আত্মত্যাগের চিরন্তন ইতিহাস


২২ মে ২০২৬ ২১:৪০

॥ মুহাম্মাদ আব্দুর রঊফ ॥
মানব ইতিহাসের সূচনাকাল থেকেই কুরবানি আত্মত্যাগের এক মহান প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত। কুরবানি কেবল পশু জবেহ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়। বরং এটি গভীর আধ্যাত্মিক অনুশীলন যা মানুষকে তাকওয়া, ত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়। আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-এর সন্তানদের কুরবানির ঘটনা থেকে শুরু করে হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও তদীয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের প্রতিটি অধ্যায় আমাদের সামনে কুরবানির প্রকৃত তাৎপর্য তুলে ধরে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সত্য ও ন্যায়ের পথে নিজের প্রিয় বস্তুকে কুরবানি করার এই অব্যাহত ধারা পরবর্তীকালে অন্যান্য নবীদের যুগ অতিক্রম করে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে এসে পূর্ণতা লাভ করে, যা আজও মুসলিম উম্মাহর জীবন বিধান এবং মানুষের পশু প্রবৃত্তিকে দমন করে মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করার নিরন্তর সংগ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমরা কুরবানির বিধান রেখেছিলাম, যাতে তারা যবহ করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে এজন্য যে, তিনি চতুষ্পদ গবাদিপশু থেকে তাদের জন্য রিযিক নির্ধারণ করেছেন’। (সূরা হজ : ৩৪)।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ত্যাগের এই মহান ধারাটি সৃষ্টির শুরু থেকে প্রতিটি নবীর যুগেই ইবাদত হিসেবে বিদ্যমান ছিল। কিন্তু তার স্বরূপ বা পদ্ধতি কী ছিল, তা আল্লাহই ভাল জানেন। পবিত্র কুরআন ও হাদীসে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নবী-রাসূলগণের যুগে কুরবানির ঘটনা পাওয়া যায়। আলোচ্য প্রবন্ধে কুরবানির সেই ধারাবাহিক ইতিহাস তুলে ধরা হলো।
আদম (আ.)-এর যুগ : কুরবানির সূচনা
আমরা জানি ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম কুরবানির সূত্রপাত ঘটে পৃথিবীর প্রথম মানব ও প্রথম নবী হযরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র কাবিল ও হাবিলের মাধ্যমে। কাবিল ছিল আদম (আ.)-এর বড় সন্তান এবং হাবিল ছিল তার ছোট। কাবিল কৃষিকাজ করত এবং হাবিল পশুপালন করত। তারা দুজনেই আল্লাহর নামে কুরবানি করেছিল। কিন্তু কেন তারা কুরবানি করেছিল, সে স্থানটি কোথায় ছিল এ বিষয়ে কুরআন ও হাদীসে সহীহ কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। কাবিল কুরবানির জন্য তার ফসলের মধ্যে নিম্নমানের কিছু শস্য পেশ করেছিল।
কিন্তু হাবিল আল্লাহর ভালোবাসায় তার পশুদের মধ্যে সর্বোত্তম দুম্বাটি কুরবানি দিল। সে যুগে নিয়ম ছিল যে, যার কুরবানি গ্রহণযোগ্য হবে আসমান থেকে আগুন এসে তার কুরবানি নিয়ে যাবে। নিয়মানুযায়ী সেদিন আগুন হাবিলের কুরবানি নিয়ে গেল, কিন্তু কাবিলের কুরবানি সেখানেই থেকে গেল। এই রাগে, ক্ষোভে ও হিংসায় কাবিল নিজের আপন ছোট ভাই হাবিলকে হত্যা করল। এতে পৃথিবীর ইতিহাসে একদিকে হিংসাত্মক হত্যাকাণ্ডের প্রথম মহাপাপ সংঘটিত হলো, অপরদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আত্মদানের মহান আদর্শের পরম্পরা সূচিত হলো।
ইব্রাহীম (আ.)-এর যুগ : পিতা-পুত্রের ঐতিহাসিক পরীক্ষা : একবার রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো ‘হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে কারা সবচেয়ে বেশী পরীক্ষার সম্মুখীন হয়? তিনি বললেন, নবীগণ’। [১] মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দা নবী ইব্রাহীম (আ.)-কে একের পর এক কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ করেছিলেন। দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকার পর জীবনের পড়ন্ত বয়সে আল্লাহ তাঁকে একটি পুত্রসন্তান দান করেছিলেন। যে সন্তান ছিল তাঁর হৃদয়ের প্রশান্তি, চোখের শীতলতা। কিন্তু বেশীদিন সেই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে স্নেহ-সুখ উপভোগ করার সৌভাগ্য তাঁর হলো না। সন্তানের মুখে ‘বাবা’ ডাক শোনার আগেই দুগ্ধপোষ্য শিশু এবং তার মা হাজেরাকে জনমানবহীন নির্জন মরূপ্রান্তর মক্কার বিরানভূমিতে রেখে আসার নির্দেশ এলো আল্লাহর পক্ষ থেকে। চারপাশে নেই কোনো জনপদ, নেই পানির উৎস, নেই জীবনের কোনো চিহ্ন, আছে শুধুই নিঃসঙ্গতা আর নির্জনতা। ইব্রাহীম (আ.) ছিলেন আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল। বুকভরা কষ্ট, চোখভরা অশ্রু নিয়ে তিনি আল্লাহর আদেশ পালন করলেন। মা হাজেরা ও আদরের শিশুপুত্র ইসমাইলকে ফিলিস্তিনের কেনান থেকে মক্কায় রেখে আসলেন।
এরই মধ্যে কেটে গেল অনেক বছর। ইব্রাহীম (আ.) মাঝে-মধ্যে মা ও ছেলেকে দেখে আসতেন। যখন ইসমাইল (আ.)-এর ১৩ বা ১৪ বছরের কিশোর তখন আল্লাহ তায়ালা ইব্রাহীম (আ.)-কে আরেকটি কঠিন পরীক্ষায় ফেললেন। ইব্রাহীম (আ.) পরপর তিনরাত স্বপ্নে দেখলেন তিনি স্বীয় পুত্রকে যবেহ করছেন। নবীদের স্বপ্ন যে অহী তা তিনি ভালোভাবেই জানতেন। তাই বিন্দুমাত্র দেরি না করে সন্তানকে মক্কা থেকে মিনা প্রান্তরে নিয়ে চললেন। এই পথে ইবলিস শয়তান তিনবার এসে তাঁকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করল। কিন্তু প্রতিবারই ইব্রাহীম (আ.) দৃঢ়চিত্তে শয়তানকে সাতটি করে নুড়ি পাথর নিক্ষেপ করে প্রতিহত করলেন। ঈমানের দৃঢ়তা শয়তানের সব কুমন্ত্রণাকে পরাজিত করল। অবশেষে সেই হৃদয়বিদারক মুহূর্ত উপস্থিত হলো। মিনায় পৌঁছে পিতা তাঁর প্রিয় সন্তান ইসমাইলকে বললেন, ‘হে আমার বৎস! আমি স্বপ্নে দেখছি যে, আমি তোমাকে জবেহ করছি। এখন ভেবে দেখ তোমার অভিমত কী?’ ইসমাইল (আ.) বললেন, ‘হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন’ (সূরা সাফফাত : ১০২)।
