সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
১৮ জুন ২০২৬ ১০:৪৫
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের ফেসবুক-টিকটক ব্যবহার নিষিদ্ধ
ষোলো বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার জানিয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ‘হাইলি ইফেকটিভ এজ অ্যাশিওরেন্স’ বা কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বয়স নির্ভুলভাবে অনুমান বা যাচাই করা হবে। এজন্য মুখমণ্ডল স্ক্যান করা বা পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করবে প্ল্যাটফর্মগুলো। সরকার আরও জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম দ্রুতই একটি সমীক্ষা চালিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করবে। যুক্তরাজ্যে শিশুদের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্টে প্রবেশ ঠেকাতে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটসহ কিছু প্ল্যাটফর্মকে ইতোমধ্যেই একই ধরনের বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হয়। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং এক্স। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যাল এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না। টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাই সঠিক সিদ্ধান্ত। আমাদের শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমি কোনো ধরনের আপস করতে চাই না।’ বিবিসি।
জি-৭ সম্মেলন ঘিরে জেনেভায় বিক্ষোভ
ফ্রান্সের রিসোর্ট শহর এভিয়ান-লেস-বাঁ-তে শুরু হতে যাওয়া ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের সাতটি ধনী দেশের নেতারা সোমবার থেকে তিন দিনের এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলন শুরুর একদিন আগে, গত ১৪ জুন রোববার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জেনেভার রাস্তায় নেমে এসে বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শুরুতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা সহিংস রূপ নেয়। জেনেভার জাতিসংঘ ভবনের কাছাকাছি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এএফপি ও রয়টার্স জানায়, এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বোতল, পাথর ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের টেলিকমিউনিকেশন ভবন লক্ষ করে হামলার চেষ্টা চালায়। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে তারা ফ্লেয়ারসহ বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। জি-৭ বিরোধী একটি জোটের আহ্বানে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। এ কারণে ইভিয়ান-লেস-বাঁ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের জেনেভায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলন ভেন্যুর আশপাশে বিক্ষোভের অনুমতি না থাকলেও প্রায় ২০ হাজার মানুষ একটি মিছিলে অংশ নেয় বলে জানা যায়। শুরুতে শান্তিপূর্ণ এই মিছিল পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। কিছু বিক্ষোভকারী দোকানের জানালা ভেঙে ফেলে, সুরক্ষার জন্য লাগানো কাঠের প্যানেল খুলে নেয় এবং পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। এ সময় একটি টেসলা গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে সম্মেলনস্থলের কাছে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি, যার ফলে জেনেভায় প্রতিবাদ কর্মসূচি কেন্দ্রীভূত হয়। জি-৭ সম্মেলনকে ঘিরে বিক্ষোভ নতুন নয়। বিশ্বায়ন, পুঁজিবাদ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং যুদ্ধবিরোধী বিভিন্ন দাবিতে অতীতেও এ ধরনের প্রতিবাদ দেখা গেছে। এবারের সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্মেলনের আগে এমন অস্থির পরিস্থিতি বিশ্বনেতাদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ডয়চে ভেলে।
জনসংখ্যার লাগাম টানার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল সুইস ভোটাররা
সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার একটি প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির ভোটাররা। ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবের বিপক্ষে এবং ৪৫ শতাংশ পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই গণভোটে মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। দেশটির ডানপন্থি দল ‘সুইস পিপলস পার্টি’ এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল, যারা দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসনবিরোধী প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তবে এই বিভাজনমূলক ভোটটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের মুক্ত চলাচল চুক্তিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। ফলে দেশটির সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ এবং অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। ভোটে ‘না’ জয়ী হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে সুইজারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী বিট জানস বলেন, ‘এটি স্থায়িত্ব, উন্মুক্ততা এবং নির্ভরযোগ্যতার একটি লক্ষণ।’ ২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ, যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৯১ লাখে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান জনসংখ্যার ২৭ শতাংশই সুইজারল্যান্ডের নাগরিক নন। পিপলস পার্টির দাবি ছিল জনসংখ্যা সীমিত করলে পরিবহন, আবাসন ও পরিবেশের ওপর চাপ কমবে। তবে তাদের এই যুক্তি সাধারণ ভোটারদের মন গলাতে পারেনি। দলটির পরিবেশ ও জনসেবা রক্ষার দাবির আড়ালে মূলত অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর দোষ চাপানোর একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ভোটারদের একটি বড় অংশ পর্যটন, হাসপাতাল ও কেয়ার হোমগুলোয় প্রয়োজনীয় শ্রমিকের সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়ে শঙ্কিত ছিলেন। অন্যদিকে সুইস ব্যবসায়িক নেতারা ভয় পাচ্ছিলেন যে এর ফলে ইউরোপের একক বাজারে সুইজারল্যান্ডের প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সুইজারল্যান্ডের উৎপাদিত পণ্যের অর্ধেকেরও বেশি ইইউভুক্ত দেশগুলোয় বিক্রি হয়। কিন্তু এই বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে হলে ইউরোপের মানুষের মুক্ত চলাচলের প্রতি সুইজারল্যান্ডের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। এই প্রস্তাব পাস হলে সুইজারল্যান্ডকে সেই চুক্তি বাতিল করতে হতো। ভোটের ফলাফলের পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেইন একে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘সুইস জনগণ তাদের রায় দিয়েছেন। ইইউ এবং সুইজারল্যান্ড গভীর বন্ধন ও শক্তিশালী অংশীদারিত্বের অংশীদার।’ সুইজারল্যান্ডের প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে সব বড় সিদ্ধান্ত ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে নেওয়া হয়। যেকোনো বিষয়ে দেশব্যাপী ভোট আয়োজনের জন্য প্রচারণাকারীদের মাত্র ১ লাখ স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। ভোটের ফলাফলে শহর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান দেখা গেছে। কেবল সুইস নাগরিকরাই এই ভোটে অংশ নিতে পেরেছিলেন। তবে শহর এলাকায়, যেখানে অভিবাসীদের সংখ্যা বেশি, সেখানে প্রস্তাবটি বিপুল ব্যবধানে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। যেমন রাজধানী বার্নে প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া সেন্ট মরিটজ ও জার্মাট-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলোয়ও ভোটাররা এই প্রস্তাবকে ‘না’ বলে দিয়েছেন। বিবিসি।
সৌদিতে দুপুরে খোলা আকাশের নিচে কাজ নিষিদ্ধ
তীব্র গরম ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবে বেসরকারি খাতের সব প্রতিষ্ঠানে দুপুরে সরাসরি সূর্যের আলোতে কাজ করা নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। সৌদির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় জানায়, এ নিয়ম ১৫ জুন থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে হবে। জাতীয় পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয়ে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় বলছে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গরমজনিত পেশাগত ঝুঁকি কমানোই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে নির্মাণ, রোড ওয়ার্ক এবং আউটডোর শ্রমে নিয়োজিত কর্মীদের সুরক্ষায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরে নিয়মটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ফলে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালে সৌদির বেসরকারি খাতে এ নিষেধাজ্ঞা মানার হার ৯৪ শতাংশে পৌঁছায় বলে জানায় মন্ত্রণালয়। নিয়মের আওতায় নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (চচঊ) সরবরাহ এবং হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তীব্র গরমে কাজের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি বিশেষ গাইডলাইন তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের সর্বোত্তম পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা জানাতে নাগরিক ও শ্রমিকদের জন্য একটি অভিযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কেউ নিয়ম লঙ্ঘন দেখলে মন্ত্রণালয়ের ইউনিফাইড কল সেন্টার ১৯৯১১ নম্বরে ফোন করে বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সৌদি গেজেট।
ট্রাম্পের আচরণ বুঝতে মনোবিজ্ঞানীদের সহায়তা নিয়েছিল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ বিশ্লেষণ ও কৌশল নির্ধারণে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করেছিল ইরান। এমনটি দাবি করা হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজের এক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলা আলোচনায় ট্রাম্পের মানসিক প্রবণতা মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো বার্তাগুলো আরও কার্যকরভাবে সাজানোর জন্য এসব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হয়। ড্রপ সাইটকে এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যে আচরণগত ধরণকে আমরা সাইকোপ্যাথিক প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করি, তা মাথায় রেখে তার উদ্দেশ্যে পাঠানো বার্তাগুলো আরও কৌশলগতভাবে তৈরি করার জন্য আমরা আলোচক দলের উপদেষ্টা পরিসরে দুইজন জ্যেষ্ঠ মনোবিজ্ঞানীকে যুক্ত করেছি। ওই কর্মকর্তা জানান, এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর এই বিশেষজ্ঞরা প্রক্রিয়াটিতে যুক্ত হন। সে সময় উভয় পক্ষ একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তাবলি নিয়ে মতবিনিময় করছিল। ড্রপ সাইট নিউজ।
হরমুজ প্রণালী পারাপার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ : বিমকো
আন্তর্জাতিক শিপিং অ্যাসোসিয়েশন বিমকো গত সোমবার (১৫ জুন) জানিয়েছে, এই মুহূর্তে জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী পারাপার শুরু করাকে তারা এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে। সংস্থাটি বলেছে, নৌপরিবহন শিল্পের জন্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল এবং প্রণালীটিতে মাইন থাকার হুমকি একটি উদ্বেগের বিষয়। সংস্থাটি আরো যোগ করেছে যে, সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা নৌচলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়টি জাতিসংঘের মতো একটি নিরপেক্ষ সংস্থার দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত। মিডল ইস্ট আই।
হামলার শিকার ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা
রাজস্থানের জয়পুরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখার ঠিক আগ মুহূর্তে হামলার শিকার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। গত সোমবার (১৫ জুন) জয়পুরের শহীদ স্মারকে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তাকে একাধিকবার চড় মারা হয় এবং মারধর করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেল ৩টায় একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন অভিজিৎ দিপকে। তিনি যখন সমর্থকদের কাঁধে চড়ে সভাস্থলের দিকে এগোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ভিড়ের মধ্য থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী তার স্কার্ফ ধরে টান দেয়। এরপর তাকে লক্ষ করে একের পর এক চড় মারা হয় এবং কাঁধ থেকে নিচে টেনে নামানোর চেষ্টা করা হয়। এ হামলার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। সিজেপির রাজ্য মুখপাত্র অভিষেক জৈন বিট্টু প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এ হামলা যেভাবে ঘটেছে তা পুলিশ এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে। সমাজবিরোধীদের থামানোর পরিবর্তে প্রশাসন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ হতে দিয়েছে। রাজস্থান সরকার ও পুলিশের এ আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এর সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে দলটির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, জুন মাসের এই তীব্র গরমের মধ্যে ইচ্ছে করেই বিকেল ৩টায় সমাবেশের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল প্রশাসন, যাতে মানুষ তীব্র গরমে জড়ো হতে না পারে। হামলার শিকার হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ দিপকে বলেন, বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের সময় আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে যত ব্যবস্থাপনাই করা হোক না কেন, আমি কারো ওপর হাত তুলব না। কাপুরুষরাই কেবল সহিংসতার পথ বেছে নেয়। আমি কোনোভাবেই চুপ থাকব না।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এগুলো আমাদের ভয় দেখানোর এবং মূল ইস্যু থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেওয়ার কৌশল। আমাদের একমাত্র দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া অন্যায় এবং তাদের আত্মহত্যার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। তারা আমাদের ওপর যতবারই হাত তুলুক না কেন, আমরা সহিংসতার পথ বেছে নেব না। আমাদের এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং ভালোবাসার সাথেই এটি চলতে থাকবে। সেই সাথে বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে তিনি ‘গেট ওয়েল সুন’ বা দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। উল্লেখ্য, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক ফ্রন্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে, যা মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বিতর্কিত মন্তব্যের পর তীব্র ক্ষোভের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। দলটি ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা শব্দটিকে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশাল অনুসারী তৈরি করেছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং সিবিএসই ওএসএম জটিলতাসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলেছে। ইতোমধ্যে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ এ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমেছেন। অভিজিৎ দিপকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে এ আন্দোলন আরও তীব্র হবে এবং তারা আবারও দিল্লির বুকে বড় ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন। হিন্দুস্তান টাইমস।
মেটার প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে বাড়ছে ব্যাংক জালিয়াতি
কভিড চলাকালীন ব্রিটেনে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক জালিয়াতি বা প্রতারণা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মেটার (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমগুলো ব্যবহার করে অপরাধীরা সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর যুক্তরাজ্যে ‘অ্যাপ জালিয়াতি’র কারণে ব্যাংক ও পেমেন্ট সংস্থাগুলোর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫৭৬.