কিশোর গ্যাং সদস্যদের মাদক সেবনে বাধা

দুই সন্তানসহ রংপুর জিলা স্কুলের (অব.) শিক্ষক দম্পতিকে হত্যা


২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৯

রংপুর সংবাদদাতা : নিজ বাড়ির ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় দুই সন্তানসহ রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী দম্পতিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে একই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা বৈরাগীপাড়া মাছুয়াপট্টি এলাকায়।
হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঐ কিশোর গ্যাংয়ের ২ খুনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার দুই কিশোর খুনি হচ্ছে একই এলাকার কানু দাসের পুত্র মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয় চন্দ্র দাসের পুত্র সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।
এর আগে গত ২২ আগস্ট শনিবার রাত ১১টার দিকে এলাকাবাসীর অভিযোগের সূত্রধরে রংপুর নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা বৈরাগীপাড়া মাছুয়াপট্রি এলাকার নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), কন্যা স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়াম (১২) এর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী দম্পতিকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গত ২৩ আগস্ট রোববার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার দফতরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ সাংবাদিকদের জানান, নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করার পর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে খুনিদের ফেলে যাওয়া আলামতের সূত্র ধরে এই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন এবং খুনিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে এই শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী দম্পতিকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য ও রংপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং রংপুর মহানগর আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা এটিএম আজম খান ঘটনাস্থল পরির্দশন করে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ সাংবাদিকদের আরও জানান, দুই কিশোর খুনি মুগ্ধ এবং সিদ্ধার্থ বৃহস্পতিবার রাতে পাশের বিল্ডিংয়ের ওপর দিয়ে নিহতের বাড়ির ছাদে এসে ইয়াবা সেবন করছিল। এ সময় তাদের শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের আড্ডা দেয়া এবং মাদক সেবনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ শিক্ষককে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে প্রথমে হত্যা করে। এ সময় চিৎকার শুনে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা সিঁড়ি দিয়ে ওপরে এগিয়ে এলে খুনিরা একই কায়দায় তাকেও হত্যা করে। এরপর মায়ের চিৎকার শুনে কন্যা স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এগিয়ে এলে খুনিরা একই কায়দায় তাকেও গলায় গামছা এবং রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সর্বশেষ তারা ঐ দম্পতির শিশু পুত্র প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে বালিশ চাপাদিয়ে হত্যা করে।
তিনি জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা ঐ বাসার বাথরুমে গোসল করে ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর খায় ও ইয়াবা সেবন করে। গত ২১ আগস্ট শুক্রবার দুপুরেও জনশূন্য এলাকায় বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এ সময় ঐ বাসা থেকে লুট করা স্বর্ণালংকার পার্শ্ববর্তী মন্দিরের পেছনে লুকিয়ে রাখে। আলামত ধ্বংস করার জন্য বাসার ২টি মোবাইল ডিটারজেন্ট এর পানিতে ডুবিয়ে রাখে এবং বাসার মালামাল এলামেলো করে রাখে। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৪৩।