নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দায়িত্বশীলদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধ হতে হবে -মাওলানা আবদুল হালিম
২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৭
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, জুলাই রক্তাক্ত বিপ্লবের পর একটি কল্যাণকর, ইনসাফভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে। জনগণ জামায়াতকে সরকারি দলের আসনে দেখতে চায়। আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের মেধা ও প্রজ্ঞায় আরও সমৃদ্ধ হয়ে তৈরি হতে হবে। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। গত ২১ আগস্ট শুক্রবার মৌলভীবাজার পৌরসভা হলে জেলার ৬৭ ইউনিয়নের সভাপতি ও সেক্রেটারিদের নিয়ে আয়োজিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, বিগত ১৭ বছরে হামলা-মামলা, জেল-জুলুম, হত্যা, নির্যাতন, গুম এবং জাতীয় নেতাদের ফাঁসি দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের গতি স্তব্ধ করা যায়নি। হাজারো শহীদের রক্তে গড়া এ সংগঠন দিন দিন আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। শহীদ নেতাদের সন্তানদের জনগণ সংসদে পাঠিয়ে সকল মিথ্যা অভিযোগের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে আমাদের নেতাদের ফাঁসির পর অনেকেই মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস করেছিল। অথচ আজ তারা পলাতক। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের কাছে তারা ঘৃণিত এবং আধিপত্যবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত। অতীতের জুলুমবাজদের মতো বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে জনগণের ম্যান্ডেটকে গুরুত্ব না দিলে আগামীতে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে শুধুমাত্র দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে মাত্র ছয় মাসে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে জনগণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সৎ, যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে, ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট মহানগরী আমীর মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের অধিক যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে আমাদের দায়িত্বশীলদের আরও সময় দিতে হবে। জীবনের সকল দিক ও বিভাগে নিজেদের আদর্শের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে প্রত্যেকটি পদে আমাদের প্রার্থী দিতে হবে। সেপ্টেম্বর মাসে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত দাওয়াতি অভিযানে আমাদের যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে মাঠে ময়দানে কাজ করতে হবে। ইসলামের সুমহান আদর্শের দাওয়াত প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী। জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলীর সঞ্চালনায় দারসুল কুরআন পেশ করেন বিশিষ্ট আলেমেদীন মাওলানা শেখ আব্দুল হক।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশিদ তালুকদার ও আজিজ আহমদ কিবরিয়া, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম, সৈয়দ তারেকুল হামিদ, আব্দুল কুদ্দুস নোমান প্রমুখ।