৪ মিলিয়ন পাউন্ডে (প্রায় ৭৭৩ মিলিয়ন ডলার) দাঁড়িয়েছে। ইউকে ফিন্যান্সের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতারকরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। এর ফলে তারা নিখুঁতভাবে মানুষকে বোকা বানিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গত বছর মেটার প্ল্যাটফরমগুলোয় লোভনীয় মুনাফার বিজ্ঞাপন দিয়ে যে বিনিয়োগ কেলেঙ্কারি করা হয়েছে, তাতেই সর্বোচ্চ ২২ কোটি ১৫ লাখ পাউন্ড ক্ষতি হয়েছে। এর বাইরে অনলাইন কেনাকাটা ও প্রেমঘটিত সম্পর্কের ফাঁদ পেতেও বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রতারণার বেশিরভাগই শুরু হয় অনলাইন প্রযুক্তি প্ল্যাটফরম বা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। তাই শুধু ব্যাংক নয়, মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও কঠোর আইনি দায়িত্ব আরোপের দাবি উঠেছে। এমনকি প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে আর্থিক অংশীদার করার দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাজ্যই বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে অ্যাপ জালিয়াতির শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক ও পেমেন্ট সংস্থাগুলোকে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৮৫,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গত বছর ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ৩৫৪.৩ মিলিয়ন পাউন্ড ফেরতও দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মেটা তাদের প্ল্যাটফরমে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এবং অবৈধ পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। রয়টার্সের একটি পুরনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা নিজেই অনুমান করেছিল যে তাদের আয়ের ১০ শতাংশ বা প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার আসে এ ধরনের প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে। বর্তমানে এই সার্বিক পরিস্থিতি এবং ক্ষতিপূরণের নিয়মগুলো নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা চলছে, যার ফলাফল আগামী জুলাই মাসের শুরুতে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। রয়টার্স।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৬
ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাজুড়ে গত রোববার (১৪ জুন) ইসরাইলের হামলায় এক শিশুসহ ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। চিকিৎসা সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একটি দোকান লক্ষ করে চালানো এক ইসরাইলি হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনিসের পূর্বে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ৩০ বছর বয়সী জাকি মোহাম্মদ আল-কাররা নিহত এবং একজন আহত হন। এদিকে খান ইউনিসের দক্ষিণে বাতন আল-সামিন এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে আমির আল-বাশিতি নামে এক শিশু নিহত হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইলের হামলায় ৯৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো তিন হাজার ১৩৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৩ হাজার জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় এই অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। আনাদোলু এজেন্সি।
ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া ফিলিস্তিনিদের শনাক্ত না করার ঝুঁকি বাড়ছে
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হয়তো কখনোই শনাক্ত করা যাবে নাÑ এই ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। কারণ উদ্ধার অভিযান ধীরগতিতে চলছে এবং অনেক দেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জেরুসালেমে আইসিআরসির মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই মৃতদেহগুলো শিগগিরই শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। মানবদেহের অবশেষ উদ্ধারে যত দেরি হবে, তাদের শনাক্ত করা তত কঠিন হয়ে পড়বে। মৃতদেহগুলো যত বেশি দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকবে, অবশেষে যখন তাদের উদ্ধার করা হবে, তখন তাদের দেহ পচনের উন্নত পর্যায়ে; এমনকি কঙ্কালসার থাকার সম্ভাবনা তত বাড়বে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পারিপার্শ্বিক প্রমাণ ব্যবহারের সুযোগ হারান, যা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজে লাগানো যেত।’ অক্টোবরে মার্কিন মধ্যস্থতায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা আনুমানিক ৬১ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খননকাজ শুরু করেছে, যা ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী সংঘাতগুলোয় সৃষ্ট সম্মিলিত পরিমাণের প্রায় ২০ গুণ। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ১০ হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই সংখ্যা ১৪ হাজার পর্যন্তও হতে পারে। উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত বেলচা, কোদাল, ঠেলাগাড়ি, রেক এবং নিড়ানির মতো সাধারণ সরঞ্জাম এবং খালি হাতের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে। খননযন্ত্র এবং অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য ইসরাইলের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। গ্রিফিথস বলেন, ‘অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোর এমন সব স্থানে প্রবেশাধিকার প্রয়োজন যেখানে মানুষের দেহাবশেষ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা জানি যে, এই যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামগুলোর বেশিরভাগই এই মুহূর্তে গাজায় নিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। এবং এই সামগ্রী ও সরঞ্জামগুলোকে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়াই আমাদের আহ্বান, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের চলমান সরাসরি আলোচনারই একটি অংশ।’ আইসিআরসি।
বাণিজ্যিক রকেটে ৮ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ চীনের
চীন গত সোমবার (১৫ জুন) বাণিজ্যিক রকেট লিজিয়ান-১-এ আটটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে। গণমাধ্যমটি জানায়, রকেটটি উত্তর-পশ্চিম চীনের একটি বাণিজ্যিক মহাকাশ উদ্ভাবন পাইলট জোন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটটি সফলভাবে স্যাটেলাইটগুলোকে তাদের পরিকল্পিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে। এ মিশনটি ছিল লিজিয়ান-১ রকেট সিরিজের ১৩তম ফ্লাইট, যা চীনের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ যান। লিজিয়ান-১ রকেটটি তৈরি করেছে সিএএস স্পেস, যা চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের অধীনে ইনস্টিটিউট অব মেকানিক্সের প্রতিষ্ঠিত একটি বাণিজ্যিক মহাকাশযান সংস্থা। আনাদোলু এজেন্সি।
ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর ইসরাইলি নির্যাতনের তদন্ত করবে অস্ট্রেলিয়া
ফিলিস্তিনের গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌযানের বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর ইসরাইলি নির্যাতনের তদন্ত করবে অস্ট্রেলিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা আওটিয়ারোয়া-অস্ট্রেলিয়া জানায়, ‘অস্ট্রেলিয়ার সরকার ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর ইসরাইলের হামলা, যৌন নিপীড়ন এবং নির্যাতনের বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’ সংগঠনটি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং, আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী অ্যান আলি এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ এবং পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি ‘উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের’ সঙ্গে বৈঠকের পর এই প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় চলাচল করার সময় ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া ফ্লোটিলা কর্মীদের প্রতি ইসরাইলের আচরণের বিষয়ে ইতালি ও ফ্রান্স ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। ইতালির এই তদন্তের আওতায় রয়েছেন ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন গভির। তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ফ্লোটিলা কর্মীদের ধাক্কা দিতে এবং যে জাহাজে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানে জোরপূর্বক হাঁটু গেড়ে কষ্টদায়ক অবস্থানে বসিয়ে রাখতে দেখা গেছে। আল-জাজিরা।
পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২ পাইলট নিহত
পাকিস্তানে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। গত সোমবার (১৫ জুন) এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। নিহত পাইলটরা হলেন ক্যাপ্টেন কাসিম ও ক্যাপ্টেন তালহা। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মারদান জেলায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে আরো তিনজন আহত হয়েছেন। আনাদোলু এ জেন্সি।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বি-৫২ বোমারুবিমান বিধ্বস্ত হে নিহত ৮
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দেশটির বিমানবাহিনীর একটি বি-৫২ বোমারুবিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর সেটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় সময় গত সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আকাশে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। কয়েক মাইল দূর থেকেও যা চোখে পড়ছিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং উদ্ধারকাজ এখনো চলছে। বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। ১৯৫০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বোয়িং বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বিমানটি ব্যবহার করে আসছে। বিশাল আকৃতির এই বিমানের ডাকনাম ‘দ্য বাফ’, যা ‘বিগ আগলি ফ্যাট’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার স্থান থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে। বি-৫২ একটি দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারুবিমান। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এ বিমান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। বিশাল এই বোমারুবিমান ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। এটি প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ড ওজনের সমরাস্ত্র বহন করতে পারে। এর মধ্যে কয়েকশ’ সাধারণ বোমা বা ৩২টি পারমাণবিক অস্ত্রসংবলিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রাখা যায়। উড্ডয়নরত অবস্থায় আকাশেই এই বিমানে জ্বালানি ভরা যায়। ফলে এটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে হামলা চালাতে পারে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একটি ‘নিউক্লিয়ার আমব্রেলা’ বা পারমাণবিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করত। সাধারণত বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেসে পাঁচজন ক্রু থাকেন। তাদের মধ্যে একজন কমান্ডার, একজন পাইলট, একজন রাডার নেভিগেটর, একজন নেভিগেটর ও একজন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার কর্মকর্তা। বিবিসি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান