সভ্যতার উত্থান পতন :রক্তে লেখা ইতিহাস

সোনার বাংলা অনলাইন
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৪

লেখক: আবু নাঈম মু শহীদুল্লাহ্

আবু নাঈম মু শহীদুল্লাহ্
(১০ম পর্ব)
জাহেলিয়াতের যুগ-
ইতিহাসের এক ভয়াবহ অন্ধকার অধ্যায় হলো জাহেলি যুগ। এ যুগে মানবসভ্যতা নৈতিকতা, মানবিকতা ও বিবেকের চরম অবক্ষয়ের শিকার হয়েছিল। মানুষ তখন আর মানুষ হিসেবে বিবেচিত হতো না; শক্তিই ছিল ন্যায়, ক্ষমতাই ছিল সত্য। চারদিকে শিরক ও মূর্তিপূজা, গোত্রীয় অহংকার, হিংসা ও প্রতিহিংসা সমাজকে এমনভাবে গ্রাস করেছিল যে ভালো-মন্দের সীমারেখা বিলীন হয়ে গিয়েছিল।
শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর নির্বিচারে জুলুম চালাত, আর দুর্বলরা জন্মগতভাবেই ছিল বঞ্চিত ও নিপীড়িত। নারী সমাজ ছিল সবচেয়ে অবহেলিত। তাদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না, ছিল না কোনো নিরাপত্তা। এতটাই নিষ্ঠুর ও অমানবিক ছিল সে সমাজব্যবস্থা যে কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়াকে মনে করা হতো লজ্জা ও অপরাধ। ফলে বহু পিতা নিজেরই কলিজার টুকরো কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিয়ে দিত। এই নির্মম প্রথা মানব ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক ও কলঙ্কিত অধ্যায়, যেখানে মানবতা নিজেই নিজের কবর খুঁড়েছিল।
সমাজের উপর নেমে এসেছিল এক দীর্ঘ অন্ধকার। শাসন ব্যবস্থা তখন আর জনগণের আশ্রয় ছিল না—বরং তা হয়ে উঠেছিল ভয়, শোষণ ও অনিশ্চয়তার প্রতীক। ক্ষমতার মসনদে বসে থাকা শাসকেরা নিজেদের স্বার্থকেই রাষ্ট্রের স্বার্থ বলে চাপিয়ে দিয়েছিল। ন্যায়বিচার বিক্রি হতো প্রভাবশালীদের দরবারে, আর দুর্বল মানুষের কান্না হারিয়ে যেত প্রাসাদের পাথুরে দেয়ালে। করের বোঝা এতটাই নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছিল যে কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসল তার ঘরে ঢোকার আগেই শাসকের গোলায় চলে যেত। ক্ষুধা তখন শুধু পেটে নয়—মনে, আত্মায়ও বাসা বেঁধেছিল।
জুলুম ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। বিনা অপরাধে মানুষকে কারারুদ্ধ করা হতো; কখনো চাবুকের আঘাতে, কখনো অপমানের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হতো মানবিক মর্যাদা। শাসনের নামে চলত নির্দয়তা, আর শৃঙ্খলার অজুহাতে চাপা দেওয়া হতো সত্যের কণ্ঠ। প্রশাসন ছিল অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত।দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার সমাজের শিরায় শিরায় বিষের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল।
এই গভীর অন্ধকার সময়েই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জন্ম নেয় এক দীর্ঘ, ভারী দীর্ঘশ্বাস। তারা অশ্রুসিক্ত চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে যেন প্রশ্ন করত—আর কতকাল? আর কত জুলুম সহ্য করতে হবে? মানুষের অন্তরে তখন এক নিঃশব্দ আর্তনাদ—একজন ত্রাণকর্তা আসুক। এমন একজন, যিনি ভাঙা ন্যায়কে জোড়া লাগাবেন, নিপীড়িতকে আশ্রয় দেবেন, আর অবিচারের মসনদ কাঁপিয়ে দেবেন সত্য ও করুণার শক্তিতে।
ঠিক এমনই এক অন্ধকার যুগে মানবজাতিকে মুক্তির পথ দেখাতে নবী মুহাম্মাদ সাঃ এর আগমন ঘটে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য নন—বরং সমগ্র পৃথিবীর জন্য রহমত হয়ে এসেছিলেন।
সে সময় শুধু আরব নয়,পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলই ছিল অবিচার ও মানবিক বিপর্যয়ের শিকার।
আজকের ইউরোপ তখন ছিল এক গভীর অস্থিরতার নাম। রাজপ্রাসাদের আলো যত উজ্জ্বল ছিল, সাধারণ মানুষের জীবন ততটাই অন্ধকারে নিমজ্জিত। ৫ম ও ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে ইউরোপের বিস্তীর্ণ ভূমি জুড়ে শাসন ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে ছিল ভয় ও বলপ্রয়োগের উপর। খ্রিস্টান রাজারা নিজেদের “ঈশ্বরপ্রদত্ত শাসক” বলে দাবি করলেও, তাদের শাসনে ঈশ্বরের করুণা নয়—নেমে এসেছিল সীমাহীন জুলুম ও নির্যাতন।
রাজা ও সামন্ত প্রভুরা ক্ষমতাকে ব্যবহার করত শোষণের হাতিয়ার হিসেবে। সাধারণ মানুষ ছিল ভূমির সঙ্গে বাঁধা দাসের মতো—কথা বলার অধিকার নেই, ন্যায়বিচার চাওয়ার সাহস নেই। করের বোঝা এতটাই নির্মম ছিল যে কৃষক তার সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার আগেই রাজকোষ ভরাতে বাধ্য হতো। যারা দিতে পারত না, তাদের জন্য অপেক্ষা করত কারাগার, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুদণ্ড।
চার্চ তখন মানুষের আশ্রয় না হয়ে ক্ষমতার অংশীদারে পরিণত হয়েছিল। ধর্মের নামে ভয় দেখানো হতো, পাপের অজুহাতে মানুষের স্বাধীন চিন্তাকে শৃঙ্খলিত করা হতো। রাজা ও ধর্মযাজকদের গোপন আঁতাত সাধারণ মানুষের জীবনে আরও অন্ধকার ডেকে এনেছিল। সত্য বলার অপরাধে মানুষকে আগুনে পোড়ানো হয়েছে, ভিন্ন মত পোষণ করার জন্য সমাজ থেকে নির্বাসিত করা হয়েছে। মানবিকতা তখন অপরাধে পরিণত হয়েছিল।
প্রাসাদের ভেতরে বিলাসিতা ও ভোজের আয়োজন চলত, আর বাইরে মানুষ অনাহারে মরত। যুদ্ধ ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা—ক্ষমতার লড়াইয়ে গ্রাম পুড়ত, নারী ও শিশু বন্দি হতো, আর সাধারণ মানুষ হারাত ঘর, সম্মান ও ভবিষ্যৎ। ইউরোপ তখন ছিল আত্মার আর্তনাদের এক রক্তাক্ত ভূমি। মানুষের নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে একটাই প্রশ্ন—কবে আসবে সেই দিন, যেদিন শাসন মানে হবে সেবা, আর ধর্ম মানে হবে ভালোবাসা?
শুধু ইউরোপ নয়—ভারতীয় উপমহাদেশও তখন শান্তি ও ন্যায়ের ভূমি ছিল না। হিন্দু ও বৌদ্ধ রাজাদের শাসনে বাহ্যিক আড়ম্বর থাকলেও ভেতরে ছিল গভীর বৈষম্য ও নিপীড়ন। বংশগৌরব ও বর্ণভেদই ছিল শাসনের মূল ভিত্তি। জন্মই নির্ধারণ করে দিত মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ।
বর্ণপ্রথা ছিল সবচেয়ে নির্মম শিকল। শূদ্র ও তথাকথিত ‘অস্পৃশ্য’ মানুষ ছিল মানবেতর জীবনের বন্দি। ধর্মের নামে এই অবমাননা রাজকীয় অনুমোদনেই চলত। ভারী কর ও খাজনার চাপে কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়ত, আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বহু সময় রাজক্ষমতার সহযোগীতে পরিণত হতো। মানুষ প্রশ্ন করত—এই কি রাজধর্ম? এই কি ন্যায়?
আর পারস্য—স্বর্ণখচিত প্রাসাদের আড়ালে চাপা পড়ে যাওয়া দীর্ঘশ্বাসের এক সাম্রাজ্য। সাসানীয় সম্রাটদের শাসনে রাষ্ট্র ছিল সম্রাটের, জনগণ ছিল কেবল করদাতা। সম্রাটকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি ভাবা হতো, ফলে তার আদেশের বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই ছিল নির্মম মৃত্যুদণ্ডের আহ্বান। সমাজ ছিল শ্রেণিভিত্তিক, করের বোঝা ছিল অসহনীয়, আর যুদ্ধ ছিল নিত্যসঙ্গী। বিজয়ের উৎসবের আড়ালে চাপা পড়ত অগণিত মায়ের কান্না।এই দুঃসহ বাস্তবতায় পৃথিবীর সর্বত্র মানুষের হৃদয়ে জমে উঠেছিল এক নীরব হাহাকার। সবাই যেন একই প্রশ্ন করছিল—এই কি ন্যায়? এই কি ধর্ম? এই অন্ধকার থেকে মুক্তির পথ কোথায়?

আর আরবের জাহিলিয়াতের যুগ তো ছিল আরো ভয়াবহ। শুধু সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের সময় নয়।এটি ছিল আকিদা ও বিশ্বাসের ভয়াবহ পতনের যুগ। মানুষের হৃদয় থেকে একত্ববাদের আলো নিভে গিয়ে সেখানে জায়গা করে নিয়েছিল অজ্ঞতা, কুসংস্কার আর অন্ধ অনুসরণ। আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মানার দাবির আড়ালেই মানুষ তাঁর সঙ্গে শরিক দাঁড় করিয়েছিল অসংখ্য মিথ্যা উপাস্য।
কাবাঘর—যা একসময় ছিল ইবরাহিম (আ.)–এর তাওহীদের কেন্দ্র। সেই পবিত্র ঘরই পরিণত হয়েছিল শিরকের অভয়ারণ্যে। কাবার চারপাশে স্থাপন করা হয়েছিল তিন শতাধিক মূর্তি। প্রতিটি গোত্রের ছিল নিজস্ব দেবতা, নিজস্ব প্রতীক। কেউ পূজা করত পাথরকে, কেউ কাঠকে, কেউ আবার নিজের হাতে গড়া মূর্তিকে—যাকে আজ বানাচ্ছে, কালই ভেঙে ফেলছে। তবুও সেই নির্জীব বস্তুই হয়ে উঠেছিল তাদের ভাগ্যনির্ধারক।
মানুষ আল্লাহকে ডাকত না সরাসরি—বরং বলত,
এরা আমাদের জন্য সুপারিশ করবে।
এই বিশ্বাসই ছিল শিরকের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ। তারা ভুলে গিয়েছিল।যিনি সৃষ্টি করেছেন আকাশ ও পৃথিবী, যিনি জীবন ও মৃত্যুর মালিক, তাঁর কাছে পৌঁছানোর জন্য কোনো মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই।
ধর্ম তখন আর আত্মশুদ্ধির পথ ছিল না।বরং হয়ে উঠেছিল স্বার্থ ও ক্ষমতার হাতিয়ার। গোত্রপ্রধান ও মূর্তির রক্ষকেরা ধর্মকে ব্যবহার করত ব্যবসা ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে। হজের মৌসুমে মানুষ আসত কাবায়, কিন্তু ইবাদতের জন্য নয়—বরং মেলা, বাণিজ্য আর কুসংস্কারের প্রদর্শনীতে অংশ নিতে। এমনকি নগ্ন অবস্থায় তাওয়াফ করাকেও তারা পবিত্রতা বলে মনে করত।যেন পাপ ঢাকতে গিয়ে তারা বিবেকই খুলে ফেলেছিল।
আল্লাহর আদেশের প্রতি ছিল প্রকাশ্য অবাধ্যতা। সুদ, জুয়া, মদ, ব্যভিচার সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক সামাজিক রীতি। ন্যায়-অন্যায়ের মাপকাঠি ছিল না ওহির আলোতে,ছিল গোত্রীয় স্বার্থে। যে শক্তিশালী, সেই সত্য আর যে দুর্বল, তার কোনো ধর্মও নেই। ধর্মীয় মূল্যবোধ তখন আর চরিত্র গঠনের মাধ্যম ছিল না—বরং অজ্ঞতার অলংকারে ঢাকা এক ফাঁপা আচার।
কুসংস্কার ছিল জীবনের প্রতিটি স্তরে। পাখির ডান দিক দিয়ে উড়া বা বাম দিক দিয়ে উড়া দিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করা হতো। কিছু মাসকে “অপয়া” মনে করে যুদ্ধ বন্ধ রাখা হতো, আবার স্বার্থে পড়লে সেই পবিত্র মাসও ভেঙে ফেলা হতো। হালাল-হারামের কোনো স্থায়ী মানদণ্ড ছিল না—যা মন চাইত, সেটাই ধর্ম।
সবচেয়ে করুণ ছিল এই যে এই শিরক ও অবাধ্যতার মধ্যেও মানুষ নিজেদের সঠিক পথের অনুসারী ভাবত। তারা বলত,আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদের পথেই চলছি। এই অন্ধ অনুকরণই ছিল জাহিলিয়াতের মেরুদণ্ড। সত্য জানার চেষ্টা ছিল না, প্রশ্ন করার সাহস ছিল না ছিল শুধু বংশগত গর্ব আর অজ্ঞতার অহংকার।
এই অন্ধকারে মানুষের আত্মা ছিল তৃষ্ণার্ত। বাহ্যিক ধর্মীয় আচার থাকলেও অন্তরে ছিল শূন্যতা। তারা বুঝতে পারছিল। এই দেবতারা শান্তি দিতে পারছে না, এই উপাসনা হৃদয়ের ভার লাঘব করতে পারছে না। রাতের নীরবতায় বহু মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবত,যদি সত্যিই কোনো এক পরম সত্য থাকেন, তবে তিনি কোথায়?
এই জাহিলিয়াতের যুগ তাই ছিল তাওহীদের জন্য এক চরম নির্বাসন। শিরক শুধু উপাসনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তা ছড়িয়ে পড়েছিল রাজনীতি, সমাজ, নৈতিকতা ও চিন্তাধারায়। মানুষ আল্লাহর গোলাম না হয়ে হয়ে উঠেছিল মানুষ, গোত্র ও কুসংস্কারের দাস।
আর ঠিক এই গভীর অন্ধকারেই জমে উঠেছিল এক নীরব প্রতীক্ষা। মানুষের হৃদয়, অজান্তেই, খুঁজছিল এমন এক আহ্বান।যা শিরকের শিকল ভাঙবে, অজ্ঞতার পর্দা সরাবে, আর মানুষকে ফিরিয়ে দেবে তার প্রকৃত রবের কাছে। কারণ ইতিহাস বলে যখন শিরক সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে,যখন অবাধ্যতা হয়ে ওঠে সংস্কৃতি,আর সত্য হারিয়ে যায় কুসংস্কারের ভিড়ে ঠিক তখনই মানবতার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় তাওহীদের আলো। যে আলো নিয়ে এসেছিলেন সাইয়্যেদুল মুরসালিন খাতামুন নাবিয়্যিন রাহমাতুল লিল আলামিন নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ।
অশান্তির আগুনে দগ্ধ সারা দুনিয়া চারদিকে জুলুমবাজদের রাজত্ব। যখন আকাশের নিচে মানুষ মানুষকে চিনত শক্তি দিয়ে মানবতা সেখানে ছিল অকেজো।
যখন ধর্ম ছিল বিকৃত, ন্যায় ছিল বন্দি, আর সত্য ছিল নির্বাসিত, ঠিক তখনই আল্লাহর রহমতে ইতিহাসের বুকে উদিত হলো এক অনন্য ভোর। সে ভোর কোনো রাজপ্রাসাদে আসেনি,কোনো সোনালি সিংহাসনের দাবি নিয়েও আসেনি। সে ভোর এসেছে এক নিঃশব্দ, পবিত্র ঘরে,মানবতার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হয়ে।
আরবের মরুপ্রান্তরে, মক্কার বুকে জন্ম নিলেন তিনি—
যাঁকে আল্লাহ পাঠিয়েছিলেন সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট জাতির জন্য ছিলেন না
ছিলেন না কেবল একটি সময়ের জন্য।
তিনি এসেছিলেন সব মানুষের জন্য, সব যুগের জন্য।
যে পৃথিবী জুলুমে ক্লান্ত,যে সমাজ বিভক্ত৷ যে মানুষ পথহারা, সেই পৃথিবীর বুকে তাঁর আগমন ছিল আলোর ঘোষণা।
তাঁর জন্মের সময় পৃথিবীর মুশরিকরা জানত না
এই শিশুই একদিন ভেঙে দেবেন শিরকের মসনদ,
চূর্ণ করবেন অহংকারের পাহাড়,আর মানুষের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠা করবেন তাওহীদের সিংহাসন।
যে সমাজ কন্যা সন্তানকে কবর দিত, তিনি সেই সমাজকে শিখিয়েছেন কন্যা হলো জান্নাতের দরজা।
যে সমাজ শক্তিকে ন্যায় বানিয়েছিল
তিনি শিখিয়েছেন ন্যায়ই হলো প্রকৃত শক্তি।
যে সমাজ মানুষকে বর্ণ, গোত্র ও সম্পদে ভাগ করেছিল,
তিনি ঘোষণা করেছেন সব মানুষ সমান,
মর্যাদার একমাত্র মানদণ্ড তাকওয়া।
তিনি জন্ম নিয়েছিলেন এমন এক যুগে,
যেখানে শান্তি ছিল সবচেয়ে বড় অভাব।
আর আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছিলেন একটিই মিশন দিয়ে—
অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

তাঁর পথ ছিল রুহামার পথ। তাঁর ভাষা ছিল ভালোবাসার ভাষা।তাঁর শাসন ছিল ন্যায়ের শাসন। তিনি শত্রুকেও ক্ষমা করেছেন,অসহায়কে বুকে টেনেছেন,দাসকে দিয়েছেন স্বাধীনতা,নারীকে দিয়েছেন সম্মান,
আর মানবতাকে দিয়েছেন মর্যাদার আসন।তাঁর জন্ম কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না তা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবতার জন্য এক ঘোষণা:
“হে মানুষ, এখনো আশা শেষ হয়নি।”
কারণ তিনি এসেছিলেন ভাঙা হৃদয় জোড়া দিতে,
অন্ধকার চিন্তায় আলো জ্বালাতে,আর মানুষকে মানুষ হিসেবে বাঁচতে শেখাতে। আজও যখন পৃথিবী অশান্ত,
যখন যুদ্ধ, হিংসা আর অহংকার মানুষকে গ্রাস করে—
তখনও তাঁর জীবন আমাদের বলে দেয়:
শান্তির পথ আছে,আর সেই পথের নাম ইসলাম যা পূর্ণাঙ্গ দ্বীন।

চলবে–

 

আবু নাঈম মু শহীদুল্লাহ্ রক্তে লেখা ইতিহাস