কী অসীম আত্মসমর্পণ! কী অবিচল ঈমান! স্বপ্নে পাওয়া এক পরোক্ষ আদেশ পালনে পিতার যেমন ছিল নিখুঁত আনুগত্য, ঠিক তেমনি নিজের জীবনকে আল্লাহর পথে দ্বিধাহীন চিত্তে উৎসর্গ করতে পুত্রেরও ছিল অনন্য আত্মনিবেদন। বছরের পর বছর যে সন্তানের জন্য ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে দো‘আ করেছিলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই কলিজার টুকরোকে পেয়েও পিতৃত্বের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাননি। অথচ তাকেই নিজ হাতে জবেহ করার কঠিনতম পরীক্ষায় তিনি এক মুহূর্তের জন্যও বিচলিত হলেন না। সেদিন ছিল ১০ জিলহজ।[২] ইব্রাহীম (আ.) ছুরি হাতে প্রস্তুত হলেন এবং ইসমাইল (আ.)-কে উপুড় করে শুইয়ে দিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই আকাশ থেকে ভেসে এলো মহান আল্লাহর সেই চিরন্তন ঘোষণা, ‘হে ইব্রাহীম! অবশ্যই তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। এভাবেই আমরা সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয়ই এটা ছিল একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা’ (সূরা সাফফাত : ১০৫-১০৬)। ইব্রাহীম (আ.) পিছনে তাকিয়ে দেখেন একটি সাদা শিংওয়ালা দুম্বা দাঁড়িয়ে আছে।[৩] পিতা-পুত্র সেই দুম্বা কুরবানি করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। এই দুম্বাটি ছিল আদম (আ.)-এর সন্তান হাবিলের দেওয়া কুরবানি।[৪] আল্লাহ তায়ালা দুম্বাটি ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে পাঠিয়ে প্রথম কুরবানির ঐতিহ্যের সাথে এক গভীর শরীয়াতগত মেলবন্ধন স্থাপন করলেন এবং এটিকে পরবর্তী উম্মতের জন্য বিধান হিসেবে নির্ধারণ করে দিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ইব্রাহীম (আ.)-এর যুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর ১০ জিলহজে কুরবানি করে থাকে; যা আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ, ত্যাগ এবং তাকওয়ার এক অনন্য শিক্ষা বহন করে।
মূসা (আ.)-এর যুগ : বনু ইসরাইলের হঠকারিতা
মানুষের লোভ আর হঠকারিতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত পবিত্র কুরআনের সূরা বাক্বারায় বর্ণিত বনী ইসরাইলের একটি ঘটনায় ফুটে উঠেছে। ইব্রাহীম (আ.)-এর নাতি নবী ইয়াকুব (আ.)-এর বংশধর বনী ইসরাঈলের এই ঘটনার সাথে কুরবানির বিধান জড়িয়ে আছে। যেখানে আল্লাহর নির্দেশে একটি গাভী জবেহ করার মাধ্যমে এক গুপ্ত হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয় এবং একই সঙ্গে আনুগত্য ও অবাধ্যতার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বনী ইসরাইলের এক যুবক লোভে পড়ে তার একমাত্র চাচাতো বোনকে বিয়ে করে চাচার বিপুল সম্পত্তির একক মালিক হতে চেয়েছিল। কিন্তু চাচা বিয়েতে রাজি হলো না। ফলে যুবক সম্পত্তির লালসায় অন্ধ হয়ে আপন চাচাকেই গোপনে হত্যা করে বসল। পরদিন সে নিজেই কান্নাকাটি করে কওমের নেতাদের কাছে বিচার দাবি করল, যেন কেউ তাকে সন্দেহ করতে না পারে। কিন্তু সাক্ষীর অভাবে আসামী চিহ্নিত করা যাচ্ছিল না। এমতাবস্থায় নেতারা বিচারের জন্য মূসা (আ.)-এর কাছে এলেন। মূসা (আ.) আল্লাহর পক্ষ থেকে অহির মাধ্যমে জেনে গেলেন যে, স্বয়ং বাদীই তার চাচাকে হত্যা করেছে। কিন্তু সরাসরি অপরাধীর নাম ঘোষণা না করে আল্লাহ এক বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের নির্দেশ দিলেন। মূসা (আ.) নেতাদেরে বললেন, এই গুপ্তহত্যার রহস্য উন্মোচনের জন্য আল্লাহ তোমাদের একটি গাভী জবেহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক তখনই বনী ইসরাইলের স্বভাবজাত কুযুক্তি আর টালবাহানা শুরু হলো। তারা সরল আদেশকে জটিল করতে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিল যে, গাভিটির বয়স কত? রং কেমন? সেটি কাজে অভ্যস্ত কি না? প্রতিবারই আল্লাহর পক্ষ থেকে শর্তগুলো আরো নির্দিষ্ট ও কঠিন হতে লাগল। ফলে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সেই গাভিটি খুঁজে পাওয়া তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। তারা দীর্ঘসময় ধরে হন্যে হয়ে গাভীর সন্ধান করতে থাকল।
অবশেষে তারা এমন এক গাভি খুঁজে পেল যেটা না খুব বৃদ্ধ, না একেবারে অল্পবয়সী; বরং মাঝামাঝি বয়সের। তার রং ছিল উজ্জ্বল গাঢ় হলুদ, যা দর্শকদের চোখ জুড়িয়ে দেয়। সে গাভি কখনো জমিতে হাল চাষ বা পানি সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়নি। এককথায় সুঠাম ও খুঁতহীন। সেই দুর্লভ গাভিটি খুঁজে পাওয়ার পর তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও জবেহ করল। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিস্ময়কর নির্দেশ এলো। আল্লাহ বললেন, ‘জবেহকৃত গাভীর একটি অংশ দিয়ে মৃত ব্যক্তির দেহে আঘাত করো’ (সূরা বাকারা : ৭৩)। আঘাত করার সাথে সাথে নিথর দেহটি মুহূর্তের জন্য জীবিত হয়ে উঠল এবং সবার সামনে তার হত্যাকারী ভাতিজার নাম বলে দিয়ে পুনরায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। আল্লাহর কুদরতে সত্য প্রকাশিত হলো। এই অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা কেবল একটি গুপ্তহত্যার রহস্যই উন্মোচন করেননি, বরং কিবয়ামতের দিন মৃতকে পুনর্জীবিত করার বাস্তব প্রমাণও পেশ করেছেন। মূলত আল্লাহর আদেশের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। বনী ইসরাইলরা যদি শুরুতেই আল্লাহর নির্দেশ মেনে যেকোন একটি সাধারণ গাভি জবেহ করত, তবে তাদের এত কষ্ট করতে হতো না। এতকিছুর পরও আল্লাহর নিদর্শনের চাক্ষুষ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের হঠকারিতা তাদেরকে আল্লাহর প্রতি অনুগত হতে দেয়নি।
ইলিয়াস (আ.)-এর যুগ : হক-বাতিলের পরীক্ষা : তৎকালীন ফিলিস্তিনের বাদশাহ আখিয়াব এবং রাণী ইযবেল ছিলেন বাআল দেবতার অনুসারী। তারা বিরাট মন্দির তৈরি করে সকলকে বাআল দেবতার পূজা করতে নির্দেশ জারি করেছিলেন। রাজার আদেশে সকলেই শিরকের অতল গহ্বরে হারিয়ে গিয়েছিল। এই জাতিকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা ইলিয়াস (আ.)-কে নবী হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দু-একজন ছাড়া কেউ তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করেনি। একটা পর্যায়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে তিনি দূর পাহাড়ে আত্মগোপন করেন এবং এই অবাধ্য জাতির জন্য দুর্ভিক্ষের বদ দোয়া করলেন। এমতাবস্থায় দেশে প্রকট আকারে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। তখন ইলিয়াস (আ.) আত্মগোপন থেকে বের হয়ে সরাসরি রাজ দরবারে গিয়ে বললেন, আল্লাহর অবাধ্যতার জন্যই তোমাদের ওপর দুর্ভিক্ষ নেমে