আত্মীয়তা ও মেহমানদারি ইসলামী দৃষ্টিকোণ


৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৪১

॥ ডা. মুহাম্মদ তফাজ্জল হোসেন ॥
আত্মীয়-স্বজন বলতে সাধারণভাবে রক্তের সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং নিকট পারিবারিক সম্পর্কের মাধ্যমে যুক্ত মানুষকে বোঝায়। ইসলামের দৃষ্টিতে বিশেষভাবে ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, আপন ভাই-বোন, চাচা-চাচি, ফুফু-ফুফা, মামা-মামি, খালা-খালু, ভাই-বোনের সন্তান অর্থাৎ ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগ্নে-ভাগ্নি, সন্তান, নাতি-নাতনি, স্বামী-স্ত্রীর পরিবারের আত্মীয়রাও পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের অংশ। তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে ‘রাহিম’ বা রক্ত-সম্পর্কের হক এবং সাধারণ সামাজিক আত্মীয়তার পরিধি এক বিষয় নয়। রক্ত-সম্পর্ক যত নিকট, দায়িত্ব ও সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব সাধারণত তত বেশি।
কুরআনের নির্দেশ
আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার দাবি করো এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারেও সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।’ —সূরা আন-নিসা : ৪।
আর আল্লাহ আত্মীয়কে তার অধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আত্মীয়কে তার অধিকার দিয়ে দাও।’ —সূরা আল-ইসরা : ২৬।
ইসলামের দৃষ্টিতে আদর্শ আত্মীয়তার সম্পর্ক
একটি সুন্দর আত্মীয়তার বন্ধনে কয়েকটি বিষয় থাকা উচিত—
১. সালাম ও নিয়মিত খোঁজখবর, ২. সুযোগমতো সাক্ষাৎ, ৩. অসুস্থতা ও বিপদে পাশে থাকা, ৪. দরিদ্র আত্মীয়কে সাহায্য করা, ৫. মেহমানকে সম্মান করা, ৬. আত্মীয়ের ভুল ক্ষমা করা, ৭. ঈর্ষা ও হিংসা পরিহার করা, ৮. পারিবারিক বিরোধে সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন না করা, ৯. শিশুদের আত্মীয়তার সম্পর্ক সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া, ১০. শুধু সুখের সময়ে নয়, দুঃসময়ে আত্মীয়ের পাশে দাঁড়ানো।
রাসূল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।’ — সহীহ আল-বুখারি : ৬০১৮; সহীহ মুসলিম : ৪৭।
আর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। রাসূল সা. বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ — সহীহ আল-বুখারি : ৫৯৮৪; সহীহ মুসলিম : ২৫৫৬।
ইসলামের শিক্ষা হলো— আত্মীয়তা শুধু দাওয়াত, ঈদে দেখা করা বা সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নাম নয়; বরং আত্মীয়ের সুখে আনন্দিত হওয়া, দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনের সময় সাহায্য করা, সম্মান করা এবং তার পক্ষ থেকে কষ্ট পেলেও সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন না করা।
নিকট আত্মীয়-স্বজনকে বাসায় এনে সমাদর না করা, ইচ্ছাকৃতভাবে অপছন্দ প্রকাশ করা, কৃপণতা করে আপ্যায়ন না করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অপমানজনক আচরণ করা— এসব বিষয় ইসলামে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি ভারসাম্য মনে রাখা জরুরি— কেউ সবসময় বাড়িতে অতিথি রাখতে সক্ষম নাও হতে পারেন; আর্থিক বা পারিবারিক বাস্তব কারণে সীমাবদ্ধতাও থাকতে পারে। কিন্তু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আত্মীয়তার কারণে কাউকে হেয় করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা বা অহংকারবশত অপমান করা ইসলামের আদর্শের বিপরীত।
আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ
আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং পিতা-মাতা ও নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণ করো…।’ —সূরা আন-নিসা : ৩৬।
এখানে (যিল-কুরবা) অর্থ নিকটাত্মীয়। অর্থাৎ আত্মীয়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা কেবল সামাজিক সৌজন্য নয়; এটি কুরআনের নির্দেশিত ইহসান।
অতএব আত্মীয় বাড়িতে এলে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন আচরণ করা; যাতে সে নিজেকে অবাঞ্ছিত, অপছন্দনীয় বা অপমানিত মনে করে— এটি ইসলামের পারিবারিক সৌজন্যের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অতিথিকে সম্মান করা ঈমানের অংশ
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার অতিথিকে সম্মান করে; যে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে; আর যে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।’ —সহীহ বুখারী : ৬১৩৮।
লক্ষ করুন, একই হাদিসে রাসূল সা. তিনটি বিষয় একত্র করেছেন— ১. অতিথিকে সম্মান করা, ২. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ও ৩. ভালো কথা বলা।
সুতরাং আত্মীয় বাড়িতে এলে কটু কথা, বিরক্তি প্রকাশ, অবজ্ঞা, অপমান বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা নবী আদর্শের বিপরীত।
আত্মীয় সম্পর্ক একতরফা হলেও বজায় রাখতে হবে
এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস আছে।
এক ব্যক্তি রাসূল সা.-এর কাছে অভিযোগ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার আত্মীয়রা আছে। আমি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখি, কিন্তু তারা আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। আমি তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করি, অথচ তারা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। আমি তাদের প্রতি সহনশীল, অথচ তারা আমার সঙ্গে অজ্ঞের মতো আচরণ করে।’
রাসূল সা. বললেন, ‘তুমি যদি সত্যিই এমন হয়ে থাকো যেমন বলেছ, তাহলে তুমি যেন তাদের মুখে গরম ছাই নিক্ষেপ করছ (অর্থাৎ তোমার উত্তম আচরণ তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রবল নৈতিক জবাব হয়ে যাচ্ছে)। আর তুমি যতক্ষণ এ অবস্থায় থাকবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে তোমার সাহায্যকারী থাকবে।’ —সহীহ মুসলিম : ২৫৫৮।
আত্মীয়তা ছিন্ন করার ভয়াবহ পরিণতি
আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কি ক্ষমতা লাভ করলে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে? তারাই তারা যাদের ওপর আল্লাহ লানত করেছেন; ফলে তিনি তাদের বধির করেছেন এবং তাদের দৃষ্টিকে অন্ধ করেছেন।’ —সূরা মুহাম্মদ : ২২-২৩।
কৃপণতা ও আত্মীয়কে সাহায্য না করা
আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কখনো প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।’ —সূরা আলে ইমরান : ৯২।
এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর সাহাবী আবু তালহা রা. তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বাগান বাইরুহা আল্লাহর পথে দান করতে চাইলেন। রাসূল সা. তাঁকে বললেন, ‘বাহ! এটি লাভজনক সম্পদ। … আমি মনে করি, তুমি এটি নিকট আত্মীয়দের মধ্যে দিয়ে দাও।’
এরপর আবু তালহা রা. তাঁর বাগান আত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। —সহীহ বুখারী : ১৪৬১।
আনসার সাহাবীদের অসাধারণ মেহমানদারি
একবার একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তি রাসূল সা.-এর কাছে এলেন। তাঁর ঘরে সেদিন খাবার ছিল না। রাসূল সা. সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, কে আজ রাতে এই ব্যক্তিকে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করবে?
একজন আনসারি সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি।’
তিনি বাড়িতে গিয়ে দেখলেন, সন্তানদের জন্য যতটুকু খাবার আছে সেটুকুই মাত্র রয়েছে। তিনি স্ত্রীকে বললেন, সন্তানদের ঘুম পাড়িয়ে দিতে এবং খাবারের প্রদীপ নিভিয়ে দিতে। এরপর অতিথিকে খাবার দিয়ে তাঁরা নিজেরা না খেয়ে থাকলেন।
পরদিন রাসূল সা. তাঁদের এই কাজের প্রশংসা করলেন এবং এরপর নাজিল হলো— ‘তারা নিজেদের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যদের নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়।’ —সূরা আল-হাশর :৯; সহীহ বুখারী : ৪৮৮৯।
এখানে সাহাবীদের চরিত্রের একটি অসাধারণ দিক পাওয়া যায় :
নিজেদের প্রয়োজন ছিল → তবু অতিথিকে অপমান করেননি।
নিজেদের খাবার কম ছিল → তবু অতিথিকে অবাঞ্ছিত মনে করেননি।
নিজেদের কষ্ট হয়েছে → তবু অতিথির সম্মান রক্ষা করেছেন।
‘আমার বাড়িতে আসা আমি পছন্দ করি না’— এ বিষয়ে ভারসাম্য
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী ভারসাম্য আছে। ইসলাম কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে অতিথি আপ্যায়ন করতে বাধ্য করেনি। রাসূল সা. বলেছেন, ‘মেহমানদারি তিন দিন।’ এবং তিনি বলেছেন, অতিথিকে এমনভাবে দীর্ঘদিন অবস্থান করা উচিত নয়, যাতে গৃহকর্তা বিপদে বা সংকটে পড়ে যায়। —সহীহ বুখারী : ৬১৩৫।
অতএব কোনো আত্মীয়— বারবার এসে পরিবারের ক্ষতি করে, ঝগড়া সৃষ্টি করে, সম্পত্তির ক্ষতি করে, নিরাপত্তার সমস্যা তৈরি করে, অসদাচরণ করে, তাহলে গৃহকর্তা শালীন ও বিচক্ষণ সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। কিন্তু সীমা নির্ধারণ আর অপমান করা এক জিনিস নয়।
ইসলামী পদ্ধতি হলো
‘আমি আপনাকে ভালোবাসি, কিন্তু এই সময়ে আমার পক্ষে দীর্ঘসময় রাখা সম্ভব নয়।’ এটি এক ধরনের শালীন সীমা।
কিন্তু ‘আপনি এখানে কেন এসেছেন? আপনাকে আমরা পছন্দ করি না। এখানে আর আসবেন না।’
—এ ধরনের অপমানজনক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
আত্মীয় ভালো ব্যবহার না করলেও সম্পর্ক রক্ষা
আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস, ‘যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, সে শুধু সেই ব্যক্তি নয় যে তার আত্মীয় ভালো আচরণ করলে তার প্রতিদান দেয়; বরং প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী হলো সে, যার আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে সম্পর্ক বজায় রাখে।’ —সহীহ বুখারী : ৫৯৯১।
এখানে ইসলামের শিক্ষা খুব স্পষ্ট— আত্মীয়তার সম্পর্ক ‘লেনদেনের ব্যবসা’ নয়। ‘সে আমাকে ডাকলে আমি যাব।’ ‘সে আমাকে খাওয়ালে আমি খাওয়াব।’ ‘সে আমাকে সম্মান করলে আমি সম্মান করব।’ এটি সর্বোচ্চ মানের সিলাতুর রাহিম নয়।
বরং উত্তম হলো, ‘সে আমার প্রতি দায়িত্ব পালন না করলেও আমি আল্লাহর জন্য আমার দায়িত্ব পালন করব।’
ধর্মের মর্যাদা আত্মীয়ের মর্যাদা নষ্ট করে না
ওপরের ঘটনাগুলো থেকে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট— আবু তালহা রা. নিজের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ আত্মীয়দের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন।
আনসারি সাহাবী ও তাঁর স্ত্রী— নিজেদের খাদ্যের অভাব থাকা সত্ত্বেও রাসূল সা.-এর অতিথিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আসমা বিনতে আবু বকর রা. তাঁর মুশরিক মা তাঁর কাছে এলে তিনি রাসূল সা.-এর কাছে জানতে চাইলেন সম্পর্ক বজায় রাখবেন কি না। রাসূল সা. বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমার মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখো।’ —সহীহ বুখারী ২৬২০।
অর্থাৎ আত্মীয়ের ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত অবস্থার কারণে হলেও ন্যায্য আত্মীয়তার অধিকার একেবারে বাতিল হয়ে যায় না।
নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে—
১. আমি কি আত্মীয়কে মানুষ হিসেবে সম্মান করছি? ২. আমার কৃপণতা কি আমাকে আত্মীয়তার দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে? ৩. আমি কি অর্থনৈতিক পার্থক্যের কারণে আত্মীয়কে ছোট করছি? ৪. আমি কি পুরোনো কোনো বিরোধের প্রতিশোধ নিচ্ছি? ৫. আমি কি নিজের সন্তানদেরও আত্মীয়দের অপছন্দ করতে শেখাচ্ছি? ৬. আমার আচরণের কারণে কি আত্মীয়তার বন্ধন ভেঙে যাচ্ছে?
মেহমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
এটি শুধু গৃহকর্তার দায়িত্ব নয়। অতিথিরও দায়িত্ব রয়েছে।
রাসূল সা. বলেছেন, অতিথিকে এমনভাবে দীর্ঘসময় থাকা উচিত নয়; যাতে গৃহকর্তা সংকটে পড়ে।
তাই আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে বারবার অনাহূত উপস্থিত হওয়া, দীর্ঘদিন থাকা, গৃহস্থের অসুবিধা না বোঝা, অতিরিক্ত দাবি করা, পারিবারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা— এসবও সঠিক নয়।
ইসলাম দুই পক্ষের অধিকার রক্ষা করেছে।
শেষ কথা হচ্ছে
নিকটাত্মীয়কে ভালোবাসা, সম্মান, সালাম, হাসিমুখে গ্রহণ, সামর্থ্য অনুযায়ী আপ্যায়ন, প্রয়োজনের সময় সাহায্য এবং সম্পর্ক বজায় রাখা— এসব ইসলামী চরিত্রের অংশ।
অন্যদিকে অহংকার, কৃপণতা, হিংসা, অপছন্দের কারণে অবজ্ঞা, অপমান, সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং আত্মীয়কে নিজের ঘরে অবাঞ্ছিত করে তোলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
আর সবচেয়ে সুন্দর নববী শিক্ষা হলো— ‘প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী সে নয় যে প্রতিদানের ভিত্তিতে সম্পর্ক রাখে; প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী হলো সে, যার আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে সম্পর্ক বজায় রাখে।’ —সহীহ বুখারী : ৫৯৯১।
অতএব একজন মুমিনের নীতি হওয়া উচিত, ‘আত্মীয় আমাকে যতটুকু সম্মান দিল— আমি ততটুকু দেব’— এটি নয়; বরং ‘আল্লাহ আমাকে আত্মীয়ের সঙ্গে যেমন আচরণ করতে বলেছেন, আমি তেমনই করব’— এটাই ইসলামী আদর্শ।
আর কেউ আপনার সঙ্গে অন্যায় করলেও নিজের পক্ষ থেকে সিলাতুর রাহিম, উত্তম কথা, ক্ষমা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখা উচিত। তবে একইসঙ্গে বাস্তব ক্ষতি এড়াতে শালীন সীমারেখা রাখাও শরীয়তসম্মত হতে পারে। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় প্রয়োজন আত্মীয়তাকে শুধু আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক হিসেবে না, বরং দায়িত্ব, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও আল্লাহর ইবাদাত হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
লেখক : চিকিৎসক ও ইসলামী চিন্তাবিদ।