৮ জুলাই ২০২৬ ২০:১৩
॥ অধ্যাপক আতাউর রাহমান নাদভী ॥
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পতন ও চরমপন্থী আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান ঘটেছে, যা ইসলামপন্থীদের অস্তিত্বকে সবচেয়ে বড় হুমকির মুখ থেকে রক্ষা করে ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সাধারণত স্বৈরাচারী আচরণকে ‘ফ্যাসিবাদ’ বলা হলেও, এর প্রকৃত অর্থ মানবজাতির টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে বড় সংকট। শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামল ছিল এর বাস্তব উদাহরণ। সেখানে তথাকথিত জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশপ্রেমের আড়ালে জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কাল্পনিক অদৃশ্য শত্রু ও ইসলামপন্থীদের ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ নাম দিয়ে গুম, খুন ও ইসলামী সাহিত্য রাখার অপরাধে কারাদণ্ডকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। এছাড়া জাতীয় প্রতীক ও স্লোগানকে অন্ধ ‘আওয়ামীকরণে’ রূপ দেওয়া হয়। ফ্যাসিবাদের এই ভয়াবহ জুলুমের রূপ এবং ইসলামপন্থীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের চিত্র অনুধাবন করলে ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আর কোনো সন্দেহ থাকে না।
ফ্যাসিবাদের জ¦লন্ত উদাহরণ : ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হলেও ৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশে এর সঠিক অর্থ সাধারণ মানুষের কাছে অপরিচিত ছিল। অনেকেই সামরিক একনায়কতন্ত্র বা যেকোনো নিপীড়নমূলক ব্যবস্থাকেই ফ্যাসিবাদ মনে করতেন। কিন্তু ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়ে মানুষ বুঝতে পেরেছে যে, শেখ হাসিনার শাসনামলের বিপরীতে বিশ্বের অন্যান্য নিপীড়ন কিছুই ছিল না।
ফ্যাসিবাদের প্রকৃত রূপ হলো- এটি এমন এক ব্যবস্থা, যা মিডিয়াকে অপব্যবহার করে, ঘৃণা ও প্রতিশোধের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায় এবং জেল-জুলুমের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখে। মূলত ক্ষমতার আসনে চিরস্থায়ী হতে নিজ মতাদর্শের বিরোধীপক্ষ; বিশেষ করে ডানপন্থী, ইসলামপন্থী এবং আলেম-ওলামার ওপর অন্তহীন নিপীড়নের যে চক্র চালানো হয়েছিল, গত ১৬ বছর বাংলাদেশ ছিল তারই বাস্তব উদাহরণ।
আধুনিক যুগে ফ্যাসিবাদ : আধুনিক যুগে ফ্যাসিবাদের বিস্তার ঘটেছে নতুন আঙ্গিকে। ট্রাম্পের মার্কিন শাসন (২০১৭-২০২১) কিংবা ২০১৪ থেকে ভারতের মোদি সরকারের উগ্র ‘হিন্দুত্ববাদী’ শাসন এর অন্যতম উদাহরণ। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের (২০০৯-২০২৪) ফ্যাসিবাদের প্রভাব সবচেয়ে উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদের মূল উৎস মূলত স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত। ১৯৭১ সালের পর ভারত সরাসরি বাংলাদেশ দখল না করলেও সবসময় এমন অগণতান্ত্রিক শক্তিকে মদদ দিয়েছে, যা ভারতের পদলেহন করবে। শুধুমাত্র ভারতের স্বার্থে ফ্যাসিবাদের সকল রেকর্ড ভেঙে দমন-পীড়ন চালানো হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং ভারতবিরোধী মনোভাবাপন্ন জনগোষ্ঠী; বিশেষ করে ইসলামপন্থীদের সমূলে দমন করা।
ফ্যাসিবাদের হাসিনারূপ : বাংলাদেশে গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং আলেম-ওলামা। তার শাসনামলে ইসলামপন্থীদের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ে কুরআন, হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য পড়ার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী পুলিশ মানুষের বাড়িঘরে তল্লাশি চালিয়ে ইসলামী বইপত্র জব্দ করত। তাঁবেদার মিডিয়ার মাধ্যমে সেগুলোকে ‘জঙ্গি বই’ হিসেবে তকমা দিয়ে নিরপরাধ নারী-পুরুষকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হতো। ইসলামের ওপর এই নজিরবিহীন মনস্তাত্ত্বিক ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনই ছিল হাসিনার ফ্যাসিবাদের সবচেয়ে কলঙ্কজনক এবং নির্মম রূপ।
