হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা স্ট্যান্টবাজি
২ জুলাই ২০২৬ ২১:৩৩
॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
খুন-গুম, দুর্নীতি, লুটপাট ও বিদেশে অর্থ পাচারে ফুঁসে ওঠা জনগণ যোগ দেয় জুলাই অভ্যুত্থানে। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলন যখন জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়, তখন বোন রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যান ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তিনি মাঝেমধ্যেই ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে সম্প্রতি দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে নিজের দেশে ফেরা, বাংলাদেশে তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরই দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন। দেশে ফেরা নিয়ে তার এই আগ্রহের বার্তায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা ঊচ্ছ্বাস তৈরি হলেও দেশবাসী বলছে হাস্যকর। দেশে ফেরা দূরে থাক, শেখ হাসিনা জীবিত আছেন কিনা, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের রাজনীতি এখন ইতিহাস। একজন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক বলছেন, হাসিনা মারা যাবেন জেলে অথবা নির্বাসনে, এর বাইরে তার জন্য অন্য কিছু নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ও রাজনীতিকরা হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা স্ট্যান্টবাজি বলে মনে করছেন।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, তার দেশে ফেরা ব্যক্তিগত উচ্চাকাক্সক্ষার বিষয় নয়; বরং বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তার ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছরই দেশে ফিরব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দেশটির রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলায়। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয় তাদের। সাক্ষাৎকালে হাসিনা তার দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চান। তিনি বলেন, এটা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি একটি ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা। ন্যায়বিচার কোনো দান-খয়রাত নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। কোনো নাগরিক, রাজনৈতিক নেতা বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যদি কোনো মামলা থাকে, তবে তা অবশ্যই একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং আইনসম্মত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল, সাজানো মামলা, ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা জোরপূর্বক জবানবন্দি কিংবা বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায় না।’ তবে সবসময়ই তিনি একটি ‘রাজনৈতিক সমাধানের’ পক্ষে দাবি করে হাসিনা বলেন, ‘সেই সমাধানকে উন্মুক্ত, নীতিভিত্তিক এবং জনগণের আকাক্সক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে; কোনো গোপন চুক্তির ভিত্তিতে নয়। আওয়ামী লীগ কারো কাছে রাজনৈতিক দয়া ভিক্ষা করে না। আওয়ামী লীগ তার সাংবিধানিক অধিকার, জনসমর্থন এবং জনগণের শক্তির ওপর ভিত্তি করেই রাজনীতি করবে।’
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই হাসিনার দেশে ফেরা ও দলের পক্ষে সাফাই গাওয়াকে পাগলের বচনও বলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যালেন আই-এর আউটপুট এডিটর আহসান কামরুল একটি ফাটো কার্ড পোস্ট করেছেন। ওই ফাটো কার্ডে তিনি শেখ হাসিনা বেঁেচ আছেন কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, দেশে আসার কথা পরে হবে, আপনি জীবিত থাকলে অন্তত একটি ভিডিওবার্তা দেন, আর না হয় ওপেন একটি প্রেস কনফারেন্স করেন। যাতে প্রমাণিত হয় যে আসলেই আপনি জীবিত আছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত। তাদের মতে, দেশে ফিরলে তাকে প্রথমেই বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। একইসঙ্গে অতীত শাসনামল নিয়ে দলটিকে জনগণের কাছে জবাবদিহিও করতে হবে। ফলে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ বলেই বেশি প্রতীয়মান হচ্ছে। সিনিয়র সাংবাদিক ও একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক মান্নান মারুফ মনে করেন, হাসিনা দেশে আসার কথা বলে কর্মীদের চাঙা রাখতে চান। মূলত শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের এদেশে রাজনীতি করার আর সুযোগ হবে না। মানুষ তাদের গ্রহণ করবে না। মনিরুল ইসলাম নামে একজন স্কুলশিক্ষকের ভাষ্য, দুর্নীতি ও নানা অপকর্মের কারণে হাসিনা ও শেখ পরিবারের সদস্যদের যে দেশ ছাড়তে হবে, তা আগেই জানতেন শেখ হাসিনা। আর জানতেন বলেই তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বেই পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে নিরাপদে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে নির্দেশনা দেন এবং সবাই ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। আর বেকায়দায় ও বিপদে পড়েন দেশে থাকা ত্যাগী নেতারা।
