দেশের শীর্ষ সংগঠনগুলোর দাবি

ইসলামবিরোধী বিল অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে


১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৭

সোনার বাংলা ডেস্ক : দেশের শীর্ষস্থানীয় সংগঠনগুলো সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন বিলকে ইসলামবিরোধী বিল বলে উল্লেখ করে অনতিবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানিয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার পৃথক পৃথক বিবৃতিতে সংগঠনের নেতা ও শীর্ষ ইসলামিক স্কলাররা এ বিল আইনে পরিণত করার আগে এতে শরীয়ার প্রতিফলন নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাদের পৃথক পৃথক বিবৃতিগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
জাতীয় ফতোয়া বোর্ড : অনতিবিলম্বে কুরআনবিরোধী আইন বাতিল করার দাবি জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের। বাংলাদেশ জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের শতাধিক বিশিষ্ট মুফতি এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অনুমোদিত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’টি সরাসরি কুরআন-হাদীস তথা ইসলামী বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। তারা অনতিবিলম্বে কুরআনবিরোধী এ আইন বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বিশিষ্ট মুফতিগণ বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটি (Gift Reserving Life Usufruct.)(যাতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট রক্ত-সম্পর্কীয় ব্যক্তি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এমনভাবে সম্পতি দান করা যাবে, যাতে দাতা তার জীবদ্দশায় ঐ সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারেন।) পাস করে ৯১ ভাগ মুসলমানের এই দেশে, বর্তমান সরকার আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইসলামী বিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এটি সরাসরি কুরআন-হাদীস তথা ইসলামী বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। অনতিবিলম্বে কুরআনবিরোধী এ আইন বাতিল না করলে সরকারকে চরম খেসারত দিতে হবে। বিবৃতিতেস্বাক্ষরকারী মুফতিগণ হলেন— বাংলাদেশ জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমীর ও সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, বাংলাদেশ জাতীয় ফতোয়া বোর্ড ও সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ড. মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতি আবু জাফর কাসেমী, ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহ কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি ড. মুফতি মাওলানা আব্দুস সামাদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ ড. সামিউল হক ফারুকী, মুফতি আলী হাসান ওসামা, মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী, শায়খ সাইফুল্লাহ নোমানি, খতিব ও পরিচালক আল-আমিন জামে মসজিদ ও মাদরাসা, কামরাঙ্গীরচর ঢাকার মুফতি শফিকুল ইসলাম বিন বাহাউদ্দিন, বেফাকুল মাদারিস বাংলাদেশের মুফতি আবু দাউদ জাকারিয়া, মুফতি আবুল কাশেম গাজী, মুফতি আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুজিবুর রহমান হামিদী, প্রধান মুফতি মাদরাসা নুরিয়া ঢাকার মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন, ইফতার বিভাগ মাদরাসা নুরিয়া ঢাকার মুফতি আবুল কালাম মুহতামিম মিরপুর জামিয়া মুফতি বরকত উল্লাহ আনসারী, খতিব ও প্রিন্সিপাল, বাইতুল মেরাজ জামে মসজিদ ও মাদরাসা ঢাকার খতিব সাবার জামে মসজিদ, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মুহতামিম বাইতুল আজিজ মাদরাসা কামরাঙ্গীরচরের মুফতি আবুল কাশেম কাসেমী, মুফতি কবির আজহারী আজহারী, খতিব বিশ্ব রোড জামে মসজিদের মুফতি ইসমাইল হোসাইন, প্রফেসর মুফতি আ.ন.ম. রশিদ আহমাদ মাদানী, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফী, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব মুফতি মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকি, খেলাফাতে রব্বানী আমির মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মুফতি মহিউদ্দিন খতিব আদর্শ নগর জামে মসজিদ ঢাকা, মুফতি সরফুল ইসলাম, খতিব আফতাব নগর জামে মসজিদ, মুফতি ডক্টর জাকারিয়া নূর, মুফতি লুৎফর রহমান খতিব পল্টন জামে মসজিদ মুফতি ইব্রাহিম খলিল টঙ্গী, অধ্যক্ষ মুফতি মিজানুর রহমান খতিব আনোয়ারা খাতুন জামে মসজিদ ঢাকা, অধ্যাপক মুফতি শফিকুল ইসলাম খতিব আবহাওয়া কোয়াটার জামে মসজিদ উত্তরা ঢাকার মুফতি আব্দুল কুদ্দুস, খতিব খালাসী জামে মসজিদ খুলনার মুফতি অধ্যক্ষ রাহমাতুল্লাহ, খতিব নেসারিয়া জামে মসজিদ খুলনার মুফতি অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, খতিব বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ খুলনার মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান, মুফতি জাহিদুর রহমান, খতীভ চাঁদনী চক জামে মসজিদ ঢাকার পীর মুফতি মাওলানা শরীফ হোসাইন, মুসলিম জনতা পরিষদের আমির মুফতি মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের জেনারেল সেক্রেটারি মুফতি আল্লামা মুস্তাক আহমাদ, জমিয়াতে উলামা দেওবন্দ পরিষদের সেক্রেটারি হযরত মুফতি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাসেমী, মীরের সরাইর পীর সাহেব মুফতি মাওলানা আ. মোমেন নাছেরী, টেকের হাটের পীর সাহেব মুফতি মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মুফতি ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার, গাউছিয়া দরবার শরিফের পীর মুফতি ড. আব্দুল কাইউম আল আযহারী, বিশিষ্ট মুফাসসির মুফতি মাওলানা ফখরুদ্দীন আহমাদ, মুফতি মাওলানা নাসির উদ্দিন হেলালী, মুফতি মাওলানা মো. নূরুল আমীন, মুফতি ড. কামরুল হাসান শাহীন, মুফতি ড. সাইফুল ইসলাম রফিক (প্রিন্সিপাল মুহাম্মাদাবাদ ফাযিল মাদরাসা), জাতীয় খতীব পরিষদের আমীর মুফতি মাওলানা মাউদুর রহমান, হুফ্ফাজ পরিষদ সেক্রেটারি মুফতি মাহবুবুর রহমান, মাওলানা সাদিকুর রহমান আজহারী, কওমি হাফেজ পরিষদ সভাপতি মুফতি নূরুল আমিন গোপালগঞ্জী হুজুর, সম্মিলিত ইসলামিক জোটের আমির মুফতি মাওলানা আবদুল বাকি, ইসলামী জনতা সভাপতি মুফতি আবদুল কুদ্দুস, মহাসচিব হাফেজ মুফতি আবুল কাসেম, মুহাদ্দিস আবু বকর সিদ্দিক, ইসলাহুল উম্মাহ সভাপতি মুফতি মাওলানা আবু হানিফ নেছারী, মুফতি ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন আযহারী, মুফতি মাওলানা ইরশাদুল্লাহ আযহারী, মুফতি মাওলানা আবু নাঈম, মুফতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (খতিব, আজাদ মসজিদ, গুলশান), মুফতি মাওলানা সাদিক মুহাম্মাদ ইয়াকুব আল আযহারী প্রমুখ।
হেফাজতে ইসলাম : জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬’-এ বিদ্যমান মুসলিম পারিবারিক ও সামাজিক বিধিব্যবস্থার যাতে কোনো ব্যত্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে গভীর নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়খ সাজিদুর রহমান। এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় সরকারের প্রতি এ দাবি জানান। হেফাজত নেতৃদ্বয় জোর দিয়ে বলেন, কোনো আইনি জটিলতা বা শরীয়তের সাথে অসঙ্গতি এড়াতে বিলটি চূড়ান্ত করার পূর্বে দেশের বরেণ্য মুফতি, ফকিহ ও ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া সমীচীন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস : দলটির আমীর মাওলানা মামুনুল হক ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬’ সংসদে তড়িঘড়ি করে পাস করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই নিরাপত্তার নামে এমন কোনো বিধান করা যাবে না, যা আল্লাহ তায়ালা নির্ধারিত হেবা, অসিয়ত ও ফারায়েজের শরয়ী বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি করে। জীবিত অবস্থায় হেবা এবং মৃত্যুর পর ফারায়েজ অনুযায়ী উত্তরাধিকার— দুটি পৃথক বিষয়। নতুন আইন যেন কোনো ওয়ারিশকে তার শরীয়াহ নির্ধারিত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হাতিয়ার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
খেলাফত মজলিস : এক বিবৃতিতে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ইসলামী শরীয়াহ বিশেষজ্ঞদের সাথে অধিকতর পর্যালোচনা এবং প্রকাশ্য মতামত গ্রহণ না করে তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬ গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেছে খেলাফত মজলিস।
ইসলামী আন্দোলন : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইন-১৮৮২ এর সংশোধনকল্পে আনীত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’ এর সমালোচনা করে বলেন, আইনটি বাস্তবায়নযোগ্য না।
খেলাফত আন্দোলন : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান আমীরে খেলাফত মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এক বিবৃতিতে বলেছেন, কুরআন হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন দেশের জনগণ মেনে নেবে না। প্রয়োজনে দেশের শীর্ষ ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ মুফতি এবং ওলামায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে এ বিল সংশোধন করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি : এক যৌথ বিবৃতিতে এ দলের আমীর (ভারপ্রাপ্ত) আল্লামা আবদুল কাইয়ূম সোবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইযহার ইসলামী শরীয়াহর সুস্পষ্ট বিধান ও দেশের পারিবারিক-সামাজিক বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম : একটি বিশেষজ্ঞ শরীয়াহ বোর্ডের মাধ্যমে বিলটির প্রতিটি ধারা পর্যালোচনা করে শরীয়াহসম্মত প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।
খতমে নবুয়্যত : জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬’-এর শরীয়াহগত দিক গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, মুফতি ও ফকিহদের মতামত গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন ।
ছাত্রশিবির : জাতীয় সংসদে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বিধানের পরিপন্থী ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাসের মাধ্যমে আল্লাহ প্রদত্ত বিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসাথে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী ও ধর্মীয় মূল্যবোধ পরিপন্থী বিলটির বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, ইসলামের শাশ্বত উত্তরাধিকার আইনের বিষয়ে কোনো স্বীকৃত ফকিহ, মুফতি ও শরীয়াহ বিশেষজ্ঞের মতামত না নিয়ে আইনমন্ত্রী নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে তড়িঘড়ি করে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আইন পাস করেছেন। স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, এ দেশে ইসলামের মৌলিক বিধানের পরিপন্থী কোনো আইনই মেনে নেয়া হবে না।