রোজার উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন


২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৫:৩৬

॥ অধ্যাপক মু. সহিদুল ইসলাম ॥
১. “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর ‘সিয়াম ফরজ’ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ ছিল- যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো”। বাকারা : ১৮৩।
আরবি ‘সিয়াম’ শব্দের অর্থ বিরত থাকা, দূরে থাকা, শুধু খাওয়া-দাওয়া কিংবা স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত নয়, বরং পানাহার-অশ্লীলতা, অন্যায়-অসদাচরণ, গর্হিত কিংবা নোংরা কাজসহ যাবতীয় অন্যায় ও পাপাচার থেকে পূর্ণ বিরত থাকার নাম ‘সিয়াম’। বনী ইসরাইলের ‘সিয়াম’ ছিল এ সকল কাজ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি কথাবার্তা না বলে সম্পূর্ণ চুপ থাকার নাম ‘সিয়াম’। যেমন-পবিত্র কুরআনের ১৯তম সূরার ২৬নং আয়াতে হযরত মারইয়াম (আ.) তাঁর জাতির লোকদের ইশারায় বলেছিলেন, “আমি রহমানের উদ্দেশ্যে ‘সিয়াম’ রেখেছি, আজ তোমাদের সাথে কোনো কথা বলা যাবে না।”
খাওয়া-দাওয়া, স্ত্রী সহবাস কিংবা অন্যায়-অপরাধ থেকে দূরে থাকার গুরুত্বের কারণেই আল্লাহ তায়ালা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে ১৩ বার ‘সিয়াম’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন।
২. সকল নবী-রাসূল সিয়াম পালন করেছেন এবং তাঁদের অনুসারীদের ‘সিয়াম’ পালনের নির্দেশও দিয়েছেন।
আল্লাহ-তায়ালা বলেছেন, “কামাকুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কাবলিকুম”- তোমাদের পূর্বে যত জাতি ছিল সকলের ওপরই ‘সিয়াম’ ফরজ (অপরিহার্য) ছিল। আমরা দেখি-
ক) হযরত মূসা (আ.)-এর অনুসারীগণ আশুরার দিন রোজা বা সিয়াম পালন করেছেন। কারণ এই দিনে আল্লাহ তায়ালা ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মূসা (আ.) এবং তার সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছিলেন, কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তারা মহররম মাসের ১০ তারিখ সিয়াম পালন করতেন। (বুখারি)।
খ) হযরত দাউদ (আ.) ১ দিন পরপর ‘সিয়াম’ পালন করেছেন, বছরে প্রায় ৬ মাস তিনি রোজা বা সিয়াম রেখেছেন আর ৬ মাস বিরত ছিলেন। (মুসলিম)।
গ) ‘রমযানের সিয়াম’ ফরজ হওয়ার পূর্বে রাসূল (সা.) সাহাবীদের ৩ দিন সিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। রমযানে সিয়াম পালন ফরজ হওয়ায় রাসূল (সা.) পূর্বের ৩ দিনকে ঐচ্ছিক করে দিয়েছেন। কেউ ইচ্ছা করলে রাখতে পারবে কেউ-তা ছাড়তে পারবে, তাতে গুনাহ হবে না। (বুখারি ও মুসলিম)।
রাসূল (সা.) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর ৮ রবিউল আউয়াল সোমবার/মঙ্গলবার (ধারণা করা হয়) মদিনায় হিজরত করে কুবা পল্লীতে অবকাশযাপন করেন। সেখানে তিনি দেখেন মদিনার ইহুদিগণ সিয়াম পালন করছে। রাসূল (সা) আশুরার সিয়াম পালন করার জন্য সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন কিন্তু আল্লাহ তায়ালা রমযানে পূর্ণ এক মাস সিয়াম ফরজ করায় সেটাও ঐচ্ছিক হয়ে যায়। (বুখারি)।
