সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৪২
চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন
চাঁদে স্থায়ী মানববসতি স্থাপন ও মহাকাশ গবেষণার জ্বালানি নিশ্চিত করতে চায় বিশ্ব মোড়লরা। এর জন্য চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর) বসানোর তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে তিন পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। ভবিষ্যৎ মহাকাশ মিশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পরমাণু চুল্লি পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। অন্যদিকে ২০৩৬ সালের মধ্যে যৌথভাবে ‘সেলেনা’ নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি চাঁদে স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মস্কো ও বেইজিং। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁদে সৌরশক্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালানো অত্যন্ত কঠিন। কারণ সেখানে রাত টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। এই দীর্ঘ অন্ধকার ও চরম ঠাণ্ডার সময়ে স্থায়ী ঘাঁটিতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও উষ্ণতা বজায় রাখতে পরমাণু শক্তির বিকল্প নেই। নাসা তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘লুনার রিঅ্যাক্টর-১’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসাতে চায়, যা কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর সক্রিয় থাকবে। বিপরীতে চীন-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগের ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘সেলেনা’ চুল্লিটি টানা এক দশক ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। তবে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের এমন তাড়াহুড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। রকেট উৎক্ষেপণের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে মহাকাশে বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া চাঁদের মতো চরম প্রতিকূল পরিবেশে এসব চুল্লির সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। এদিকে পরমাণু স্থাপনা ঘিরে চাঁদের ভূখণ্ড নিয়ে নতুন ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
ভারতে দিনদুপুরে জনবহুল বাজারে মুসলিম আইনজীবীকে গুলি করে হত্যা
ভারতের বিহার রাজ্যের কাটিহার জেলার একটি জনবহুল বাজারে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দিনদুপুরে এক মুসলিম আইনজীবীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহত ব্যক্তির নাম আজিমুদ্দিন, যিনি ‘গুড্ডু আনসারি’ নামেও পরিচিত ছিলেন। কাটিহার টাউন থানা এলাকার কুমহার টোলির প্যাটেল চকের কাছে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের তথ্যমতে, আনসারি যখন বাজারে ছিলেন, তখন তিনটি লোক তার কাছে এসে তাকে ঘিরে ফেলে। তাদের মধ্যে একজন পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ (খুব কাছ থেকে) তাকে লক্ষ করে গুলি চালায় এবং এরপর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনসারিকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ খতিয়ে দেখছে। জানা গেছে, ফুটেজে দেখা যাচ্ছে হামলাকারীরা বাজারের মধ্যে আজিমুদ্দিন আনসারির দিকে হেঁটে আসছে। এরপর তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে এবং তারপর দলবদ্ধ হয়ে তারা এলাকা ত্যাগ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরাও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আজিমুদ্দিনকে গুলি করার পরপরই তিনি রাস্তার পাশে লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘেরাও করে আলামত সংগ্রহ করেছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে এবং অপরাধ সংঘটনের আগে ও পরে তাদের গতিবিধি নিশ্চিত করতে এলাকার সিসিটিভি রেকর্ডিং পরীক্ষা করা হচ্ছে। আজিমুদ্দিন আনসারির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, আগের একটি বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
নিহতের এক আত্মীয় দাবি করেছেন, প্রায় তিন মাস আগে স্থানীয় আদালতে আইনজীবী আজিমুদ্দিনের সাথে এক ব্যক্তির বাগবিতণ্ডা হয়েছিল এবং সেই বিরোধের পর তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। মোহাম্মদ মমতাজ আলম নামে নিহতের পরিবারের এক সদস্যও পুরোনো বিরোধের সূত্র ধরে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশ এখনো এর মূল উদ্দেশ্য কিংবা জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি। কাটিহারের ডিএসপি বিশাল আনন্দ জানিয়েছেন, গুলি চালানোর ঘটনার তথ্য পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তারা সম্ভাব্য সব দিক থেকে বিষয়টি তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা অপরাধের ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণাদি খতিয়ে দেখছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি সাপেক্ষে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য এবং হামলাকারীদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সিয়াসত ডেইলি।
শিক্ষার্থী সহিংসতায় ফ্রান্সে ৫০০ স্কুল বন্ধ ঘোষণা
