সার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে নেয়ার চুক্তি কেন বাতিল করছে না সরকার
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:১৯
॥ উসমান ফারুক॥
জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ, দেশের জনগণ ও জনগণ কর্তৃক গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর শত্রুদৃষ্টি দেয়া একমাত্র দেশ হচ্ছে ভারত। গোটা বিশ্বের সকল রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিপ্লব ও বিপ্লব-পরবর্তী গঠিত সরকারকে আকুণ্ঠ সমর্থন দিলেও একমাত্র হিন্দুস্তান এখনো আওয়াম লীগকে পুনর্বাসনের খোয়াব দেখছে। সেই ভারত আমাদের রপ্তানি বাজার নষ্ট করতে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল করেছে আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, শুধু অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক কারণে সম্পাদিত চুক্তি একতরফা বাতিল করতে পারে না। কিন্তু শুধু সামরিক ও কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ট্রানজিটের নামে করিডোর সুবিধার চুক্তি এখনো বাতিল করেনি গণবিপ্লবের অন্তর্বর্তী সরকার।
দেশের সার্বভৌমত্বকে ভূলুণ্ঠিত করার এ চুক্তি বাতিলে পদক্ষেপ না নেয়ার মানেই হচ্ছেÑ দেশের আমলাতন্ত্র এখনো ভারতের স্বার্থে কাজ করছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলের রেখে যাওয়া সুবিধাবাদীরা এখনো মনে করছে, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা আবারো দেশে ফিরবে। এজন্য করিডোরের পর এ সরকারের সময়ে বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ ও ফাইবার এট হোমের মাধ্যমে ভারত থেকে সাত রাজ্যে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ সংযোগ দিতে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ইন্টারনেট করিডোর চেয়েছে। গত ডিসেম্বরে সেই প্রস্তাব নাকোচ করে দিয়েছে সরকার।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও সামাজিক বা যেকোনো সমঝোতামূলক চুক্তি করার বেলায় আত্মরক্ষা নীতি অনুসরণ করতে হবে বাংলাদেশকে। আর্থিক প্রলোভনের চেয়ে নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে হবে। আলোচনার টেবিলে এ নীতি রেখে বাংলাদেশকে নিজের সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেই আলোচনা চালিয়ে নিতে হবে।
সেক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ স্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন চুক্তিগুলো; বিশেষ করে করিডোর সুবিধা অতি দ্রুত বাতিল করতে হবে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ নয়, পুরোটা ভারতের স্বার্থে করিডোর সুবিধা দিয়েছে। এর ফলেই ধীরে ধীরে বাংলাদেশের প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ব্যবসায়ী মহলে ভারতের অনুচর, সহচর; এমনকি ভারতীয় নাগরিকদের পদচারণা অবাধ হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল।
আকাশ, নদী ও স্থলপথে করিডোরের ছোবল
বাংলাদেশ নামে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পরপরই শেখ মুজিব ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো ‘অভ্যন্তরীণ নৌ-ট্রানজিট ও বাণিজ্য’ প্রটোকল স্বাক্ষর করে ভারতের সঙ্গে। এর মাধ্যমে ট্রানজিটের নামে ভারতকে করিডোর দেয়ার কাজটি শুরু হয়।
দ্বিতীয়বার স্থলপথে করিডোর সুবিধা দেয়া হয় বিতর্কিত নির্বাচনের পর ক্ষমতায় গিয়ে ২০১০ সালে। পরবর্তীতে নিশি রাতের ভোটে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে সড়কপথে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোয় পণ্য পরিবহনেরও সুবিধা ভারতকে দেয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করে ভারতের সাত রাজ্যে ওভার ফ্লাই করে উড়োজাহাজ পরিচালনা করার সুবিধা দেয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। ভারতকে স্থল, সড়ক, নৌ ও আকাশপথে বিভিন্ন নামে যে করিডোর সুবিধা দেয়া হয়, তার সবগুলো দেয়া হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে।
স্থলপথে করিডোর সুবিধার আওতায় বর্তমানে পাঁচটি রুটে বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে তিনটি যাত্রীবাহী ইন্টারচেঞ্জ, বাকি দুটি পণ্যবাহী। বর্তমান পদ্ধতিতে ট্রেন সীমান্তে আসার পর বাংলাদেশি ইঞ্জিনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসে। এরপর বাংলাদেশি চালক তা চালিয়ে আনেন। ফেরার সময়েও একই রকম পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। যাত্রী পরিবহনের পর সরকার পতনের আগে আরো সুবিধা দিতে চুক্তি করে আওয়ামী লীগ।
