আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল, মৃত্যুর ঘটনা নাকি অন্যকিছু


১৮ জুন ২০২৬ ১০:৩৭

রোগীদের ভোগান্তি চরমে

॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারস্থ আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা ক্ষুব্ধ। এ নিয়ে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় অনেকই বলছেন, মাথাব্যথার রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মাথা কেটে ফেলেছে। হাসপাতাল মালিকদের সংগঠন বলছে, লাইসেন্স বাতিল কোনো সমাধান নয়। চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনরা বলছেন, এখানে কম খরচে যে চিকিৎসা পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। অনেকেরই পক্ষে বাড়তি টাকা খরচ করে স্কয়ার বা এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়, ফলে জনস্বার্থে হাসপাতালটি খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
কী ঘটেছিল?
এই তো গত ২৭ মে ভোরে মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এক হাসপাতালে প্রায় একই সময়ে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর এ ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়ায়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসায় অবহেলাসহ নানা অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওইদিনই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, যে ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে ‘শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মতো পরিস্থিতি’ পাওয়া গেছে। গত ৪ জুন ওই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্বরত নার্স-স্টাফদের অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে হাসপাতালটিকে ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। যেখানে গত ৭ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে যে জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সন্তোষজনক নয়। ওই চিঠিতে জানানো হয়, হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ১২ জুন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালটির পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল জানান, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপিল করবে। এছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত জনস্বার্থ বিবেচনায় হাসপাতালের কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
স্বজনরা বলছেন নজিরবিহীন
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া জবাবে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেনি সরকার। ফলে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করেছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা বলছেন, শিশুমৃত্যুর ঘটনায় যদি কারো গাফিলতি থাকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও যদি কোনো দোষ বা দায় থাকে, তাহলে তারা অবশ্যই শাস্তি পেতে পারে। কিন্তু এমন সুনাম ও সুখ্যাতি থাকা আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। গত ১৫ জুন সোমবার হাসপাতালে সরেজমিন দেখা গেছে, ভর্তি থাকা রোগীদের স্বজনরা হাসপাতালের মেঝেতে বসে আছন, তাদের চোখে-মুখে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কিশোরগঞ্জ থেকে আসা রোগীর স্বজন আনিসুর রহমান বলেন, সরকার কেন হাসপাতাল বন্ধ করে দিল, বুঝে আসে না। ছয় নবজাতকের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এখনো শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেনি যে, ঠিক কী কারণে এই শিশুর মৃত্যু ঘটলো। নিশ্চিত না হলেও কঠোর শাস্তি কার্যকর করার নজির অতীতে নেই। আবদুল মতিন নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালেই রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দায়িত্ব অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর সংবাদ প্রায় খবরের কাগজে প্রকাশিত হচ্ছে কিন্তু ওইসব হাসপাতালের বিরুদ্ধে তো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অতীতে কি এমন ঘটনায় নামকরা কোনো হাসপাতালে সরকার কোনো কিছু করেছিল? প্রশ্ন করেন স্বজনরা।
শুধু কী নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনা, নাকি নেপথ্যে অন্যকিছু
আদ-দ্বীন হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ বা ছয় নবজাতকের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার-স্টাফদের শাস্তি না দিয়ে সরকার সরাসরি হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ায় নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই হাসপাতালটি বন্ধের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা। তা না হলে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি একটি নামি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার কথা নয়। ভুল চিকিৎসায় দেশের অনেক হাসপাতালেই রোগীর মৃত্যু হচ্ছে প্রায়ই। বড় বড় সরকারি হাসপাতালেও একইভাবে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। কিন্তু কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে কি সরকার কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে? এমন প্রশ্ন করছেন আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা।
ভোগান্তিতে রোগীরা
গত ১৫ জুন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অনেক স্বজনই রোগী নিয়ে ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। সরকার বলেছে, অন্য হাসপাতালে রোগী সরিয়ে নেবে কিন্তু রোগী অন্য হাসপাতালে সরানোর ক্ষেত্রে সরকারি কোনো পরিবহন বা অন্য কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল না। সরকারের কোনো লোকও এসে রোগীদের পরিস্থিতি দেখতে আসেনি। একজন স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, সরকার বলেছে রোগী সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা তারা করবেন। কিন্তু কই, কোনো ব্যবস্থাই তো তারা করলেন না। ভোলার লালমোহন থেকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসা মারজান আক্তার নামে এক নারীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, গত ১০ জুন তিনি আদ-দ্বীন হাসপাতালে এসেছিলেন, ডাক্তারও দেখিয়েছিলেন, ডাক্তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছেন, সেসব করিয়ে তিনি আর রিপোর্ট দেখাতে পারেননি। কারণ গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। রিপোর্ট নিয়ে তিনি গত ১৫ জুন সোমবার নিজ জেলায় ফেরত গিয়েছেন। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তার কন্যাশিশু এনআইসিইউতে রয়েছে। সরকার অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে বলায় তিনি পিজি হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একাধিক সরকারি হাসপাতালে গিয়েছে, কিন্তু কোথাও এনআইসিইউ ফাঁকা নেই। ফলে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তবে হাসপাতালের তথ্য বিভাগে দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো সব ভর্তি রোগী সরিয়ে নেওয়া হয়নি। রোগীরা স্বেচ্ছায় সরে না যাওয়া পর্যন্ত তারা চিকিৎসা স্বাভাবিক রাখবেন।
হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীর আবেগঘন পোস্ট
আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল এবং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে হাসপাতালটির এক স্বাস্থ্যকর্মীর আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পোস্টে তিনি নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজের ও সহকর্মীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরেছেন। গত ১২ জুন শুক্রবার আদ-দ্বীন হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ পলি রানী ঘোষ নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমি ঢাকা আদ-দ্বীন হাসপাতালে গত ১৪ বছর ধরে সিনিয়র স্টাফ হিসেবে নিষ্ঠার সাথে কর্মরত আছি। এই দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অসংখ্য রোগীকে সেবা দিয়ে আসছি। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০ রোগীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে, যা আমি আমার দায়িত্ব ও মানবিক কর্তব্য হিসেবে পালন করেছি। তিনি বলেন, হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আমি এবং আমার মতো হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি। আমাদের অনেকেরই ছোট ছোট সন্তান রয়েছে, পরিবার রয়েছে, যাদের জীবন-জীবিকা এই চাকরির ওপর নির্ভরশীল। ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, আমার ছোট দুটি সন্তান রয়েছে। আমার পরিবার সম্পূর্ণভাবে আমার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। চাকরি হারানোর আশঙ্কায় আমি আজ অসহায়বোধ করছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরেননি আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী যদি দাবি করে থাকেন যে, আদ-দ্বীন হাসপাতাল তার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, তাহলে সেই অভিযোগের প্রমাণ তাকেই দিতে হবে। গত সোমবার (১৫ জুন) বিকালে আদ-দ্বীন হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১৩ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে।’ এ বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমি কেন মন্ত্রীর পেছনে ঘুরব? যদি তিনি এ ধরনের কোনো কথা বলে থাকেন, তাহলে সেটি তাকেই প্রমাণ করতে হবে।’
নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ, দায়িত্বে জামালুন্নেসা
আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যুর অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন তার দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। পরিচালনা পর্ষদ এই দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে অধ্যাপক জামালুন্নেসার ওপর। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক-কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স তারিকুল ইসলাম মুকুলের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ও গৃহীত ব্যবস্থা
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যুজনিত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও গভীরভাবে শোকাহত। এরই মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রটোকল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্ধের মধ্যে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগী আদ-দ্বীন
সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে প্রতিষ্ঠানটি দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। আলো-বাতাস চলাচল তথা অক্সিজেনের উপস্থিতি সুগম করার জন্য তিনজন ইন্ডিপেনডেন্ট কনসালট্যান্টের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জনের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি কর্পোরেট অফিসের ওপরে অবস্থিত বেকারিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন ১৯৮০ সাল থেকে সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আয় বৃদ্ধিমূলক প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে এই ফাউন্ডেশনের অধীনে ৯টি হাসপাতাল, ৫টি মেডিকেল কলেজ, ১টি নার্সিং কলেজ, ৪টি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ১টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, ১টি কলেজিয়েট স্কুল এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র
শুধুমাত্র আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মগবাজার ঢাকায় বিগত ২৯ বছরে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ২৯১ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। গত ১১ জুন ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। এই হাসপাতালের সাথে সরাসরি ১,৭৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী যুক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। বর্তমানে এই আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে ২০৯ বিদেশি শিক্ষার্থীসহ মোট ৬৪৬ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। দুই সহস্রাধিক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা ও পেশাগত ভবিষ্যৎ এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।
লাইসেন্স বাতিল সমাধান নয় : হাসপাতাল মালিক সমিতি
ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা সর্বোত্তম সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল-মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিএ)। গত সোমবার (১৫ জুন) সংগঠনটির অফিস সম্পাদক আরিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়।
আপিল ও আইনি পদক্ষেপ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া ৩০ দিনের আপিল করার সময়সীমা প্রসঙ্গে নির্বাহী পরিচালক গত ১৫ জুন সোমবার বলেন, আমাদের দরখাস্ত বা আপিল আবেদন ইতোমধ্যে লেখা প্রস্তুত হয়েছে। আমরা নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে এ আবেদন জমা দেবো।
শুধু প্যাথলজি নয়, আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্সও বাতিল
লাইসেন্সে বাতিলের ক্ষেত্রে হাসপাতাল নয়, প্যাথলজির কোড ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হয়নি মর্মে আইনজীবী এডভোকেট শিশির মনির যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, শুধু প্যাথলজি নয়, রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
এ বিষয়ে কথা বলতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা আর সম্ভব হয়নি। একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল অনুবিভাগ) এ এন এম মঈনুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলে কথা বলতে চাননি।