ট্রাম্পের প্রত্যাশা প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্নে প্রধানমন্ত্রীর নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপ
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৯
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দেন | ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গত বুধবার দেয়া এক চিঠিতে এ শুভকামনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার চিঠিটি তাদের এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে, পরে তা ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস গণমাধ্যমকে অবহিত করে। পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী, যা দুই দেশের কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে। সেই সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতেও তারেক রহমানের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার চিঠিতে উল্লেখ করেন।
প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প তার চিঠিতে লেখেন, ‘আমি আরো আশা করি যে আপনি চলমান প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো সম্পন্ন করতে নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। শেষ পর্যন্ত যা আপনার সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সেরা অত্যাধুনিক মার্কিন সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ বিষয়ে তিনি চিঠিতে লেখেন, ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমাদের সামনে একসঙ্গে উভয় জাতিকে আরো সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করার সুযোগ রয়েছে। আগামী দিনগুলোর জন্য আপনার সাফল্য কামনা করি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্কের বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিদ্যমান ব্যবসা-বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দেয়া পররাষ্ট্রনীতির আলোকেই বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেয়া হয়েছে। নতুন নীতি নিয়ে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে যে ধরনের যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন, তার ধারাবাহিকতায় তিনি তারেক রহমান বরাবর চিঠিটি লিখেছেন।
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে পররাষ্ট্রনীতি, সেটা মূলত বাণিজ্যকেন্দ্রিক। উনি এখন চাচ্ছেন আরো বেশি ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্রে আসুক, আরো বেশি বিনিয়োগ হোক ওনার নিজের দেশে। সে জায়গা থেকে উনি ওনার বক্তব্য রেখেছেন চিঠিতে। তবে যেটা আমাদের জন্য কার্যকর হবে, বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হবে, সেটাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বা অন্য দেশের সঙ্গে আমরা করব।’
শামা ওবায়েদ আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি সুরক্ষিত হবে, অর্থনীতির আরো উন্নতি হবে, জনগণের উন্নতি হবে এবং আমাদের স্বার্থ বজায় থাকবে—সেটা পুরোপুরি নিশ্চিত করেই যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ট্রেডের (বাণিজ্য) যেকোনো চুক্তিতে আমরা যাব। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অবস্থান সম্পর্কে সবসময়ই পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন। অবশ্যই এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আরো আলোচনা হবে।’
কূটনৈতিক মহলও মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাঠানো চিঠিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, চিঠিতে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (আকসা) এবং জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্টের (জিসোমিয়া) বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, এসব চুক্তি সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হস্তান্তর সম্ভব নয়। সে কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তার চিঠিতে এসব চুক্তির প্রসঙ্গ বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। এ চুক্তিগুলো নিয়ে পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।
ট্রাম্পের চিঠির প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি মনে করি এ চিঠির মাধ্যমে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ হয়েছে, এটা ইতিবাচক। দেশটির আগ্রহের বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা জানি। সম্প্রতি রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট হয়েছে। আমাদের স্বার্থ রক্ষা করে কীভাবে এটা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, সেটা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষেও বিবেচনার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশের স্বার্থকে মাথায় রেখেই চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে চিন্তা করা যেতে পারে।’
দীর্ঘ নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে দরকষাকষির পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের জন্য শুল্ক সুবিধার পূর্বশর্ত হিসেবে বেশকিছু ধারা যুক্ত করেছে মার্কিন পক্ষ। দেশটির কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে সংবেদনশীল প্রযুক্তির সরবরাহ চেইনে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্তসহ নানা খাতে বেশকিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি সংস্থার (ইউএসটিআর) ওয়েবসাইটে এ চুক্তির যাবতীয় শর্ত এরই মধ্যে প্রকাশ করেছে দেশটি।
