আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা: সরকারে মিডিয়ার ভূমিকা ও করণীয় প্রস্তুতি

ফজল মুহাম্মদ
১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:১৪

1975 সালের আগস্ট বিপ্লব উত্তর পরিবেশে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকাটি যখন 1977 -1978 সালে বংশাল রোডের বলিয়াদী প্রেস থেকে পনরায় ছাপা হওয়া শুরু হয়েছে; সেই তখন থেকেই আমি দৈনিক খবরের কাগজের দফতরে আনা গোনা শুরু করি। তখন অনেক ছোট ছিলাম । ছাত্র ছিলাম । এছাড়া মাহে নও পত্রিকা, মাসিক মদীনা, মাসিক পৃথিবী, মাসিক কলম , মাসিক সবুজ পাতা, ঢাকা ডাইজেস্ট সহ বিভিন্ন সাময়িকীর সাথে পাঠক হিসাবে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। এই ভাবে ছাত্র জীবনের ভরা যৌবনে 1986 সাল থেকে সরাসরি খবর তথা সংবাদ জগতে নিজের সত্বাকে অগাংঅংগি ভাবে সম্পৃক্ত করি। এরপর 1990 দশকে সৈরাচারী জেনারেল এরশাদ বিরোধী রাজপথের আন্দোলনে কলম সৈনিক হিসেবে নিজেকে ব্যস্ত রাখি। 1990 দশক থেকে 2000 সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতা বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম সহ বিভিন্ন কোর্সে অংশ নিতে সার্ক ভুক্ত দেশ সমূহ; আসিয়ান ভুক্ত দেশ, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সহ বিভিন্ন আরব দেশ ও সফর করি। 21শে জুন 2000 সালে দুনিয়ার অন্যতম ধনী রাষ্ট্র G- Seven কানাডাতে ফুল ফেলাসীপ নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করি।সেই অবধি এখনো কানাডা প্রবাসী বিগত ছাব্বিশ বছর যাবত। 1989 সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ পূর্ব ইউরোপের কমুনিষ্ট রাষ্ট্র গুলোর সরকারের পতন ঘটলে উত্তর আমেরিকার পেন্টাগণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান ( ওদের আমেরিকার ) পররাষ্ট্র নীতি ও পর্দার আড়ালের নিরাপত্তা নীতির কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়। তাছাড়া দখিন আফ্রিকার নেলসন মেন্ডালার মুক্তি এবং মেন্ডেলার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার পর ওয়াশিংটনের Deep Establishment পুজিবাদী দুনিয়াতে একক New World Order তথ্য নিয়ে পুজিবাদী কর্পোরেট দানব তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে । এবং ঐ ধারাবাহিকতায় এক সময়ের কমুনিষ্ট দুনিয়ার নিকটবর্তী বন্ধু রাষ্ট্র (ভারতের) দিল্লির কাছে দখিন এশিয়ার রাষ্ট্র গুলোকে আমেরিকা ইজারা দিয়ে ফেলে। এরপর আমেরিকা নিজেই তৈরী করে নাইন এলিবেন 2001 সালের সাজানো নিউইয়র্ক নাটক । Cold War তথা সোভিয়েত ইউনিয়ন আমলে ওয়াশিংটন আরব দেশের কতিপয় রাজা বাদশার মাধ্যমে মুসলিম দুনিয়ার বিভিন্ন ইসলামী দলগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতো। কিন্তু যখন কমুনিষ্ট দেশ গুলোর সরকারের পতন ঘটে গেছে; তখন থেকেই আমেরিকার তলোয়ার War on Teror নামে ইসলাম আর মুসলিম কুপিয়ে হত্যা শুরু করেছে । ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান,সিরিয়া,সুদান, সোমালিয়া, পাকিস্তান, আলজেরিয়া, তিউনেশিয়া ,ইয়েমেন সহ বিভিন্ন দেশের ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা নানা মুখী গোপন চক্রান্ত করছে বা করে যাচ্ছে । ঐ ধারাবাহিকতায় ভিনদেশী এজেন্ট দৈনিক প্রথম কালো তথাকথিত যুদ্ধ অপরাধী বয়ান দিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাসির প্রচারণা শুরু করে । আর ঐ দিকে আরব বসন্তের কারণে ইখওয়ানুল মুসলিমীন আর জামায়াত ইসলামী উপর কতিপয় আরব রাজা বাদশহ গণ বিরক্তি প্রকাশ করে ।
বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনকে কোন দেশ ভিত্তিক বা ভাষা কেন্দ্রিক আন্দোলনে সীমাবদ্ধ রাখা বা চিন্তা করার কোন শরীয়াহ হুকুম নেই। দুনিয়ার সব দেশের ইসলামী আন্দোলন বিশ্বজনীন এবং মুসলিম ও মজলুম মানুষের নিরাপত্তার ভরসাস্থল । অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলন এখন অনেক বেগবান । এবং সংগত কারনেই বাংলাদেশের রাষ্ট পরিচালনায় এই দেশের ইসলামী আন্দোলন কে এখন ; A to Z প্রস্তুতি নিতে হবে । আমি যেহেতু আপাদমস্তক একজন মিডিয়ার কর্মী এবং মিডিয়ার বদৌলতেই পশ্চিমা বিশ্বের অলি গলিতে চলাফেরা করেছি এবং করেতেছি সেই হিসেবে এই বিষয়ে আমার কিছু মতামত দিতে চাই। আমি প্রতি বছরই নভেম্বর – ডিসেম্বর মাসে কানাডা থেকে বাংলাদেশে সফরে আসি । এই বছরেও এসেছি ; আল্লাহর অপার মেহেরবানিতে। বাংলাদেশে আমার অবস্থানকালীন পর্যবেক্ষণে যা দেখতেছি যে, বাংলাদেশের প্রধান ইসলামী দলটি জনমতের সব সূচকে অগ্রগামী । এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হবে;ইনশাআল্লাহ । যদি না বিশ্ব মোড়ল রাষ্ট্রের Deep Establishment বাড়া ভাতে ছাই না দেয়।
বাংলা বাগধারা আছে যে; ঘরের শত্রু বিভীষণ । বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলন এদেশের বিভিন্ন মিডিয়া হাউজের তথ্য গুজব নিউজের শিকার। এমতাবস্তায় আধুনিক ডিজিটাল যুগের বিভিন্ন মিডিয়ার অপপ্রচার মুকাবিলাতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী আন্দোলনের সরকারকে আটঘাট বেধে মিডিয়া জগতের সকল সেক্টরে কাজের পরিধি বাড়াতে হবে । যেহেতু বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তারুণ্যের বিশাল শক্তি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনকে বিজয়ী করেছে, সেহেতু আমি মনে মিডিয়া জগতের সকল সেক্টরে কাজ করার মতো আমাদের বিশাল তরুণ বাহিনী তৈরি হয়েছে । তাছাড়া আমিসহ যারা 1987 সালে ঢাকার 37 এলিফেন্ট রোডে ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম (DJF ) প্রতিষ্ঠা করেছিলাম ; আমাদের গড়া এই ফোরামের ছেলেরা দেশে বিদেশে যোগ্যতার সাথে মিডিয়া জগতে কাজ করে যাচ্ছে ; তাদেরকেও মিডিয়া সেক্টরে পদ পদবী ও দায়িত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে । এই মুহুর্তে এই পরিকল্পনা নেওয়া ও বাস্তবায়ন করা এক নম্বর জরুরী কাজ।
*ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচিত সরকারকে বা এই দলের কর্ম সূচি দেশে বিদেশে বাধাহীন ভাবে প্রচার ও প্রকাশ করতে হলে আমাদের বিভিন্ন বিভাগে মিডিয়া টুল স্থাপন করতে হবে।
যেহেতু এদেশের প্রধান ইসলামী দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছে ;ইনশাআল্লাহ; সেহেতু আমি মিডিয়া সম্প্রসারণে নীচের পরামর্শ তুলে ধরলাম । আশা করছি এই দেশের ইসলামী আন্দোলনের DEEP ESTABLISHMENT এর মিডিয়া সেল এই বিষয়ে অতি দ্রুত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এক: বাংলাদেশের চৌষট্টি জেলার বিভিন্ন জেলা শহরে কমপক্ষে এক বা একাধিক ভালো মানের লোকাল দৈনিক পত্রিকা বের করতে হবে । এবং এর মাধ্যমে স্হানীয় নেতাদের সকল প্রকার খবর প্রকাশ ও প্রচার করতে হবে । প্রতিটি সাংগঠনিক শাখা ডিজিটাল মিডিয়া উইং অনুসন্ধানী রিপোর্টার তৈরি করবে এবং জেলা সদর ও উপজেলা সহ বিভিন্ন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে উন্নয়নে ব্যাপক আকারে রিপোর্ট প্রকাশ করার মিডিয়া সেল সচল রাখবে।
২। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বেসরকারি টিভি চ্যানেল আলাদা আলাদা ভাবে চালু করতে হবে এবং মানুষের কাছে ইসলামী আন্দোলনের সকল কর্মসূচী তুলে ধরতে হবে এবং রাসূল (সা:) এর সীরাতের উপর ধারাবাহিক ডিজিটাল প্রচারণা চালাতে হবে ।