এসেছে। তোমরা আল্লাহর অবাধ্যতা ছেড়ে দিয়ে তাঁর ইবাদত করো, তবেই তিনি দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি দেবেন। তিনি আরো বললেন, তোমরা দাবি করো যে তোমাদের বাআল দেবতার নাকি সাড়ে চারশ’ নবী রয়েছে। তাহলে চলো একটা সত্য-মিথ্যার পরীক্ষা হয়ে যাক। তোমরা সবাই মিলে বাআল দেবতার নামে কুরবানি পেশ কর, আর আমি একাকী আমার আল্লাহর নামে কুরবানি পেশ করি। যার কুরবানি আসমান থেকে নেমে আসা আগুন গ্রহণ করবে তার ধর্মই সত্য বলে গৃহীত হবে।
এই যৌক্তিক চ্যালেঞ্জ রাজা ও মূর্তিপূজারিরা সানন্দে গ্রহণ করল। অতঃপর নির্দিষ্ট দিনে ‘কোহে কারমাল’ নামক এক পাহাড়ি উপত্যকায় সবাই সমবেত হলো। প্রথমে বাআল পূজারিরা তাদের কুরবানি পেশ করল। নিমগ্ন সাধনা আর অনবরত কান্নাকাটি করতে করতে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো কিন্তু আকাশ থেকে আগুন তো দূরের কথা আগুনের একটা ফুলকিও আসল না। এরপর হযরত ইলিয়াস (আ.) আল্লাহর নামে কুরবানি পেশ করলেন। কিছুক্ষণ পরই আসমান থেকে আগুন নেমে এসে সেই কুরবানি ভস্ম করে দিল। এ দৃশ্য দেখে বহু মানুষ আল্লাহর সিজদায় লুটিয়ে পড়ল কিন্তু বাআল পূজারি অন্ধ ধর্মনেতারা মুশরিকই থেকে গেল। যুগে যুগে এভাবেই আল্লাহ তায়ালা বাতিলকে পরাজিত করে হকের আওয়াজ বুলন্দ করেছেন।
জাহেলি যুগ : ইব্রাহীমী সুন্নাতের বিকৃতি : আরব জাতির পিতা ছিলেন ইব্রাহীম (আ.)। সেজন্য জাহেলি যুগে মক্কার লোকেরা দাবি করত তারা ইব্রাহীম (আ.)-এর ধর্ম অনুসরণ করে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা ইব্রাহীম (আ.)-এর প্রকৃত দীনকে বিকৃত ও পরিবর্তিত করে ফেলেছিল। ইব্রাহীম ও ইসমাইল (আ.) সর্বপ্রথম কাবাঘর নির্মাণ করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমেই কাবাকে কেন্দ্র করে ইবাদত, তাওয়াফ এবং হজের বিধান চালু করেছিলেন। (সূরা হজ : ২৬-২৭)। আর পিতা-পুত্রের কুরবানির ইতিহাস তো যুগ যুগ ধরে জীবন্ত ছিল। যেই কাবাকে ইব্রাহীম (আ.) তাওহীদের কেন্দ্রভূমিতে রূপান্তর করলেন, সেই কাবার চতুর্পাশে মূর্তি স্থাপন করে মক্কার লোকেরা শিরকের আখড়ায় পরিণত করেছিল। তারা মূর্তির পূজা করত। কাবায় ইবাদতের সময় শিস দিত ও তালি বাজাতো। (সূরা আনফাল : ৩৫)। তাদের এই বিকৃতি কুরবানির বিধানকেও কলুষিত করেছিল। ইব্রাহীমী সুন্নাতের পরিবর্তে তারা মূর্তির সম্মানে কুরবানি চালু করেছিল। (সূরা মায়েদাহ : ৩)। আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার আশায় মূর্তির নামে কুরবানি দিয়ে গোশতের কিছু অংশ মূর্তিগুলোর মাথায় রাখত ও তার ওপরে কিছু রক্ত ছিটিয়ে দিত। কেউবা উক্ত রক্ত কাবাগৃহের দেওয়ালে লেপন করত।[৫] এভাবে তারা ইব্রাহীমী সুন্নাতের মূল চেতনা পরিত্যাগ করে কুসংস্কার ও শিরকের গভীর অন্ধকারে পতিত হয়েছিল।