বই ছাড়া মানব সমাজ বোবা : ইসলামী সাহিত্যের বই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগার, ব্যক্তি, পরিবার ও জাতীয় জীবনের প্রগতি ও উন্নতির প্রধান চাবিকাঠি। মার্কিন ইতিহাসবিদ বারবারা টাচম্যান বইকে সভ্যতার বাহক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বই ছাড়া মানব ইতিহাস বোবা, সাহিত্য বধির, বিজ্ঞান খোঁড়া এবং মানব চিন্তা স্থবির। বইয়ের মাধ্যমেই আমরা যুগ যুগ ধরে পূর্বসূরিদের জ্ঞান ও অবদান সম্পর্কে জানতে পারছি।
বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো ধর্মীয় বই এবং সাহিত্যের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো ইসলামী সাহিত্য। এটি পাঠককে কেবল জ্ঞানই দেয় না, বরং তার চরিত্রে ভারসাম্য, শিথিলতা এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা তৈরি করে। আধুনিক মনস্তাত্ত্বিকরা ক্রমবর্ধমান মানসিক সমস্যা থেকে শিশুদের রক্ষা করতে এবং তাদের অকেজো কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে ধর্মীয় বই পড়াকে বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দিচ্ছেন। দুঃখ-বেদনার অন্ধকারে বই জীবনের আলোর রশ্মি হয়ে বেঁচে থাকার সঠিক পথ দেখায়।
বই বাছাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ঢাকা সাহিত্য ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি শহর। ১৯৭২ সালেল ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলেও ১৯৮৪ সাল থেকে এখানে প্রতি বছর বিপুল ব্যয়ে একুশে বইমেলার আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন। তবে ব্যক্তিগত অধ্যয়নের জন্য ‘বই বাছাই’ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা খুব কম পাঠকই বোঝেন। বই যেহেতু একজন প্রকৃত বন্ধুর ভূমিকা পালন করে, তাই বন্ধু নির্বাচনের মতোই ভালো বই বেছে নেওয়া জরুরি। একটি ভালো বই মানুষের নীতি-নৈতিকতা উন্নত করে; অন্যদিকে একটি মন্দ বা অশ্লীল বই পাঠকের নৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
দুর্ভাগ্যবশত বইমেলা কর্তৃপক্ষ এই সত্য অনুধাবনে ব্যর্থ। মেলায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা থাকলেও সেখানে ইসলামী সাহিত্যের স্থান সংকুচিত করা হয়েছে। অনেক সময় ইসলামী সাহিত্যকে ‘জঙ্গি বই’ তকমা দিয়ে লেখক ও প্রকাশকদের হয়রানি ও বঞ্চিত করা হয়েছে, যা ইসলামপন্থী লেখকদের নিরুৎসাহিত করছে। সরকার ও জনগণকে বুঝতে হবে, যে জাতির বই রচনা, প্রকাশ ও অধ্যয়ন থেমে যায়, সেই জাতির বিকাশও থমকে দাঁড়ায়। বই মানুষের জীবনযাত্রার মান ও বাকপটুতা বাড়ায়। আজকের বিশ্বের যাবতীয় অগ্রগতি এই পুঞ্জীভূত জ্ঞানের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। তাই উন্নত জাতি গঠনে বইয়ের সাথে সম্পর্ক মজবুত করতে হবে এবং সন্তানদের এই শ্রেষ্ঠ বন্ধুর সান্নিধ্যে আনতে হবে। কারণ ইসলামী সাহিত্যের মাধ্যমেই ইহকাল ও পরকালের প্রকৃত গন্তব্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
ইসলামী সাহিত্য চরিত্র গঠনের মূল উৎস
কুরআন-হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য জাতির চরিত্র গঠনের মূল উৎস। কিন্তু শেখ হাসিনার ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের সময় পারিবারিক লাইব্রেরি তো বটেই, জাতীয় গ্রন্থাগার, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকেও ইসলামী বইপত্রকে ‘জঙ্গি বই’ আখ্যা দিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়। এমনকি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (ওওটঈ)-এর সুবিশাল গ্রন্থাগার থেকেও রাতের অন্ধকারে এসব বই অপসারণ করা হয়, যার মধ্যে লেখকের নিজের কিছু বইও ছিল। ইসলামী সাহিত্যকে নিষিদ্ধের তালিকায় রাখলেও উম্মাহর লাখ লাখ টাকা অপচয় করে মুজিবের মুজিব, হাসিনা, আ’লীগ ও ফ্যাসিজমের বই জোরপূর্বক অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং লাইব্রেরিগুলোয় ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করা হয়।
যে দেশের শাসকরা সিংহাসন টিকিয়ে রাখাকে চরিত্র গঠনের চেয়ে বড় মনে করে। তাই ফ্যাসিবাদের খপ্পরে পড়ে মিডিয়া ও মিডিয়া-সৃষ্ট প্রোপাগান্ডা ইসলামী সাহিত্য পড়াকে জঙ্গি তৎপরতা হিসেবে প্রচার করে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেফতারের পথ সুগম করেছিল। মূলত অন্ধ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে প্রশাসন কুরআন-হাদীসকে জঙ্গি বই হিসেবে দেখানোর মূর্খতা দেখিয়েছে। ইতিহাসে একসময় অমুসলিমরা কুরআন ও ইসলামী জ্ঞানের শত্রু ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আজ মুসলিম দেশগুলোতেই শাসকেরা কুরআন-সুন্নাহ এবং আলেম-ওলামাকে চরম শত্রুতে পরিণত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, মিশরসহ সৌদি আরব বিশ্বের শত শত ইসলামিক স্কলারকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে বা ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের লিখিত বইগুলো লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ইসলামী সাহিত্য মিডিয়ার আক্রমণের শিকার
হাসিনার উচ্ছিষ্টভোগী ফ্যাসিবাদের দোসর মিডিয়াগুলো কুরআন-হাদীসের আলোকে রচিত ইসলামী সাহিত্যকে সকাল-সন্ধ্যা ‘জঙ্গি বই’ বলে অপপ্রচার চালিয়েছে। সাংবাদিকতার নামে কিছু ব্যক্তি স্বৈরাচারী শাসন ও ভারতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে এই জঘন্য মিথ্যাচারকে তাদের মূল লক্ষ্যে পরিণত করেছিল। তারা দেশ ও জাতির প্রগতির প্রতীক এবং চরিত্র গঠনের অলঙ্কার এই দীনি বইগুলোকে বস্তায় ভরে আদালতে জঙ্গি আলামত হিসেবে পেশ করেছে।
বিগত ১৬ বছর জেল-জুলুমের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে না পারলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা ব্যক্তিগত আলাপে এই অন্যায়ের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। অথচ একটি পরিচ্ছন্ন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামী সাহিত্য অত্যন্ত মূল্যবান হাতিয়ার। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম বদলালেও ইসলামী সাহিত্যের গুরুত্ব কমেনি। ফ্যাসিস্ট সরকার ও তাদের অনুগত মিডিয়া যতই অপপ্রচার করুক না কেন, ইসলামী সাহিত্যের চিরন্তন উপযোগিতা অক্ষুণ্ন রয়েছে।
ধর্মীয় বই সকল ফ্যাসিস্টের শত্রু
অতীতের বর্বর শাসক ও ত্রয়োদশ শতাব্দীর তাতারীরা বাগদাদ, কুফা, বসরা ও দামেস্কের শত শত লাইব্রেরি পুড়িয়ে লাখ লাখ মূল্যবান বই ধ্বংস করেছিল। কিন্তু এত অত্যাচার সত্ত্বেও জ্ঞান ও সত্যকে কখনো বন্দী করা যায়নি এবং কোনো ফ্যাসিস্টই লেখকদের দমন করতে পারেনি। ২০১০ সালে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে লেখকের নিজের ‘নারী এজেন্ডা’ বইটি নিষিদ্ধ হয়েছিল এবং সত্য লেখার কারণে অনেক চোখ রাঙানিও সহ্য করতে হয়েছে। তবে শত কষ্টের মাঝেও লেখকের হাত থেকে কলম পতন ঘটেনি। জালিম শাসকরা কখনো বোঝেনি যে, সত্যকে যতই দমন করার চেষ্টা করা হোক না কেন, তা আরও প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে ফিরে আসে।
বই পড়লে আকাশে ওড়ার ডানা খুঁজে পাবেন
পশ্চিমা দার্শনিক ক্যামডেন বলেছিলেন, একটি বইয়ের পাতা খোলার অর্থ হলো নিজের স্থান থেকে আকাশে ওড়ার ডানা খুঁজে পাওয়া। জ্ঞান ও সত্য সবসময় অন্ধকার শক্তির জন্য মৃত্যুর সমতুল্য। আর এই অপশক্তির টিকে থাকার একমাত্র উপায় হলো জনগণের অজ্ঞতা। এ কারণেই সব যুগের স্বৈরাচারী শাসকরা জনগণকে আলো থেকে দূরে রাখতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ধর্মীয় গ্রন্থ ও ইসলামী সাহিত্যকে ‘জঙ্গি বই’ হিসেবে চিত্রায়িত করে আসছে।
গ্লোবালাইজেশনের যুগেও সত্যকে আড়াল করার এই পুরোনো খেলা চলছে। স্বৈরশাসকরা মানুষকে বন্দি করতে পারে, আয়নাঘরে আটকে রাখতে পারে কিংবা ফাঁসি দিতে পারে, কিন্তু মানুষের চিন্তাশক্তি ও সত্যকে কখনো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। চিন্তার এই অদৃশ্য শক্তি সত্যান্বেষী মানুষের আত্মার গভীরে মজবুত শিকড় গড়ে তোলে। এই শিকড় যত বেশি কাটা হবে, তা মাটির গভীরে তত বেশি শক্তিশালী হয়ে ইতিহাস পরিবর্তনের ডাক দেবে।
পৃথিবীর সকল ধর্মেরই নিজস্ব গ্রন্থ রয়েছে : মানবজীবনে বইয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, পৃথিবীর প্রায় সকল ধর্মেরই নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ রয়েছে। বিশেষ করে আসমানী ধর্মগুলোর ধর্মগ্রন্থের কথা মহান আল্লাহ নিজেই উল্লেখ করেছেন এবং কিতাব নাজিলের এই ধারাবাহিকতা শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
দুঃখজনক হলেও সত্য, বইয়ের সাথে শত্রুতার ইতিহাসও অত্যন্ত পুরোনো। সাতচল্লিশ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জুলিয়াস সিজারের সেনাবাহিনী আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত গ্রন্থাগারের অধিকাংশ বই পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল। সেই প্রাচীন যুগে তথাকথিত ‘কুফর ও শিরকের’ অজুহাতে বই নষ্ট করা হয়েছিল, আর আধুনিক যুগে এসে নীতি-নৈতিকতা ও ধর্মীয় আদর্শ থাকার কারণে বইয়ের পাঠককে জেলের অন্ধকারে নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং বই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শক্তির এই বর্বরতার বিরুদ্ধে একজন মনীষীর উক্তি অত্যন্ত চমৎকার, তিনি বলেছিলেন, ‘প্রতিটি জ্বলন্ত বই পৃথিবীকে আলোকিত করে।’ অর্থাৎ, সত্য ও জ্ঞানকে পুড়িয়ে বা দমন করে কখনো শেষ করা যায় না। বাংলাদেশেও বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের সময় ইসলামী সাহিত্যের ওপর যে নির্মম দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল, গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পলায়নের পর তা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। সব বাধা পেরিয়ে ইসলামী সাহিত্য আবারও দেশের মানুষের মন ও চেতনাকে আলোকিত করতে শুরু করেছে।
ইসলামী সাহিত্য বিপ্লবের হাতিয়ার : ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ইসলামী সাহিত্য প্রতিটি যুগে গতিশীল ও জীবন্ত শক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং জালিমের ষড়যন্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে। এই সাহিত্য যেখানেই পৌঁছেছে, সেখানেই বিপ্লব ঘটিয়েছে। সম্ভবত এই কারণেই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার দীনি বইকে সবচেয়ে বেশি ভয় পেত। কারণ এগুলো ইসলামী বিপ্লবের কর্মী তৈরি করে। বিরোধী মতাদর্শের বই ধ্বংস করা এবং লেখকদের শায়েস্তা করা স্বৈরাচারীদের চিরন্তন চরিত্র।
পশ্চিমা মনীষী ড. ড্রেপার তাঁর ‘ধর্ম ও বিজ্ঞানের যুদ্ধ’ গ্রন্থে লিখেছেন, আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরির লাখ লাখ বই জুলিয়াস সিজারের আদেশে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। মধ্যযুগেও বই পুড়িয়ে খ্রিস্টান সাধুদের গল্প প্রতিস্থাপন করাকে পুণ্য মনে করা হতো। আমাদের যুগেও একই কায়দায় নীতি-নৈতিকতার বইগুলোকে ‘জঙ্গি বই’ নাম দিয়ে মানুষের মনে ভীতি তৈরি করা হয়েছে এবং স্কুলগুলোয় কাল্পনিক কিচ্ছা-কাহিনী ও মুজিবের গুণকীর্তনের বই জোরপূর্বক পড়ানো হয়েছে। অথচ মানব সৃষ্টির সূচনা থেকেই কিতাব বা বইয়ের যাত্রা শুরু। টাইগ্রিস, ইউফ্রেটিস বা নীল নদ উপত্যকার প্রাচীন সভ্যতা থেকে আজ পর্যন্ত বই পুড়িয়ে বা লেখককে বন্দী করে এর গুরুত্ব কখনো কমানো যায়নি।
বিংশ শতাব্দীতে জন্ম নেওয়া ‘ফ্যাসিবাদ’ হলো এমন এক উগ্র জাতীয়তাবাদ, যা একনায়কতন্ত্রের শক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষকে দমন ও নির্মূল করে। হিটলার-মুসোলিনির পর উপমহাদেশে হাসিনা এবং বিশ্বপরিমণ্ডলে ট্রাম্পকে ‘নব্য-ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে দীর্ঘ ১৬ বছর হাসিনা তাঁর একনায়কতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে বিরোধী চিন্তাধারা এবং বিশেষ করে ইসলামপন্থীদের সমূলে উৎপাটনের চেষ্টা করেছে। তারা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে অন্যদের ওপর দোষ চাপাত এবং মিডিয়া ও রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে চরম জুলুম চালিয়েছিল। ফ্যাসিবাদের এই ভয়াবহ রূপ ও এর বিরুদ্ধে ইসলামী সাহিত্যের বিপ্লবী ভূমিকা অনুধাবন করা প্রতিটি নাগরিকের জন্য অপরিহার্য।
০০০০
সংবাদপত্রের পাতা থেকে
দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনীতি, হাম পরিস্থিতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, সংবিধানের সংশোধনী, ১১ দলের কর্মসূচি, চলমান বিশ্বকাপ ফুটবল, ইরানের শহীদ প্রেসিডেন্ট খামেনির জানাজাসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে গুরুত্বের সাথে প্রতিবেদন করেছে দেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলো। আলোচিত খবরের চুম্বক অংশ থাকছে এ সংখ্যার আয়োজনে।
দৈনিক সমকাল পত্রিকা গত ৮ জুলাই বুধবার ‘হামের পরবর্তী জটিলতায় চোখের সমস্যায় রোগীরা’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরে দেশের হাম পরিস্থিতির বিবরণ ও রোগীদের ভোগান্তি তুলে ধরেছে। খবরটিতে বলা হয়, হাম-পরবর্তী গুরুতর জটিলতার একটি হচ্ছে চোখের সমস্যা। যথাসময়ে চিকিৎসা না নিলে স্থায়ী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। হামের ভাইরাস সরাসরি চোখের টিস্যুকে আক্রান্ত করতে পারে, আবার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে হামের শারীরিক উপসর্গ কমে যাওয়ার পর চোখে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কনজাংটিভাইটিস বা চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কর্নিয়ায় প্রদাহ এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্নিয়ায় ক্ষত বা আলসার।
‘৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি, বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন সমকাল লিখেছে, স্মরণকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টি দেখল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। আবহাওয়া অফিস তথ্য দিচ্ছে, ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি ঝরেছে ৩৯৪ মিলিমিটার! যা ১৯৮৩ সালের পর, অর্থাৎ ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। শঙ্কা থাকলেও এই তুমুল বৃষ্টিতে নগরের কোথাও পাহাড় ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে টানা বৃষ্টিতে বেশ ভুগছে মানুষ। ছন্দপতন ঘটেছে নগরজীবনে।
কালের কণ্ঠ পত্রিকা গত ৮ জুলাই ‘অক্টোবরে শুরু হচ্ছে ইউপি নির্বাচন’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছেপেছে। এতে বলা হয়, আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এবং ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে এ নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
গত ৮ জুলাই প্রথম আলো দেশের বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। ‘বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লেও ঘানা-উগান্ডার পেছনে দেশ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়,বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। অবশ্য বিদেশি বিনিয়োগ সব সময়ই কম পায় বাংলাদেশ। এমনকি তা আফ্রিকার দেশ উগান্ডা, ঘানা, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মতো ছোট অর্থনীতির দেশের থেকেও কম। বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), অর্থাৎ অর্থনীতির আকার হচ্ছে ৫০১ বিলিয়ন (১ বিলিয়ন সমান ১০০ কোটি) ডলার। বাংলাদেশের তুলনায় উগান্ডার অর্থনীতির আকার সাত ভাগের এক ভাগ। দেশটি গত বছর ৩ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে।
দৈনিক যুগান্তর ৮ জুলাই ‘দুদকের নেতৃত্ব নির্দিষ্ট শ্রেণির কাছে কুক্ষিগত’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্ব দুই দশক ধরে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির কাছে কুক্ষিগত। দুদক আইনে পাঁচটি পেশাগত শ্রেণির ব্যক্তিদের যোগ্য হিসাবে স্বীকৃতি দিলেও বাস্তবে নিয়োগ সীমাবদ্ধ থাকছে হাতে গোনা কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যেই। চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও শৃঙ্খলা বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরাই প্রায় একচেটিয়াভাবে দুদকের নেতৃত্বে এসেছেন। অথচ আইনে যোগ্য হিসেবে উল্লেখ থাকা আইন পেশা ও শিক্ষা খাত থেকে আজ পর্যন্ত একজনও চেয়ারম্যান বা কমিশনার নিয়োগ পাননি। আবার দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন কাজ করা ব্যক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, প্রকৌশলী, চিকিৎসক কিংবা অন্য কোনো পেশার ব্যক্তি যতই যোগ্য হোন না কেন, বর্তমান আইনে তাদের দুদকের নেতৃত্বে আসার সুযোগ নেই।
পত্রিকাটি ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আরেকটি বিপ্লবের হুঁশিয়ারি ১১ দলীয় ঐক্যের’ শিরোনামের একটি খবরে লিখেছে, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অবিলম্বে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্মারকলিপি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ ভবনে স্পিকারের কাছে ৫ দফা সংবলিত এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। পরে ন্যাম ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে জোটের শীর্ষ নেতারা বলেন, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংসদ চালানো হলে দেশ নতুন সংঘাতের দিকে যেতে পারে এবং প্রয়োজনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজপথে ‘আরেকটি বিপ্লব’ ঘটানো হবে।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা গত ৮ জুলাই ‘উত্তর-পূর্বঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস’ শিরোনামের খবরে বলেছে, দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগে আগামী কয়েক দিনে স্বল্পমেয়াদী ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আবহাওয়া সংস্থা এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নদী-সংলগ্ন নিছু এলাকা এবং নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উজানে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
দৈনিক নয়া দিগন্ত ‘চিকিৎসাব্যয় বাড়ায় শঙ্কা বিরোধীদলীয় নেতার’ শিরোনামের খবরে বলেছে প্রস্তাবিত নতুন একটি বিলের ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। একইসাথে একটি বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের নোটিশ যথাসময়ে না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় এক সংসদ সদস্য। গতকাল (৭ জুলাই মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তারা এ বিষয়ে কথা বলেন।
পত্রিকাটি একই দিন ‘পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করলে বাকশালে ফেরার ঝুঁকি’ শিরোনামের খবরে বলেছে, গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বেঞ্চে পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি চলাকালে জামায়াতের পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি অবস্থান তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। শুনানিতে তার সাথে ছিলেন আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল ওয়াদুদ ও জাহিদ বিন আমজাদ। অন্য দিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। মঙ্গলবার জামায়াত ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির শুনানি করেন, এর আগে মূল রিটকারী ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে শুনানি শেষ করেছিলেন আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য করেন।
চলমান বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে লিড নিউজ করেছে দৈনিক সংগ্রাম। গত ৮ জুলাই ‘শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা’ শিরোনামের খবরে লিখেছে, বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই স্নায়ুর চূড়ান্ত পরীক্ষা, আর আর্জেন্টিনা মানেই খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য রূপকথা। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ঠিক এমনই এক শ্বাসরুদ্ধকর রোমাঞ্চের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসের হতাশা আর ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার চরম বিপর্যয় কাটিয়ে, চার মিনিটের জাদুকরী ঝড় আর এনজো ফার্নান্দেজের শেষ মুহূর্তের গোলে মিসরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শেষ ষোলোর সর্বশেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে কমম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড। ওই ম্যাচের জয়ী দলই হবে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল প্রতিপক্ষ। ম্যাচটি শুরু হবে ১২ জুলাই রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়।
দৈনিক যুগান্তর গত ৭ জুলাই ‘অপচয়-অনিয়মের পাহাড়’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে লিখেছে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। দেশের প্রথম নদীতল টানেল হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় বলা হয়েছিল, এটি চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে এবং অর্থনীতিতে যোগ করবে নতুন গতি। কিন্তু এটি এখন আক্ষরিক অর্থেই শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছে। প্রকল্প চালুর পর প্রত্যাশিত যানবাহন চলাচল নিশ্চিত হয়নি। ফলে টোল আদায় দিয়ে পরিচালন ব্যয়ই মেটানো যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
দৈনিক কালের কণ্ঠ গত ৭ জুলাই ‘জনবল সংকট তীব্র সেবাদানে গতি ধীর’ শিরোনামের খবরে বলেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চলছে ভারপ্রাপ্ত বা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে প্রেষণের (ডেপুটেশন) পদগুলো শূন্য থাকায় একজন কর্মকর্তাকে একসঙ্গে দুই থেকে তিনটি বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে চলছে ধীরগতি। বিলম্বিত হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। নাগরিকরা দ্রুততম সময়ে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিএসসিসির তথ্যানুযায়ী, করপোরেশনের ১৬ বিভাগের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে বিগত কয়েকমাস ধরে চলা যুদ্ধের সাময়িক বিরতির পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নিয়ে দৈনিক প্রথম আলো গত ৬ জুলাই ‘লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় খামেনির জানাজা, ছিলেন তিন ছেলে, প্রেসিডেন্ট ও স্পিকার’ খবর প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার সকালে (স্থানীয় সময় ৮টা ও বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টা) লাখো মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন। ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, স্পিকারসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, দেশটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের জানাজায় ইমামতি করেছেন।
দৈনিক ইত্তেফাক গত ৪ জুলাই ‘এক যুগে ঝরে পড়েছে অর্ধেক শিক্ষার্থী’ শিরোনামের প্রতিবেদনে লিখেছে, নানা কারণে শিক্ষার বিভিন্ন স্তর থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত এক যুগে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাওয়ার ৩টি কারণ সামনে এনেছেন শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, বাল্যবিবাহের কারণে মেয়ে এবং শ্রমবাজারে ঢুকে পড়ায় ছেলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার অন্যতম বড় কারণ। আর্থিক অনটনে অনেক পরিবার খরচ মেটাতে না পেরে সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে কাজে (শিশুশ্রম) যুক্ত করেছে। করোনা মহামারির কারণে দেশে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে টানা ৫৪৩ দিন স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।
সম্পাদনা- আবু জায়েদ আনসারী