সে চুক্তি মোতাবেক, ভারতের মালবাহী ট্রেন পশ্চিমবঙ্গের গেদে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের দর্শনা হয়ে চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করবে। সেই পথ দিয়ে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা ঘুরে চিলাহাটি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করবে। এ সুবিধার আলোকে ভারতের ট্রেন ভারতীয় ড্রাইভারের মাধ্যমে দেশের ভেতর দিয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করবে। এতে কোন ধরনের পণ্য পরিবহন করবে ভারত, তা দেখতে পারবে না বাংলাদেশ। মূলত এর মাধ্যমে সামরিক পণ্য পরিবহন করবে ভারত। তাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা চরমভাবে হুমকিতে থাকবে সবসময়।
কাজ করছে না কোনো করিডোর
গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তারপর আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতা-কর্মীরা দেশ থেকে পালিয়ে চলে যায়। গত দেড় দশকে বাংলাদেশ থেকে লুট করে নেয়া আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার করে নিয়ে যায়।
আওয়ামী লীগের পতন হলে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় ভারত। বাংলাদেশের ওপর আক্রোশমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। সম্পাদিত সব চুক্তি বাতিল করতে শুরু করে গত এপ্রিল থেকেই। সর্বশেষ গত আগস্ট মাসে স্থলপথে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর আগে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেয়।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কের বিনিময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করতে ভারতের বিমানবন্দর ব্যবহার করা হতো। সিঙ্গাপুর, দুবাই, মালয়েশিয়ায়ও এরকম চুক্তি আছে বিভিন্ন দেশের। সেখানে আকাশপথে ভারতের বন্দর ব্যবহারের ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল করে দেয় ভারত, কোনো প্রকার আগাম ঘোষণা না দিয়েই।
অবশ্য বাংলাদেশ সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়িয়ে পোশাক রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে সমর্থ হয়। বাংলাদেশ কোনো করিডোর সুবিধা বন্ধ বা বাতিল করেনি এখন পর্যন্ত। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থল, নৌ ও রেলপথে নেয়া করিডোর সুবিধায় চলাচল বন্ধ করেছে ভারত। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি শুধু এক রাষ্ট্র থেকে আরেক রাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সুবিধার আলোকে এসব করিডোর সুবিধা দেয়া হতো, তাহলে সরকার বদলালে সেসব সেবা অব্যাহত থাকতো। যেমনটি ইউরোপের দেশগুলোয় আছে অবাধ ট্রানজিট সুবিধা।
কিন্তু এখানে সরকার বদলে যাওয়ার পরপরই ভারতের আচরণ পাল্টে গেছে। চুক্তির কোনো তোয়াক্কা না করেই সব কার্যক্রম বন্ধ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় মাস পরে ভারতের ট্রেন কোনো যাত্রী না নিয়েই চলে যায়। সেই যে ট্রেন চলাচল বন্ধ হলো, এখনো চালু করেনি ভারত। অথচ করিডোর সুবিধা বাতিল করেনি বাংলাদেশ। ভারত চাইলে তা করতে পারে।
এতে প্রমাণ হয় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নেয়া করিডোর সাত রাজ্যের মানুষ বা জনগণের জন্য নয়। সামরিক উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের চতুর্দিক থেকে ছোবল দেয়ার জন্য করিডোর নিয়েছিল। এর বিপরীতে বাংলাদেশের কোনো লাভ হয়নি। উল্টো ভারী যানবাহন চলাচলের মাধ্যমে বাংলাদেশের সড়ক নষ্ট করেছে। শুধু তাই নয়, ভারতের চলাচলের জন্য বাংলাদেশ সড়কপথ বানিয়ে দিয়েছে। সিলেটের তামাবিল সড়ক এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
ময়মনসিংহের বিড়িসিড়ি সীমান্তে শুধু স্থলবন্দর দেখিয়ে সড়ক বানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। অথচ এ বন্দর দিয়ে কোনো প্রকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয় না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সড়ক বানানোর ধরন দেখে মনে হয় ভারতের লোকদের প্রয়োজনে চলাচলের জন্য এ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। কারণ এ পথ দিয়ে কোনো আমদানি-রপ্তানি বা মানুষ চলাচল হয় না।
ইন্টারনেট নিতে চায়
ভারতের মোবাইল কোম্পানি এয়ারটেলের মাধ্যমে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল প্রথমে। এ সরকার তা না দেয়ায় ভারতীয় এয়ারটেল বাংলাদেশের সামিট ও ফাইবার এট হোমকে সম্পৃক্ত করে একই প্রস্তাব দেয় সরকারের কাছে। তাদের প্রস্তাব ছিল, আখাউড়া হয়ে আগরতলাকে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও কুয়াকাটার সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে কানেক্ট করে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি। আওয়ামী লীগ পরিবারের ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিনা ভোটে এমপি ও মন্ত্রী হওয়াদের প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সামিট ও ফাইবার এট হোম। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গোপালগঞ্জ-১ আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ছোট ভাই সামিট কমিউনিকেশন্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরিদ খান। একইসঙ্গে তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় ব্যান্ডউইথ সরবরাহে বাংলাদেশকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে নিতে চায় তারা। এতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয় এবং নাগাল্যান্ডের জন্য দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত হবে। প্রস্তাব বাতিল করে সরকার বলছে, ট্রানজিটের কারণে আঞ্চলিক হাব হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা দুর্বল হতে পারে।
চুক্তির অধীনে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারত তার সাতটি রাজ্যে সহজে পণ্য পরিবহন করে থাকে। অন্যদিকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় ভারত তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি উঠেছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাল্টা ট্রান্সশিপমেন্ট বা ট্রানজিটের নামে করিডোর সুবিধা বাতিল করে দেয়ার।
করিডোর সুবিধায় ক্ষতি হচ্ছে দেশের
দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতি ও অর্থনীতিবিদগণ উদ্বেগের সাথে বলছেন, ভারতকে একতরফা বা একমুখী ট্রানজিট ও করিডোর সুবিধা দিতে গিয়ে খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ট্রানজিটের ভারী ট্রাকবহরের চাপে সড়ক ভেঙেচুরে দেবে গেছে। যার ফলে ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ হঠাৎ বন্যা ও ভারতের একতরফা পানি ছেড়ে দেয়ায় সিলেট, কুমিল্লা অঞ্চলের সড়ক, রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। আশুগঞ্জসহ নৌবন্দর, নৌরুটসমূহে, নৌপথে এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ড্রেজিং করে নৌপথ নাব্য রাখতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় হয়। নৌপথে ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের বাড়তি চাপে নাব্য বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে প্রবীণ ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মু. সিকান্দার খান বলেন, আখাউড়া, তামাবিল, কুমিল্লামুখী সড়ক, মহাসড়কের ওপর দিয়ে ট্রানজিটের পণ্যসামগ্রীর চালান পরিবহন করায় রাস্তাঘাট-সড়ক ঠিকঠাক রাখতে বছরে প্রচুর খরচ হয়ে গেছে।
একপেশে অসম চুক্তি
করিডোর ও ট্রানজিটে তৃতীয় দেশ অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তৃতীয় দেশ হিসেবে মিয়ানমার, পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান হয়ে এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগের সুযোগ রাখা দরকার ছিল। কিন্তু বাংলাদেশকে সেই সুবিধা দেয়নি ভারত। এমন না হলে দুটি সার্বভৌম দেশের মধ্যে একটা সমতার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা পায় না। এমনকি বাংলাদেশের সাথে নেপালের সরাসরি সীমান্ত না থাকায় বাংলাদেশ বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারতের জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ী হয়ে স্থলপথে নেপালের কাকরভিটা যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সুযোগ পায়নি। এসব কারণে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার এ চুক্তিকে ‘অসম’ বলে মনে করেন অধ্যাপক এম এম আকাশ।
উত্তর জনপদের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা হয়ে ভারতের ফুলবাড়ী-শিলিগুড়ি, নেপালের কাকরভিটা মিলিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান- এ চারদেশীয় স্থল সীমান্তের ভৌগোলিক মিলনমেলা বেশ কাছাকাছি অবস্থিত। তাছাড়া সেখান থেকে চীন সীমান্তও বেশি দূরে নয়। গুরুত্বপূর্ণ এ করিডোর ভৌগোলিকভাবে ‘চিকেন নেক’ হিসেবে পরিচিত। বাংলাবান্ধার বিপরীতে ভারতের ফুলবাড়ী, মাত্র ৭ কি.মি. দূরে শিলিগুড়ি। মাত্র ৩০ কি.মি. দূরত্বের মধ্যে নেপালের কাকরভিটা সীমান্ত।
পরিতাপের বিষয় হলো, পরস্পর স্বল্প দূরত্বের এ করিডোর অচল করে রেখেছে ভারত। এতে করে আন্তঃদেশীয় মিলনমেলায় সহযোগিতার দ্বার রুদ্ধ হয়ে আছে। বাংলাবান্ধা থেকে ‘চিকেন নেক’ সেই ফুলবাড়ী-শিলিগুড়ি করিডোরের দূরত্ব মাত্র ২২ কিলোমিটার। প্রস্থ ২১ থেকে স্থানভেদে ৪০ কি.মি.। এটি থেকেও বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আত্মরক্ষা করেই বাণিজ্য ও অর্থনৈতিকসহ দ্বিপাক্ষিক সকল চুক্তি করতে হবে বাংলাদেশকে। সেই আত্মরক্ষার কৌশল ঠিক রাখতে, অন্য দেশের সঙ্গে দরকষাকষি করতে এখনই করিডোর চুক্তিসহ ভারতের সঙ্গে হওয়া আওয়ামী লীগের সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে। পররাষ্ট্রনীতি ঢেলে সাজিয়ে মুসিলম দেশসহ সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করতে হবে। এজন্য মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ খুলে দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সরকারের একনিষ্ঠ আন্তরিকতা। বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণের জন্যই পরিচালিত হোক সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।