চুক্তির নথিতে দেখা যায়, মোট ছয়টি সেকশন বা ধারার আওতায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে নানামুখী শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধারাটি ট্যারিফ ও কোটাসংক্রান্ত; দ্বিতীয়টি নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার্স বা অশুল্ক বাধা ও সংশ্লিষ্ট নানা পদক্ষেপসংক্রান্ত; তৃতীয় ধারায় উঠে এসেছে ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি; চতুর্থটিতে আছে অর্থনীতি ও জাতীয় অর্থনীতিবিষয়ক শর্তাবলি; পঞ্চমটিতে বাণিজ্যিক বিবেচনা ও সম্ভাবনা এবং ষষ্ঠ বা সর্বশেষ ধারায় চুক্তির শর্তাবলির বাস্তবায়ন, প্রয়োগ ও চূড়ান্ত বিধি তুলে ধরা হয়েছে।
চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে তা কমিয়ে আনতে হবে বলে শর্ত দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে বলে উল্লেখ করা রয়েছে চুক্তিতে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত উড়োজাহাজ, এর যন্ত্রাংশ ও সেবা ক্রয় বাড়ানোর শর্তও চুক্তিতে জুড়ে দেয়া রয়েছে। বিমান এরই মধ্যে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এর অতিরিক্ত কেনারও সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে চুক্তিতে। চতুর্থ ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি অর্থনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় নিজ সীমান্তে কোনো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেয় বা বাণিজ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে, বাংলাদেশকেও সে ব্যবস্থার সমর্থনে পরিপূরক ব্যবস্থা নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করলেও এর বিপরীতে একাধিক বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছে। দেশটির সঙ্গে নীতিগত সমন্বয়, বাণিজ্যিক ক্রয় প্রক্রিয়া, রফতানি নিয়ন্ত্রণ, সামরিক ক্রয়ে সীমাবদ্ধতা এবং আইন সংস্কারসংক্রান্ত শর্ত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সতর্কভাবে এগোতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন গত ১১ ফেব্রুয়ারি বলেছিলেন, ‘এ চুক্তি বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটা অস্বাভাবিক সময়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিমান এরই মধ্যে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ও এর অতিরিক্ত কেনারও সুযোগ রয়েছে। পরিষ্কারভাবে বলা যায় যে এটি এক ধরনের বৈষম্যমূলক চুক্তি। একই ধরনের চুক্তি আরো অনেক দেশের সঙ্গে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওইসব দেশেও এ চুক্তি নিয়ে এক ধরনের সমালোচনা আছে। কারণ গত বছর এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্প রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের নামে যে ধরনের একতরফা ট্যারিফ ঘোষণা করেছেন, সেটি সারা বিশ্বের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বড় ধরনের সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ ট্যারিফের কারণে, তাদের পক্ষে ডব্লিউটিওতে যাওয়াটাও খুব কঠিন। ফলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানিকে ধরে রাখার জন্য যেসব বিষয়ে একমত হয়েছে, সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।’
এটা কোনো টেকসই চুক্তি নয় উল্লেখ করে অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি মনে করি যে সাময়িকভাবে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য হয়তো এ ধরনের একটি চুক্তি হয়েছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে এ চুক্তি নিয়ে নতুন সরকার ভবিষ্যতে আরো চিন্তাভাবনা করবে। কেননা চুক্তির আওতায় বাণিজ্য বা অর্থনীতির বাইরে ভূরাজনৈতিক যেসব বিষয় যুক্ত রয়েছে, সেগুলো একটা দেশের স্বাধীন অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমার দৃষ্টিতে ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন ঘটলে তারাও সেটি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।’
এদিকে দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় থেকে বারবারই চুক্তিটি পুনরায় পর্যালোচনার দাবি উঠছে। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট বিটুইন ইউএস অ্যান্ড বাংলাদেশ: ইমপ্লিকেশনস ফর বাংলাদেশ ইকোনমি’”শীর্ষক এক আলোচনায় সভার আয়োজন করে। আলোচনায় অংশ নিয়ে সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হলেও এতে কিছু চিন্তার বিষয়ও রয়েছে। এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বাংলাদেশী কোম্পানির রফতানীকৃত পণ্যের দাম মার্কিন বাজারের প্রচলিত মূল্যের চেয়ে কম হলে দেশটি ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। কারণ মার্কিন সরকার তার দেশের বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করতে পারে।’
বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘চুক্তিটি অবশ্যই সংসদে পর্যালোচনা সাপেক্ষে অনুসমর্থন করতে হবে। অযথা আলোচনার পরিবর্তে যথাযথ আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে এগোতে হবে। চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ নাগাদ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ট্যারিফ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সরকারে কোনো পরিবর্তন হয় কিনা সেটিও দেখা যেতে পারে। সর্বোপরি আমরা চুক্তিটি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য কথা বলতে পারি।’