শাহাদাতের রক্তভেজা পথেই আসবে নিপীড়িত মানবতার বিজয়
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৬
শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি দেশ, জনগণ ও উম্মাহর জন্য হাসিমুখে শাহাদাতের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে চলে গেছেন মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে। তিনি এ অর্ধঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করার সংগ্রাম করে গেছেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে। বিপ্লবী এ তরুণ তার নিজের মুখেই বলেছিলেন, দীর্ঘ জীবন নয়, সার্থক জীবন চান তিনি। তিনি দেশ, জনগণ এবং উম্মাহর জন্য এমন একটি সংগ্রামী ধারা উপহার দেন একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের জন্য। তারা জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দেবে, কিন্তু লক্ষ্য অর্জনের আগে থামবে না।
পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখি, প্রতিটি অর্জনের নেপথ্যেই আছে এমন জীবনপণ করা রক্তাক্ত সংগ্রামের উজ্জ্বল উদাহরণ। বিপ্লবীদের রক্তের সিঁড়ি বেয়েই আসে বিজয়। বর্তমান বাংলাদেশ এমন এক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ৩৬ জুলাইয়ের রক্তাক্ত সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। পরাজিত শকুনিরা সুযোগের সন্ধান করছে তাদের মরণকামড়ের জন্য। তারা সামনে আসতে ভয় পায়, কিন্তু আড়ালে বসে অস্ত্র শান দিচ্ছে এবং সুযোগ পেলেই কাপুরুষের মতো পিছন থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করছে। তারা টার্গেট করছে সম্ভাবনাময় সংগ্রামী তরুণদের। ওসমান শরীফ বিন হাদিও এজন্যই তাদের টার্গেটে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি প্রচলিত ধারার রাজনীতির বন্ধনমুক্ত একটি নতুন দুয়ার খোলার দুঃসাহসী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ইনকিলাব মঞ্চ। এটি কোনো রাজনৈতিক দল বা প্ল্যাটফরম নয়।
আমরা জানি, ইনকিলাব মঞ্চ ১৩ আগস্ট ২০২৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ওসমান শরীফ বিন হাদির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো সকল প্রকার আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ করা এবং ইনসাফ বা ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক সহযোহিতা করা। তিনি বুঝেছিলেন, সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছাড়া রাজনৈতিক বিপ্লব সম্ভব না। যদিও-বা কেউ অন্য কোনো পথে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ করতে চায় কিন্তু তা টেকে না। তাই তিনি ইসলামী মূল্যবোধ ধারণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে এমন কর্মসূচি নিয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন। তার কর্মসূচির মধ্যে ছিলÑ দেশব্যাপী দেয়াললিখন (গ্রাফিতি), স্লোগান পুনর্লিখন, শহীদি সপ্তাহ পালন, গণসেজদা, মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি। ছোট ছোট এসব কর্মসূচি এবং জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে তাদের কথা জাতির সামনে তুলে ধরে তিনি অল্প সময়ে কতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তার বড় প্রমাণ তার শেষ বিদায়ের আয়োজন এবং জানাজা। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বন্দুক হামলায় গুরুতর আহত হন এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার আহত হওয়ার পরই সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ক্ষোভ আর বিক্ষোভে গর্জে ওঠেন সর্বস্তরের মানুষ। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২০ ডিসেম্বর শনিবার। স্মরণকালের বৃহত্তম এ জানাজায় উপস্থিত জনতা এ বার্তাই দিয়েছে, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি কল্যাণরাষ্ট্রই চায় দেশের কোটি কোটি মানুষ। তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দখলবাজদের রাজনীতিতে চায় না। তারা চায় হাদির মতো নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক ও ইসলামী চেতনায় উদ্দীপ্ত বিপ্লবীদের, যারা শাহাদাতের পেয়ালায় চুমুক দিতে রাজি, ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জীবন রাখে বাজি। যারা বিশ্বাস করে শাহাদাত মানে শেষ নয়, জীবনের শুরু। এ রক্তভেজা পথেই আসবে নিপীড়িত মানবতার বিজয়।