আলোকে তিমিরে

জুলাই বিপ্লবের আলোকে জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে


৮ জুলাই ২০২৬ ২০:২৩

॥ মাহবুবুল হক ॥
মায়ের বুক খালি করা বিপ্লবই ছিল ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব। এর সাথে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো আন্দোলন বা অভ্যুত্থানের সাজুয্যতা নির্ণয় করা ঠিক হবে না। শাহাদাতবরণ বা জীবন উৎসর্গ করার সর্বাত্মক প্রেরণা আমাদের দেশের আর কোনো আন্দোলন বা সংগ্রামে দৃশ্যমান ছিল না। এছাড়া এ দুটি বিপ্লবে ছিল রাষ্ট্রচিন্তা। রাষ্ট্রের খোলনলচে পাল্টানো। তাৎক্ষণিক বা সাময়িক কোনো পরিবর্তনের বিষয় ছিল না। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, দুটি বিপ্লবের মধ্যে অনেক সামঞ্জস্য রয়েছে। শুরুটা হয়েছিল টানেলের একপাশে খণ্ডিত বিষয় নিয়ে। শেষটা হয়েছে রাষ্ট্রের সামগ্রিক পরিবর্তন নিয়ে। ১৯৭১ ছিল স্বায়ত্তশাসনকে কেন্দ্র করে আর ২০২৪ ছিল বৈষম্য ঘিরে। দুটিই অর্থনৈতিক বিষয়। জীবন ধারণের বিষয়। নিরাপত্তার বিষয়। দুটিই আবার দুটি দেশের বিরুদ্ধে। ১৯৭১ ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। ২০২৪ ছিল প্রচ্ছন্ন, পরবর্তীতে প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীরা গবেষণা করে এবং বাস্তব পরিস্থিতি অবলোকন করে উপলব্ধি করেছে, কারা জীবনের বাঁকে বাঁকে বৈষম্য সৃষ্টির জন্য দায়ী। দেখা গেল প্রতিবেশী দেশ ভারত।
শুধু তাই নয়, বিজয় লাভ করার পর দেখা গেছে, ১৯৭১-এর বিজয় যে হালে দিক ফিরিয়েছে; ২০২৪-এর বিজয়ও তাকে অনুসরণ করেছে। তবে ১৯৭১-এর বিজয় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হলেও ২০২৪-এর বিজয়কে এখনো ব্যর্থ বলা যাবে না। কারণ এর মাটির প্রদীপগুলো এখনো জ¦লার চেষ্টা করছে। নির্বাচনটি তাড়াহুড়া করে না করলে হয়তো ব্যর্থতার প্রসঙ্গটি এত হুট করে আমাদের মনে আসত না। জুলাই সনদ ও গণভোট যদি বর্তমান সরকার শুরুতেই মেনে নিতো, তাহলে আমরা বিজয়ের দিকে ধাবিত হতে পারতাম।
১৯৭১ ও ২০২৪-এর মধ্যে একটা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তফাৎ ছিল। যেটা না বললেই নয়। ১৯৭১-এর উপলব্ধিটা বড়দের। অর্থাৎ রাজনীতিবিদ ও প্রতিবেশী দেশের। আর ২০২৪-এর উপলব্ধিটা কিশোর থেকে শুরু করে যুবক, শিক্ষার্থীদের।
আরো স্বাতন্ত্র্য আছে ২০২৪-এর। পূর্বে ছাত্র-জনতা বলতে বোঝাত পুরুষ ছাত্র ও জনতাকে। আর ২০২৪-এর শিক্ষার্থী বলতে শুধু পুরুষদের বোঝানো হয়নি। বোঝানো হয়েছে আমাদের কন্যা-জায়া-জননীদের। ২০২৪-এর ক্ষেত্রে বড়দের উপলব্ধি ও অংশগ্রহণ ছিল ধীরলয়ে। বড়দের মধ্যে এই বিপ্লব নিয়ে ঐকমত্য ছিল না, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল। এ ব্যাপারে এগিয়ে ছিল দেশের ডান ও মধ্যমপন্থীরা। বাম ও সেক্যুলারদের মধ্যে প্রচণ্ড দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল। এমনকি যে দলটি ২০২৪-এর বিপ্লবের কারণে এখন ক্ষমতায় আসীন, সেই বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও সিনিয়র কর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভুল বোঝাবুঝি ছিল। বরং ধন্যবাদ দিতে হয় ছাত্রদলের শিক্ষার্থীদের। যারা ২০২৪-এর বিপ্লবের বিষয়টিকে বিপুলভাবে অনুধাবন করতে পেরেছিল। কিন্তু তারাও ডান ও মধ্যমপন্থী শিক্ষার্থীদের মতো জীবনবাজি রেখে বিপ্লব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। বিএনপির দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও ছাত্রদলের কারা এই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছে, সেই বিষয়টি আজ উল্লেখ করা দরকার। স্পষ্টতই দেখা গেছে, ছাত্রদলের ডান ও মধ্যমপন্থীরাই ২০২৪-এর বিপ্লবে জীবনবাজি রেখে অংশগ্রহণ করেছে। অনেকে শাহাদাতও বরণ করেছেন। প্রথমদিকে এই জীবনদান ও বিপ্লবে অংশগ্রহণকে বিএনপি মূল্যায়ন করতে পারেনি। এখন তারা মূল্যায়ন করছে। সংসদেও তারা এ বিষয়টি উল্লেখ করছে। এই উল্লেখ হয়তো বিপ্লবকে পজিটিভ দিকে নিয়ে যেতে পারে। ছাত্রদলের যারা ২০২৪-এর বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের উচিত হবে এ বিষয়ে বড়দের মধ্যে পজিটিভ চাপ সৃষ্টি করা।
এখানে যে বিষয়টিকে আমরা উচ্চকিত করতে চেয়েছিলাম, তা হলো- ২০২৪-এর বিপ্লবে মেয়ে শিক্ষার্থী ও নারীদের বিপুলভাবে অংশগ্রহণের কথা। ডান ও মধ্যমপন্থীরা এ বিষয়টিকে আমাদের রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো অনুমোদন করেছে এবং প্রণোদনা জুগিয়েছে। ইসলামের স্বর্ণযুগেও নারীদের এ ধরনের উপস্থিতি দৃশ্যমান ছিল। বিষয়টি নতুন নয়। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে সেবা-শুশ্রুষা করার নিমিত্তে নবীপত্নীগণও যুদ্ধের ময়দানে অংশগ্রহণ করেছিল।
বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকার ভালো-মন্দ মিলিয়ে যা কিছু করার চেষ্টা করেছে তা হলো- জুলাই বিপ্লব শুধু স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ করার নয়, বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্যকে জাজ¦ল্যমান করা। অর্থাৎ তারা চায়নি পুরোনো রাষ্ট্রকাঠামো আবার ফিরে আসুক। পুরোনো ধ্যান-ধারণা পুনরায় কামিয়াব হোক।
এ উদ্দেশ্যে তারা রাষ্ট্রকাঠামো বাস্তবতার নিরিখে সমুজ্জ্বল করার জন্য বেশ কয়েকটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করেছিল। বলতে গেলে শিক্ষা ছাড়া বাকি সবগুলো ছিল দেশ ও জাতির জন্য অনিবার্য বাস্তবতা। শিক্ষা কমিশন গঠন করার কোনো উদ্যোগ তারা নেয়নি। কারণ এর ক্যানভাসটি ছিল অনেক অনেক বড়। তাদের ওপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার ব্যাপক চাপ ছিল বিএনপি পরোক্ষভাবে পতিত সরকারের দল ও তাদের নেতাকর্মী এবং ভারতসহ গোটা দুনিয়ার সেক্যুলার গোষ্ঠীর। বিএনপি চায়নি অন্তর্বর্তী সরকার কোনো ধরনের কোনো সংস্কারে হাত দিক। তারা শুধু চেয়েছিল একটি কোনোরকমের ‘জাতীয় নির্বাচন’। সংস্কারের বিষয়গুলো চলমান থাকা অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায় এবং একজন উপদেষ্টার বয়ান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারই বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে। বিরোধী জোট দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলার দিকে বিশেষভাবে নজর দেয়ায় নির্বাচনের বিষয়টিকে তেমনভাবে আর উচ্চকিত করেনি।
ক্ষমতায় এসেই বিএনপি জুলাই সনদকে যেনতেনভাবে গ্রহণ করলেও গণভোটকে অবৈধ বলে ঘোষণা দেয়। যদিও বিএনপির নেতৃবৃন্দ গণভোট স্বীকার করে নিয়েছিলেন এবং গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়ার জন্য দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, বিএনপির অভ্যন্তরে ২০২৪-এর বিপ্লব নিয়ে যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল, তা কখনো বাড়ছে আবার কখনো কমছে। এই বাড়া ও কমার মধ্যে বোঝা যায় এক দল রয়েছে ভারত ও পতিত সরকারপন্থী। আরেক দল রয়েছে ২০২৪-এর বিপ্লবপন্থী। এই ‘ট্যাগ অব ওয়ার’ কখন থামবে, তা এখনো দৃশ্যত অনুমান করা যাচ্ছে না। যত তাড়াতাড়ি এই রশি টানাটানি শেষ হয়, ততই দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করেন।
এদিকে ২০২৪-এর মূল ‘স্টেকহোল্ডার’ ১১ দলীয় জোট অর্থাৎ ২০২৪-এর ‘বিপ্লবী জোট’ সংসদ শুরু হওয়ার পর থেকে এক ধরনের ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করার দুর্দান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা বলছে, ‘লেট আস এগ্রি টু ডিফার’ আবার কোনো কোনো সময় বলছে, ‘লেট আস এগ্রি টু ডিজ এগ্রি’। শুরু থেকেই তারা বলছে, আমরা পূর্বের মতো বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করবো না। সরকারের ভালো কাজকে আমরা সমর্থন করবো। মন্দ কাজকে আমরা সমর্থন করবো না। সরকারকে আমরা অনুরোধ করবো দেশবিরোধী, জাতিবিরোধী, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী এবং ২০২৪-এর বিপ্লববিরোধী সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে। সকল ভালো কাজকে আমরা শুধু সমর্থন করবো না, সহায়তা করবো, সহযোগিতা করবো। শুরু থেকে বিরোধীদলের তথা বিরোধী জোটের নেতা ডা. শফিকুর রহমান একই ধরনের কথা বলে আসছেন। শুধু বলে আসা নয়, তিনি তার বলায় আচার-আচরণে এবং বিনয়ের মাধ্যমে তার কথাকে কাজের মাধ্যমে বারবার প্রমাণিত করছেন। বাংলাদেশের সংসদ ইতিহাসে এটি একটি অনন্য ও অনুপম দৃষ্টান্ত। পূর্বে ব্রিটিশদের সংসদে বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দ যে ধরনের কথা বলতেন, যে ধরনের রুচি ও মনন উপস্থাপন করতেন, বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা সে ধরনের কথা ও কাজ পেশ করছেন। এতে সরকারি দল ও বিরোধীদল বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিবর্তে অনেক কাছাকাছি এসে গেছে। এই বিষয়টি দেশে-বিদেশে প্রচুর প্রশংসা ইতোমধ্যেই অর্জন করেছে। যতই দিন যাচ্ছে, বিরোধীদল ততই যেন সরকারি দলের খুব কাছাকাছি এসে যাচ্ছে। স্পিকারগণ অনেকটা সুবিচার করছেন। তারা পূর্বের মতো একতরফাভাবে সরকারি সদস্যদের উচ্চকিত করছেন না। সবার সঙ্গে সমতা বিধান করার চেষ্টা করছেন। তাদেরও সবাই সুবিচারক, ন্যায় বিচারক ও ন্যায়পরায়ণ বলে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছেন। বাইরে যে যাই বলুক, সংসদে এখন আর কারো পক্ষেই অসাংবিধানিক, অরুচিকর, অশ্লীল ও নোংরা কথা বলার অবকাশ কেউ পাচ্ছে না।
বিরোধীদলের কোনো সদস্য কোনো উপযুক্ত কথা, ন্যায্য কথা, কল্যাণধর্মী কথা ও মঙ্গলজনক কথা বলতে থাকলে স্পিকারগণ মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন এবং প্রয়োজনে সদস্য আরো একটু বাড়তি সময় চাওয়ার পূর্বেই স্পিকারগণ বলেন, আপনার আর কয় মিনিট সময় লাগবে। এ কথা বলার সাথে সাথেই এখন সদস্যগণ সতর্ক ও সাবধান হয়ে যান, আর কথা বাড়াতে চান না। এমনকি সরকারের সদস্যগণ এখন সংসদে বিরোধীদলের কোনো সদস্য যদি শাশ্বত কথা, চিরন্তন কথা, ভালো কথা, শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেন, তখন তারাও টেবিল চাপড়িয়ে বক্ষমান সদস্যকে অভিনন্দন জানান, উল্লাস প্রকাশ করেন। বিষয়টি ধীরে ধীরে কনভেনশনে পরিণত হতে যাচ্ছে। সব ভালো কথা সবার জন্য বা সব দলের জন্য সবসময় গ্রণযোগ্য নাও হতে পারে। কিন্তু আমরা দেখছি উভয়ের ক্ষেত্রে সমর্থন উচ্চকিত হচ্ছে। এটা বিশেষভাবে ভালো একটি গুণ। এই গুণের চর্চা ও পরিচর্যা হতে থাকলে অচিরেই একটা সফিস্টিকেটেড সংসদ মহান আল্লাহর রহমতে ইনশাআল্লাহ গড়ে উঠবে। এটা বিশেষভাবে বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের একটি সোনালি উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে শুধু সংসদ নয়, দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা আন্তরিকভাবে সমর্থন করছেন।
সংসদে পূর্বে সংরক্ষিত ও নির্বাচিত নারী আসনে সদস্যগণ খুব বেশি একটা কথাবার্তা বলতেন না। প্রয়োজনে শুধু টেবিল চাপড়াতেন। এখন তো সরকারি সদস্যদের তুলনায় বিরোধীদলের নারী সদস্যগণ ‘এ্যাটলেন্থ’ বক্তৃতা করছেন। কথা বলছেন, সবাই বিমোহিত হয়ে নারী সদস্যদের মূল্যবান ও যথাযোগ্য উপস্থাপনা শুনছেন। এতে পরশ্রীকাতর হয়ে একজন দাড়ি-টুপিওয়ালা বৃদ্ধ সরকারি সদস্য নারী সদস্যদের পোশাক-আশাক; বিশেষ করে বোরকা-হিজাব-নেকাব ইত্যাদি বিষয়ে অশোভন উক্তি করে বাহবা নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিরোধীদলের নারী সদস্যসহ পুরুষ সদস্যদের সুরুচিপূর্ণ যৌক্তিক কথাবার্তায় বিষয়টি আর বেশি বাড়েনি। সবাই সমঝোতায় পৌঁছেছেন, মিটমাটের দিকে এগিয়েছেন। বড় কোনো অসুবিধা হয়নি।
সংসদ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরোধীদল একবার মাত্র সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। এটাও একটা অনেক বড় ঘটনা। এর মধ্যে বাজেট সেশনসহ প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর মন্তব্যজনিত স্পর্শকাতর অনেক বিষয় এসেছে, বিরোধীদলের বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকারি দল মেজরিটির কারণে তাদের বিল পাস করে নিয়েছে। কোনো অসুবিধা হয়নি। যার যতটুকু ক্ষমতা, সে যদি এভাবে ক্ষমতার ব্যবহার করতে থাকে তাহলে এই সংসদ নিয়ে এই সরকার এগিয়ে যেতে পারবে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পূর্বে বিএনপি যখন দুবার বিরোধীদলে অবস্থান করেছিল, তখন তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করত। পরবর্তীতে সংসদও বর্জন করেছিল। সেই সংস্কৃতি থেকে সংসদ এবার মুক্ত হয়েছে। সংসদ সজীব, সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকছে, এর চেয়ে বড় বিষয় আর আমাদের জন্য কী হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তার পিতার অনুসরণে এবার পূর্ব দিগন্তে পাখা মেলেছিলেন। স্মরণ করা যেতে পারে যে, সার্কের পর তিনি পূর্ব দিগন্তে আশিয়ানসহ সকল জোটের সাথে সম্মিলন ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন। সবাই ভেবেছিল বিদেশ ভ্রমণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতের মেহমান হবেন বা ইউরোপীয় কোনো দেশের মেহমান হবেন। কিন্তু তা তিনি হননি। তিনি মেহমান হয়েছিলেন মালয়েশিয়া এবং চায়নার। এই দুই দেশের সাথে প্রধানমন্ত্রী অনেকগুলো চুক্তি করেছেন। বিরোধীদলের নেতা প্রারম্ভে পূর্ব দিগন্তের গমন করায় সংসদে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং একটি অত্যন্ত রাষ্ট্রিক বিষয় সামনে এনেছেন, যা কেউ কখনো সংসদে উপস্থাপন করেননি। বিষয়টি হলো সরকারের কোনো কিছু গোপন করা যাবে না। বিদেশের সাথে গঠিত সকল চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। দেশবাসীকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে- সরকার কোন দেশের সাথে কী চুক্তি করছে। এই বিষয়টিও সংসদসহ দেশে-বিদেশে বিপুলভাবে সমর্থিত হয়।
এখন রয়ে গেল ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোট কার্যকর করা। ইতোমধ্যে নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের যে মুসলিমদের ওপর হত্যা থেকে শুরু করে মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানাসহ যে অমানবিক, অনৈতিক, নির্মম, নিষ্ঠুর কর্মযজ্ঞ ভারত সরকার শুরু করেছে এবং মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশ করার অতীতের অপকর্ম পুনরায় অব্যাহত রেখেছে, তাতে তো বাংলাদেশকে আপন মেরুদণ্ডে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতেই হবে। ভারত একটি সাম্প্রদায়িক দেশ, তারা যা চাইবে, তা তো আর করতে দেয়া যাবে না। দেশকে বাঁচাতে হবে। দেশবাসীকে বাঁচাতে হবে। ২০২৪ সালের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সকল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী ভারতবর্ষকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ২০২৪ সালে সংঘটিত রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লব সে সময় যেমন দেশ ও জাতিকে নাড়া দিয়েছিল, তেমনিভাবে জাতির জাগরণের ভিত্তিমূলে জুলাই বিপ্লবের দীক্ষা কাজে লাগাতে হবে। কেননা শুধুমাত্র জুলাই বিপ্লবের আলোকে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে পারলে আধিপত্যবাদী সকল কূটচাল ও চক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন হবে এবং আমরা জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো।