বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প নিয়ে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৪

স্টাফ রিপোর্টার : জুলাই বিপ্লবের চেতনার বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প নিয়ে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন বলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা গেছে। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার প্রত্যয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান নবদিগন্তের সূচনা বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা ও বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে প্রথম জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে পাঁচবার ভাষণ দেন তার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এবার ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এসে একই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে লাল-সবুজের পতাকা ও দেশের কোটি মানুষের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই পরিবারের তিন প্রজন্মের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক উপস্থিতি এক অনন্য ও আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে।
এ অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ৬টা ৫ মিনিটে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন এবং নিউইয়র্কে পৌঁছান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
স্থানীয় সময় গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৮টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে এ প্রাতঃরাশের আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে এ আয়োজন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এর মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়।
নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা এবং জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সংগত উত্তরণ নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এবং সাইড লাইন বৈঠকগুলো বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দেশের অবস্থান পুনর্নিধারণের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্থিতিশীল, প্রগতিশীল এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট বার্তা উপস্থাপন করছে।
সফরের অন্যতম মূল আকর্ষণ সাইডলাইন বৈঠক বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। অধিবেশনের পাশাপাশি বিশ্বনেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগীদের সাথে তার বৈঠকগুলো বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে এসব বৈঠক বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণে অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে এটি বড় প্রভাব ফেলবে। ২৪ সেপ্টেম্বরের বহুল প্রতীক্ষিত ভাষণটি বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির নতুন রূপরেখা তুলে ধরবে। জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য দিয়ে তিনি চার দশকের কূটনৈতিক ঐতিহ্যের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর বক্তব্যে স্থান পাবে গণতান্ত্রিক সংস্কার, সুশাসন, আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদীয়মান দেশগুলোর অংশীদারিত্বের দাবি। জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ন্যায়বিচার দাবি এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো পদক্ষেপের জোর দাবিও এতে উঠে আসবে। পরিশেষে এই জাতিসংঘ সফর ও ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সাথে সম্পর্ক নিবিড় করা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর উদীয়মান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চারটি ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২০