ফ্রান্সে প্রায় ৫০০টি হাইস্কুল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নের দাবিতে শিক্ষার্থীদের লাগাতার বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর সোমবার এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত রাখার কথা জানায় ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ গেফ্রে। আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটির অন্তত ২৪টি স্কুলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী বোঝাই ক্লাসরুম এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের সংস্কারের দাবিতে গত সপ্তাহ থেকে রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ শুরু করে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। দ্রুতই এই আন্দোলন মোঁপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ বিভিন্ন বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, অতি-বামপন্থি কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে ঢুকে পড়ে চরম সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। সংঘর্ষে শিক্ষা বিভাগের অন্তত ৭৮ কর্মী আহত হয়েছেন, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। সহিংস বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফরাসি প্রশাসন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ জানান, শুধু শুক্রবারই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে আটক করা হয়। বার্তা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এএফপি।
গাজার শিশুরা আমাদের ‘শত্রু’ ইসরাইলি রাজনীতিবিদ
গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের এমনকি শিশুদেরও ‘শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইসরাইলি রাজনীতিক মোশে ফেইগলিন। গাজা ও হামাসের মধ্যে পার্থক্য টেনে তিনি বলেছেন, তার দৃষ্টিতে ‘প্রকৃত শত্রু’ হামাস নয়, বরং পুরো গাজা। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ‘জেরুসালেম পোস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেইগলিন বলেন, ‘প্রকৃত শত্রু হলো গাজা, হামাস নয়।’ গাজার সব বাসিন্দা; এমনকি শিশুরাও শত্রুপক্ষের অন্তর্ভুক্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাক্ষাৎকারে ফেইগলিন ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সম্পূর্ণ উৎখাতের পক্ষে মত দেন। একইসঙ্গে গাজা ভূখণ্ডকে স্থায়ীভাবে ইসরাইলের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সেখানে নতুন করে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে তিনি নৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন। ফেইগলিনের এসব মন্তব্য গাজা ও ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তার কঠোর রাজনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে। তবে এগুলো তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বক্তব্য; এগুলোকে ইসরাইল সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। মোশে ফেইগলিন ইসরাইলের সাবেক সংসদ সদস্য এবং দেশটির ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন রাজনীতিক। গাজা ও ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তার কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি এর আগেও আলোচনায় এসেছেন। জেরুসালেম পোস্ট, মিডল ইস্ট আই।
মহানবী সা.-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা.-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সি শ্রীলঙ্কান এক অভিবাসী শ্রমিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আনোজান শিবারাসা নামের ওই যুবককে গত জুলাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনোজানের জীবন রক্ষায় সৌদি সরকারের কাছে ক্ষমা চেয়েছে তার পরিবার। তার মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী ছেলেকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা সরকারও কূটনৈতিকভাবে তার সাজা মওকুফের চেষ্টা করছে। ঘটনার সূত্রপাত গত জুনের শেষ দিকে। শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী সা.-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। পরে তিনি মন্তব্যটি মুছে ক্ষমা চেয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন। তবে এর আগেই মন্তব্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে।
পরে তা তার নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তার ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আনোজানের ভাই হামসিদান শিবারাসা বিবিসিকে জানান, শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ব্যক্তি তার কর্মস্থলে ই-মেইল করার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে প্রতিষ্ঠানটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানালে মামলা হয়। প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট আনোজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। সাজা কমানোর আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর ১৭ সেপ্টেম্বর মামলায় নতুন মোড় আসে। সৌদি প্রসিকিউশন শরিয়াহ আইনের অধীনে মামলাটি বিবেচনার আবেদন করলে আপিল আদালত তা গ্রহণ করে এবং তার সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে। আনোজানের সাজা মওকুফের জন্য শ্রীলঙ্কা সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ২১ সেপ্টেম্বর তার পরিবারের সদস্যরা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রেসিডেন্ট তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাস দেন। মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সৌদি আরবের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতে শ্রীলঙ্কা থেকে চার সদস্যের একটি আইনি প্রতিনিধিদল দেশটিতে যাচ্ছে। প্রতিনিধিদলের সদস্য প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল উপুল কুমারাপ্পেরুমা জানান, সৌদি আরবের দুটি আইন প্রতিষ্ঠান আনোজানের মামলা পরিচালনা করছে। এপি।
জলবায়ু বিপর্যয়ের নির্মম শিকার নারী ও কিশোরী -গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র
বন্যা, খরা ও তীব্র দাবদাহের মতো মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক জলবায়ু বিপর্যয় বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশু ও কিশোরীদের জীবনকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহ আঘাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিয়ে, কিশোরী বয়সে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এবং নারীদের ওপর পাশবিক সহিংসতা। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের এক যুগান্তকারী গবেষণায় এই লোমহর্ষক বাস্তবতা উঠে এসেছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর সাথে যৌথভাবে প্রকাশিত এই গবেষণায় বিগত তিন দশকের ৫০টিরও বেশি দেশের জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য এবং বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের পাঁচ হাজার কিশোরীর বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর জরিপ চালানো হয়। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগকবলিত এলাকার প্রতি ১০ জন কিশোরীর একজন জানিয়েছে যে জলবায়ু বিপর্যয়ের পর তারা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের শিকার হয়েছে। এছাড়া প্রতি ১০ জনের একজন ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশ, কেনিয়া, পেরু, সেনেগাল এবং জিম্বাবুয়ের ওপর পরিচালিত এই নিবিড় অনুসন্ধানে দেখা যায়, চরম বন্যা ও খরার কবলে পড়ে সহায়-সম্বল হারিয়ে পরিবারগুলো তীব্র আর্থিক অনটনে পড়ে।
এহেন অর্থনৈতিক বোঝার চাপ সামলাতে অভিভাবকরা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাদের দ্রুত বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। গবেষণায় অংশ নেয়া বাংলাদেশের ১৯ বছর বয়সী শাহিনা বলেন, ‘বন্যার কারণে মানুষ যখন নিঃস্ব হয়ে পড়ে, তখন চরম আর্থিক সংকটের মুখে বাধ্য হয়ে খুব অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়’। পেরুতে ১২-১৩ বছর বয়সেই কিশোরীদের গর্ভধারণের চিত্র যেমন মিলেছে, তেমনি জিম্বাবুয়েতে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মা হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাও উঠে এসেছে। কেনিয়ার ২২ বছর বয়সী গালগালো আক্ষেপ করে জানান, খরার কারণে তার বাবার বিক্রি করার মতো কোনো গবাদিপশু না থাকায় কলেজে পড়ার স্বপ্ন ভেঙে তাকে বাল্যবিয়ে মেনে নিতে হয়েছিল।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী রিনা ঘেলানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘কিশোরীদের জন্য জলবায়ু সংকট কোনো দূরবর্তী হুমকি নয়, এটি এখনই তাদের শিক্ষা ধ্বংস করছে এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে’। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত কিশোরীদের ক্ষেত্রে অল্প বয়সে বিয়ে ও গর্ভধারণের ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। অথচ আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ (০.৫%) স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। বৈশ্বিক নীতি-নির্ধারকদের এই চরম উদাসীনতা অব্যাহত থাকলে সামনে দুর্যোগ বৃদ্ধির সাথে সাথে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর নারী সমাজ এক অপূরণীয় সংকটের মুখোমুখি হবে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
ইমরান খানের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে : রবি শাস্ত্রী
কারাবন্দি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা এবং কারাগারে তার সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের ক্রিকেট দলের সাবেক প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী। ইমরানের সঙ্গে আচরণকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, কোনো মানুষের সঙ্গেই এভাবে আচরণ করা উচিত নয়। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ‘রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রী বলেন, ইমরানের সঙ্গে বর্তমানে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তা দেখে তিনি বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতিবিদ নই। কিন্তু এখন তার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তা দেখে আমি বিস্মিত। কোনো মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করা যায় না। মানবিক দিক থেকে আমি মনে করি না, সে যা পাচ্ছে, তার প্রাপ্য।’ শাস্ত্রী আরও বলেন, তিনি শুধু নিজের কথা বলছেন না; বিশ্বের অনেক ক্রিকেটারও ইমরানের বিষয়ে একই অনুভূতি পোষণ করেন। একইসঙ্গে ইমরানের দ্রুত সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন তিনি।
ইমরানের ক্রিকেটিয় অবদানের প্রশংসা করে শাস্ত্রী বলেন, ক্রিকেটে তিনি যে অবদান রেখেছেন, তা অসাধারণ। তার স্মৃতিতে ইমরান একজন অসাধারণ নেতা, যিনি তরুণদের অনুপ্রাণিত করে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন। ১৯৯২ বিশ্বকাপে প্রায় ৪০ বছর বয়সে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জেতার প্রসঙ্গও টানেন শাস্ত্রী। তুলনামূলক তরুণ একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ইমরানের ওই সাফল্যকে তিনি বিশেষ কৃতিত্ব হিসেবে দেখেন। ইমরানকে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম পরিচিত মুখ উল্লেখ করে শাস্ত্রী বলেন, তিনি আশা করেন ইমরান কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং তার সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করা হবে। রাজনীতি সম্পর্কে নিজের অনভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শাস্ত্রী বলেন, একজন মানুষকে দীর্ঘসময় একটি কক্ষে আটকে রাখা তার প্রাপ্য নয়। ইমরান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে আছেন। তার স্বাস্থ্য ও কারাবন্দি অবস্থার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কারাগারে ইমরানের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি; প্রতিবেদনে উদ্ধৃত দাবির ভিত্তিতেই তা বলা হয়েছে। ইমরানের ক্রিকেটিয় উত্তরাধিকার নিয়েও কথা বলেন শাস্ত্রী। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ক্রিকেটার হিসেবে ইমরানের প্রতি তার শ্রদ্ধা ছিল বলে জানান তিনি। শাস্ত্রীর ভাষায়, ইমরান শুধু বড় মাপের ক্রিকেটারই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ অলরাউন্ডার ও নেতা। টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান