ভারী বর্ষণ পাহাড়ি ঢলে ডুবেছে চট্টগ্রাম

পাঁচ জেলায় প্রাণহানি ৫৬


১৫ জুলাই ২০২৬ ১৩:৫৫

পানিবন্দীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ জামায়াতের
মুহাম্মদ ইমরান সোহেল, চট্টগ্রাম : প্রবল ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায়। জেলাগুলো হলো- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। মৌলভীবাজার জেলাসহ এসব জেলায় বন্যা ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আট লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জন মানুষ। যাদের অধিকাংশের বাড়িঘর ডুবে গেছে। এছাড়া সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারে আঘাত হেনেছে বন্যা। বিপর্যস্ত এ অঞ্চলে পানিবন্দী মানুষদের মাঝে ব্যাপক ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা।
গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্যা ও পাহাড় ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৩১ জন, চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙ্গামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন ও খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন। কী ব্যবস্থা নিয়েছিল প্রশাসন।
বন্যার এমন পরিস্থিতি কেন
বন্যা ও পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ভয়াবহ বিপর্যয়ের মূল কারণ ৪৩ বছরের রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বৃষ্টিপাত, উজান থেকে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢল এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়া। পাশাপাশি বাড়িঘর ডুবে গেলেও আশ্রয়কেন্দ্রে না যাওয়ায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেকে। আবার অধিকাংশ মানুষ পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করলেও আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি। প্রশাসন বারবার অনুরোধ কিংবা মাইকিং করলেও সাড়া দেননি। এ অবস্থায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপও নেয়নি প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরাতে আইনি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা; যার ফলে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া বন্যা এত বেশি প্রাণঘাতী ও বিধ্বংসী হয়ে ওঠার আরেকটি কারণ রেকর্ড ভাঙা অতিভারী বৃষ্টিপাত। ৪৩ বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে একদিনেই সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর সঙ্গে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা যুক্ত হয়। ভারতের ত্রিপুরা ও সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল এবং দেশের ভেতরের পাহাড় থেকে উজান থেকে নেমে আসা পানি তীব্র গতিতে সমতলে ধেয়ে আসে। সাঙ্গু, ডলু ও শঙ্খ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলাকে মুহূর্তেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এতে কারো কারো মৃত্যু হয়, আবার অনেকে আহত হন।
উলুছড়ি গ্রামের বাজার ও বেশকিছু বাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে যায়। পাশাপাশি অতিভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে অন্তত ৯৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের পাদদেশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ও অবৈধ বসতিগুলো মাটির নিচে চাপা পড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটিখাল ও নালা দখল আরেকটি কারণ। দশকের পর দশক ধরে চলা অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবৈধ দখলের কারণে প্রাকৃতিক খাল ও পানি নিষ্কাশন নালাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প নেওয়া সত্ত্বেও সমন্বিত নগর পরিকল্পনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা জানান, হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও শহরের পানি দ্রুত সরতে না পেরে দীর্ঘস্থায়ী কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকাজের সমন্বয়হীনতা ছিল। পাহাড়ি এবং অত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় অনেক বন্যাকবলিত স্থানে উদ্ধারকারী দল সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। স্থানীয় সরকার কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগ মুহূর্তে মাঠপর্যায়ে দ্রুত সাড়া দেওয়া ও সমন্বয় করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
বন্যার পানিতে ডুবে গেছে বাড়িঘর
জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আট লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জন মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার মানুষ। এই জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছয় লাখ ৬২ হাজার। কক্সবাজারে এক লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, রাঙামাটিতে তিন হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন এবং বান্দরবানে আট হাজার ৩৫০ জন।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৬৭০টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ৪৭টি, খাগড়াছড়িতে ১৫০টি এবং বান্দরবানে ২২০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় ২২ হাজার ৬০০ জন, কক্সবাজারে দুই হাজার ৯৭৪ জন, রাঙামাটিতে তিন হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়িতে দুই হাজার ৯১৬ জন এবং বান্দরবানে চার হাজার ৭৪৫ জন।
দুর্দিনে জনগণের পাশে দাঁড়ানো রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয় – ডা. শফিকুর রহমান এমপি
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম মহানগরী, জেলার বাঁশখালী ও সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
গত ১০ জুলাই শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছে তিনি বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।
পরিদর্শন শেষে ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষ যেন তাদের ন্যায্য অধিকার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সে বিষয়ে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা এবং দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের দুর্দিনে রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো জনগণের পাশে দাঁড়ানো। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতের মতো এবারও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে এদিন সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমিত সামর্থ্যানুযায়ী আমরা এই বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াব। বিশেষ করে নিহতদের পরিবারের কাছে আমরা পৌঁছাব। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দলের সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে আমরা পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করছি।’
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহাজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রামক-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এবং ডাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান প্রমুখ।
চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেয়াল ধসে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণজনিত পাহাড় ধস ও দেয়াল ধসে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গত ১০ জুলাই শুক্রবার তিনি রহমান নগরে দেয়াল ধসে নিহত শফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের হাতে এবং চশমাহিল ৩ নম্বর রোডে পাহাড় ধসে নিহত সুমাইয়া আক্তার (১২)-এর পরিবারের হাতে এই আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
এ সময় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের ঈমানি দায়িত্বও। জামায়াতে ইসলামী সবসময় অসহায়, দুর্গত ও বিপন্ন মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণভাবে ঠেকানো সম্ভব না হলেও পরিকল্পিত নগরায়ণ, পাহাড় কাটা বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি অপসারণ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সময়োপযোগী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রাণহানি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’
চান্দগাঁওয়ে জামায়াত আমীরের ত্রাণ বিতরণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গত ১০ জুলাই শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকবাজার এলাকায় অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত নারী-পুরুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন।
নগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও চান্দগাঁও থানা আমীর মুহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ নেতারা।
পাঁচলাইশে রান্না করা খাবার বিতরণ
টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়া চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানার অন্তর্গত ৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের পানিবন্দী মানুষের মাঝে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে গত গত ১১ জুলাই শনিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী এসব খাবার বিতরণ করেন।
খাবার বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, বায়েজিদ থানা জামায়াতের আমীর মাওলানা জাকির হোসাইন, ৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ নুরুল আলম, জামায়াত নেতা জাফর আহমদ, আরিফ মইনুদ্দিন নয়ন, নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহত পরিবারগুলোয় জামায়াতের ত্রাণ বিতরণ
বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে ভয়াবহ পাহাড় ধসে নিহত দুই পরিবারের স্বজনদের মাঝে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
গত ১৩ জুলাই সোমবার সকাল ১০টায় বান্দরবানের লামায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলা আমীর এম এস আব্দুচ ছালাম আজাদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পাহাড় ধসে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। নিহতরা হলেন মো. ইউনুস (৪০), তাঁর স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান।
এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে একই ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় আরেকটি পাহাড় ধসের ঘটনায় মাটি ও ঘরের দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫) নিহত হন। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা তাদের লাশ উদ্ধার করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষা এবং মানবিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় অসহায়, দুর্গত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরাপদ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।