ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের বিজয় সুনিশ্চিত করা হবে-হামিদুর রহমান আযাদ


২৭ আগস্ট ২০২৬ ১০:০১

ঢাকা জেলা সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।
ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ড আমীর/সভাপতি ও সেক্রেটারিদের নিয়ে (২১ ও ২২ আগস্ট) দুই দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের প্রথম দিন শুক্রবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষাশিবিরে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন।
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা নয়; বরং নাগরিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তিনি রাষ্ট্র, জাতি-রাষ্ট্র ও ইসলামী রাষ্ট্রের ধারণা এবং এসবের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে আদল বা ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরানের ১৫৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ নবী করিম সা.-কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর আল্লাহর ওপর ভরসা করতে বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম ও নৈতিক অবক্ষয় বিস্তার লাভ করে। মদ্যপান, অবৈধ বাণিজ্য, ঘুষের বিনিময়ে বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা-এসব সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের উদাহরণ। এজন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যক্তির চরিত্র ও নৈতিকতার উন্নয়ন অপরিহার্য।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সমস্যা সবসময় খারাপ কিছু নয়; অনেক সময় সমস্যা মানুষের জন্য শিক্ষা ও পরীক্ষার কারণ হয়। তাই প্রতিবন্ধকতা দেখে পিছিয়ে না গিয়ে তা মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে। এ প্রতিবন্ধকতা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঈমান, আমল ও আখলাকের দুর্বলতা বড় প্রতিবন্ধকতা। দায়িত্ব পাওয়ার পর অহংকার, নেতিবাচক মানসিকতা এবং দায়িত্ব পালনে অনীহাও সাংগঠনিক অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে পরিবার ও সমাজের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাও কর্মীদের দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। রুকন হিসেবে শপথের মাধ্যমে যে দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে, সাংগঠনিক নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি সংগঠনের প্রতি আনুগত্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, সামষ্টিক পর্যায়ে অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো জনগণের একটি অংশের মধ্যে ইসলামের সঠিক জ্ঞানের অভাব। তাই মানুষের কাছে ইসলামের সঠিক শিক্ষা, ন্যায়-ইনসাফ, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বার্তা পৌঁছে দিতে কর্মীদের আরও সক্রিয় হতে হবে। বর্তমান সময়ে কাজের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।