অন্য জমির ফসল

আজকের পত্রিকা: শীর্ষ নেতাদের বিতর্কিত করতেই পরিকল্পিতভাবে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে

সোনার বাংলা অনলাইন
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০৯

আজকের পত্রিকা

    আজ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার । আজ রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকর প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো  । আজকের দৈনিক সংগ্রামের  একটি  উল্লেখযোগ্য শিরোনাম এহসানুল মাহবুব জোবায়েরের সাংবাদিক সম্মেলন–  শীর্ষ নেতাদের বিতর্কিত করতেই পরিকল্পিতভাবে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিতর্কিত করতেই পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাউন্ট হ্যাক করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংবাদ সম্মেলনে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

গতকাল রোববার সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, আমীরে জামায়াত এবং আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এর অংশ হিসেবে আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই একটি গোষ্ঠী তাৎক্ষণিকভাবে কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা আমাদের গভীর সন্দেহকে আরও জোরালো করে। আমরা মনে করছি, এর সঙ্গে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সাইবার টিম বা সংশ্লিষ্ট ষড়যন্ত্রকারী চক্র জড়িত থাকতে পারে। আমীরে জামায়াতের টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি এবং এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে বিবৃতি দিয়েছি। এ ঘটনায় রাতেই আমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।

আমাদের সাইবার সিকিউরিটি টিম পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে এবং আজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আপনাদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরা হচ্ছে। আইনি পদক্ষেপসহ সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব। কারণ এটি একটি চরম ও ন্যক্কারজনক অপপ্রয়াস- যার লক্ষ্য আমীরে জামায়াতসহ আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিতর্কিত করা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করা।

জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট- নারী সমাজ, দেশ, দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা প্রশ্নাতীত। আমীরে জামায়াত বিষয়গুলো অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সাবলীলভাবে বারবার তুলে ধরেছেন। এসব কারণেই একটি চক্র ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।

তিনি বলেন, আমরা সম্মানিত নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বশীল মহলের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাব।

এ সময় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও জাতীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে আমীরে জামায়াতের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) একাউন্টে সর্বশেষ স্বাভাবিক পোস্ট দেখা যায়। এরপর বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে আমাদের দৃষ্টিগোচরে আসে যে, ৪টা ৩৭ মিনিটে উক্ত আইডিতে একটি অত্যন্ত আপত্তিকর ও অনাকাক্সিক্ষত পোস্ট প্রদত্ত হয়েছে, যা আমাদের আদর্শ, চিন্তাধারা ও অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন উক্ত আইডি পরিচালনা টিমের সাথে যোগাযোগ করলে তারা যাচাই করে আইডিটির হ্যাক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের সাইবার সিকিউরিটি টিম পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে এবং আল্লাহর রহমতে ৫টা ০৯ মিনিটে উক্ত আইডির পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে তা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আমরা উক্ত টুইটার একাউন্টে জরুরী ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

তদন্তে দেখা গেছে, শুধু আমীরে জামায়াতের টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্ট নয়, একইসঙ্গে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ডঃ শফিকুল ইসলাম মাসুদের ফেসবুক পেজও সাময়িকভাবে দখলে নেওয়া হয়েছিল। রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমরা থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করি এবং সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানাই। রাতভর ব্যপক অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে হ্যাকিং প্রক্রিয়ার আদ্যোপান্ত খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে এবং সেটাই তুলে ধরার জন্য এখনকার সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে সত্যকে দমন করা যাবে না। জামায়াতে ইসলামী সত্য ও ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকতে চায়। আমাদের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন ও অগ্রযাত্রা কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে থামানো যাবে না ইনশাআল্লাহ। অতপর নির্বাচনী ক্যাম্পেইন টিমের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর দেন।

প্রথম আলো পত্রিকার আজকের খবর- ৭৮ নারী প্রার্থীর অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত, কর্মজীবী ৬৫%। এই পরিস্থিতি জনপরিষদের কাছে ইকোনমিক হিটম্যানের ধারণার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে—যেখানে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কৌশল ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের নীতি ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য দুই বিদেশী অভিজ্ঞ বাংলাদেশী পেশাদারকে যুক্ত করেছে। লুৎফে সিদ্দিকীকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে এবং চৌধুরী আশিক মাহমুদকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

লুৎফে সিদ্দিকীর দায়িত্ব মূলত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ও আগের সরকারের সময় সংঘটিত অর্থনৈতিক অপরাধ ও খেলাপি ঋণ (নন-পারফর্মিং লোন) তদন্তের জন্য ‘ট্রুথ কমিশন’ গঠনের ওপর। আশিক চৌধুরীর ম্যান্ডেট ছিল বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরিয়ে আনা।

তবে এই দুজনের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য অগ্রাহ্য করে তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ‘হাই-ভ্যালু ডিল’, যেমন রাষ্ট্রীয় কেনাকাটা, বন্দর ও বড় অবকাঠামো চুক্তি। এতে নীতিগত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নের তুলনায় রাষ্ট্রের সম্পদ ও সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৩০০ আসনের জন্য ২,০১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৭৮, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ শতাংশের কম।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, এই নারী প্রার্থীদের মধ্যে ৬০ জন স্নাতক বা স্নাতকোত্তর, অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থী ৩০ জনের বেশি। পেশাগতভাবে ৬৫ শতাংশ নারী কর্মজীবী।