৩। জাতীয়ভাবে ঢাকা থেকে কমপক্ষে পাঁচ টি ভালো মানের দৈনিক পত্রিকা বের করতে হবে । যারা অনুসন্ধানী রিপোর্টে দেশের শীর্ষে থাকবে।
*আইবিসিবি।*
৪। দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন সেকুলার মিডিয়া টিভি চ্যানেল গুলোতে যাতে ভবিষ্যতে ইসলাম বিদ্বেষী বা ঈমান বিরুদ্ধী কোন নাটক, সিনেমা ইত্যাদি প্রচার না করে; ইসলামী মূল্যবোধ বিষয়ে নাটক ও সিনেমা প্রচার করা যায় সেজন্য : জাতীয় ভাবে স্বীকৃত ও সন্মানজনক লোকজন নিয়ে ISLAMIC BROADCASTING CORPORATION OF BANGLADESH (IBCB) গঠন করে কাজ শুরু করতে হবে।
৫ । দেশের সকল তারুণ্য শক্তিকে সোসাল মিডিয়ার প্লাটফর্মে ফেসবুক এবং হোয়াটস্ এপস সহ বিভিন্ন সামাজিক ইতিবাচক কাজে নিয়োজিত করতে হবে ।
৬। ইসলামী আন্দোলনের ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড ভিত্তিক ইউনিটে একটি গণ মাধ্যম ইউনিট থাকতে হবে; যারা ত্বরিতগতিতে মানুষের দুঃখ কষ্ট ও জুলুমবাজির খবর গুলো দূরীকরণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে আসবে।
*তৃণমূল সাংবাদিকরা জাতির খবর প্রচারের রক্ত ধমনী *
৭ । বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন এবং পাচ শত থানা/ উপজেলা আছে । এই সব বিস্তীর্ণ এলাকাতে একটা বিশাল সংখ্যক সাংবাদিক আছেন; যারা তৃণমূল সংবাদ কর্মী । যারা ঐতিহাসিক ভাবেই ঢাকা বা জেলা শহরের সাংবাদিকদের তুলনায় উপেক্ষিত , অবহেলিত ।যারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সংবাদ সংগ্রহ করে এবং খবর লেখে; দুঃখজনক হলেও এইসব তৃণমূল সাংবাদিকরা যথারীতি বেতন ভাতাদি পায় না । বাধ্য হয়ে অনেক তৃণমূল সাংবাদিক পেটের দায়ে স্হানীয় গডফাদার আর চাদাবাজ গং এর কাছে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে যায় এবং ফরমায়েসী অসত্য বা মন গড়া রিপোর্ট করতে বাধ্য। এই অনৈতিক সাংবাদিকতার কালচার দূর করতে ইসলামী আন্দোলনের মিডিয়া উইং দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ,থানা / উপজেলা / পৌরসভাতে কমপক্ষে তিন জন তরুণ সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেবে। সারা দেশে এই সংখ্যাটা পনর থেকে আঠারো হাজার হতে পারে । এবং এই আঠার হাজার তরুণ যেন গাও গেরামের তৃণমূল সাংবাদিকতায় টিকে থাকতে পারে; সেজন্য ওদের জন্য বেতন ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে । সংগঠনের থানা/জেলা /বিভাগের শাখা গুলো খুব সহজেই বেতন ভাতার এই টাকা যোগাড় করতে পারে । আমার ব্যক্তিগত মতামত একটা জনসভা করতে একটা জেলা সদরে পন্চাশ লাখ টাকা খরচ না করে এই টাকার একটা অংশ যদি জেলা উপজেলার লোকাল তৃণমূল সাংবাদিকদের রোজী রোজগারের জন্য সংগঠন খরচ করে :তাহলে সারা বছর ধরে সাংগঠনিক খবরাখবর জনগণের দোড় গোড়ায় পৌঁছে যাবে ;খুবই অনায়াসে ।
৮। ডিজিটাল প্রযুক্তির বদৌলতে সারা দুনিয়ার মিডিয়া জগতে সোস্যাল মিডিয়ার একটা বিশাল ও বিরাট প্রভাব পড়েছে । সাম্প্রতিক হামাস ও ইজরায়েল যুদ্ধে কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের বাঘা বাঘা করপোরেট মিডিয়া গুলোর হাজারো মিথ্যা বা অর্ধ মিথ্যা খবরের মুকাবিলাতে হামাসের সোস্যাল মিডিয়ার কৌশল বিশ্ব জনমত গঠনে জায়নিস্ট ইজরায়েলের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রেখেছে । বাংলাদেশের দামাল ছেলে মেয়েরা শেখ হাসিনার ফেসিস্ট শাসণের বিরুদ্ধেও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে; তাদের হাতে থাকা সামান্য একটা মোবাইল ফোন ডিভাইসের মাধ্যমে ।
বাংলাদেশের প্রধান ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মিডিয়া উইং যদি আমাদের তারুণ্য শক্তিকে পরিকল্পনা মাফিক এই কাজে সহযোগিতা করতে পারে; তাহলে আমি মনে করি আমাদের তরুণ বাহিনী দখিন এশিয়ার এই বাংলা জনপদকে দুনিয়ার সামনে সুলতানী বাংলার মতো একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবে ;ইনশাআল্লাহ ।
৯। আমাদের নিজস্ব সেটেলাইট প্রচার মাধ্যম থাকা জরুরী ।
রাষ্ট্র পরিচালনা করতে যেমন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সংহতি জোরালো থাকা চাই; তেমনি ভাবে দুনিয়ার বন্ধু রাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশে ইসলামী আন্দোলন তথা এই সরকার গঠিত হবার আগে থেকেই সেটেলাইট মাধ্যমে বাইরের দুনিয়াতে আমাদের কথা, কাজ, মেসেজ এই গুলো কমপক্ষে কয়েকটে ভাষায়
খবর প্রকাশ ও প্রচারের কার্যকর উদ্যোগ কাল বিলম্ব না করে নেওয়া উচিত । আমাদের সংগঠন যদি এই মুহূর্তে নিজস্ব সেটেলাইট ইউনিট মহাবিশ্বে স্হাপন করতে না পারে ; তাহলে বিভিন্ন দেশের সরকার বা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে ভাড়ার ভিত্তিতে সেটেলাইটের মাধ্যমে আমাদের খবর গুলো ইংরেজি; আরবী, উর্দু, চাইনিজ আর প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বাংলা ভাষার মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করা । এই বিষয়ে তুরস্ক, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন,থাইল্যান্ডের সাথে অতি তাড়াতাড়ি যোগাযোগ শুরু করা ।
এক থেকে দেড় কোটি প্রবাসীর হাজারো লাখো দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা । এই জন্য প্রবাসীদের মানব উন্নয়ন, পেশাগত উন্নয়ন এবং আদম দালাল চক্রের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য খোদ প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ টিভি চ্যানেল করা এবং প্রবাসীদের হাসি কান্নার আওয়াজ তুলে ধরা ।
*প্রবাসীদের মাঝেও মিডিয়া কর্মী নিয়োগ দেওয়া *
১০ । দুনিয়ার দেশে দেশে নিজস্ব মিডিয়া ইউনিট তথা মিডিয়া কর্মী নিয়োগ করতে আমাদের তারুণ্য শক্তিকে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে । এই জন্য পূর্ণ পেশাদারীত্ব বজায় রেখে বাংলাদেশে একটি Media Tech University করতে হবে । আমরা যখন সেই 1987 সালে 37 এলিফেন্ট রোডে ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম (DJF) গঠণ করি : তখন থেকেই আমি একটা পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া ইউনিভার্সিটি স্থাপনের স্বপ্ন দেখতাম । আলহামদুলিলাহ 2022 সালে সুলতানী বাংলার রাজধানী ঐতিহাসিক সোনার গা শহরের পাশ দিয়ে বহমান ইবনে বতুতার নহর উল আজরক তথা আজকের মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত আমাদের নিজ গেরাম নুনেরটেকে ,আমাদের নিজেদের দশ বিঘা জমির উপর একটা মিডিয়া ইউনিভার্সিটি স্থাপনের ভিত্তি প্রস্তর করা হয়েছে । আমি আশা করছি আমার অনুজ যারা 1987 সালের পর থেকে ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম প্রতিষ্ঠার পর মিডিয়া জগতে এখনো কর্মরত ;তাদের সবাইকে এই প্রস্তাবিত মিডিয়া টেক ইউনিভার্সিটির সকল কাজে পাশে পাব।
আল্লাহ তা ‘য়ালা আমাদের সকল নেক নিয়ত গুলো কবুল করুক। আমীন।
ফজল মুহাম্মদ । কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক ।।দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের দমন মূলক কূটনীতি- বই এর লেখক ।

 

আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা: ইসলামী সরকারে মিডিয়ার ভূমিকা ও করণীয় প্রস্তুতি