দেশে ফেরার ঘোষণা ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। গত ২৯ জুন সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনার যদি সত্যিই সাহস থাকে, তবে দেশে এসে জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার মোকাবিলা করা উচিত। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে জুলাই হত্যাযজ্ঞ-সংক্রান্ত ১০টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। এসব প্রতিবেদনে সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, আমির হোসেন আমু এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ বিভিন্ন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে বলে তিনি জানান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সৎ সাহস থাকলে ফিরে এসে বিচারের মুখোমুখি হোন
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবিকে তার স্বভাবসুলভ বাগাড়ম্বর এবং রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সৎ সাহস থাকলে অপরাধ স্বীকার করে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশে থেকে তিনি খুন করেছেন, গুম করেছেন। আয়নাঘর প্রতিষ্ঠা করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তিনি এখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে তিনি নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছেন। এখন যদি তিনি দেশে আসেন, তাহলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে তিনি নানা হুমকি দিচ্ছেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, হুমকি দিয়ে লাভ নেই। এদেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তারা ফ্যাসিবাদ চান না।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন- এ বছর শেখ হাসিনা ফিরে আসবেন, এমন কথার বাস্তবতা নেই। অনেক সময় রাজনীতিকরা নেতাকর্মীদের উৎসাহিত করতে এমন কথা বলেন থাকেন। হয়তো তিনি এ দৃষ্টিকোণ থেকেই বলেছেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রশ্ন তোলেন- আসলে শেখ হাসিনা এমন কথা বলেছিলেন কি না? তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে ফিরবেন, এসে মুক্তভাবে রাজনীতি করবেন- এমন পরিস্থিতির কোনো বাস্তবতা নেই। যদি তিনি আসেনও তাহলে তাকে জেলে থাকতে হবে। তিনি যদি ভেবে থাকেন তিনি এলে একটি গণজাগরণ তৈরি হবে, তাহলে এই ভাবনা ভুল। সাইফুল হক বলেন, হয়তো কোনো একসময় আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরবে, কবে ফিরবে, কীভাবে ফিরবে সেটি নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ নিজের ওপর। আমরা গত দুই বছরে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার কোনো কার্যক্রমে দেখিনি। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ গণহত্যা চালিয়েছে, এই হত্যার দায় স্বীকার করা, ক্ষমা চাওয়ার নজির তারা এখনো দেখাতে পারেনি। গত দুই বছর আওয়ামী লীগ এমন কিছুই করেনি যে জনগণ তাদের গ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগ যদি মনে করে, তারা দু-একটি ঝটিকা মিছিল করে চোরাগোপ্তা কায়দায় ফিরবে, সেটি পারবে না।
এ বিষয়ে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমি তো চাই তিনি আজকেই ফিরুন। প্রশ্ন হলো এ বছর কেন! তিনি আজকেই কেন ফিরছেন না? আমাদের জানতে ইচ্ছে করে, তিনি দিনে দুপুরে এভাবে পালিয়ে গেলেনই-বা কেন? আমরা তো চাইনি তিনি দেশত্যাগ করুন, আমরা তার অবৈধভাবে দখল করা ক্ষমতা ত্যাগ (পদত্যাগ) চেয়েছিলাম। যখন রাষ্ট্রক্ষমতা উনার দখলে ছিল, পুলিশ, আর্মি, বিজিবি, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের শক্তিশালী ধনশালী লাখ লাখ কর্মীবাহিনী ছিল উনার জন্য জান কুরবান। সেই সময়ে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। অথচ এখন তিনি ক্ষমতাচ্যুত, তিনি যাদেরকে নিশ্চিহ্ন নির্বংশ করতে চেয়েছিলেন তারা এখন ক্ষমতায়; এ অবস্থায় উনি দেশে ফিরবেন! সেটা বিশ্বাসযোগ্য না। অতীতেও উনার কথা ও কাজের মিল পাওয়া যায়নি, সুতরাং এখন তো মিল পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। সেজন্য উনার এই ঘোষণাকে আমি নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত রাখার একটা মিথ্যা আশ্বাস হিসেবে দেখি। উনার ভুল নীতি ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার কারণে বাংলাদেশ কঠিন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। তিনি এখনো নীতি পরিবর্তন করেননি, ফলে তার কথা বিশ্বাস করলে দেশে অস্থিতিশীলতা বাড়বে এবং দেশে নিরাপদে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতাকর্মী ভয়াবহ বিপদে পড়বে বলে আমার ধারণা।
মারা যাবেন জেলে অথবা নির্বাসনে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট হাসিনার চলতি বছর দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা নতুন শুরু হয়েছে। তার এ বক্তব্যের পর দেশ-বিদেশে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশে ফিরলে তাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে এবং রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশে সাবেক মার্কিন ডেপুটি চিফ অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন কূটনীতিক জন এফ ড্যানিলোভিচ এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘শেখ হাসিনা কারাগারে অথবা নির্বাসনেই মৃত্যুবরণ করবেন এবং নতুন বাংলাদেশে তার ও তার পরিবারের কোনো স্থান হবে না’। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘আওয়ামী লীগ যত দ্রুত পরিস্থিতি উপলব্ধি করে সংস্কার গ্রহণ করবে, ততই দেশের মানুষের জন্য মঙ্গলজনক হবে।’ জন এফ ড্যানিলোভিচ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক। তিনি ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ডেপুটি চিফ অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনার অধীনে কর্মরত ছিলেন।