এর মধ্যে ৬১ জন নারী প্রার্থী দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, ১৭ জন স্বতন্ত্র।

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন জানান, ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নারী প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালে নারী প্রার্থী ছিলেন ১০১ জন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে নারীর প্রতিনিধিত্ব ১ শতাংশের নিচে ছিল, ২০০১ সালে ২ শতাংশ, ২০০৮ সালে ৩.৬ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৫ শতাংশের বেশি এবং ২০১৮ সালে প্রায় ৪ শতাংশ ছিল।

নারীর ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য ২৬টি দল ন্যূনতম ৫ শতাংশ আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়নের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। তবে বড় দলের মধ্যে বিএনপি ১০ নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে (৩.৪ শতাংশ), এবং জামায়াতসহ ৩০টি দল কোনো আসনে নারীর মনোনয়ন দেয়নি।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার আজকের খবর- Ctg Port standoff threatens ripple effects across economy অর্থাৎ চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মবিরতি অর্থনীতিতে সৃষ্টির আশঙ্কা। চট্টগ্রাম বন্দর দুই দিনের কর্মবিরতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আংশিক অচলাবস্থার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন এটি শুধু বন্দরের গেটে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলছে এবং দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কর্মবিরতির ফলে কনটেইনার জমা হচ্ছে, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ধীর হচ্ছে, এবং স্টোরেজ চার্জ, জাহাজ ডিমুরেজ ও ট্রাক জরিমানা বাড়ছে। বিশেষ করে রমজান শুরুর আগে এ পরিস্থিতি মৌলিক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করছে।

শনিবার ও গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি পালন করে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদ। শ্রমিক নেতারা আজও একই সময়ের জন্য নতুন কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার খবর- Parties hunting voter NIDs, phone numbers in slums অর্থাৎ বস্তিতে এনআইডি ও ফোন নাম্বার সংগ্রহ করছে রাজনৈতিক দলগুলো।

ঢাকার কয়েকটি বস্তিতে নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দলের কর্মী ও প্রচারকরা ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, জামায়াতের দারিপল্লা প্রতীক নিয়ে প্রচাররত কর্মীরা ভোটারদের এনআইডি তথ্য চাইছিলেন, অনেক ক্ষেত্রে ফোন নম্বরও সহ। একইভাবে বিএনপির কিছু অঞ্চলে কর্মীরাও ভোটারদের এনআইডি ফটোকপি বা ফোন নম্বর সংগ্রহ করেছেন।

এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ২২ জানুয়ারি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ও এনআইডি সংগ্রহ, বহন বা হস্তান্তর করা, এছাড়া প্রচারণার সময় অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কমিশন ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার জন্য সতর্ক করেছেন।

খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মোট ৩৬টি আসনে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এগুলোর ১৮টিতে বিএনপি ও ১৩টিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

তবে বিএনপির দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভালো অবস্থানে থাকা কিছু আসন হারাতে পারে বিএনপি। এগুলোর মধ্যে ১২টি আসনে দ্বিমুখী ও ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।

খুলনা-১ আসনে (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৭ হাজার ১০৩ জন। দাকোপ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ উপজেলা। এখানে ৫৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ বাসিন্দাই হিন্দু। আর বটিয়াঘাটা উপজেলার ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাসিন্দা হিন্দু সম্প্রদায়ের।

ফলে এই আসনে হিন্দুদের ভোটেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। এবার অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির আমির এজাজ খান (ধানের শীষ)।

কারণ এই আসনে এবার হিন্দু প্রার্থী হয়েছেন ৮ জন। তবে জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় এলে এ দেশে হিন্দুরা জামাই-আদরে থাকবে। কাজেই দাকোপ-বটিয়াঘাটার মানুষ এবার আমাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।’

যুগান্তর পত্রিকার খবর – গণভোটে কেন এত বিতর্ক

রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এবারের গণভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নবযাত্রা শুরু করতে হলে জুলাই সনদের এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা দরকার। গণভোট অনুষ্ঠানের বাকি আর মাত্র ১০ দিন। অথচ এ নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সাধারণ জনগণের মধ্যে গণভোট নিয়ে সচেতনতার অভাব আছে। কারণ, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার প্রচার চালানো হলেও যে চারটি বিষয়ের ওপর ভোট, তাতে কী কী পরিবর্তন হবে, সে বিষয়ে জনমনে একধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে।

একদিকে সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সরকারি কর্মকর্তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা না করার নির্দেশনা দিয়েছে। তাছাড়া গণভোট-পরবর্তী ১৮০ দিনের সংসদ কেমন হবে, তা নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণেও গণভোট নিয়ে কিছুটা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। প্রথম বিতর্ক তৈরি হয় গণভোট অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ নিয়ে।

