কেশবপুরে সাড়ে ১৭শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ


১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৪৬

এম এম আবদুর রহমান (যশোর) : উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে যশোরের কেশবপুরে ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের বারী, টরী ও বীনা সরিষার আবাদ হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনে মাঠ ভরেছে। উপজেলা কৃষি অফিস চলতি বছর ২ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কিন্তু কেশবপুরে অতি বৃষ্টিতে বন্যাকবলিত হয়ে চাষযোগ্য অনেক ফসলি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যার ফলে ইচ্ছা থাকার পরও চাষিরা সরিষা আবাদ করতে ব্যর্থ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। ফলে উপজেলার বিস্তৃত ফসলের মাঠজুড়ে এখন শুধু হলুদের সমারোহ; নৈস্বর্গিক রূপের আভায় দিগন্ত ছুঁয়েছে হলুদে হলুদে। শীতের সকালে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সোনালী রোদের উঞ্চতায় মৌমাছিরা মধু আহরণে গুঞ্জন তুলেছে সরিষা ক্ষেতে। সরিষা ফুলের ম-ম গন্ধে বিভোর সারা মাঠময় পতঙ্গ। কেশবপুরে বিস্তৃত মাঠজুড়ে যেন সরিষা চাষের উৎসবে মেতেছে কৃষকেরা।
আবহাওয়ার বৈরিতা না থাকায় কৃষকের মাঠে আগাম জাতের বারী সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। কেশবপুরের কৃষকরা বোরো আবাদের আগে একই জমিতে আগাম বারী-১৪ ও বারী-৯ জাতের সরিষা চাষ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আর সরিষার বাম্পার ফলন ঘরে তোলার সাথে সাথে কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদপ্ত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি অধিক ফলনশীল বারী-১৪ ও বীনা-৯ জাতের এ সরিষা চাষ করে কৃষকরা। গত বছর থেকে উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা টরী-৭, বীনা-৯, বারী-১৫, বারী-১৭ ও বারী- ১৮ জাতের সরিষা চাষ শুরু করেছে। এসব জাতের সরিষা ৬৫ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে কৃষকরা ঘরে তুলতে পারে। যার ফলে কৃষকরা সরিষা চাষের পরে খুব সহজে বোরো আবাদ করতে পারে। যে কারণে উপজেলাব্যাপী কৃষকরা দিন দিন সরিষা চাষে ঝুঁকছেন।