সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৪ জুন ২০২৬ ১০:৪৪
মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ
১৬ বছরের কম বয়সি লাখ লাখ শিশুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নতুন নিয়ম কার্যকর শুরু করেছে মালয়েশিয়া। তরুণ ব্যবহারকারীদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় শরিক হয়ে গত ১ জুন সোমবার থেকে এই নিয়ম বলবৎ করেছে দেশটি। নতুন এই নিয়মের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করা এবং ১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট ব্লক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ অন্তত ৮০ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছে এমন সব প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। যেসব কোম্পানি এই নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হবে, তাদের ১ কোটি রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। তবে শিশুরা যদি এই আইন ফাঁকি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলে, তাহলে তাদের বাবা-মাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না। সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিকর কনটেন্ট, সাইবার বুলিং এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে আসক্তি তৈরি করে প্ল্যাটফর্মগুলোর এমন ফিচার থেকে শিশুদের রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বা শর্ত আরোপ করেছে। এছাড়া ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্ক, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াও একই ধরনের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা বা উন্নয়ন করছে। মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশন জানিয়েছে, এই নিয়মের উদ্দেশ্য শিশুদের ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে বিরত রাখা নয়, বরং অনলাইন ক্ষতি মোকাবিলা করা এবং বয়সোপযোগী সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করতে সেবা প্রদানকারীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া। গত মাসে এক বিবৃতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, ‘এই পদক্ষেপগুলো অনলাইন পরিবেশে শিশুদের সুরক্ষা জোরদার করতে সাহায্য করবে এবং ক্রমবর্ধমান জটিল ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিভাবকদের বাড়তি আশ্বাস দেবে।’ প্ল্যাটফর্মগুলোকে এখন ‘সেফটি-বাই-ডিজাইন’ ফিচার চালু করতে হবে, যার মধ্যে বাধ্যতামূলক ব্যবহারকে উৎসাহিত করে এমন কারসাজিমূলক ডিজাইনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া কম বয়সি অ্যাকাউন্ট এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মালয়েশিয়ার এই নতুন নিয়ম কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, তা এখনো বিস্তারিত জানায়নি। এজ-ভেরিফিকেশন সিস্টেমের বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এনডিটিভি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধের হুমকি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম রূপ নেওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান ও তার মিত্ররা। লেবাননে ইসরাইলের চলমান হামলার জবাবে এই কৌশলগত জলপথসহ অন্যান্য ফ্রন্টগুলোকে ‘সক্রিয়’ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সোমবার ইরানি গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু-হু করে বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই নৌপথটি বন্ধ হলে তা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করবে। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বারে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালীটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগের সবচেয়ে ব্যস্ত রুট সুয়েজ খালের প্রধান প্রবেশদ্বার। এর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটি মাত্র ২৯ কিলোমিটার (১৮ মাইল) চওড়া। বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১৫ শতাংশ এই সরু পথটি দিয়েই পরিচালিত হয়। এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে এই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছিল। সেই সময় বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে বাধ্য হয়। যার ফলে জাহাজগুলোর যাতায়াত সময় কয়েক সপ্তাহ বেড়ে যায় এবং জ্বালানি, বীমা ও নাবিকদের মজুরি বাবদ খরচ এক লাফে অনেক বেড়ে যায়। শিল্প খাতের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল। হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ হওয়ার পর সৌদি আরবের মতো বড় অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালিটিই ছিল প্রধান ভরসা। বর্তমান যুদ্ধের মধ্যেও এতদিন এই পথটি মোটামুটি নিরাপদ ছিল। তবে নতুন করে এই রুট বন্ধের হুমকিতে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের এই রিপোর্টের বিষয়ে ইয়েমেনের হুথিরা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে গত মার্চ মাসে হুথি বিদ্রোহী সরকারের উপ-তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ মনসুর সিএনএন-কে বলেছিলেন, ‘বাব আল-মান্দেব বন্ধ করা একটি কার্যকর বিকল্প এবং এর পরিণতি আমেরিকা ও ইসরাইলি আগ্রাসনকারীদেরই ভোগ করতে হবে।’ তাসনিম নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে শর্তসাপেক্ষে রাজি হিজবুল্লাহ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে শর্তসাপেক্ষে রাজি হয়েছে হিজবুল্লাহ। তবে আলোচনা চললেও ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবাননে ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন ও রাজধানী বৈরুতে বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলা বন্ধের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা মেনে নিয়েছে হিজবুল্লাহ। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত লেবানন দূতাবাস নিশ্চিত করেছে, ইসরাইলের সাথে পারস্পরিক হামলা বন্ধের এ মার্কিন প্রস্তাবে হিজবুল্লাহ সম্মতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি হিজবুল্লাহর প্রতিনিধি ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলেছেন এবং দু’পক্ষই লড়াই থামাতে রাজি হয়েছে। এ প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি কাপুরুষোচিত বোমাবর্ষণ বন্ধের বিনিময়ে হিজবুল্লাহও ইসরাইলের ভেতরে প্রতিরোধমূলক হামলা থেকে বিরত থাকবে। তবে হিজবুল্লাহর এই সদিচ্ছার পরও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আবারো বৈরুতে হামলার হুমকি দিয়ে তার যুদ্ধবাজ মনোভাব ধরে রেখেছেন। চুক্তির আলোচনার মধ্যেও লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা মাঠে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরও যখন ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে বোমাবর্ষণ করে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল, তখন উত্তর ইসরাইলে ঢুকে পড়া ইসরাইলি ট্যাংক ও সৈন্যদের লক্ষ করে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে হিজবুল্লাহ। ড্রোন এবং ঝাঁকে ঝাঁকে কামানের গোলা ছুড়ে তারা ইসরাইলি বাহিনীকে কড়া জবাব দিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইল আজকেও দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি বেসামরিক এলাকায় অত্যন্ত মারাত্মকভাবে বোমাবর্ষণ করেছে, যার বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে পুরো এলাকা। বিবিসি।
সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর চমকপ্রদ মন্তব্য
ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে এবার চমকপ্রদ মন্তব্য করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি বলেছেন, ভারত যেমন নেপালের কিছু ভূখণ্ড দখলে রেখেছে, তেমনি নেপালও ভারতের কিছু জায়গা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। নেপালের পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জানতে পেরেছেন যে সীমান্ত ইস্যু একপাক্ষিক নয় উভয় দেশেরই কিছু জায়গা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তাই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিরসনে যুক্তরাজ্য সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান। তার যুক্তি, এই সমস্যার ঐতিহাসিক শিকড় ব্রিটিশ শাসনামলের সময়কার, যখন ব্রিটিশ সরকার ভারত ছেড়ে যায়। তিনি জানান, নেপাল ইতোমধ্যে ভারত ও চীনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চল। নেপাল দাবি করছে, ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির পর থেকেই এসব এলাকা নেপালের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড। অন্যদিকে ভারত ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক ভিত্তিতে নেপালের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং লিপুলেখ পাসকে দীর্ঘদিনের স্বীকৃত তীর্থযাত্রার পথ হিসেবে তুলে ধরছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এর আগে জানিয়েছে, সীমান্ত বিষয়ে তাদের অবস্থান ধারাবাহিক ও স্পষ্ট এবং সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কাঠমান্ডু পোস্ট।
নামাজ পড়লে সমস্যা হলে সব ধর্মীয় শোভাযাত্রার জন্যই রাস্তা ব্যবহার বন্ধ করুন : ওয়াইসি
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি নামাজ এবং ধর্মীয় উৎসবের মতো বিষয়গুলো উত্থাপন করে মুসলিমদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করার প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন। একটি ঈদ মিলাপ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াইসি জোর দিয়ে বলেন যে, বিরোধিতা সত্ত্বেও মুসলিম সম্প্রদায় তাদের নামাজ ত্যাগ করবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঈদুল আজহা বা রমজানের মতো উৎসবগুলো ঘনিয়ে আসলেই আজান ও নামাজ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়ে ওঠে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আজান নিয়ে সমস্যা, নামাজ নিয়ে সমস্যা আপনাদের লোকেদের কী হয়েছে?’ ওয়াইসি আল্লামা ফজল-ই-হক খায়রাবাদীর মতো ইসলামিক স্কলারদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যাঁরা মসজিদ থেকে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন এবং নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি এই ইতিহাসের সাথে মুসলিমদের তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে বর্তমানের জ্ঞান দেওয়ার প্রচেষ্টার তুলনা করেন। ওয়াইসি দ্বিমুখী নীতির বিষয়টি তুলে ধরে উল্লেখ করেন যে, উত্তরাখণ্ড থেকে দিল্লি পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় যাত্রা এবং শোভাযাত্রার জন্য প্রায়শই কোনো আপত্তি ছাড়াই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি যুক্তি দেন যে, রাস্তায় নামাজ কেবল জুমার নামাজ বা ঈদের সময় হয়, প্রতিদিন নয়; এবং ভারতে সব ধর্মের উৎসবই রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘সেগুলোর সময় আপনারা অন্ধ হয়ে যান।’ হায়দরাবাদের এ সাংসদ সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয় এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানান। হিন্দু উৎসবের সময় মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পরামর্শ দেন যে, এ যুক্তি যদি অভিন্নভাবে প্রয়োগ করা হয়, তবে রমজানের সময় মদের দোকানও বন্ধ রাখা উচিত। ওয়াইসি সমালোচকদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করার উদ্দেশ্যে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। তুর্কমেন গেট, হাশিমপুরা এবং নেলীসহ অতীতের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি ঘোষণা করেন, ‘কেউ কোথাও যাচ্ছে না; দ্বিতীয় কোনো দেশত্যাগ বা হিজরত হবে না।’ দেশকে সবার উল্লেখ করে তিনি সরকারকে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। ওয়াইসি ২২ লাখ শিক্ষার্থীর জীবনকে প্রভাবিত করা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দামের সংকটের মাঝেও আজান ও মাংসের মতো ইস্যুগুলোয় মিডিয়ার মনোযোগ দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জনশৃঙ্খলার স্বার্থে নামাজ নিয়ন্ত্রণের আহ্বানের পর ওয়াইসির এই মন্তব্য এলো। ওয়াইসি বিজেপিকে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানান এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং অতীতের শাসকদের প্রাসাদগুলো এখন জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। সিয়াসত ডেইলি।
হার্ভার্ডের সমাবর্তনে সুমধুর কুরআন তিলাওয়াত
বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছেন সুহাইলা মুখতার নামের এক শিক্ষার্থী। গত ২৬ মে (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই অনন্য মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রতিবেদনে জানা যায়, সমাবর্তন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সুহাইলা মুখতার অত্যন্ত চমৎকার ও হৃদয়গ্রাহী কণ্ঠে পবিত্র কুরআনের ‘সূরা আল-আলাক’ থেকে কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করেন। অনুষ্ঠানের সেই বিশেষ মুহূর্তটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়)। ইন্টারনেটে নেটিজেনরা সুহাইলার এই চমৎকার তিলাওয়াত এবং বিশ্বমঞ্চে নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে এভাবে তুলে ধরার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। হার্ভার্ডের মতো মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে পবিত্র কুরআনের বাণী পাঠের এ ঘটনাটি সমাবর্তনে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে এক ভিন্নরকম আবেগ এবং গভীর মনোযোগের সৃষ্টি করে। আল-জাজিরা।
ভারতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মুসলিম যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা
বিহারের সিওয়ান জেলায় এক ২৪-২৫ বছর বয়সী মুসলিম যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার নৃশংস অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবকের নাম শাহজাদ আলী, তিনি পেশায় একজন বাবুর্চি ছিলেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাত্র আড়াই মাস আগেই শাহজাদের বড় ভাই নওশাদ আলীর লাশ একটি গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিবারের দাবি, দুই ভাইকেই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩০ মে শনিবার বারহারিয়া থানার অন্তর্গত শিবরাজপুর গ্রামে। শাহজাদের স্ত্রী মবিনা খাতুন জানান, ঘটনার দিন একদল লোক তাদের বাড়িতে এসে শাহজাদকে বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজখবর শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা পর তারা জানতে পারেন যে শাহজাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। পুলিশের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে মবিনা খাতুন দাবি করেছেন, অভিযুক্তরা শাহজাদকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি, লাথি ও ঘুষি মেরে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। এ অমানবিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শুধু তাই নয়, মৃত্যুর আগে শাহজাদের কাছে থাকা নগদ প্রায় ৫ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিবরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা অমিত চৌধুরী, প্রমেন্দ্র মাঞ্জি, ছত্তু মাঞ্জি, অবধ কিশোর চৌধুরীসহ মোট আটজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের এক আত্মীয় মোহাম্মদ মিঠু শাহ জানিয়েছেন, শাহজাদ ও তাঁর পরিবার বিভিন্ন বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে রান্নার কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি একটি অনুষ্ঠানের জন্য শাহজাদকে বুক করতে চেয়েছিল। কিন্তু অন্য ব্যস্ততার কারণে শাহজাদ সেই কাজ করতে রাজি হননি। পরিবারের দাবি, এ সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভের সূত্রপাত। মিঠু শাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রান্না করা ওদের পেশা। ওরা কোথায় কাজ করবে, সেটা সম্পূর্ণ ওদের নিজেদের সিদ্ধান্ত। আজকাল।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান