সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১২ আগস্ট ২০২৬ ১৯:২৪

কৌশলগত ‘পরাজয়’ ট্রাম্পের!
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই চলমান সংঘাত বা যুদ্ধ স্থগিত বা সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত দিয়েছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য নমনীয়তার জবাবে চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) ও ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের গোপনে জানিয়েছেন যে, ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী মুক্ত করে দেয় এবং তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি পরমাণু চুক্তি ব্যতিরেকেই যুদ্ধ বন্ধ ঘোষণা করতে প্রস্তুত। অতীতে ওয়াশিংটন যেখানে ‘ইরানের বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ’-এর দাবি জানিয়ে আসছিল, সেখান থেকে সরে এসে এখন বৈশ্বিক সমুদ্রপথ সচল করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ খনিজ তেল পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির তীব্র সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের এমন ধারণার পেছনে কাজ করছে আগের সামরিক হামলায় ইরানের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হওয়ার আত্মতুষ্টি। হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা আবার পুনর্নির্মাণ করতে দীর্ঘসময় লাগবে এবং তা মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবে। তবে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প। সামরিক অভিযানের পর তৈরি হওয়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধকে মূল কৌশল হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। গত ৯ আগস্ট রোববার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তুলনামূলক ধীরগতিতে (লো-কি) পর্যবেক্ষণ করছি।’ তিনি জানান, ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে তেহরানের সঙ্গে ‘অর্ধেক-আলোচনা’ চালাচ্ছে এবং যুদ্ধের ফলে ইরানের অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব পড়েছে, তা নজরদারিতে রাখছে। ট্রাম্প দাবি করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সশস্ত্র বাহিনীকে বেতন দিতে হিমশিম খাওয়ার ফলে ইরান বর্তমানে মারাত্মক আর্থিক সংকটে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান নৌ অবরোধ এই অর্থনৈতিক চাপকে আরও গভীর করেছে।
তেহরানের কঠোর পাল্টা শর্ত : মার্কিন প্রস্তাবের মুখে তেহরান তাদের দাবির পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলকাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধই থাকবে। তেহরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছেÑ স্থায়ীভাবে সামরিক হামলা বন্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরানের ওপর থেকে সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান, বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা বা ফ্রিজ করা ১০০ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্তি দেওয়া ও লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন এবং ইরাকে ইরান সমর্থিত অক্ষগুলোর বিরুদ্ধে সকল সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করা। সব মিলিয়ে ইরান মূলত ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক দাবি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে নেওয়ার শর্ত সামনে এনেছে। আল-জাজিরা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে মক্কা চুক্তি
মক্কায় স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক চুক্তিটি আমেরিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার নিরাপত্তা সমঝোতা হ্রাস এবং তাদের মার্কিন নিরাপত্তা ছাতা বর্জনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একই সময়ে এটি এ অঞ্চলে চীনকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে, ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে যার মিল রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি জ্বালানি শক্তি, ন্যাটোর একটি সদস্য দেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি দেশ এই চুক্তির আওতায় জোটবদ্ধ হয়েছে। এটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমানোরও ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং অন্যান্য মধ্যম শক্তির দেশগুলোর জন্যও একটি মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষক অ্যালিসন মাইনর বলেন, ইরানের ক্রমবর্ধমান দৃঢ় অবস্থান এবং মার্কিন প্রতিরোধ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার মুখে এই চুক্তি রিয়াদের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। তার মতে, এটি আরও একটি প্রমাণ যে সৌদি আরব ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার প্রচেষ্টা থেকে সরে আসছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক উপদেষ্টা রিচ আউটজেন এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় গড়ে ওঠা বহুমেরু ব্যবস্থার একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ম্যাডিসন পলিসি ফোরামের জন স্পেন্সার বলেছেন, পাকিস্তান, যার সামরিক বাহিনী বেইজিংয়ের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। মিডল ইস্ট ফোরামের বিশ্লেষক ইমরান খুরশিদ বলেছেন, পাকিস্তান এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা অঙ্গনের একটি প্রবেশদ্বার এবং পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে গঠিত একটি ‘ইসলামিক ন্যাটো’ চীনের অস্ত্রের বাজারকে আরও সম্প্রসারিত করতে পারে।
খুরশিদ বলেন, চীন তার অস্ত্রের প্রচার জোরদার করেছে; এর মধ্যে গত বছর ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে তার জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের সাফল্যের দাবিও রয়েছে। গত বছরের সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবে জেএফ-১৭ এবং চীনে তৈরি অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থা পাঠিয়েছিল। তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তি রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব তৈরি করে। এদিকে নিউ পাকিস্তান ফাউন্ডেশনের আলী চিশতি বলেছেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে চীন অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, ওই সফর চীনের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে। তবে এই চুক্তিটি ভারতের কৌশলগত হিসাব-নিকাশকে জটিল করে তুলেছে। দেশটির সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল এটিকে ভারতীয় স্বার্থের জন্য একটি অত্যন্ত নেতিবাচক ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ইরানের সঙ্গে পরামর্শের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি ইরানের বিরুদ্ধে বিপর্যয়কর মার্কিন আগ্রাসনের ফল। উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং হুথিদের ধারাবাহিক আক্রমণের পর এই চুক্তিটি হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তারা সব হামলা প্রতিহত করতে পারেনি। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে একই সময়ে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ায় ওয়াশিংটনের ওপর এককভাবে নির্ভর করা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে। আরব নিউজ।

