ঊর্ধ্বমুখীই থাকছে নিত্যপণ্যমূল্য, ১৬ মাসে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি
১১ জুন ২০২৬ ০৯:৪৮
স্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পর ঢাকার বাজার আগের অবস্থায় পৌঁছেছে। ঢাকার বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছ-মুরগির দাম। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। পাকিস্তানি মুরগির কেজি ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা। মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই মাছের কেজি ২২০ টাকা। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। শিং মাছের কেজি ৩২০ টাকা এবং মৃগেল মাছের কেজি ৩০০ টাকা। বাজারে এখনো সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি। মুদি দোকানগুলোয় ৫ লিটারের সয়াবিল তেল ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্য বলছে, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এক মাসের ব্যবধানে এ সূচক বেড়েছে দশমিক ৩৮ শতাংশীয় পয়েন্ট, যা চমকে ওঠার মতো অবস্থা।
ঢাকার খুচরা বাজারের ক্রেতারা বলছেন, ঈদ যেতে না যেতেই কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০ টাকা বেড়েছে। ঈদের একদিন পর এই মুরগির দাম ছিল ১৫০ টাকা কেজি। এখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সবজির বাজারে কচুমুখী প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শসা দেশি ১০০ টাকা এবং করলা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঢ্যাঁড়শের কেজি ৬০ টাকা এবং বেগুনের কেজি ৮০ টাকা। চাল কুমড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৫০ টাকা, আর লাউ ৬০ টাকায়। বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ডিমের দাম। বাজারে বাদামি (ব্রাউন) প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায় এবং সাদা প্রতি ডজন ডিমের দাম ১২০ টাকা। আগে এসব ডিম বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ১৪০ ও ১৩০ টাকায়।
এদিকে জ্বালানি তেলের দামের প্রভাবে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। গত মে মাসেও ৯ শতাংশের ঘর ছাড়িয়ে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। এপ্রিলে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। এ নিয়ে টানা দুই মাস মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি দেখল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এ সূচক। গত ৭ জুন রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্য বলছে, খাদ্য ও খাদ্য বর্হিভূত উভয় খাতে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এক মাসের ব্যবধানে এ সূচক বেড়েছে দশমিক ৩৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। এর আগে এর থেকে বেশি মূল্যস্ফীতি ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে। ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এরপর থেকে কমা-বাড়ার মধ্যে মার্চে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে উঠেছিল মূল্যস্ফীতি। পয়েন্ট টু পয়েন্টে ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ দিয়ে বোঝায়, গত বছর মে মাসে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় মিলেছে, তা চলতি বছরে মে মাসে পেতে খরচ করতে হয়েছে ১০৯ টাকা ৪২ পয়সা।
চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকে টানা কয়েক মাস বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে ৯ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছিল মূল্যস্ফীতি। তবে পরের মাসে মার্চে তা আবার ৮ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছিল। পরে এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। এর মধ্য দিয়ে ফের টানা দুই মাস মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী থাকার তথ্য দিল সরকারের পরিসংখ্যান বিভাগ। মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য বলছে, মে মাসে খাদ্যপণ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বড় ব্যবধানে। এর প্রভাব পড়েছে সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে। মে মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা মে মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে।