ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ ৩১ অক্টোবর


২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৪২

স্টাফ রিপোর্টার : গণভোটের রায় বাস্তায়নসহ ৭ দফা দাবিতে খুলনা অভিমুখে ৩য় দফার লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এর আগে দুটি লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম দফার লংমার্চ গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী ও মিরসরাই হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হয়েছিল। ২য় দফার লংমার্চ গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়ে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়েছিল।
তৃতীয় দফার লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষে গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর
আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির প্রেসিডেন্ট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর আল্লামা আবু জাফর, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ; এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বিডিপির সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, ১. গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, ২. জুলাই গণহত্যার বিচার, ৩. বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, ৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, ৫. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, ৬. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ৭. সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। একইসাথে নাগরিক জীবনের সংকট নিরসন এবং জনগণের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর আগে চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে সফলভাবে লংমার্চ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ অক্টোবর তৃতীয় ধাপে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজিসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট নিরসন এবং জুলাই গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা এবং শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও এতে তুলে ধরা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগের দুটি লংমার্চের মতো এবারও সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচি সফল হবে। আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন শেষে তা কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে, ইনশাআল্লাহ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লংমার্চের গাড়িবহর যাওয়ার সময় কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমরা এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা করছি না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকলে কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবে পালন করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ লংমার্চে অংশ নেবেন। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপতৎপরতা দেখা দিলে তা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত আছেন। একইসঙ্গে আমি গোপালগঞ্জের প্রশাসনকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় সরকার ও প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।