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি করে। অন্যদিকে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের দাবিতে অটল ছিল বিএনপি। পরে সরকার অবশ্য একই দিনে দুই ভোট করার সিদ্ধান্ত নেয়।

নিউ এজ পত্রিকার খবর- BNP, Jamaat trade blame again অর্থাৎ একে অপরের দিকে আঙ্গুল তুলছে বিএনপি ও জামায়াত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার ও নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

শনিবার ঢাকা নির্ধারিত নির্বাচনী ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এই অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়। বিএনপির নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান নাজরুল ইসলাম খান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল ভোটার প্রভাবিত করতে ধর্মীয় বক্তব্য ব্যবহার করছে, যা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন। তিনি জামায়াতের নাম না উল্লেখ করে বলেন, “একজন নেতার ভাষণ শোনা গেছে, যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট প্রতীককে ভোট না দেবে, তাকে কবরের চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।”

অপরদিকে, জামায়াতের মহিলা নেতৃত্বের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপির সমর্থকরা তাদের মহিলা কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহিলা উইং সেক্রেটারি নুরুননিসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রহমান এবং রাজনৈতিক বিষয় দেখাশোনা করা হাবিবা চৌধুরী।

মানবজমিন পত্রিকার প্রথম পাতার খবর- সংখ্যালঘুরা কেন শঙ্কিত?

চব্বিশের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা নিজেদের অবরুদ্ধ মনে করছেন। তাদের সম্পত্তির ওপর হামলা, হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের খবর রয়েছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, অধিকাংশ ঘটনাই রাজনৈতিক, ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত নয়।

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের ফলে হাসিনার পতনের পর, দেশের বেশ কিছু এলাকায় উত্তেজিত জনতা হিন্দু সমপ্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করে। এই হিন্দু সমপ্রদায়ের বহু সদস্য বিগত দিনে ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন। দলটি নিজেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হিসেবে দাবি করার চেষ্টা করেছে। যদিও সমালোচকদের অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকাকালীন দলটি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে হিন্দুরা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ। আর খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক কম।

বিশেষজ্ঞ এবং সংখ্যালঘু নেতাদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাস জুড়ে রাজনৈতিক কুশীলব এবং তাদের সমর্থকরা মাঝেমধ্যে ভোটারদের ভয় দেখাতে বা স্থানীয় বিরোধ মেটাতে ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করেছেন। ফলে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, উপাসনালয় এবং ব্যক্তিরা হামলার শিকার হয়েছে।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সহ-সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেছেন, আওয়ামী লীগের আমল সহ আপনি যদি অতীতের নির্বাচনগুলোর দিকে তাকান- কখনোই সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন ও নির্যাতন সত্যিকার অর্থে থেমে থাকেনি। এটি নির্বাচনের আগেও হয়েছে, পরেও হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার কারণ হলো সেসব ঘটনার সঠিক কোনো বিচার হয়নি।

দেশ রূপান্তর পত্রিকার খবর- আমলাদের চিন্তায় দপ্তর।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দপ্তরভিত্তিক আগাম সমীকরণ মেলাতে শুরু করেছেন প্রভাবশালী আমলারা। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলার দায়িত্বে থাকা আমলার গোপনে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা সেরে রাখছেন। নির্বাচনের পর আসন্ন নতুন সরকারে পছন্দসই দপ্তর লাভই এখন তাদের প্রধান চিন্তা। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানলেও প্রকাশ্যে কথা বলছেন না।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পতনের পর প্রশাসনে নতুন নতুন ‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী’ বা প্রেশার গ্রুপের উত্থান ঘটেছে, যারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে সচেষ্ট। কেউ কেউ মনে করছেন, আমলাদের এই অতি-সক্রিয়তা বা দৌড়ঝাঁপ মূলত ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণে নিজেদের টিকিয়ে রাখার কৌশল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রশাসনের মধ্যে দুটি ধারা বিরাজ করছে। বিগত আওয়ামী নেতৃত্বধীন সরকারের সুবিধাভোগীরা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরিতে এগিয়ে আসছে। অন্যপক্ষ নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। সচেতন মহল এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী মহলে দীর্ঘদিন থেকে সচিবালয়সহ সরকারি দপ্তরগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কর্মকর্তাদের আচরণে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।

টাইমস অফ বাংলাদেশের আজকের খবর – Jamaat’s stark double standards অর্থাৎ জামায়াত-এর তীব্র দ্বৈত নীতি।

জামায়াত-এ-ইসলামী দল নেতা শফিকুর রহমান নারী নিরাপত্তা রক্ষা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে দোষারোপ করলেও, তার নিজের দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে অন্তত ৫০টির বেশি নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, হেনস্থা, যৌন হয়রানি ও অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ সামনে এসেছে।

জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে এই অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়েছে। কিছু মামলায় শিশু যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। বেশ কয়েকটি ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের আইনি প্রক্রিয়া না চালিয়ে স্থানীয় সমঝোতার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কেবল এক বা দুই মামলায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আজকের পত্রিকা:

সম্পর্কিত খবর