মুসলিম হওয়ায় দুই মেয়েকে গৃহবন্দি : বাবা ও রাজ্যকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানার নির্দেশ আদালতের
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ওপর নিজের ইচ্ছাসূচক মতামত চাপিয়ে দেওয়া বা তাদের বন্দি করে রাখা যে সম্পূর্ণ অসংবিধানিক, সে কথা আরও একবার কঠোর ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিলো ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় নিজের দুই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বাড়িতে বেআইনিভাবে আটকে রেখেছিলেন বাবা। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দুই বোনকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি বাবা এবং উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকারকে যৌথভাবে ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি সন্দীপ জৈনের একক বেঞ্চ একটি হেবিয়াস কর্পাস আবেদনের শুনানি শেষে এই ঐতিহাসিক রায় দেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ৩৫ বছর বয়সী অংশু ভাটিয়া (বর্তমান নাম আমিনা অংশু ভাটিয়া) ২০২০ সালে এবং তার ২০ বছর বয়সী বোন দিয়া ভাটিয়া (বর্তমান নাম জোয়া দিয়া ভাটিয়া) ২০২১ সালে নিজেদের ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তবে এই ধর্ম পরিবর্তন মেনে নিতে পারেননি তাদের বাবা। তিনি দুই মেয়েকে জোরপূর্বক বাড়িতে বন্দি করে রাখেন। পরবর্তীতে আদালতের মুখোমুখি হয়ে দুই বোন জানান, কোনো বলপ্রয়োগ, প্রলোভন বা প্রতারণা নয়Ñ বরং নিজস্ব মানসিক শান্তি, বিবেক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আদালত দুই বোনের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্টভাবে শোনার পর জানায়, ‘একজন ব্যক্তি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হন, তখন সংবিধান তার নিজস্ব চিন্তা, ধর্ম, বসবাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করে। বাবা-মায়ের বিরোধিতা বা সামাজিক মতাদর্শ কোনোভাবেই সংবিধানে প্রদত্ত এই স্বাধীনতাকে কেড়ে নিতে পারে না।’ শুনানির সময় উত্তর প্রদেশ সরকার এবং মেয়েদের বাবার পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, এই ধর্মান্তরের পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ও দেশের জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে উত্তরপ্রদেশ বেআইনি ধর্মান্তরবিরোধী আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, ধর্মান্তরকরণের আইনি বৈধতা পরীক্ষা এবং দুই জন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে জোর করে আটকে রাখাÑ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। জাতীয় সুরক্ষার যে দোহাই দেওয়া হয়েছে, তার সপক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ পেশ করতে পারেনি পুলিশ। আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে পর্যবেক্ষণ করে যে, রাজ্য প্রশাসন অপরাধের তদন্তের দোহাই দিয়ে বেআইনি বন্দিদশাকে প্রশ্রয় দিয়েছে, যা মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশে আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যে ওই দুই বোনকে যৌথভাবে ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এই অর্থের অর্ধেক দেবেন তাদের বাবা এবং বাকি অর্ধেক মেটাবে উত্তরপ্রদেশ সরকার। আগামী ৭ দিনের মধ্যে দুই বোনের পাসপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, পরিচয়পত্র, ব্যাংক পাসবুকসহ সমস্ত ব্যক্তিগত নথিপত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের বাবাকে। ওই দুই নারী সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে যেখানে খুশি, যার সাথে খুশি বসবাস করতে পারবেন। তাদের স্বাধীনতা বা চলাফেরায় কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করা যাবে না। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারকে তাদের উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। আদালত চূড়ান্ত রায়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর অভিভাবকত্বের দোহাই দিয়ে তাদের স্বাধীনতা খর্ব করার অধিকার সংবিধান কোনো বাবা-মাকেই দেয় না। আনন্দবাজার।

