শরণখোলায় মাদক-জুয়ার ছোবলে বিপর্যস্ত ছাত্র-যুবসমাজ


২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৩

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : বাগেরহাটের শরণখোলায় মাদকের রমরমা ব্যবসার পাশাপাশি কেরম খেলার নামে জুয়ার আসর চলছে জমজমাট। সকাল থেকে রাত (১২-১টা) পর্যন্ত শরণখোলা উপজেলার চার ইউনিয়নের বিভিন্ন ছোট বড় হাট বাজার এবং গ্রামগঞ্জের সকল চায়ের দোকানে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত চলে এই জুয়ার জমজমাট আসর। এই জুয়ার আসরে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াসহ বিভিন্ন বয়সের লোক টাকার বিনিময়ে জমজমাট আসর জমায়। এতে মাদকের করালগ্রাসে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে দিন রাত পড়ে থাকে কেরাম নামের জুয়াসহ বিভিন্ন মাদক নিয়ে। কেরাম খেলার নামে জুয়াসহ মাদকের এই ভয়ংকর ছোবল থেকে যদি সমাজসহ শরণখোলাকে বাঁচাতে হয়, তাহলে অচিরেই পুলিশ প্রসাশনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা শেষ হয়ে যাবে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং যুবসমাজসহ অনেকেই।
এছাড়া অহরহ চলছে মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন ক্যাসিনো গেম। কেরম, মোবাইল ক্যাসিনোর নামে জুয়া এবং মাদক সেবনকারী বিভিন্ন বয়সের মানুষ সমাজের এই চরম বিপর্যয়ে শরণখোলার সচেতন মহলের দাবি পুলিশ প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি এবং যে সকল এলাকায় কেরম খেলার নামে জুয়া চলে সেই সকল কেরম বন্ধ করে দেওয়া এবং খেলার আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক। এটা শরণখোলার সচেতন এবং সুশীল সমাজের প্রাণের দাবি।
শরণখোলা উপজেলায় মোট চারটি ইউনিয়নে সরেজমিন দেখা গেছে ১নং ধানসাগর ইউনিয়নের আমড়াগাছিয়া বাজার, রাজাপুর বাজার, সাভার পাড়, বটতলা বাজার, রাজপুর বাজার সংলগ্ন স্লুইসগেট শঙ্কর মার্কেট, পহলানবাড়ী বাজার, বান্দারহাট বাজার, চেয়ারম্যান বাজার, মোল্লার বাজার, পল্লীমঙ্গল বাজার। ২নং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের বাসস্ট্যান্ড, কলেজ মোড়, খোন্তাকাটা বাজার, তালতলি বাজার, গোলবুনিয়া, আরনঘাটা, আমতলী বাজার, নলবুনিয়া বাজার। ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নের রায়েন্দা বাজার সদরের ফেড়িঘাট রোড, পাঁচ রাস্তার মোড়, লাকুড়তলা বাজার, চাল রায়েন্দা, খাদা গগন চার রাস্তার মোড়, হাতেমপুর মোড়, চারঘাটা মোড়, বাংলা বাজার, তিন রাস্তার মোড়, রসুলপুর বাজার, বড় রাজাপুর সংলগ্ন রাজু মার্কেট। ৪নং সাউথখলি ইউনিয়নের তাফালবাড়ী বাজার, সিএসবি বাজার, বগী বাজার, গাবতলা বাজার, খুড়িয়াখালী মোড়, চালিতাবুনিয়া বাজার, শরণখোলা বাজার, বকুলতলা বাজার, মডেল বাজারসহ প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে যেখানেই চায়ের দোকান আছে সেখানেই চলে কেরম খেলার নামে জুয়ার জমজমাট আসর। এতে মধ্য বয়সী থেকে শুরু করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা সকাল থেকে শুরু করে একের পর এক, রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত জুয়া খেলায় মগ্ন থাকে। শরণখোলা উপজেলায় চার ইউনিয়নে মোট প্রায় সহস্রাধিক দোকানে চলে কেরম নামে জুয়ার আসর।
এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খাতুন জানান, আমি শরণখোলা থানায় প্রায় মাসখানেক হলো যোগদান করেছি। এরই মধ্যে শরণখোলায় শীর্ষ এবং কুখ্যাত মাদক সাম্রাজ্যের তালিকায় যারা আছে, তাদের প্রায় ১০/১২ জনকে আমার থানার চৌকস পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তবে কেরম খেলার নামে বিভিন্ন এলাকায় জুয়ার আসরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরমভাবে আসক্ত- এটার ব্যাপারে আমি অবগত আছি। অতি শিগগিরই কেরাম খেলার নামে জুয়াসহ সকল প্রকার জুয়ার আসর বন্ধ করে দেওয়া হবে। উপজেলার সকল কেরম জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হবে। এতে আমি কোনো প্রকার ছাড় দেব না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অর্থিতা হাওলাদার বলেন, এরা সমাজ এবং পরিবেশ নষ্ট করছে। এদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। এদের আইনের আওতায় এনে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এদের দমন করলে সামাজিক পরিবর্তন আসবে, সমাজ ভালো থাকবে। সর্বোপরি আমি চাই শরণখোলা থেকে মাদক-জুয়া-সন্ত্রাসসহ সকল অপরাধ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হোক।