চুটারহুদার আগাম শিমে ভালো দামের প্রত্যাশা চাষিদের


৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৫৪

চৌগাছায় ১১০ হেক্টরে সবজি চাষ
চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের মাঠে আগাম শিম চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে মাচায় মাচায় শিমগাছ। কোথাও ফুল ফুটেছে, আবার কোথাও ঝুলছে কচি শিম। আগাম ফলন হওয়ায় এরই মধ্যে কেউ কেউ বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন।
চুটারহুদার মাঠে রফিকুল ইসলাম, মুসা মণ্ডল, নজু, সাজেদুল, শরিফুল ইসলাম, শুকুর আলীসহ কয়েকজন কৃষক শিম চাষ করেছেন। একজনের আগাম আবাদ দেখে অন্য কৃষকরাও সিম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সবজি চাষিরা।
চুটারহুদার মাঠে ১০ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। তার খেতের শিম ইতোমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতেই শিম বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ায় তিনি আশাবাদী।
তিনি বলেন, জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, মাচা তৈরি, শ্রমিক ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আগাম ফলন হওয়ায় ইতোমধ্যে শিম বিক্রি শুরু করেছেন এবং ভালো দামও পেয়েছেন। এবার গাছ খুব ভালো হয়েছে। শিমও আগে ধরেছে। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করেছি এবং ভালো দাম পেয়েছি। আগাম শিম হওয়ায় সামনে আরও ভালো দাম পাব বলে আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ফলনও ভালো হবে।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় বিশেষভাবে সিম চাষের কোনো আলাদা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে।
ইউনিয়নভিত্তিক হিসাবে ফুলসারা ইউনিয়নে ২৩ হেক্টর, সিংহঝুলি ইউনিয়নে ১৫ হেক্টর, পাতিবিলা ইউনিয়নে ১৭ হেক্টর, নারায়ণপুর ইউনিয়নে ৪২ হেক্টর এবং সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে ১৪ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এছাড়া স্বরূপদাহ ইউনিয়নেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সবজি চাষ হচ্ছে।
সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সবজি উৎপাদন ও সরবরাহে সমস্যা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চৌগাছার কৃষকদের মধ্যে কেউ কেউ আগাম সবজি চাষ করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
কৃষকদের আশা, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজির সরবরাহ কম থাকলে আগাম উৎপাদিত শিমসহ অন্যান্য সবজি বাজারে তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষক লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে আগাম সবজি চাষে ঝুঁকিও রয়েছে। অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, রোগবালাই ও বাজারদরের ওঠানামার কারণে কৃষকের হিসাব পরিবর্তন হতে পারে।
আগাম সবজি চাষে বীজ, সার, কীটনাশক, মাচা তৈরি ও শ্রমিকের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ হয়। অনেক কৃষকের পক্ষে একসঙ্গে এসব ব্যয় বহন করা কঠিন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা দেওয়া হলে আরও কৃষক আগাম সবজি চাষে আগ্রহী হবেন।
চুটারহুদার মাঠে আগাম শিম চাষের এই উদ্যোগকে স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা— আবহাওয়া অনুকূল থাকলে রোগবালাই কম হবে এবং উৎপাদিত শিমসহ সবজি বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হবে। এমন প্রত্যাশা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হোসেনের।