সংবাদপত্রের পাতা থেকে


৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০০

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এতে জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একইসাথে আকাশপথে সক্ষমতা বাড়াতে বোয়িং কেনার সরকারি সিদ্ধান্তও প্রশংসিত হচ্ছে। শিল্প কারখানার উৎপাদন কমে যাওয়ায় আর্থিক খাতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো গত ২ সেপ্টেম্বর এমন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
দৈনিক প্রথম আলো ‘বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে ধন্যবাদ, শিগগিরই সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের’ শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় গুরুত্বের সাথে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। বলা হয়েছে, শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রত্যাশার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান। চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এবং এ দেশের জনগণের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার কথাও জানান।
দৈনিক যুগান্তর ‘২৪ লাখের স্বস্তি, বোঝা ১৮ কোটির কাঁধে’ শিরোনামে প্রধান খবর ছেপেছে। লিখেছে, বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে পুড়ছে দেশের সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে কয়েক দফা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে চাপ আরও বেড়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনসাধারণের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর। ফলে অনেকের সংসারে মাস চালানোর বাজেট এখন সপ্তাহেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০-১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। সংগত কারণে প্রশ্ন উঠেছে— তাহলে বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের বেতন বা আয় বাড়াবে কে। বাস্তবিক অর্থে এ প্রশ্নের উত্তর যখন মিলছে না, তখন ভুক্তভোগীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ক্ষোভ-হতাশা তৈরি হয়েছে।
বণিক বার্তা ‘দেশে বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন সূচক প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক’ শিরোনামের খবরে লিখেছে, খাতভিত্তিক সংকটের সঙ্গে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোয়ও একই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে। সাভার-ধামরাইয়ে দিনের বড় সময় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্য থাকছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের ঘাটতিও রয়েছে। দেশে উৎপাদনমুখী বৃহৎ শিল্প খাতের সংকট এখন বহুমাত্রিক। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল কয়েক বছর ধরেই। অতি সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সংকট আরো তীব্র হয়েছে। কোথাও বিক্রি ও ক্রয়াদেশ হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে আনা হচ্ছে, আবার কোথাও ব্যাংক ঋণের চাপ উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগ থেকে দূরে রাখছে। জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ধরে রাখতে বাড়ছে ব্যয়। এর সঙ্গে ডলার সংকট, দুর্বল চাহিদা ও ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট যুক্ত হয়ে শিল্প খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে।
মানবজমিন ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে প্রধান খবর প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নতুন পে-স্কেল বা বেতনকাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। এতে চাকরিজীবীদের স্বস্তি দিলেও সামষ্টিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের অর্থায়নে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম না টেনে পে-স্কেল ঘোষণায় পণ্য ও সেবা খাতের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে নির্দিষ্ট আয়ের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে এর বেশি প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা আরও বলেছেন, সরকারের আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যে অর্থের জোগান দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিরোধীদলীয় জোট ইতোমধ্যে সমস্যা সমাধানে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছ। গত ২ সেপ্টেম্বর আমার দেশ ‘দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি আমদানি’ শিরোনামে প্রধান খবর ছেপেছে। বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে স্পট মার্কেট থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে স্পট মার্কেট থেকে সরকার প্রতি মেট্রিক মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি ১০-১২ ডলারে কিনত। কিন্তু বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ২৪ ডলারেরও বেশি দরে। ফলে ৪১০-৪৯০ কোটি টাকার প্রতি কার্গো এলএনজির দাম এখন পড়ছে হাজার কোটি টাকার ওপরে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানি করতেই সরকারের ব্যয় ৯০ হাজার কোটি থেকে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সমকাল ‘সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি খাতে বৃদ্ধি নিয়ে সংশয়’ শিরোনামে প্রধান খবর ছেপেছে। লিখেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। নতুন পে-স্কেল শুধু সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়াবে, কিন্তু তা দেশের পুরো শ্রমবাজারের মজুরি কাঠামোয় প্রভাব ফেলবে। কারণ এতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকট, উৎপাদন, বিনিয়োগে স্থবিরতাসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের পক্ষে বেতন বাড়ানো কতটুকু সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়। তার প্রভাব নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিপিডির করা গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ার পর বেসরকারি খাতের উচ্চ বেতনভোগীদের একটি অংশ নিজেদের বেতন সমন্বয় করতে পেরেছিল। কিন্তু কম বেতন পাওয়া কর্মীরা সেই সুযোগ পাননি। ফলে সরকারি-বেসরকারি কর্মীদের বেতন ব্যবধানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ভেতরেও বৈষম্যের চাপ তৈরি হয়।
কালের কণ্ঠ ‘লাখ কোটি টাকার খোঁজে সরকার’ শিরোনামের সংবাদে লিখেছে, মূল্যস্ফীতির কঠিন সময়ে এটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তি হয়ে এলেও রাষ্ট্রের সামনে তৈরি হয়েছে বড় অঙ্কের আর্থিক দায়। নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে সরকার প্রতি বছর এই বিপুল অঙ্কের টাকার সংস্থান করবে? কারণ ঢাকার মেট্রো রেল-৬ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রায় ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন পে-স্কেলের এক বছরের অতিরিক্ত ব্যয় একটি এমআরটি-৬ প্রকল্পের ব্যয়ের তিন গুণেরও বেশি।
গ্রন্থনা : আবু জায়েদ আনসারী।