৩. সিয়াম যেভাবে ফরজ হলো-
প্রাথমিক পর্যায়ে সিয়াম পালনে কিছুটা ছাড় ছিল। যেমন: সূরা-বাকারায় ১৮৪নং আয়াতে বলা হয়েছে, “সিয়ামের দিনগুলো সুনির্দিষ্ট, (অর্থাৎ শুধু রমযান মাস) তোমাদের মাঝে যে অসুস্থ থাকবে অথবা ভ্রমণে, সে অন্য সময় সিয়াম পালন করবে। আবার যে ব্যক্তি দৈহিকভাবে সক্ষম এবং নিজ আবাসস্থলেই থাকবে সে ইচ্ছা করলে সিয়াম রাখবে, নচেৎ একজন মিসকিন বা অসহায় ব্যক্তিকে খাবার দিলেই তার সিয়াম হয়ে যাবে”। মূলত ধাপে ধাপে ‘সিয়াম’ ফরয হয়েছে। দ্বিতীয় হিজারিতে সিয়াম ঐচ্ছিকভাবে ফরজ হয় এবং এ বছর বদরের যুদ্ধ অংশগ্রহণও (১৭ রমযান) সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণের (রা.) কেউ রোজা রেখেছেন আবার কেউ ছেড়েছেন, এতে সমস্যা হয়নি। ৩য় হিজারিতে পূর্ণ ১ মাস সিয়াম ফরজ হয়, সুস্থ-সবল এবং আবাসিক/স্থায়ী ব্যক্তিদের ‘ফিদিয়া’ দিয়ে না রাখার সুযোগ নাই। তবে মুসাফির এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা ইচ্ছা করলে ফিদিয়ার বিনিময়ে সিয়াম থেকে বিরত থাকতে পারবে। বাকারার ১৮৫নং আয়াতে বলা হয়েছে, “ফামান শাহিদা মিনকুমুশ শাহরা-ফালইয়া সুমহু”- যে ব্যক্তি রমযান মাস পাবে, তাকেই ‘সিয়াম’ পালন করতে হবে। এ আয়াত দ্বারা এ কথাও বোঝায়, বাংলাদেশ থেকে কেউ সৌদি আরব কিংবা আরব বিশ্বে গেলে তার রোজা একটি কম হবে। কেননা সৌদি আরবে বাংলাদেশের একদিন আগে চাঁদ দেখা যায়। আবার আরব বিশ্বে কেউ সিয়াম পালন শুরু করে বাংলাদেশে এলে তার সিয়াম হবে ৩১ দিন, কেননা বাংলাদেশে একদিন পর ঈদ হবে। সূরা বাকারার ১৮৭নং আয়াতে সিয়ামের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে, “রাতের কালো রেখা বুকচিরে প্রভাতের সাদা রেখা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত তোমরা আহার করতে পারো” আগের দিনের সিয়াম ছিল সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যেত কিন্তু আমাদের জন্য ফজর সময়ের আগ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা খাওয়া-দাওয়া হালাল করেছেন। ইফতারের সময়সীমা বলা হয়েছে, “আতিমমুস সিয়ামা ইলাল্লাইলি”- (বাকারা : ১৮৭)। রাত আসা পর্যন্ত অর্থাৎ মাগরিব হওয়া পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করতে হবে। অতঃপর ইফতার করা যাবে।
রাসূল (সা.) একজন আরব্য লোককে সিয়াম শিক্ষা দিলেন যেভাবে-
হযরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, একজন আরব মরুচারী রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞেস করলেন, যার দীর্ঘ সফরের কারণে মাথার চুল ছিল এলোমেলো।
‘হে রাসূল (সা.)! আমাকে শিক্ষা দিন আল্লাহ তায়ালা আমার জন্য দৈনিক কী পরিমাণ সালাত ফরজ করেছেন? রাসূল (সা.) জবাব দিলেন ‘পাঁচবার’, ইচ্ছা করলে তুমি অতিরিক্ত সালাত পড়তে পারবে তবে তা বাধ্যতামূলক নয়, যার অতিরিক্ত সাওয়াব তুমি পাবে। ওই আগন্তুকের দ্বিতীয় জিজ্ঞাসা ছিল হে রাসূল! (সা.) আল্লাহ তায়ালা আমার ওপর কী পরিমাণ সিয়াম ফরয করেছেন? রাসূল (সা.) বললেন “শাহরু রামাদান” পূর্ণ এক মাস সিয়াম ফরজ করেছেন, তবে এর বেশি রাখলে সেটা নফল হবে। তুমি অতিরিক্ত সাওয়াব পাবে। তবে সেটা বাধ্যতামূলক নয়। (বুখারি)।
রোজার মূল উদ্দেশ্য “লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন”- যাতে তোমরা তাকওয়াবান হতে পারো।
তাকওয়ার সংজ্ঞা : তাকওয়া শব্দটির মূল “ওয়াকয়ুন” বিরত থাকা, বেঁচে থাকা, কাছে না যাওয়া, যেমনিভাবে ভয়ঙ্কর হিংস্র জন্তু-জানোয়ার বা সন্ত্রাসীদের অত্যাচার থেকে আমরা দূরে থাকি কিংবা ক্ষতিকর জীবজন্তুও ব্যক্তি থেকে আমরা জীবন রক্ষা করার চেষ্টা করি। তেমনি মুমিন ব্যক্তির অন্যায়-অপরাধ, যাবতীয় গুনাহ ও পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম ‘তাকওয়া’ বা ‘আল্লাহভীতি’।
ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার সকল নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজকে বাঁচিয়ে রাখার নাম ‘তাকওয়া’। জাহান্নামের ভয়ে সকল অন্যায় পরিহার করাই ‘তাকওয়া’।
১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) তাকওয়ার সংজ্ঞায় বলেন, ‘আল্লাহর নাফরমানি না করা, আল্লাহ-কে স্মরণ করা, তাঁকে ভুলে না যাওয়া, তাঁর শুকর আদায় করা কিংবা আল্লাহ তায়ালার কুফরি না করার নাম ‘তাকওয়া’।
২. তাবেঈ তালাক-বিন হাবিব (রা.) বলেন, “আল্লাহ তায়ালার হুকুম মেনে চলা এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করাই ‘তাকওয়া’।”
৩. উবাই ইবনে কা’ব (রা.) হযরত ওমরের (রা.) প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, “কাঁটাযুক্ত, সরু আঁকা-বাঁকা পথ সাবধানে চলতে হয়। নিজকে আঁটসাঁট করে সাবধানে চলাই হলো তাকওয়া”- অর্থাৎ জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পাপ-পঙকিল ‘পথে বাইন মাছের’ মতো নিজেকে কাদা থেকে বাঁচিয়ে জীবন চলার নামই হলো ‘তাকওয়া’।
৪. হযরত ওমর (রা) এর মতে “মুমিন ব্যক্তির অন্তর্নিহিত নৈতিক গুণাবলি এবং ব্যক্তির সম্মানবোধই হলো ‘তাকওয়া’ ”-মুয়াত্তা ইমান মালেক।
৫. বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘ব্যক্তির অভিজাত্য হলো ‘সম্পদ’ আর মহানুভবতা অথবা উদারতা হলো ‘তাকওয়া’। (ইবনে মাজাহ)।
আর তাকওয়া অর্জনকারীদের কুরআনের ভাষায় ‘মুত্তাকি’ বলা হয়।
‘মুত্তাকি’র সংজ্ঞা বিভিন্ন মুফাসসির যেভাবে দিয়েছেন : ১. ‘যারা ‘শিরক’ পরিহার করে আল্লাহর আনুগত্য ও নেক আমল করে তারাই মুত্তাকি’-হযরত ইবনে আব্বাস।
২. ‘আল্লাহর শাস্তির ভয়ে যারা তাঁর নিষেধ এড়াইয়া চলে এবং আল্লাহর আদেশ মেনে চলে তারাই মুত্তাকি’-মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক।
৩. ‘যারা যাবতীয় হারাম বর্জন এবং ফরয মেনে জীবনযাপন করে তারাই মুত্তাকি’- সুফিয়ান আস সাওরি (রা.)।
মুসলিম শরিফের ৭২নং হাদিসে পাওয়া যায় রাসূল (সা.) সর্বদা দোয়া করতেন ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হিদায়াত চাই, তাকওয়া চাই, তোমার নিকট চাই ক্ষমা! আর চাই কারো কাছে অমুখাপেক্ষী জীবন’।
ইসলামের প্রতিটি ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে তাকওয়াবান বানানো।
১. ‘সিয়াম বা রোজায় তাকওয়া’
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে ঈমানদারগণ তোমাদের ওপর রমযানের সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যা তোমাদের পূর্ববতীদের ওপরও ফরজ ছিল যাতে তোমরা ‘তাকওয়াবান’ হতে পারো।” (সূরা বাকারা : ১৮৩)। বোঝা যায় সিয়াম তথা রোজার মূল উদ্দেশ্য খাওয়া-দাওয়া, অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন, পাপ-অপরাধ থেকে মানুষকে বিরত রেখে সত্য ন্যায় ও সঠিক পথে পরিচালনা করা।
২. নামায তথা ‘সালাতে তাকওয়া’
সালাতের বা নামাযের উদ্দেশ্য ‘তাকওয়া’ শিক্ষা দেওয়া। তাই সূরা আন’আমের ৭২নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা সালাত কায়েম করো এবং ‘তাকওয়া’ অর্জন করো, আর আল্লাহর দিকেই তোমাদের ফিরে আসতে হবে’’। সঠিক সময়ে সঠিকভাবে সালাত আদায়ের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষকে ‘তাকওয়ার’ গুণে গুণান্বিত করা।
৩. হজে ‘তাকওয়া’
হজব্রত পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, যাদের ওপর হজ অপরিহার্য করা হলো তারা (ইহরাম অবস্থায়) যৌন-ক্রিয়া করবেনা, অন্যায়-গর্হিত কাজ করবে না; এমনকি ঝগড়া-ঝাঁটিও করবে না- তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, তবে সবচেয়ে বড় পাথেও হলো ‘তাকওয়াবান’ হওয়া। (সূরা বাকারা : ১৯৭)।
৪. যাকাতে ‘তাকওয়া’
সূরা আরাফে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা সঠিকভাবে যাকাত আদায় করে তারাই তাকওয়ার’ অধিকারী এবং তারাই মূলত আল্লাহর আয়াতসমূহকে বিশ্বাস করে, তাই যথাযথ ভাবে যাকাত প্রদান করাই হলো ‘তাকওয়াবান’ হওয়া। (সূরা আরাফ : ১৬৬)।
৫. কুরআন অধ্যয়নে ‘তাকওয়া’
ক) “আমি তোমার নিকট কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা (অতীব) বরকতময়। তুমি এই কিতাবের (কুরআনের) অনুসরণ করো এবং ‘তাকওয়া’ অর্জন করো, তাহলেই তুমি সম্মান পাবে।” (আন’আম : ১৫৫)।
খ) ‘এ কুরআন একটি উপদেশমালা মানুষের জন্য এবং ম্ত্তুাকিদের জন্য-সঠিক পথের দিকনির্দেশনা।’ (আলে ইমরান : ১৩৮)।
গ) এ কিতাবে কোনো সন্দেহ-সংশয় নেই এবং ম্ত্তুাকিদের জন্য একটি হিদায়াত (সঠিক পথের দিশা)। (বাকারা : ২)।
সুতরাং কুরআন শুধু মুখে উচ্চারণের জন্য নয়, বরং বুঝে বুঝে অধ্যয়ন করতে পারলেই তাকওয়ার গুণাগুণ অর্জিত হবে।
৬. পশু কুরবানিতে তাকওয়া
শুধু টাকার জোরে বড় বড় পশু কুরবানি নয়, বরং সেখানে আল্লাহভীতি কতটুকু আছে, সেটা পরখ করাই কুরবানির মূল উদ্দেশ্য। আল্লাহর বাণী, “তোমাদের কুরবানির পশুর চামড়া কিংবা রক্ত আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না, বরং আল্লাহর নিকট পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া”। (হজ : ৩৭)। সুতরাং লোকদেখানো প্রথাসর্বস্ব নয়। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি এবং মনের পৈশাচিক শত্রুকে চিরতরে হত্যা করে পশু জবাইয়ের নামই হলো সত্যিকারের কুরবানি।
লেখক: সভাপতি, তালীমুল কুরআন ফাউন্ডেশন।