রাসূল (সা.)-এর যুগ : উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য পূর্ণাঙ্গ বিধান : রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে মানবজাতি লাভ করে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। ইব্রাহীম (আ.)-এর যুগ থেকে প্রচলিত কুরবানির বিধান রাসূল (সা.)-এর যুগে এসে শিরকমুক্ত, বিশুদ্ধ তাওহীদভিত্তিক ইবাদতে পরিণত হয়। জাহেলি যুগের কদর্য প্রথা বিলুপ্ত করে মহান আল্লাহ ঘোষণা দেন, ‘ওগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর নিকটে পৌঁছে না। বরং তাঁর নিকট পৌঁছে তোমাদের আল্লাহভীরুতা’ (হজ : ৩৭)। আল্লাহভীরুতা তথা ইখলাসই ছিল ইব্রাহীমী কুরবানির প্রকৃত চেতনা। এই চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে রাসূল (সা.) নিজে নিয়মিত কুরবানি দিয়েছেন এবং এই বিধান কিয়ামত পর্যন্ত উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে বিদ্যমান রাখার জন্য বিদায় হজের ভাষণে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘হে জনগণ! নিশ্চয়ই প্রত্যেক পরিবারের ওপরে প্রতি বছর একটি করে কুরবানি’।[৬] চৌদ্দশত বছর ধরে রাসূল (সা.)-এর নির্দেশ পালনার্থে প্রতিটি মুসলিম পরিবারের কুরবানি স্রেফ পশু জবেহ নয়, বরং নিজের কুপ্রবৃত্তি বিসর্জন দিয়ে মহান আল্লাহর সামনে পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক জীবন্ত অঙ্গীকার।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, কুরবানির ইতিহাস আদি পিতা আদম (আ.) থেকে শুরু করে বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত প্রবহমান এক অবিচ্ছিন্ন ও শাশ্বত ইবাদত। এই ইবাদত কিয়ামত পর্যন্ত মুমিন হৃদয়ে ত্যাগের প্রেরণা জাগ্রত করবে। পশুর গলায় ছুরি চালানোর মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি তার ভেতরের আমিত্ব, অহংকার এবং পশুত্বকেই কুরবানি দিতে শিখবে। মহান আল্লাহ আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
লেখক : শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
তথ্য সূত্র : [১]. তিরমিযী হা/২৩৯৮; মিশকাত হা/১৫৬২; ইবনে মাজাহ হা/৪০২৩। [২]. তাফসীরে কুরতুবী, ১৫/১০২ পৃ.। [৩]. মুসনাদে আহমাদ হা/২৭০৭। [৪]. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, নবীদের কাহিনী-১ (রাজশাহী : হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ২য় সংস্করণ, অক্টোবর ২০১০), পৃ. ৪৪। [৫]. তাফসীর ইবনে কাছীর ৫/৪৩১; তাফসীরে মাযহারী ৬/৩২৫। ৬]. তিরমিযী হা/১৫১৮; মিশকাত হা/১৪৭৮; আবুদাঊদ হা/২৭৮৮।
আত্মত্যাগের চিরন্তন ইতিহাস
তার হত্যাকারী ভাতিজার নাম বলে দিয়ে পুনরায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। আল্লাহর কুদরতে সত্য প্রকাশিত হলো। এই অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা কেবল একটি গুপ্তহত্যার রহস্যই উন্মোচন করেননি, বরং কিবয়ামতের দিন মৃতকে পুনর্জীবিত করার বাস্তব প্রমাণও পেশ করেছেন। মূলত আল্লাহর আদেশের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। বনী ইসরাইলরা যদি শুরুতেই আল্লাহর নির্দেশ মেনে যেকোন একটি সাধারণ গাভি জবেহ করত, তবে তাদের এত কষ্ট করতে হতো না। এতকিছুর পরও আল্লাহর নিদর্শনের চাক্ষুষ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের হঠকারিতা তাদেরকে আল্লাহর প্রতি অনুগত হতে দেয়নি।
ইলিয়াস (আ.)-এর যুগ : হক-বাতিলের পরীক্ষা