পতনের মুখে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ দুই শহর
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনেৎস্ক অঞ্চলের ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্ক এলাকায় বৃদ্ধি পাওয়া রুশ সামরিক চাপের মুখে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কিয়েভের মধ্যে। জার্মানির প্রভাবশালী দ্যুতিমান সংবাদপত্র ‘বিল্ড’ এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রামাতোরস্ক অঞ্চলে যদি রাশিয়া সফল হয়, তবে তা হবে গত কয়েক বছরের মধ্যে ইউক্রেনের জন্য অন্যতম বড় সামরিক ও রাজনৈতিক ধাক্কা। বিল্ড-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফ্রন্টলাইনের পরিস্থিতি দিন দিন ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিকূলে যাচ্ছে এবং যুদ্ধের ময়দান ক্রমশ তাদের মূল অবস্থানের কাছে চলে আসছে। গত ৭ আগস্ট ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মিখাইল দ্রাপাতোর সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও পরিস্থিতির জটিলতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, দনেৎস্কের কিয়েভ-নিয়ন্ত্রিত স্লোভিয়ানস্ক এলাকায় ইউক্রেনীয় সেনা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং তারা উক্ত অঞ্চল প্রতিরক্ষায় শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, জুলাইয়ের শুরুর দিকে রুশ বাহিনী দনেৎস্কের কৌশলগত শহর কনস্টান্টিনোভকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমানে রুশ সেনারা স্লোভিয়ানস্ক-ক্রামাতোরস্ক শিল্পাঞ্চল এবং দোব্রোপোলিয়া অভিমুখে তাদের অগ্রযাত্রা বজায় রেখেছে। এদিকে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি কারখানায় রাতভর জোরালো হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির রাজধানী কিয়েভের কাছে চালানো এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভ-১১ ‘ফায়ার পয়েন্ট’ কারখানায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই কেন্দ্রটিতেই ইউক্রেন তাদের বহুল আলোচিত দূরপাল্লার ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন উন্নত সামরিক সরঞ্জাম তৈরি ও সংস্কার করছিল। কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, কিয়েভ প্রদেশের ব্রোভারি জেলায় রাশিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আবাসিক ভবন, যানবাহন ও বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুন ধরে যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একাধিক বিস্ফোরণ ও কালো ধোঁয়ার কুন্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে। হামলার পাশাপাশি কিয়েভের একটি মূল জ্বালানি ডিপোয়ও আঘাত হানার দাবি করেছে মস্কো। রাশিয়ার দাবি, এই ডিপোটি থেকে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীকে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে, ভালোসিভস্কি জেলার দুটি গ্যারেজ ও একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ওবোলনস্কি জেলার একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের আগুন নেভাতে কাজ করেছেন দমকলকর্মীরা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তারা গত রাতে আকাশসীমায় ইউক্রেনের ৩৯৭টি ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং ওদেসার পূর্বে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামবাহী ইউক্রেনের দুটি মালবাহী জাহাজে আঘাত হেনেছে। বর্তমানে ইউক্রেনীয় বাহিনী মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক (ইন্টারসেপ্টর) সংকটে ভুগছে। এই সুযোগে কিয়েভকে লক্ষ করে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে মস্কো। চলতি সপ্তাহের শুরুতে কিয়েভে এক হামলায় ১৭ জন নিহত হন, যেখানে প্রতিরক্ষার অভাবে রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্রও আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত জুলাই মাসে রাশিয়া থেকে ছোড়া ১৯৫টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ইউক্রেন মাত্র ২৯টি ইন্টারসেপ্ট করতে পেরেছিল। দ্য টেলিগ্রাফ, তাস।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তার এক সহযোগী জানিয়েছেন, তাকে দুই দিন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি তুনকু নাশরুল আবাইদাহ এক বিবৃতিতে জানান, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একটি দল আনোয়ারের বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। তবে কী ধরনের পরীক্ষা বা চিকিৎসা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিবৃতিতে আনোয়ারের সুস্বাস্থ্য ও দ্রুত স্বাভাবিক দায়িত্বে ফেরার জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, চিকিৎসা চলাকালে তার ‘প্রিয় ভাই’ আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও নির্বিঘ্ন সুস্থতা কামনা করছেন তিনি। আনোয়ার ইব্রাহিম গত সোমবার ৭৯ বছর বয়সে পা দিয়েছেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে আনোয়ারের কাঁধ ও পিঠের ব্যথার সমস্যা বারবার দেখা দিয়েছে। ২০১৮ সালে কাঁধ ও পিঠের ব্যথার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বরেও পিঠের ব্যথার কারণে পাহাং রাজ্যে একটি সফর বাতিল করেছিলেন তিনি। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে সুস্থ বলে জানিয়েছিলেন। দ্য ডন।

কানাডা থেকে হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিক বহিষ্কার
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই তিন হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে কানাডা। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে ৩ হাজার ৩২৩ জন ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের মোট বিতাড়নের প্রায় ৮৮ শতাংশ। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) তথ্য বলছে, অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় কানাডা থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বের করে দেওয়ার হার এখন সর্বোচ্চ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ২৭৩ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে, সেখানে কানাডায় এই সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি। বিগত পাঁচ বছর ধরে এই তালিকায় মেক্সিকো শীর্ষে থাকলেও চলতি বছরের প্রথমার্ধেই মেক্সিকানদের (১,৫৭৩ জন) পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ভারতের নাম। সিবিএসএর হিসাব মতে, বর্তমানে আরও ৭ হাজার ৬৬৯ জন ভারতীয় নাগরিক চূড়ান্তভাবে কানাডা ছাড়ার আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। কানাডার সীমান্ত কর্তৃপক্ষ জানায়, মূলত ভিসা জালিয়াতি, অবৈধ অবস্থান, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার কারণে তাদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরেও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মী কোটা কমিয়ে আনার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওটাওয়া, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিপুলসংখ্যক ভারতীয়দের ওপর। সিবিএসএর নিয়ম অনুযায়ী, আদেশের পর স্বেচ্ছায় দেশ না ছাড়লে স্থায়ীভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ডিপোর্টেশন অর্ডার জারি করে জোরপূর্বক বের করে দিচ্ছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। সিবিএসএ।

দারুল উলুম দেওবন্দের নিচে ‘শিবলিঙ্গ’ থাকার দাবি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের
উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার বিখ্যাত ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘দারুল উলুম দেওবন্দে’ আগামী ১১ আগস্ট প্রবেশ করে ‘গঙ্গা জল’ ঢালার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে চরমপন্থী সংগঠন ‘হিন্দু রক্ষা দল’। সংগঠনটির দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই মাদরাসা প্রাঙ্গণের নিচে একটি ‘শিবলিঙ্গ’ রয়েছে। গত শনিবার (৮ আগস্ট) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হিন্দু রক্ষা দলের উত্তরাখণ্ড রাজ্য সভাপতি ললিত শর্মা এই ঘোষণা দেন। হিন্দুত্ববাদী ললিত শর্মা জানান, সংগঠনের জাতীয় সভাপতি পিংকি চৌধুরীর নেতৃত্বে সদস্যরা হরিদ্বার থেকে ‘গঙ্গা জল’ নিয়ে দেওবন্দের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সংগঠনটির দাবি, দারুল উলুম দেওবন্দের আঙিনার নিচে একটি শিব মন্দির বা শিবলিঙ্গ বিদ্যমান। তবে এই দাবির কোনো নিরপেক্ষ সত্যতা বা স্বাধীন প্রমাণ এখনো মেলেনি। শর্মা দাবি করেন, তারা এর আগে সাহারানপুর প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ‘প্রশাসন পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা নিজেরাই সেখানে গিয়ে গঙ্গা জল অর্পণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,’ বলেন তিনি। উত্তরপ্রদেশে সম্প্রতি বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইতিহাস ও পরিচয় নিয়ে চলতে থাকা ধারাবাহিক বিতর্কের মধ্যেই এই নতুন ঘোষণার বিষয়টি সামনে এলো। দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষা করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেওবন্দের সার্কেল অফিসার (সিও) অমিত কুমার সিং জানান, কাউকেই আইনশৃঙ্খলা অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না। ‘কাউকেই শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অনুমতি দেওয়া হবে না। পরিবেশ ঘোলাটে করার কোনো চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ বলেন সিও অমিত কুমার সিং। হিন্দুত্ববাদীদের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুলিশ মাদরাসার আশপাশের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলায় অবস্থিত। এর আগেও সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাঁওয়াড় যাত্রীদের ব্যবহৃত পথ এড়িয়ে চলার জন্য নিজেদের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। হিন্দু রক্ষা দলের এই সফর ঘিরে এলাকায় থমথমে ভাব ও সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। উল্লেখ্য, দারুল উলুম দেওবন্দের নিচে শিবলিঙ্গ থাকার অভিযোগটি কেবলই হিন্দু রক্ষা দলের একটি দাবি; এখন পর্যন্ত কোনো আদালত বা সরকারি তদন্তে এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। সিয়াসত ডেইলি।

ছাত্র আন্দোলনে আবারো উত্তাল ভারত
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক সংস্কার, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং বিতর্কিত ওয়ান টাইম রেজিস্ট্রেশন (ওটিআর) ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে মিজোরামের রাজধানী আইজলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (এমপিএসসি) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন মিজো জিরলাই পলের (এমপিজেড) সদস্যরা। গত সোমবার (১০ আগস্ট) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীরা এমপিএসসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মকর্তাদের ও কর্মীদের কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কর্মকর্তারা কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে কয়েকজন বিক্ষোভকারীর ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তবে সামগ্রিকভাবে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। এমপিজেডের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বারবার প্রশাসনিক দুর্বলতা ও ত্রুটি দেখা দেওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে কমিশনের প্রতি আস্থা কমেছে। বিশেষ করে ওটিআর ব্যবস্থাকে ঘিরে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। বিক্ষোভকারীরা এমপিএসসির কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি কমিশনের কার্যক্রম আরো দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বর্তমান ওটিআর ব্যবস্থা বাতিল করে প্রয়োজন ও পদভিত্তিক পৃথক আবেদনপত্র চালুর দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ওটিআর-এ প্রয়োজনীয় নথি আপলোড অসম্পূর্ণ থাকায় যেসব প্রার্থীর আবেদন বাতিল হয়েছে, তাদের জন্য একবারের মতো অফলাইনে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এমপিজেড। বিশেষ করে যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নথি যাচাইয়ের সময় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন, তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ, কার্যকর ও প্রার্থীবান্ধব করতে এমপিএসসি-এর প্রশাসনিক কাঠামো এবং আবেদন পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি। এনডিটিভি।

উত্তাল সাগরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক গড়ল চীন
উত্তাল সাগর, গভীর জল আর প্রতিকূল আবহাওয়া- এসব বাধা পেরিয়ে এবার সমুদ্র বশে এনে জলের বুকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক গড়ল চীন। দক্ষিণ চীন সাগরে তৈরি হলো বিশ্বের প্রথম ১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ভাসমান বায়ু বিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্ম ‘হাইইউ আনলান’। চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন-সিএনওওসি জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মটি লুফেং তেলক্ষেত্রের বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরাসরি সরবরাহ করছে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ। সাবমেরিন কেবলে করে সেই বিদ্যুৎ পৌঁছে যাচ্ছে তেলক্ষেত্রে। বছরে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে এই প্ল্যাটফর্মের। উত্তাল ও গভীর সমুদ্রে যেখানে টিকে থাকাই কষ্ট, সেখানে ভাসমান বায়ুবিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্মের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে চীনের তৈরি বিশেষ ভাসমান কাঠামো। ‘হাইইউ আনলান’-এ ব্যবহার করা হয়েছে হালকা নকশা। প্রচলিত সেমি-সাবমার্সিবল প্ল্যাটফর্মের তুলনায় এতে ইস্পাতের ব্যবহার কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। প্রায় ৭ হাজার ৮০০ টন ওজনের প্ল্যাটফর্মটি পার্ল রিভার মাউথ বেসিনের উপকূল থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দূরে। প্ল্যাটফর্মটির উচ্চতা প্রায় ১১০ তলা ভবনের সমান। আছে বিশাল উইন্ড টারবাইন ব্লেড, যা সাড়ে সাতটি ফুটবল মাঠের সমান। চায়না অফশোর অয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ইয়াং সিয়াওলং জানান, ‘হাইয়ু আনলান’ বিশ্বের প্রথম বায়ুশক্তি প্ল্যাটফর্ম, যা কিনা পুরোপুরি ইস্পাতের কেবল এবং আধুনিক প্রযুক্তির মিশেলে তৈরি। আটটি ডিজাইন সলিউশন আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ করেছে এটি, যা টেনশন-লেগ মুরিং সিস্টেমের নির্ভুল প্রযুক্তির শূন্যস্থান পূরণ করেছে। মোট ৭০ হাজার মিটারেরও বেশি ওয়েল্ডিং হয়েছে এতে। এর ফার্স্ট-পাস ওয়েল্ডিং কোয়ালিফিকেশন রেট ৯৯ শতাংশেরও বেশি।’ এ প্রকল্পে বছরে প্রায় ১৫ হাজার ঘনমিটার জ্বালানি তেল সাশ্রয় হবে। কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমবে প্রায় ৩৫ হাজার টন। সিএমজি।

এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা ১৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ২০ ডলার। এর আগে গত সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। ওই দিন ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বাড়ে। এর ফলে ৩১ জুলাইয়ের পর তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি বা সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তাই তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয় রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতার আগে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে এনেছেন। তার এমন অবস্থানের ফলে দুই দেশের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে যুদ্ধ ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে তেলের বাজারেও অস্থিরতা বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা না হলে হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে চালু হতে আরও সময় লাগতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি দাম আরও ওঠানামা করতে পারে। আল-জাজিরা।

সৌদি যুবরাজ-জেলেনস্কির ফোনালাপে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফোনালাপে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ড্রোন চুক্তির বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, সৌদি যুবরাজের সঙ্গে তার ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে। এ সময় মোহাম্মদ বিন সালমান তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক চুক্তিগুলোর বিষয়ও তুলে ধরেন। এসব চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন ও সৌদি আরবের মধ্যে হওয়া ড্রোন চুক্তি বাস্তবায়নে অদূর ভবিষ্যতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়েও তারা আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আসছে। একই সময়ে সৌদি আরবও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করছে। ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে ড্রোন চুক্তিটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে গত মার্চে ইউক্রেন ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নতুন ফোনালাপে ওই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় ড্রোন চুক্তি বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আল-জাজিরা।

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়া
কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সিএনএন সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। গত সোমবার (১০ আগস্ট) আঘাত হানা ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কালি, পেরেইরা, কিবদো ও মানিজালেস। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামায়ও ভূমিকম্পটির কম্পন অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি পরাঘাত অনুভূত হয়। এতে উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, কালিতে অন্তত ২০টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিক ধসে পড়েছে। আরও প্রায় ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সিএনএন।

সিরিয়ার কাছে তারতুস বন্দরের বাণিজ্যিক অংশ হস্তান্তর রাশিয়ার
সিরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর তারতুস বন্দরের বাণিজ্যিক অংশ সিরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে মস্কো। সিরিয়ার বন্দর ও শুল্ক সংক্রান্ত সাধারণ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, ধারাবাহিক আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা অর্জিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তারতুস বন্দরে এতদিন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪ নম্বর বার্থ, পার্শ্ববর্তী গুদামঘর (ওয়্যারহাউস) এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামোগুলো এখন থেকে সিরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মস্কো ও দামেস্কের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সিরিয়ায় অবস্থিত রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিগুলোকে যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে। বর্তমানে সিরিয়ায় রাশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো রয়েছেÑ তারতুস বন্দর শহরের নৌঘাঁটি লজিস্টিক সেন্টার এবং লাতাকিয়া প্রদেশের জাবলেহ শহরের কাছে অবস্থিত হেমেইমিম বিমানঘাঁটি। সিরিয়ায় এসব সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানান, দামেস্ক সিরিয়া ভূখণ্ডে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবং নতুন লক্ষ্যের আলোকে এসব ঘাঁটিকে অন্য কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে পুনর্গঠিত করা হতে পারে। তাস।

