ভোটাধিকার রক্ষার শপথ রক্ষা করলেই আঁধার টুটে আসবে সোনালি প্রভাত


১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২২

॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত নির্বাচন ফিরে আসার প্রতীক্ষা করছে দেশবাসী। ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বহুল কাক্সিক্ষত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ হয়েছে ভোটাধিকারহারা। হাসিনার স্বৈরশাসন এবং ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার কারণ বিনা ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ। বিনা ভোটের সরকারের কারণে একে একে ধ্বংস হয় দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রযন্ত্র হয় ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের হাতিয়ার। দেশে নেমে আসে ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত’। হাসিনার নির্যাতন সেল ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন শেষে হাসিনার মানবাধিকার লঙ্ঘনের নির্মমতা দেখে এমন মন্তব্যই করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেই আইয়্যামে জাহেলিয়াতের আঁধার টুটে সোনালি প্রভাত আনার প্রত্যয়ে ছাত্র-জনতা বুলেট-বোমা, গুম-খুন, জেল-জুলুম, নির্যাতনের ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে স্লোগান তুলেছিলো- ‘বুকের ভিতর দারুণ ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।’ প্রায় দুই হাজার জীবনের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিস্ট হাসিনার দুঃশাসনমুক্ত হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত সেই সোনালি আলোর আভার দেখা মেলেনি। উদিত হয়নি প্রভাতের সূর্য। শেষ হয়নি দুঃশাসন মুক্তি-সংগ্রাম।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই দুঃশাসন মুক্তি সংগ্রামের আরেক অগ্নিপরীক্ষা। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার এ পরীক্ষার পরীক্ষার্থী অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন, সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা। একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করলেই সার্থক হবে ফ্যাসিস্ট মুক্তির আন্দোলন। কে বিজয়ী হয়ে আসছে, নির্বাচন ঘিরে এমন অনিশ্চয়তা থাকবে- এটা একটা সত্যিকারে নির্বাচনের দাবি। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে, তা স্বাভাবিক। কিন্তু ভোটে সত্যি সত্যি জনমতের প্রতিফলন ঘটবে, নাকি বিগত নির্বাচনগুলোর মতো ‘জোর যার মুল্লুক তার’ প্রতিফলন দেখবে জাতি? এমন সংশয় শুভ লক্ষণ নয়। এমন সংশয় অমূলকও নয়। এ প্রতিবেদক তৃণমূল পর্যায় থেকে এমন অনেক অভিযোগ পেয়েছেন।
অনিশ্চয়তা ও অভিযোগ
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের অভিমত হলো- কে জিতবে আগেই যদি বলা যায়, এমন নির্বাচন শক্তি গণতন্ত্রের পরিচয় বহন করে না। বাংলাদেশের এবারের জাতীয় নির্বাচন বিশ্লেষকরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন ফ্লেভারই পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। আমেরিকান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট ডাল (Robert A. Dahl) বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের শক্তি নির্বাচন নয়; বরং নির্বাচনের অনিশ্চয়তায়।’ এখানে নির্বাচনের অনিশ্চয়তা বলে তিনি বুঝিয়েছেন, ফলাফল আগে থেকেই বোঝা যাবে না। আসলে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারণ করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অসম্ভব। বিষয়টি রবার্ট ডাল এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, ‘ভোটদানে সমতা, কার্যকর অংশগ্রহণ, আলোকিত বোধগম্যতা, এজেন্ডার ওপর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অন্তর্ভুক্তি। কিন্তু দ্রুত ক্রমে এলো অগোছালো বাস্তবতা- গুহার দেয়ালে বিকৃত ছায়ার মতো অস্পষ্ট।’
ভোটদানে সমতা বাধাগ্রস্ত হয় শক্তিশালী প্রতিপক্ষ যখন ভয়ভীতি দেখায় এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়।
এমন অভিযোগ সারা দেশের তৃণমূল থেকেই আসছে। টাঙ্গাইল থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের গোপালপুরের আলমনগর ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্রের জন্য তারা যাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছেন, স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কুমিল্লার মুরাদনগরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘কোনো জালিয়াত, ভোট চোর কিংবা অবৈধ ইঞ্জিনিয়ার যেন জনগণের কপাল নিয়ে খেলতে না পারে, তা রুখে দিতে হবে। এখন থেকেই পাহারাদারি শুরু করতে হবে।’
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীরা শান্তিপ্রিয়। কিন্তু চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীরা ভয়ংকর। মানুষ খুন করতে তাদের হাত কাঁপে না। তাই প্রত্যেক জাতীয় নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার রুটিন কাজ। কিন্তু এবার এ রুটিন কাজ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও জনমনের ভীতি কাটেনি। বিশেষ করে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ৪০ আসামিকে গ্রেফতারের পর আগাম জামিনে বাইরের মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়ানো এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় বিএনপির নামধারী সন্ত্রাসীদের উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আসামির আগাম জামিনের ঘটনায় বাদী পক্ষ এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, এ ঘটনার কয়েকদিন পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল ইন্তেকাল করায় এ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষ ও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পুরনো সেই নির্বাচন ‘জোর যার মুল্লুক তার’ অবস্থা আবার ফিরে আসবে। যার পরিণতি হবে ভয়াবহ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশ ভয়াবহভাবে কলুষিত হয়ে পড়েছে, যা থেকে বেরিয়ে আসতে মৌলিক সংস্কার জরুরি। দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ড. বদিউল আলম যে মন্তব্য করেছেন, মাঠের চিত্রও তাই বলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও আন্তরিকতা
সারা দেশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের এজেন্ট ও ভোটারদের নিরাপত্তা দেয়ার মতো সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। এর কারণ তাদের সীমাবদ্ধতা যেমন আছে, অন্যদিকে অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার অভাবের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে প্রকাশ, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ৯টা পর্যন্ত এসব ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। সারা দেশে চলতি নির্বাচনী সময়সীমায় ৫৩ দিনে ২৭৪টি সহিংসতা ঘটেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার মধ্যে রয়েছে-ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণ ১৬টি, প্রার্থীর ওপর হামলা ১৫টি, হত্যাকাণ্ড ৫টি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ৮৯টি। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ৩টি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ৯টি। প্রচার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এসেছে ২৯টি, নির্বাচন সংক্রান্ত অফিস বা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ২০টি, অবরোধ ও বিক্ষোভ ১৭টি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা একটি। অন্যান্য ধরনের সহিংসতা ৭০টি।
টিআইবি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী ১৭ মাসে ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে বিএনপির সম্পৃক্ততা ছিল ৫৫০টিতে। বিএনপি ৯১.৭ শতাংশ ঘটনায় জড়িত। আওয়ামী লীগ ২০.৭ শতাংশ ঘটনায় জড়িত। জামায়াতে ইসলামী ৭.৭ শতাংশ ঘটনায় জড়িত। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১.২ শতাংশ ঘটনায় জড়িত।
তার মানে রাজনৈতিক সহিংসার অধিকাংশের সাথেই জড়িত বিএনপি। এমন রাজনৈতিক দলের মোকাবিলা করতে গিয়ে মাত্র ৭.৭ শতাংশ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী জড়িয়েছে।
ওপরের ঘটনা পর্যালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন এবং ছোট-বড়, শান্ত-ভদ্র রাজনৈতিক দলের ভোটার ও এজেন্টদের নিরাপত্তা বিধান করলেই অবাধ-সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন সম্ভব বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
এক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় কিংবা কোনো বিশেষ দলকে জেতাতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কোনো উপদেষ্টা অথবা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট অন্য যারাই সহযোগিতা করবেন, তাদের নাম ইতিহাসের পাতায় বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই লেখা থাকবে। পরিণতিও হবে ভয়াবহ। কারণ এবারের নির্বাচন জাতির ভাগ্য নতুন করে লেখার আয়োজন।
জাতির ভাগ্য নতুন করে লেখার নির্বাচন
জাতির ভাগ্য নতুন করে লেখার এমন নির্বাচন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটন বলেছেন, ‘একটি নির্বাচন তখনই টার্নিং পয়েন্ট (একটি জাতির প্রত্যাশার আলোকে বড় পরিবর্তন) হয়, যখন তা কেবল সরকার বদলায় না; বরং রাজনৈতিক আচরণের নিয়ম বদলে দেয়।’ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘টার্নিং পয়েন্ট ইলেকশন’ বলতে বোঝায় এমন নির্বাচন, যা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস ঘটায়। নির্বাচনী জোট বদলে যায়। বদলে যায় ভোটার। বদলে যায় রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য। বদলে যায় রাজনীতির ভাষা।
ডিপ স্টেট রাজনীতির এ ভাষা বদলে ফেলার প্রধান বাধা তাই তারা এমন সূক্ষ্ম জায়গা থেকে কাজ করে, যা অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের খোলা চোখে ধরা পড়ে না। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশ্লেষক ড. আবদুল আলীম ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে উল্লেখ করেন, দেশ ও বিশ্বের চোখ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এমনভাবে ফাঁকি দিয়েছিলো যে, আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (International Republican Institute – IRI) নির্বাচনের পর এটিকে বাংলাদেশের সেরা নির্বাচন বলে উল্লেখ করেছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে একে একে থলের বিড়াল বের হয়ে এসেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম মনে করেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ডিপ স্টেট গঠিত হয়েছে স্থায়ী আমলাতন্ত্র বা প্রশাসনিক ক্যাডার, বৃহৎ ঋণখেলাপি গোষ্ঠী ও ব্যাংক লুটেরা সিন্ডিকেট এবং নিরাপত্তা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির সমন্বয়ে। ড্যারেন অ্যাসেম ও জেমস এ রবিনসন তাদের গবেষণায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থাকে ‘এলিট বার্গেইন ট্রাপ’ বা সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর দরকষাকষির ফাঁদে পড়ে যাওয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন।’
সংশয়টা এখানে এ ফাঁদের অতিক্রম করার ক্ষমতা ও অভিপ্রায় যাদের আছে, তারা কতটা সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ, তার ওপর নির্ভর করছে ত্রয়োদশ নির্বাচনের জতির প্রত্যাশা পূরণ।
এছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, তা হলো- এবার আর জনগণের ভোটাধিকার কাউকে হরণ করতে দেবো না। জনগণের ভোটে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাবে, তারা সরকার গঠন করবে। অন্যরা সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসে হিসেবে ছায়া সরকার গঠন করে জাতির প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে। তবেই সম্ভব হবে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখল, দুঃশাসনমুক্ত ইনসাফপূর্ণ, মানবিক শান্তি ও উন্নয়নের বাংলাদেশ গড়ার সম্ভব।