তৎকালীন ফিলিস্তিনের বাদশাহ আখিয়াব এবং রাণী ইযবেল ছিলেন বাআল দেবতার অনুসারী। তারা বিরাট মন্দির তৈরি করে সকলকে বাআল দেবতার পূজা করতে নির্দেশ জারি করেছিলেন। রাজার আদেশে সকলেই শিরকের অতল গহ্বরে হারিয়ে গিয়েছিল। এই জাতিকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা ইলিয়াস (আ.)-কে নবী হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দু-একজন ছাড়া কেউ তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করেনি। একটা পর্যায়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে তিনি দূর পাহাড়ে আত্মগোপন করেন এবং এই অবাধ্য জাতির জন্য দুর্ভিক্ষের বদ দোয়া করলেন। এমতাবস্থায় দেশে প্রকট আকারে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। তখন ইলিয়াস (আ.) আত্মগোপন থেকে বের হয়ে সরাসরি রাজ দরবারে গিয়ে বললেন, আল্লাহর অবাধ্যতার জন্যই তোমাদের ওপর দুর্ভিক্ষ নেমে এসেছে। তোমরা আল্লাহর অবাধ্যতা ছেড়ে দিয়ে তাঁর ইবাদত করো, তবেই তিনি দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি দেবেন। তিনি আরো বললেন, তোমরা দাবি করো যে তোমাদের বাআল দেবতার নাকি সাড়ে চারশ’ নবী রয়েছে। তাহলে চলো একটা সত্য-মিথ্যার পরীক্ষা হয়ে যাক। তোমরা সবাই মিলে বাআল দেবতার নামে কুরবানি পেশ কর, আর আমি একাকী আমার আল্লাহর নামে কুরবানি পেশ করি। যার কুরবানি আসমান থেকে নেমে আসা আগুন গ্রহণ করবে তার ধর্মই সত্য বলে গৃহীত হবে।
এই যৌক্তিক চ্যালেঞ্জ রাজা ও মূর্তিপূজারিরা সানন্দে গ্রহণ করল। অতঃপর নির্দিষ্ট দিনে ‘কোহে কারমাল’ নামক এক পাহাড়ি উপত্যকায় সবাই সমবেত হলো। প্রথমে বাআল পূজারিরা তাদের কুরবানি পেশ করল। নিমগ্ন সাধনা আর অনবরত কান্নাকাটি করতে করতে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো কিন্তু আকাশ থেকে আগুন তো দূরের কথা আগুনের একটা ফুলকিও আসল না। এরপর হযরত ইলিয়াস (আ.) আল্লাহর নামে কুরবানি পেশ করলেন। কিছুক্ষণ পরই আসমান থেকে আগুন নেমে এসে সেই কুরবানি ভস্ম করে দিল। এ দৃশ্য দেখে বহু মানুষ আল্লাহর সিজদায় লুটিয়ে পড়ল কিন্তু বাআল পূজারি অন্ধ ধর্মনেতারা মুশরিকই থেকে গেল। যুগে যুগে এভাবেই আল্লাহ তায়ালা বাতিলকে পরাজিত করে হকের আওয়াজ বুলন্দ করেছেন।
জাহেলি যুগ : ইব্রাহীমী সুন্নাতের বিকৃতি
আরব জাতির পিতা ছিলেন ইব্রাহীম (আ.)। সেজন্য জাহেলি যুগে মক্কার লোকেরা দাবি করত তারা ইব্রাহীম (আ.)-এর ধর্ম অনুসরণ করে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা ইব্রাহীম (আ.)-এর প্রকৃত দীনকে বিকৃত ও পরিবর্তিত করে ফেলেছিল। ইব্রাহীম ও ইসমাইল (আ.) সর্বপ্রথম কাবাঘর নির্মাণ করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমেই কাবাকে কেন্দ্র করে ইবাদত, তাওয়াফ এবং হজের বিধান চালু করেছিলেন। (সূরা হজ : ২৬-২৭)। আর পিতা-পুত্রের কুরবানির ইতিহাস তো যুগ যুগ ধরে জীবন্ত ছিল। যেই কাবাকে ইব্রাহীম (আ.) তাওহীদের কেন্দ্রভূমিতে রূপান্তর করলেন, সেই কাবার চতুর্পাশে মূর্তি স্থাপন করে মক্কার লোকেরা শিরকের আখড়ায় পরিণত করেছিল। তারা মূর্তির পূজা করত। কাবায় ইবাদতের সময় শিস দিত ও তালি বাজাতো। (সূরা আনফাল : ৩৫)। তাদের এই বিকৃতি কুরবানির বিধানকেও কলুষিত করেছিল। ইব্রাহীমী সুন্নাতের পরিবর্তে তারা মূর্তির সম্মানে কুরবানি চালু করেছিল। (সূরা মায়েদাহ : ৩)। আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার আশায় মূর্তির নামে কুরবানি দিয়ে গোশতের কিছু অংশ মূর্তিগুলোর মাথায় রাখত ও তার ওপরে কিছু রক্ত ছিটিয়ে দিত। কেউবা উক্ত রক্ত কাবাগৃহের দেওয়ালে লেপন করত।