সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৮ জুলাই ২০২৬ ২০:১৭
চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ দেয়া যাবে না ইসরাইলকে : এরদোগান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বা চুক্তিকে ইসরাইল যাতে কোনোভাবেই ‘ডিনামাইট’ মেরে উড়িয়ে বা নস্যাৎ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। ইস্তাম্বুল শহরে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সভায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা এবং অবদান ছাড়া তৈরি হওয়া কোনো সমাধানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। প্রেসিডেন্ট এরদোগান অভিযোগ করেন যে ইসরাইলি প্রশাসন ক্রমাগত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান ইসরাইল সরকারকে যুদ্ধ-আসক্ত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ-আসক্ত ইসরাইলি সরকারকে আমাদের ভূগোলকে আবারও বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।’ তুর্কি নেতা এর আগেও একাধিকবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা নস্যাৎ করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি গাজা, লেবানন এবং সিরিয়ায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চালানো অনবরত হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। গত সপ্তাহে কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কাতারেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলগুলোর মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা স্মারকের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের একটি রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী জানিয়েছেন যে এই চুক্তির যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন বা শর্ত ভঙ্গের ঘটনা সরাসরি জানাতে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি বিশেষ ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ বা মাধ্যম প্রতিষ্ঠা করবে। অবশ্য এই সমঝোতার শর্তের ব্যাখ্যা নিয়ে গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর পাল্টা সামরিক হামলা চালিয়েছিল। আল-জাজিরা।
ভারতে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে বাছুর পূজা করতে বাধ্য করে ‘গো-রক্ষক’ সন্ত্রাসীরা
উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলায় একদল ‘গো-রক্ষক’ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে এক মুসলিম যুবককে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে মারধর এবং জোরপূর্বক একটি বাছুরের সামনে হাঁটু গেড়ে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। গরুকে নিয়ে ওই যুবক আপত্তিকর মন্তব্য করেছেনÑ এমন অভিযোগ তুলেই এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) ‘সনাতন গো-রক্ষা দল’ নামক একটি সংগঠনের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন লোক ওই যুবককে ঘিরে ধরেছে। ওই যুবক বারবার ক্ষমা চাওয়ার চেষ্টা করলেও তারা তাকে অনবরত মারধর করতে থাকে। অভিযুক্তরা মুসলিম যুবককে তার বাবাকে ফোন করতে বাধ্য করে এবং ফোনেও গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। এরপর তাকে টেনে-হিঁচড়ে একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে একটি বাছুরের সামনে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে, বাছুরের পা স্পর্শ করতে এবং ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। কীভাবে পশুর সামনে ‘সাষ্টাঙ্গে প্রণাম’ করতে হয়, তাও তাকে জোর করে শেখানো হয়। সংগঠনটি তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আক্রান্ত যুবক ও তার সহযোগীদের ‘জিহাদি’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং তারা ‘রক্তের হোলি’ খেলার হুমকি দিচ্ছিল বলেও দাবি করেছে। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ অনলাইনে সক্রিয় হয়ে ব্যবহারকারীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চায় এবং সংশ্লিষ্ট থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেয়। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বারাবাঁকির পুলিশ সুপারের (এসপি) জনসংযোগ কর্মকর্তা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, তারা এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অথচ এর আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে অনলাইনে ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল। পুলিশের এমন দ্বিমুখী ভূমিকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৈয়দ নাসির হুসাইন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। তিনি একে গভীর উদ্বেগজনক ও চরম অবমাননাকর বলে আখ্যায়িত করেন। নাসির হুসাইন বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং মানুষের মর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত। স্বঘোষিত রক্ষকদের এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং নাগরিকদের হেনস্তা করা রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের আইনের শাসনের চরম ব্যর্থতাকে নির্দেশ করে।’ তিনি উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ডন।
পাকিস্তান ও তুরস্ক একই আত্মার দুটি হৃদয় : শাহবাজ শরীফ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, তুরস্কের সাফল্যই পাকিস্তানের সাফল্য। গত শনিবার (৪ জুলাই) ইস্তাম্বুলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পাকিস্তান ও তুরস্ক একই আত্মার দুটি হৃদয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুই দেশের বিশেষ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। শাহবাজ শরীফ বলেন, ‘তুরস্কের সফলতাই পাকিস্তানের সফলতা। পাকিস্তানের অগ্রগতিই তুরস্কের অগ্রগতি।’ তিনি বলেন, ইস্তাম্বুলে আসতে সব সময়ই তার ভালো লাগে। তিনি উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ধন্যবাদ জানান। তুরস্কের বিখ্যাত কবি ইউনুস এমরের কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘বন্ধুর জন্য হৃদয়ই সবচেয়ে ভালো ঘর।’ তার মতে, এই কথাটিই পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্পর্ককে সবচেয়ে সুন্দরভাবে তুলে ধরে। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের বন্ধুত্ব বহু শতাব্দীর ইতিহাস, অভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস, পারস্পরিক ত্যাগ এবং ভ্রাতৃত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। শাহবাজ শরীফ বলেন, কঠিন সময়ে- যেমন যুদ্ধ, ভূমিকম্প বা বন্যার সময়- তুরস্ক সবসময় পাকিস্তানের পাশে থেকেছে। ‘এ কারণেই আমরা বলি, পাকিস্তান ও তুরস্ক দুটি দেশ হলেও এক আত্মার দুটি হৃদয়।’ দুই নেতার মধ্যে খুবই ফলপ্রসূ ও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ছে। তারা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনের উপায় নিয়েও আলোচনা করেছেন। এছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিষয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন দেওয়ার জন্য তিনি তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দুই দেশই বিশ্বাস করে যে বিরোধ মেটাতে এবং বিশ্বে শান্তি বজায় রাখতে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সম্মানই সবচেয়ে কার্যকর পথ। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় পাকিস্তানকে সমর্থন দেওয়ার জন্যও তিনি তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান। সব শেষে তিনি সুফি কবি রুমির একটি উক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘প্রদীপ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আলো এক।’ তাঁর মতে, পাকিস্তান ও তুরস্কের মানুষ একই বিশ্বাস, মানবতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অটুট ভ্রাতৃত্বের আলোয় একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে। আনাদোলু এজেন্সি।
সুদবিহীন তহবিলের মামলা করা মুসলিম আইনজীবী এখন বিচারক
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম লস অ্যাঞ্জেলস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক হিসেবে মুসলিম আইনজীবী হ্যারিস এম সৈয়দকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগের পর যুক্তরাষ্ট্রে বিচারব্যবস্থায় ধর্মীয় বৈচিত্র্য, শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক নীতি এবং বিচার বিভাগের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। হ্যারিস এম সৈয়দ এর আগে লস অ্যাঞ্জেলস কাউন্টির বিরুদ্ধে একটি মামলা করে আলোচনায় আসেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সরকারি অবসরকালীন তহবিলের বিনিয়োগ পুরোপুরি সুদভিত্তিক হওয়ায় তা তার ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এজন্য তিনি শরিয়াহসম্মত বা সুদবিহীন বিনিয়োগের বিকল্প ব্যবস্থা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। তার দাবি ছিল, ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য এমন বিকল্প থাকা উচিত। এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (ঈঅওজ)। সংগঠনটির লস অ্যাঞ্জেলস শাখা হ্যারিস এম সৈয়দকে একজন দক্ষ, সৎ এবং অভিজ্ঞ আমেরিকান মুসলিম আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করে তার নিয়োগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে কয়েকটি রক্ষণশীল ও ডানপন্থী গোষ্ঠী এই নিয়োগের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, সরকারি তহবিলে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের দাবি জানানো একজন আইনজীবীর বিচারক হওয়া ভবিষ্যতে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তারা ২০২৪ সালে সিএআইআরের নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদের একটি বক্তব্যেরও উল্লেখ করেছেন, যেখানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের আইন, সাংবাদিকতা ও নীতিনির্ধারণী খাতে এগিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। রক্ষণশীল ভাষ্যকারদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, এ ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের মতে, হ্যারিস এম সৈয়দের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে তার পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বিচার বিভাগে বিভিন্ন ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সামাজিক পটভূমির মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক মূল্যবোধের অংশ এবং এটি বিচারব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলে। এই নিয়োগকে ঘিরে মতপার্থক্য থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের বৈচিত্র্য এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিতর্ক ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। এপি।
দুই দশক পর গাজায় হামাসের বিস্ময়কর ঘোষণা
গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ দুই দশকের বেসামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিজেদের গভর্নিং বডি বা শাসন কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। গত ৬ জুলাই সোমবার সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অবরুদ্ধ উপত্যকায় বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে আনতে এবং একটি ‘টেকনোক্র্যাট’ (কারিগরি ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের) কমিটির হাতে শাসনভার তুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত ইসরাইলের আগ্রাসন ও গণহত্যামূলক যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যে রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে গাজা উপত্যকায় বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনার জন্য ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)-এর পথ সুগম করা হলো। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গাজার গভর্নিং ইমার্জেন্সি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা ইতোমধ্যেই তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং সরকারি প্রশাসনিক রূপান্তর প্রক্রিয়াকে সহজ করতে এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, হামাস গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর সমস্ত অজুহাত ধূলিসাৎ করা, যারা গাজায় অবিরাম গণহত্যা ও আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। তিনি আরও যোগ করেন, হামাস গাজার শাসনভার দ্রুত এনসিএজির কাছে হস্তান্তর করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাসের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এর মানে এই নয় যে হামাস গাজা থেকে তাদের রাজনৈতিক বা সামরিক অবস্থান সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিচ্ছে। বরং তারা চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে সরাসরি বেসামরিক শাসন থেকে নিজেদের একধাপ পেছনে সরিয়ে নিল। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর, ২০০৭ সাল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহ গ্রুপকে হটিয়ে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে গাজা উপত্যকা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ ও শাসন করে আসছিল হামাস। এনসিএজির প্রধান আলী শাথ হামাসের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সম্পদ নিশ্চিত হওয়ামাত্রই তারা গাজার জাতীয় দায়িত্ব বুঝে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আল-জাজিরা।
সুপার এল নিনোর আঘাতে এশিয়ার খাদ্য সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা
একটি ‘সুপার’ এল নিনো শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এশিয়াজুড়ে কৃষকরা দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ, খরা এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা কোকো, ধান, চিনি ও পাম তেলসহ বিভিন্ন ফসলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মাসের শুরুতে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে এই জলবায়ুগত ঘটনাটি গঠিত হতে শুরু করে, যেখানে সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৪.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে কৃষি উৎপাদন ও আঞ্চলিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সঙ্কটের সম্মুখীন হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, এ বছরের এল নিনো ১৯৫০ সালের পর থেকে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস অনুমান করেছে, এটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এই ঘটনাটি এশিয়াজুড়ে কৃষি উৎপাদন কমাতে, পানির সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। একইসঙ্গে সরকারগুলো খরা মোকাবিলা পরিকল্পনা, জলাধার ব্যবস্থাপনা এবং ফসল সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ুজনিত চরম আবহাওয়া আগামী ফসল উৎপাদন মৌসুমজুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে, যার প্রভাব ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের লাখো মানুষের ওপর পড়বে। এতে খাদ্য সরবরাহ, বাজারের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো চীন
প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে সফলভাবে নতুন একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে চীন। এই সামরিক পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগেই বেইজিং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে তাদের এই পূর্বপরিকল্পিত অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছিল। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির দেওয়া বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে যে বেইজিংয়ের একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে একটি ডামি বা নকল যুদ্ধাস্ত্রসহ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে নিক্ষেপ করা হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা বেজে ১ মিনিটে চালানো এই অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক জলসীমায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম পরীক্ষার পর এটি বেইজিংয়ের দ্বিতীয় কোনো কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের বড় পরীক্ষা। এর আগে ১৯৮০ সালের পর চীন আর কখনো মহাসাগরের এই অংশে এমন কোনো পরীক্ষা চালায়নি। চীন সরকার অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং জাপানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে যে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পরমাণু বহনে সক্ষম একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আসন্ন উৎক্ষেপণের বিষয়ে আঞ্চলিক সরকারগুলোকে আগেই বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সিনহুয়ার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি মূলত চীনা সামরিক বাহিনীর একটি নিয়মিত বার্ষিক প্রশিক্ষণ অনুশীলনের অংশ, যার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেভাগেই অবহিত করা হয়েছিল। এই পরীক্ষাটি সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক রীতিনীতি মেনে পরিচালনা করা হয়েছে এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি বলে বেইজিং দাবি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের তথ্যানুযায়ী সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা স্টারবোর্ড কিছু কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে যে চীন বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের দুটি স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং বা উপগ্রহ নজরদারি জাহাজ মোতায়েন করে রেখেছে। এ বিশেষ জাহাজগুলো মূলত পরীক্ষামূলক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের গতিবিধি ও তথ্য পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। জাপানের কিয়োডো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে টোকিওকেও এই পরীক্ষার বিষয়ে আগে থেকে জানানো হয়েছিল। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনাটি পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্বিবেচনা করার জন্য বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জাপানি প্রশাসন এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আনাদোলু এজেন্সি।
এবার লিবিয়ায় শান্তি ফেরানোর পথে পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করার পর পাকিস্তান এখন উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতা কেন্দ্রের মধ্যে গোপনে এই শান্তি আলোচনা চালানো হচ্ছে। লিবিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়ায় সফল হলে বিশ্বদরবারে পাকিস্তানের কূটনৈতিক মর্যাদা ও প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের জেরে লিবিয়া মূলত পূর্ব ও পশ্চিম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলা এই বিভাজন দূর করতে সম্প্রতি আমেরিকার নেতৃত্বে একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনে ইসলামাবাদের ভূমিকার প্রশংসা করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিবিয়ায় পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার বিষয়ে পুরোপুরি অবগত এবং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এনডিটিভি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান