বোপরি অনলাইনে জাপানের বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের পোস্টগ্রেড বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের হাফডজন আয়োজনে কথা বলেছি। কেউবা আজ তুরস্ক, ইউকে ও আমেরিকার হার্ভার্ডে উচ্চতর অধ্যয়ন করছেন। আমি তাদের আলপিনসমও শেখাতে পারিনি; তবে শিখেছি পর্বতপ্রমাণ। সেই অভিজ্ঞতায় দেশ-বিদেশের বাংলাভাষী কিশোর-তরুণদের জন্য কিছু লেখার মুসাবিদা করেছিলাম। সে লেখা পানসে হলেও, পদ্মলোচনের মতো যুৎসই একটি নামতো চাই। তাই ‘মোরা বড় হতে চাই ও ‘বিশ্ব মাঝে শীর্ষ হব’ এসবের ধারাবাহিকতায় ‘জাগো বীর নয়া শতাব্দীর’ এমন একটা নাম মাথায় এলো। ছাত্র-ইসলামী আন্দোলনের বর্তমান কর্ণধারবৃন্দ ও শত শুভাকাঙ্খির পরামর্শে তা চূড়ান্তও হলো। আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করে মাসিক প্রেরণা ও কিশোরকণ্ঠের তাড়নায় এর যাত্রা শুরু হলো যেন সেই ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’।
গ্রন্থটির সূচিপত্রে রয়েছে আটটি বিষয়। যথা :১. বিশ্বাস: মুমিনের শ্বাস, বিহঙ্গের আকাশ২. আল কোরআন এ মিরাকল অব মিরাকলস৩. মুহাম্মাদ: মডেল দ্য গ্রেট৪. সুন্দর মন স্রষ্টার সেরা দান৫. গড্ডলিকায় ভাসা নয়, চাই ভাষার প্রতি ভালোবাসা৬. রক্তাক্ত গাজা: বিশ্বের সর্ববৃহৎ ‘উন্মুক্ত কারাগার’৭. জাগো বীর নয়া শতাব্দীর৮. এসো! দেয়ালকে দরোজা বানাই
গ্রন্থটির সবগুলো বিষয় নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু তা করলে যে আরেকটি ছোট বই হয়ে যাবে এবং পাঠকগণ অত্র সব কথা পড়তে বিরক্ত বোধ করবেন ভয়ে কয়েকটি বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কথা বলছি। প্রতিটি বিষয়ে রয়েছে নতুনত্বের ঘ্রাণ। নতুন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। যেমন আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ=ওয়ান। আল কুরআন এ মিরাকল অব মিরাকলস। লেখক এসব বিষয়ে এমন সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা ইতিপূর্বে পাইনি। আল কুরআন এবং ইসলামের উপর অনেক বক্তার অনেক বক্তৃতা শুনেছি কিন্তু সেসব বক্তৃতা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেনি। ইমরোজ সাহেবের লেখা পড়ে আমরা আল কুরআন ও ইসলামের যাবতীয় বিষয়ে অনেক অনেক নতুন বিষয় জানতে পারছি এবং চিন্তাভাবনা করার সুযোগ পাচ্ছি। ইসলাম যে কী? এ যে কত অসীম সম্পদ মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের দান করেছেন তা না বুঝে আজও ফুতুর হয়ে রয়েছি। যাদের উপর ইসলাম বুঝানোর দায়িত্ব ছিল তারা ইসলামের দুশমনের চক্রান্তে দায়িত্ব ভুলে দাওয়াত খাওয়া, দুআ-দরুদ ও হাদিয়ার ফজিলত নিয়ে অন্ধ হয়ে রয়েছেন। দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিয়েছেন আধুনিক শিক্ষিত ইমরোজ সাহেব যার লম্বা আলখেল্লা নেই, পাগড়ী নেই, তার কথা কেউ কি বিশ্বাস করবেন।
ব্রিটেনে গভীর জঙ্গলে মাটির নিচে খৃস্টানেরা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার করে যে যড়যন্ত্র শুরু করেছে তার কারণে আলেম সমাজ ইসলামহীন হয়ে খ্রিস্টান ইহুদিদের সেবাদাসে পরিণত হয়েছেন। দাড়ি, টুপি, পাগড়ী লম্বা আলখেল্লা আর দোয়া-দুরুদে ইসলামকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছেন। তাই আলেমগণের ইসলামের জ্ঞান যেমন নেই প্রচলিত আধুনিক শিক্ষার্থীদের ইতিহাসের জ্ঞান ও তেমন নেই। তাই মধ্যযুগের মুসলমানদেরকে তারা নাক সিটকিয়ে গালি দেন। যে সময়টা মুসলমানগণ শিক্ষা সভ্যতা জ্ঞান বিজ্ঞানে আবিষ্কারে সাহিত্য সংস্কৃতিতে বিশ্ব আলোকিত করেছিলেন। আর অন্যদিকে ইউরোপ ছিল অন্ধকার (ফধৎশ ধমব)। আহসান হাবীব ইমরোজ অসভ্য বর্বর ইউরোপীয়দের সামান্য একটু অংশ উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন…
ইসলামের আবির্ভাবের সময় ইউরোপীয়রা অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তাদের নিজস্ব কোনো সুসংগঠিত ভাষা ছিল না। কুঁড়েঘর ও মাটির ঘর ছাড়া ইংল্যান্ড-ফ্রান্সে দালানবাড়ির সংখ্যা ছিল নিতান্ত নগণ্য। লন্ডনের রাস্তাগুলো ছিল জলাভূমি। সেসব স্থানে বুনোহাঁস ও পাখি ইতস্তত বিচরণ করত। উইলিয়াম ড্রপারের ভাষায়-
ইউরোপীয়রা তখনও বর্বর বুনো অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাদের শরীর ছিল অপরিষ্কার, মন কুসংস্কারে পরিপূর্ণ। অধিবাসীরা ঝুপড়িতে বাস করত; মেঝেতে নলখাগড়া বিছিয়ে দেওয়ালে মাদুর টাঙিয়ে রাখতে পারলেই তা বিত্তবানের লক্ষণ বলে ধরা হতো। শিম, বরবটি গাছের মূল, এমনকি গাছের ছাল খেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করত। [J.W. Draper, History of Intellectual Development of Europe, p.27-28]
পোপেরা টাকার বিনিময়ে যে সার্টিফিকেট দিত, তা স্বর্গের গেটের প্রবেশপত্র বলে ধরে নেওয়া হতো। পোপদের মতে, যে কোনো ধনবান খ্রিস্টান স্বর্গে যেতে পারত। অঢেল সম্পদের মালিক ছিল এই পোপেরা। সেসময় এরাই ছিল সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী। ভ্যাটিকানের পোপ ছিলেন দুনিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ঐশ্বর্যশালী ব্যক্তি। ইউরোপের সব দেশের রাজাদের ভাগ্য নির্ভর করত এই পোপের সিদ্ধান্তের উপরে।
পোপের সিদ্ধান্তের প্রতি সংশয় প্রকাশ করায় জনৈক জার্মান সম্রাটকে একবার প্রচণ্ড শীতের মধ্যে তিন দিন গির্জার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। পোপের আদেশ অমান্য করলে সাধারণ লোককে পুড়িয়ে মারা হতো। ফ্রান্সের রাজা ফিলিপকে পোপ যে অপমান করেছিলেন, তাতে ক্ষোভে দুঃখে তিনি বলেছিলেন, ‘হায় সালাদিন! তুমিই সুখী। তোমার ওপরে পোপ নেই। আমিও মুসলমান হয়ে যাব।’ প্রকৃত অর্থে, পোপদের অত্যাচারের কোনো সীমা ছিল না। কুমারী মেয়েদের টেনে নিয়ে যাওয়া হতো হেরেমে। কেউ প্রতিবাদ বা পোপের আইন অমান্য করলে তাকে জীবন্ত দগ্ধ করা হতো।
সাবানের ব্যবহার অজানা থাকায় এবং অপরিষ্কার থাকা ধর্মপ্রীতির লক্ষণ বলে বিবেচিত হওয়ায় খ্রিস্টানরা সারাবছরে একবারও গোসল করতো কিনা সন্দেহ। একবার এক সন্ন্যাসী সুদীর্ঘ ৭০ বছর গোসল না করে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। খ্রিস্টানরা ধর্মগ্রন্থ পাঠের সময়ে শুধু আঙুলের অগ্রভাগে পানি স্পর্শ করে পবিত্র হতো। শতসহস্র মানুষ কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যেত। প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাবে সমগ্র ইউরোপ একবার প্রায় জনমানবশূন্য হয়ে গিয়েছিল। ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়েও প্যারিসের রাজপথে শূকরের পাল চরে বেড়াত। বৃষ্টি হলে এক হাঁটু কাদা জমতো রাস্তায়। লন্ডনের অবস্থাও ছিল অনুরূপ। (৪০-৪১ পৃষ্ঠা)
আরো অনেক বিষয়ে অনেক মূল্যবান তত্বকথা রয়েছে, যা সবারই ভালো লাগবে। এবং জানার মতো বটে। আছে অনেক সংখ্যাতত্ব। ইতিহাসের নানা ঘটনাবলি নানা মুনির নানা মতামত। আমাদের ঘরের খবর যা জানি না, জানেন বিদেশের মানুষ। এ গ্রন্থে সেসব বিষয় নিয়ে চমৎকার আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থটির পাতায় পাতায় শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে। আজকাল আমরা ইউরোপ আমেরিকা চীন জাপানের নাম শুনে আত্মহারা হয়ে যাই। তৎকালে মুসলমানদের কর্দোভা ছিল দুনিয়ার জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-সভ্যতা, সাহিত্য-সংস্কৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ নগরী। মুসলমানরা ছিলেন সকল জাতির শিক্ষক। মুসলমানরাই বিশ্ব সভ্যতার নির্মাতা। নবীজি সা. সুন্নতেই সোনালী সকাল। আমরা মোহাম্মদ আলী ক্লের নাম শুনেছি তিনি এত বিখ্যাত হলেন কেমনে? আনোয়ার ইব্রাহিম প্রিজনার থেকে বের প্রাইম-মিনিস্টার হলেন। আবার একজন হিরো থেকে জিরো হলেন কেমনে। আছে মেসি নেইমারের কথা। আছে ঘানিমের কথা- যিনি মনের জোরে করলেন বিশ্বজয়। আছে ভাষার লড়াইয়ের কথা।
এরপর লেখক ‘রক্তাক্ত গাজা বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্মুক্ত কারাগার’ হেডিং দিয়ে তিনি যা লিখেছেন তাতে এই হেডিং ব্যবহার ঠিক হয়নি। কারণ কারাগারে এমন নির্মমভাবে মানুষ হত্যা করা হয় না। ৭ অক্টোবর থেকে গত মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত গজায় ইজরায়েলী বাহিনীর হাতে ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। এ খবর পাঠকদের জানিয়ে আমি তাদেরকে ব্যথাহত করতে চাই না। শুনে আসছি বহুদিন থেকে যে জাতিসংঘ নামে যুদ্ধবাজদের একটা আড্ডাখানা রয়েছে। পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট যারা তাদেরকে মানুষ বলা হয়! অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন- ওরা পশু বরং তারচে নিকৃষ্ট…. (সূরা বাকারা ৮)
গ্রন্থের প্রতিটি আলোচ্য বিষয় রয়েছে এক একটি চমক যা পাঠককে এক দিগন্ত থেকে আরেক দিগন্তে টেনে নিয়ে যাবে। আমার মনে হয়েছে এবং পাঠকদেরও মনে হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় জাগো বীর নয়া শতাব্দীর অধ্যায়ের ড. সাইদুল ইসলাম! দরিদ্র কৃষক বাবার ঘরে ছিলেন তারা নয় ভাই বোন। জীবনের প্রথম পেশা ছিল তার ছাগল চরানো। ক্লাস ওয়ান থেকে পিএইচডি পর্যন্ত লেখাপড়ায় তার কৃষক বাবার এক পয়সাও খরচ হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার ফলাফলের রেকর্ড আজও কেউ ভাঙতে পারেনি। এশিয়া আমেরিকার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ফলাফল করে তিনি বিশ্বের এক শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের সুউচ্চ পদে। ২৩ এর অধিক বইয়ের লেখক বিশ্বের সেরা লাইব্রেরী সমূহে তার বই পাওয়া যায়।
এত বড় প্রতিভা ড. সাইদুল ইসলাম, ছোটবেলা ক্ষুদায় কত যে কষ্ট করেছেন তার একটি কবিতায় পরিবারের কষ্টের কথা ব্যক্ত হয়েছে,
মা’কে কলাম কি রেন্দোছো,
কলো: হাবাজুবা শাক,
এসব ছ্যাতা খাওয়া যায়?
ভাত নেই আজ থাকতি হবে শাক-পাতাড়ী খেয়ে,
শুনে আমার চক্ষু ফেটে অশ্রু পড়ে বেয়ে।
কাঁঠালসিদ্ধ শাক-পাতাড়ী আর কতদিন খাবো,
কবে যে আবার এই চোখেতে ভাতের দেখা পাবো।
“ভাতের কপাল নেই তোমাদের” মায়ের বড়ো ক্ষোভ,
গরীব-দুখি মানুষ মোরা কিসের আবার লোভ?
কলাম, শিটকিয়ে মোর নাক।
লেখক এর কাছে আমার অনুরোধ ড. সাইদুল ইসলামের দুঃখ-কষ্ট এবং তার সফলতার জীবন কাহিনী লিখে স্কুলের পাঠ্য পুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করুন। তাহলে দেশের অগণিত শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা জীবন সংগ্রামের জয়লাভ করতে সচেষ্ট হবে।
জাগো বীর নয়া শতাব্দীর গ্রন্থটি যে কত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ সময়ে আমাদের সমাজে কত প্রয়োজন বইটি সম্পর্কে বিজ্ঞজনদের মন্তব্য থেকে তা অনুভব করা যায়। এখানে কয়েকজনের মন্তব্যের অংশ উল্লেখ করছি। ব্রিটিশ-বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ লেখক ও প্যারেন্টিং কনসালটেন্ট ড. মুহাম্মাদ আব্দুল বারী অভিমত প্রকাশ করেছেন-
শিশু-কিশোর ও নবীনরা একটি জাতির সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলেই তারা হয়ে উঠবে আগামী দিনের দেশ-সমাজের সম্পদ। তাদেরকে এ সম্পদ বানানোর জন্য প্রয়োজন স্বপ্ন দেখানো। কেননা শিক্ষার্থীকে তার শৈশব ও কিশোর বয়সে যা শেখানো ও দেখানো হয়, বড় হওয়ার সাথে সাথে সে তা অর্জনের স্বপ্ন দেখে।
ড. আহসান হাবীব ইমরোজ এ স্বপ্ন দেখানোর কাজ করছেন প্রায় আড়াই যুগ ধরে। তাঁর সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে অটল পাহাড়ের মত দাঁড়িয়ে আছে, ‘মোরা বড় হতে চাই’, ‘বিশ্ব মাঝে শীর্ষ হবো’। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো, ‘জাগো বীর নয়া শতাব্দীর’ বইটি।
বইটি মূলত আগামী প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক ও দায়িত্বশীল সমাজ-পরিবর্তনকারী হিসেবে গড়ে তোলার এক নির্দেশনাপত্র। এর পাতায় পাতায় তাদেরকে স্বপ্ন দেখানো হয়েছে নিজেকে তৈরি করার, যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠার।
লেখক সংগঠক ও সমাজ চিন্তক আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ বলেছেন- ‘তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন বিনির্মানে ড আহসান হাবীব ইমরোজ একজন অসামান্য সফল বক্তা, ক্ষুরধার লেখক এবং অনুপ্রেরণা । আমি তাঁর একান্ত কল্যাণ ও সাফল্য কামনা করি’।
শিল্পী সুরকার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সাইফুল্লাহ মানছুর বলেছেন- ‘এই বইয়ে জনপ্রিয় কিছু গানের কথা দিয়ে সুন্দর ও শিক্ষণীয় বয়ান বানীবদ্ধ হয়েছে। সমকালীন দুনিয়ায় আলোচিত ‘রক্তাক্ত গাজা’ নিয়ে আলোচনা হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আশাকরি বইটি পাঠক প্রিয়তা পাবে’।
উপব্যবস্থপনা পরিচালক, পিকেএসএফ ড. ফজলে রাব্বী সাদিক আহমেদ বলেছেন- ‘ড. আহসান হাবীব ইমরোজ আমাদের প্রিয় ও তরুণদের মাঝে অনুপ্রেরণা দানকারী একজন স্বনামধন্য লেখক। প্রধানত তিনি শিশু-কিশোর ও তরুণদের উপযোগী সত্য কাহিনী বৈজ্ঞানিক প্রমাণসহ উপস্থাপন করেন। তার সবগুলো প্রকাশনাই সুখপাঠ্য এবং উদ্দীপনামূলক’।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বলেছেন- ‘এই বইটি বিশ্বাসী কিশোর-কিশোরী-তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি অনবদ্য রচনা। তারুণ্যকে মৌলিক মানবীয় গুণাবলিতে গুণান্বিত করার প্রয়োজনে এই বইটিকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়া দরকার’।
Chairman, Save Humanity Mission, Australia Dr Moazzem Hossain- ÔI love this book and encourage everyone to read it and pass it on to others so that we can all reflect on our purpose of life.
চেয়ারম্যান, সাদিয়াটেক কোঃ লি. টোকিও, জাপান থেকে লিখেছেন সানাউল হক- ‘প্রিয় লেখকের প্রজ্ঞাময় লেখনী তরুণদের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আত্মগৌরবে উদ্দীপ্ত করে চলেছে। তাঁর রচিত ‘জাগো বীর নয়া শতাব্দীর’ গ্রন্থটি যুবসমাজকে গঠনমূলক পথে এগিয়ে নিতে অনন্য ভূমিকা রাখবে’।
বইটি সম্পর্কে আরো মূল্যবান অভিমত পেশ করেছেন ডা. মোহাম্মাদ রেদওয়ানুর রহমান, হাবীবুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল, ড. রুহুল আমিন রব্বানী প্রমূখ।
সুধীজনদের মতামত যে যথার্থ তা পাঠকগণ গ্রন্থটি পাঠ করলে বুঝতে পারবেন। ২২ টি ছবি, সেই সাথে আলোচ্য বিষয়ের তথ্যসূত্রসহ তৃতীয় ফ্ল্যাপে লেখকের দৃষ্টিনন্দন ছবি ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় থাকায় গুরুত্ব ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। সুন্দর প্রচ্ছদ ও বাঁধাই। ১০৪ পৃষ্ঠা, দাম মাত্র ১৮০ টাকা। তালবিয়ার এ প্রকাশনাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। লেখকের কাছ থেকে আগামীতে আরও সমৃদ্ধ ও জাগরণমূলক গ্রন্থের জন্য হাত পেতে রইলাম। গ্রন্থটি নিয়ে স্কুল-কলেজের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা পর্যালোচনার ব্যবস্থা করলে দ্রুত ভালো ফল পাওয়া যাবে। গ্রন্থটি যতই প্রচারিত হবে ততই জাতির কল্যাণ সাধিত হবে। লেখক
*বই: জাগো বীর নয়া শতাব্দীর
ড. আহসান হাবীব ইমরোজ
তালবিয়া প্রকাশন
বিষয় : আত্ম উন্নয়ন
পেপ্যারব্যাক ১০৪ পৃষ্ঠা
মুদ্রিত মূল্য ১৮০ টাকা
ISBN Number: 978-984-99309-5-2
যোগাযোগ : তালবিয়া
মাদ্রাসা মার্কেট ২য় তলা, বাংলাবাজার, ঢাকা
মোবাইল- ০১৯৪৫১৬৬০০০।