[৫] এভাবে তারা ইব্রাহীমী সুন্নাতের মূল চেতনা পরিত্যাগ করে কুসংস্কার ও শিরকের গভীর অন্ধকারে পতিত হয়েছিল।
রাসূল (সা.)-এর যুগ : উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য পূর্ণাঙ্গ বিধান
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে মানবজাতি লাভ করে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। ইব্রাহীম (আ.)-এর যুগ থেকে প্রচলিত কুরবানির বিধান রাসূল (সা.)-এর যুগে এসে শিরকমুক্ত, বিশুদ্ধ তাওহীদভিত্তিক ইবাদতে পরিণত হয়। জাহেলি যুগের কদর্য প্রথা বিলুপ্ত করে মহান আল্লাহ ঘোষণা দেন, ‘ওগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর নিকটে পৌঁছে না। বরং তাঁর নিকট পৌঁছে তোমাদের আল্লাহভীরুতা’ (হজ : ৩৭)। আল্লাহভীরুতা তথা ইখলাসই ছিল ইব্রাহীমী কুরবানির প্রকৃত চেতনা। এই চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে রাসূল (সা.) নিজে নিয়মিত কুরবানি দিয়েছেন এবং এই বিধান কিয়ামত পর্যন্ত উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে বিদ্যমান রাখার জন্য বিদায় হজের ভাষণে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘হে জনগণ! নিশ্চয়ই প্রত্যেক পরিবারের ওপরে প্রতি বছর একটি করে কুরবানি’।[৬] চৌদ্দশত বছর ধরে রাসূল (সা.)-এর নির্দেশ পালনার্থে প্রতিটি মুসলিম পরিবারের কুরবানি স্রেফ পশু জবেহ নয়, বরং নিজের কুপ্রবৃত্তি বিসর্জন দিয়ে মহান আল্লাহর সামনে পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক জীবন্ত অঙ্গীকার।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, কুরবানির ইতিহাস আদি পিতা আদম (আ.) থেকে শুরু করে বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত প্রবহমান এক অবিচ্ছিন্ন ও শাশ্বত ইবাদত। এই ইবাদত কিয়ামত পর্যন্ত মুমিন হৃদয়ে ত্যাগের প্রেরণা জাগ্রত করবে। পশুর গলায় ছুরি চালানোর মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি তার ভেতরের আমিত্ব, অহংকার এবং পশুত্বকেই কুরবানি দিতে শিখবে। মহান আল্লাহ আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
লেখক : শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
তথ্য সূত্র : [১]. তিরমিযী হা/২৩৯৮; মিশকাত হা/১৫৬২; ইবনে মাজাহ হা/৪০২৩। [২]. তাফসীরে কুরতুবী, ১৫/১০২ পৃ.। [৩]. মুসনাদে আহমাদ হা/২৭০৭। [৪]. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, নবীদের কাহিনী-১ (রাজশাহী : হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ২য় সংস্করণ, অক্টোবর ২০১০), পৃ. ৪৪। [৫]. তাফসীর ইবনে কাছীর ৫/৪৩১; তাফসীরে মাযহারী ৬/৩২৫। ৬]. তিরমিযী হা/১৫১৮; মিশকাত হা/১৪৭৮; আবুদাঊদ হা/২৭৮৮।