সাতক্ষীরার অনাবাদি জমিতে কুল চাষ : ১৫০ কোটি টাকার বাজার
১৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:০৩
আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কুল সারা দেশের নজর কাড়ছে। জলাবদ্ধতা, লবণক্ষতা ও অনাবাদি জমি কঠোর পরিশ্রম আর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শত শত কুল চাষি। অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে স্বল্পসময়ে অধিক মুনাফা পাওয়ায় প্রতি বছর বাড়ছে এর আবাদ। ৯ বছরের ব্যবধানে ফলটি ৪৫ শতাংশ আবাদ বেড়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ জেলার উৎপাদিত কুল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে এ বছর ভালো দাম পাচ্ছে কুল চাষিরা। সাড়ে ৫ হাজার পরিবারে ২০ হাজারের বেশি নারী ও পুরুষ শ্রমিক কুলবাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কুল চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষক ঝুঁকে পড়েছেন কুল চাষে। এবার জেলার ৮৪১ হেক্টর জমিতে কুল চাষ করা হয়েছে, যা থেকে ১২ হাজার টন কুল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। যার বাজার মূল্য হবে ১৫০ কোটি টাকার ওপরে। এ বছর সাতক্ষীরার কুল বা বরই বিদেশে রফতানির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার মাটি কুল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ২০০০ সালের পর এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ শুরু হয়। ফসলটি লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমিয়ে জেলার কৃষকরা তাদের জমিতে বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, থাই আপেল, বাউ কুল, আপেল কুল, তাইওয়ান কুল, নারিকেলি, ঢাকা নাইনটিসহ বিভিন্ন জাতের কুল চাষ করে আসছেন। ২০১৬ সালে জেলার ৪৯০ হেক্টর জমিতে কুলের আবাদ হয়। তবে ৯ বছরে ব্যবধানে ৪৫ শতাংশ জমিতে আবাদ বেড়েছে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস থেকে জানা গেছে, এ বছর ৮৪১ হেক্টর জমিতে কুল চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ১১২ হেক্টর জমিতে, কলারোয়া উপজেলায় ৪৭০ হেক্টর জমিতে, তালা উপজেলায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে, দেবহাটা উপজেলায় ৪ হেক্টর জমিতে, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে, আশাশুনি উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে, শ্যামনগর উপজেলায় ২৫ হেক্টরসহ মোট ৪৯০ হেক্টর জমিতে কুলের আবাদ হয়েছে।