পশ্চিম তীরে সাংবাদিকদের ওপর এক মাসে ১০৮ হামলা ইসরাইলের
অধিকৃত পশ্চিমতীরে গত জুলাই মাসে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ১০৮টি হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন এসব ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এক বিবৃতিতে ইউনিয়নের ফ্রিডমস কমিটি জানায়, এসব ঘটনার মধ্যে ছিল সাংবাদিকদের আটক, মারধর, জিজ্ঞাসাবাদ, সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং ক্যামেরা ও অন্যান্য সংবাদ সরঞ্জাম জব্দ বা নষ্ট করা। কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার জন্য ঘটনাস্থল থেকে ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার খবর সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বেশি ঘটেছে স্বল্প সময়ের জন্য আটক ও সংবাদ সংগ্রহে বিধিনিষেধ। এ ধরনের ৫৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের ১১টি হামলার ঘটনা পাওয়া গেছে। এসব হামলার মধ্যে ছিল মারধর, ধাক্কা দেওয়া ও হুমকি। অধিকাংশ ঘটনা ঘটে সাংবাদিকেরা পশ্চিমতীরের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের খবর সংগ্রহ করার সময়। ইসরাইলি বাহিনী সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে স্টান গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার ১২টি ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে কমিটি। এতে কয়েকজন সাংবাদিক শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। এছাড়া ছয় সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। গাজায় চলমান পরিস্থিতির খবর সংগ্রহের সময় তাদের মধ্যে চারজন রক্তাক্ত আহত হন, যার মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গোলার টুকরার আঘাত লাগে। আরও দুই সাংবাদিককে আটক এবং চারজনকে তাদের সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের বাড়ি বা গণমাধ্যম কার্যালয়ে চারটি অভিযান চালানোর ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনটি ঘটনায় সংবাদ সরঞ্জাম জব্দ বা নষ্ট করা হয়েছে, দুই ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়া হয়েছে এবং আল-আকসা মসজিদের আশপাশ থেকে দুই সাংবাদিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংবাদিকদের ‘হুমকি, হামলা ও হয়রানি থেকে মুক্ত হয়ে’ কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এসব হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা। জুলাইয়ের এসব ঘটনা সাংবাদিকদের জন্য ইতোমধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে বিবেচিত একটি সময়ের সঙ্গে আরও যুক্ত হলো। আল-জাজিরা।

 

গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সূচির দাবি হামাসের
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাপন্থী সংগঠন হামাস। একইসঙ্গে চুক্তিতে উল্লেখিত ১৫টি শর্ত দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। গত রোববার (৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়ন এখন সবচেয়ে জরুরি। এসব শর্তের মধ্যে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, সীমান্ত খুলে দেওয়া, পর্যাপ্ত ত্রাণ ও আশ্রয়সামগ্রী প্রবেশের সুযোগ এবং উপত্যকার পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার বিষয় রয়েছে। চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছে হামাস। গাজা পরিচালনা ও সেখানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সমন্বয়ে এই কমিটি কাজ করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে হামাস আরও বলেছে, গাজার মানুষের দুর্ভোগ বন্ধ করা এবং তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো উদ্যোগে তারা ইতিবাচক ও দায়িত্বশীলভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে বলেছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। তিনি গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নে সময়সূচি নির্ধারণের হামাসের দাবি এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং পরবর্তী ধাপের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। শাফাক নিউজ।

কসোভোর পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ করে ডিম নিক্ষেপ
কসোভোর পার্লামেন্টে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (৮ আগস্ট) পার্লামেন্ট অভিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশৃঙ্খলার মুখে পার্লামেন্ট স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পার্লামেন্টে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি। এ সময় রক্ষণশীল বিরোধীদল ‘অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার অব কসোভোর (এএকে) আইনপ্রণেতা টাইমা কাদরিজাই দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে থাকেন। এরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর দিকে এক ডিম ছুড়ে মারেন। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী কুর্তি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার মূল্য যদি এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া হয়, তবে তিনি সেই মূল্য দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। অবশ্য কসোভোর সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। কুর্তির নেতৃত্বাধীন বামপন্থি ‘ভেতেভেনদোসজে’ (ভিভি) দল অতীতে সংসদে একাধিকবার হট্টগোল ও বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছে। ২০১৮ সালে দলটির সদস্যরা অধিবেশন কক্ষের ভেতরেই কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালেও সংসদের ভেতর একই ধরনের নজিরবিহীন প্রতিবাদ ঘটেছিল। এপি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান