বিজেপির কর্মকাণ্ড ধর্ম নয়, জঙ্গিবাদ
১৪ মে ২০২৬ ১০:৫২
॥ মাহবুবুল হক ॥
আমরা আসলে এখানে টাটকা বা জ¦লন্ত রাজনীতি নিয়ে কথা বলি না। অর্থাৎ গরম গরম কেক খাই না, হটপেটিস খাই না এবং হটডগও খাই না। এমনকি গরম গরম সিঙাড়ার মতো রাজনীতি করি না। একটু ঠাণ্ডা হলে মাইক্রোওভেনে দিয়ে গরম করে খাই না। আবার গরম রাজনীতি একটু ঠাণ্ডা হলে মাঝে মাঝে আবার গরম করেও খাই না। আমরা প্রকৃতির মতো সহজ-সরল, সাধারণ ও স্বাভাবিক থাকতে চাই। আমরা বহুদিন পূর্ব থেকেই শিখে আসছি যে, গরম গরম কিছু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এতে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মাইক্রোওভেনে গরম করে খাওয়ার কারণে সারা বিশ্বে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কারণে রাজনীতির মধ্যেও পলিটিক্সের ক্যান্সার শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে বিস্তৃত হয়েছে। তাই বহুকাল ধরে সমাজবিদরা বলছেন, সবকিছুতে ধৈর্য ধর। চট করে পেরেশান হয়ো না। কাকে কান নিয়ে গেছে- এ কথা শুনে কাকের পেছনে ছুট না। কানে হাত দিয়ে দেখ কানটা আছে কিনা। চিন্তা করার, বিবেচনা করার, গবেষণা করার মানসিকতা গ্রহণ কর। একটা ঘটনা ঘটছে, আপনি হয়তো সেটা শুনছেন, জানছেন, সাথে সাথে এর সত্যতা নিরুপণ না করে রি-এ্যাক্ট করবেন না। ইসলামী বিধানেও এসব কথা খুব গুরুত্বের সাথে বলা হয়েছে। যারা না জেনেশুনে চট করে মন্তব্য করে, শোনামাত্রই বিশ্বাস করে, ইসলামী বিধানে তাদের মোনাফেক বলা হয়েছে। এই ধৈর্য ধারণ করার কথা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা, ভালো করে যাচাই-বাছাই করার কথা সব ধর্মেই রয়েছে। ইসলামী বিধানে রয়েছে, তাড়াহুড়োর কাজ শয়তানের কাজ।
গত কয়েকদিন ধরে আমরা শুনছি, ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদ জাতীয় বিধানসভা নির্বাচনে পূর্বের তুলনায় বহুদূর এগিয়ে এসেছে। আমরা ছেলেবেলা থেকেই ভারতের আরএসএসের কথা শুনে এসেছি যে, তারা উগ্র হিন্দুত্ববাদী। তারা ভারতে হিন্দুধর্ম ও সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এজন্য তারা হিন্দুত্বের বাইরে ভারতে যারা আছে, তাদের ধ্বংস কামনা করে। আমরা আরো শুনে এসেছি যে, কংগ্রেস ও বিজেপি ভারতে এই যে দুটি দল রয়েছে তারাও আরএসএসের দুটি শাখা মাত্র। অনেকটা কমিউনিজমের বলসেভিক ও মেনসেভিকের মতো। এক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে যে, গত শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে রাশিয়ায় যখন কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন এম এন রায়সহ আরো কয়েকজন হিন্দু রাজনীতিবিদ রাশিয়ায় গমন করেছিলেন। তারা দুনিয়ায় মার্ক্সসিজম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদানও রেখেছেন। আমাদের মুসলিম রাজনীতিবিদ মুজাফফর আহমদ কমরেড হয়েছিলেন তো এভাবেই। মুজাফফর আহমদের বাড়ি ছিল সন্দ্বীপে। তিনি ৪০ দশকের কবি আবদুল কাদিরের শ্বশুর ছিলেন এবং আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকে যিনি এলোমেলো করে দিয়েছিলেন। জানা যায়, ওই দ্বিতীয় দশকের মাঝামাঝি সময় ১৯১৭-এর আগে ভারতের কমিউনিস্ট নেতারা রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। যাক সে কথা। কথায় কথা এসে যায়। বৃদ্ধ বয়সের লোকেরা গাড়ির মতো সবসময় কথা ব্রেক করতে পারে না। আমার অবস্থাও তেমনটিÑ কত কথা মাথার ভেতরে। কত কথা চোখের ভেতরে। কত কথা কানের ভেতরে। কত কথা হৃদয়ের ভেতরে। যখন কথা বলতে থাকি, তখন কাকদের মতো সবকিছু একসাথে লাফাতে থাকে।
কথা বলতে চাচ্ছিলাম ভারতের বিধানসভা নির্বাচন সম্পর্কে। এখন ভাবছি সেদিকে যাব না। আগে কাছের কথা বলি। দূরের কথা পরে বলা যাবে। তার আগে কংগ্রেস যে মেনসেভিক আর বিজেপি যে বলসেভিক, সে কথা কিন্তু বলা হয়নি। পরিকল্পনাটা হলোÑ কংগ্রেস সভ্য ও শান্তিপূর্ণভাবে হিন্দুত্বের কাজ করবে কিন্তু হিন্দুত্বের কথা তেমন বলবে না। বলবে মানবতার কথা, হিউম্যান রাইটসের কথা, গণতন্ত্রের কথা, সাম্যবাদের কথা, সমাজতন্ত্রের কথা এবং মানুষ ও প্রকৃতির কথা আর বিজেপি কাজ করবে একটু উচ্চকণ্ঠে। কিন্তু তাদের ভূমিকা কংগ্রেসের মতো থাকবে না। তারা বলবে বা সমালোচনা করবে কংগ্রেসের, স্থান-কাল-পাত্রভেদে। ভারত একটি বিশাল দেশ। সব রাজ্যের সমস্যা একরকম নয়। যেখানে যে সমস্যা, সেসব সমস্যার কথা তারা উচ্চকিত করবে। স্থানীয় বিষয়গুলোকে সামনে আনবেÑ কোথায় মন্দির নেই, কোথায় টোল নেই, কোথায় শ্মশান নেই, কোথায় হিন্দুরা ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না।
কংগ্রেস বলবে সবার কথা। সব ধর্মের মানুষের কথা। ভারতবাসীর কথা। বিশ্ব বা সারকথা, বিশ্বায়নের কথা, আর বিজেপি বলবে সনাতন ধর্মের কথা, আদি ধর্মের কথা, আদি হিন্দুর কথা। মাঝখানে ভারতবর্ষ যে মুসলিমসহ নানা জাতির নেতৃত্বের দ্বারা শাসিত হয়েছিল, শোষিত হয়েছিল, অত্যাচারিত হয়েছিল, তারা আধিপত্যবাদী, সম্প্রসারণবাদী, উপনেবিশবাদী অর্থাৎ বহুরকম সভ্যতা ও সংস্কৃতির দ্বারা নিপীড়িত হয়েছিল। সেসব কথা তারা বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলবে। বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কালে কালে ভারতবর্ষ যে সমৃদ্ধ হয়েছিল, সভ্য হয়েছিল, সে কথা বলবে নানাভাবে কংগ্রেস। যেমন এম এন রায়সহ অনেকে। কিন্তু বিজেপি কখনো স্বীকার করবে না যে, ভারত কখনো অন্য জাতির দ্বারা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, সভ্যতায়-সংস্কৃতিতে, ঐশ্চর্য-ঐতিহ্য, আচার-ব্যবহার, চাল-চলন, শিক্ষা-দীক্ষিায় উন্নতি বিধান করেছে। এটা তাদের কাজ ছিল না। তাদের কাজই ছিল। দূর অতীতের মতো ভারতকে সামনের দিকে এগিয়ে না গিয়ে পেছনের দিকে ফিরে তাকাবার নস্টালজিক চেতনায় হিন্দু সম্প্রদায়কে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা।
নেপাল অর্থ যারা পালদের সঙ্গে যুদ্ধ করে পালায়নি। অর্থাৎ যে হিন্দুরা যুদ্ধ করে গাজী হয়েছে। সেসব সেন নেপালে জড়ো হয়ে বা একত্রিত হয়ে যে রাষ্ট্র গঠন করল এবং যে রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্যকে হিন্দু রাষ্ট্র বলে ঘোষণা করল, সেই মূল কাজটি কিন্তু ভারতবর্ষ করেনি। সেই ঘোষিত হিন্দু রাষ্ট্র কালক্রমে আর হিন্দু রাষ্ট্র থাকেনি। ধীরে ধীরে কমিউনিস্ট রাষ্ট্র বা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছে। আরএসএস হিন্দু রাষ্ট্র করার চেষ্টা করছে। কিন্তু নেপালের সাথে তাদের সম্পর্ক কখনো ভালো হয়নি। কারণ নেপালিরা জানে, সুযোগ পেলেই ভারত নেপালকে সিকিমের মতো দখল করে ফেলবে।
যা হোক সে ইতিহাস বা আঞ্চলিক রাজনীতির দিকে আমরা যাচ্ছি না। শুধু একটি বিষয় এখানে উল্লেখ না করে পারা যায় না, তা হলো যে টু নেশন থিওরির মাধ্যমে ভারতকে বিভক্ত করা হলো, ভারতের রাজনীতি ও শাসনক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। এ আলোচনার মাঝামাঝি সময় আমরা উল্লেখ করেছিলাম কংগ্রেসকে মেনসেভিক দৃষ্টিভঙ্গির দল হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে ইতিহাস দেখেছে, ভারত বিভক্ত হওয়ার সাথে সাথেই ভারত হায়দরাবাদ, জুনাগড়, মানভেদর, কাশ্মীর পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেনি। এই অঞ্চলগুলো পাকিস্তানের অঙ্গীভূত হওয়ার কথা ছিল বা পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ভারত গায়ের জোরে সেসব দেয়নি। জোর করেই এখনো রেখে দিয়েছে। পুরো কাশ্মীর ভারতের দখলে ছিল, মাঝে পাকিস্তান যুদ্ধ করে কিছুটা অঞ্চল কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল। বাকি অঞ্চল ভারতীয়রা পদানত করে রেখে দিয়েছে। কাশ্মীরের মুসলিমরা সেই ’৪৭ থেকে স্বাধীন হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু পারেনি। এই না পারার কারণও ভারতের কংগ্রেস দল। কংগ্রেস দল কাশ্মীরের নেতা আবদুল্যাহ খানকে চাণক্য বুদ্ধি দিয়েছিলÑ তোমরা পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্ত হলে তোমাদের বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য কিছুই থাকবে না। তোমাদের ইসলাম আর পাকিস্তানের ইসলাম এক নয়। যেমন আমাদের হিন্দু ধর্ম ও নেপালের হিন্দু ধর্ম এক নয়। তোমরা শিক্ষিত, সভ্য এবং সংস্কৃতিমনা; কিন্তু পাকিস্তানিরা তো মূর্খ, স্বল্প শিক্ষিত, গোঁয়াড়, একরোখা। তাদের সঙ্গে তোমরা মিলেমিশে চলতে পারবে না। বরং আপাতত আমাদের সঙ্গে তোমরা থাক। তোমাদের আমরাই সময় ও সুযোগ বুঝে স্বাধীন দেশে পরিণত করে দেব।
আমাদের দেশ তো অনেক বড়। এই অনেক বড় দেশকে আমরা হয়তো ভবিষ্যতে সামলাতে পারব না। আমাদের প্রয়োজনেই বাধ্য হয়ে তোমাদের আমরা স্বাধীন করে দেব। শুধু তোমাদের কেন, হায়দরাবাদ, জুনাগড়, মানভেদরসহ যেসব রাজ্য এখন আমাদের সাথে আছে, কালক্রমে তাদেরও আমরা ছেড়ে দেব। কাশ্মীরের নেতা আব্দুল্লাহও ভেবেছিলেন, নেহরু তার একান্ত বন্ধু। তিনি যখন কথা দিয়েছেন, তখন তা নিশ্চয়ই হয়ে যাবে। সে কারণে তিনি বরাবরই পাকিস্তানের সলাপরামর্শ মানতে রাজি হননি। স্বাধীন-সার্বভৌম কাশ্মীরের জন্য চেষ্টা-প্রচেষ্টা এবং লড়াই করেছেন। কিন্তু গত প্রায় ৮০ বছর ধরে কাশ্মীরবাসী নির্মমভাবে জুলুম-অত্যাচার সইতে সইতে এখন তারা অনেকটা নিষ্প্রভ হয়ে যাচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের মধ্যে শুধু যে ভারতীয়রা ছিল, তা নয়। এখন যাদের আমরা ডিপস্টেট বলছি, তারা সবাই প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে জড়িত ছিল। কাশ্মীরের জনগণ সবসময় পাকিস্তান ভুক্তির পক্ষে ছিল।
কিন্তু কাশ্মীর রাজ্যের সরকার, সমাজ ও স্থানীয় নেতৃত্ব ওপর কাঠামোর সঙ্গে বরাবরই আংশিকভাবে হলেও জড়িত ছিল। এদিকে পাকিস্তানের ভাগ্য শুরু থেকেই ডিপস্টেটের সাথে জড়িত হয়ে যায়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে প্রকাশ্যেই গড়ে তোলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাজ্যের সরকার বরাবরই ছিল ডিভাইড এন্ড রুলের পক্ষে। তারা ভারতকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার জন্য এবং পাকিস্তানকে দুর্বল ও শক্তিহীন করার জন্য সবসময় ছলচাতুরী করে এসেছে। যুক্তরাজ্যের পরামর্শেই যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সেনাবাহিনী গড়ে তোলার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গড়ে তোলা পাকিস্তান সেনাবাহিনী কখনোই যুদ্ধ-বিগ্রহে জড়াতে রাজি হয়নি। একদিকে আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন কাশ্মীর যেমন এককভাবে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে চায়নি। এই না চাওয়াটাও ছিল চাণক্য ও ডিপস্টেটের ষড়যন্ত্র।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বরাবর বলে আসছিল কাশ্মীরিরা যদি পরিপূর্ণভাবে পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন করত, বিক্ষোভ করে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেত, তাহলে তোমরা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কায়েমের জন্য যুদ্ধ করতে পারতে। আমরাও তোমাদের প্রয়োজনে সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারতাম। এভাবে নানা ডামাডোলে কাশ্মীরসহ হাতছাড়া রাজ্যগুলো না পাকিস্তান পেয়েছে, না তারা নিজেরা স্বাধীন হতে পেরেছে।
পাঠকের নিশ্চয়ই স্মরণ আছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের কারণে একদিকে যে সময় অর্থাৎ ৪৭-এ টু নেশনস থিওরি বা দ্বিজাতিতত্ত্ববাদ অপূর্ণাঙ্গ করা হলো, ঠিক একই সময় মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিমদের রাজ্য বা ভূখণ্ড দখল করে এবং মুসলিম জনবসতিকে উৎখাত করে ফিলিস্তিন অঞ্চলে জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। দুটি ভূখণ্ডের দুটি বড় ষড়যন্ত্র একসূত্রে বাঁধা। গত ৮০ বছর ধরে ফিলিস্তিন অঞ্চলে বিনা কারণে সেখানকার মুসলিমদের ওপর যে অত্যাচার, জুলুম ও নির্যাতন চলছে, একইভাবে তা ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সংঘটিত হচ্ছে। ডিপস্টেট যে বরাবরই একসূত্রে গাঁথা, তার আরেকটি বড় প্রমাণ হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সমর্থন করতে অস্বীকার করেছে।
আমরা শুরু করেছিলাম বিজেপির উত্থান নিয়ে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে নির্বাচনে বিজয় লাভের আগে ও পরে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর যে অত্যাচার-অবিচার-নির্যাতন তথা নির্মূল করার সর্বাত্মক চেষ্টা বা অপকর্ম সম্পর্কে আলোচনা করব। কিন্তু পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সবকিছু ভেবে খুব শান্তভাবে বা অস্পষ্টভাবে সাইডলাইনে কিছু কথা বলার চেষ্টা করেছি। দলটি সৃষ্টির পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারতীয় মুসলমানদের ওপর তারা যা করে আসছে, তাকে কোনোভাবেই ধর্মীয় দল বলা যায় না। সারা ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় ও জাগতিক প্রতিষ্ঠান যুগের পর যুগ ধরে তারা ধ্বংস করে আসছে। মুসলমানদের তারা পাকিস্তানে যেতে বলছে, বাংলাদেশে যেতে বলছে। তাদের তারা বহিরাগত ও অভিবাসী বলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রবাসীও বলছে। বাবরি মসজিদসহ হাজার হাজার মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস করে আসছে।
মুসলমানদের প্রাচীন স্থাপত্য তাজমহল থেকে শুরু করে মুসলমান রাজা-বাদশাহর গোরস্তান, বড় বড় ইমরাতের নিচে হিন্দুদের মন্দির, শ্মশান ইত্যাদি রয়েছে বলে দাবি করে সেগুলো ধ্বংস কররার পাঁয়তারা করছে। এসবই করছে ধর্মের নামে। তারা বলছে, এটা হিন্দুদের দেশ, হিন্দুরাই এখানে থাকবে। অন্যরা; বিশেষ করে মুসলিমরা ভারত থেকে চলে যাবে। না গেলে বিতাড়িত করা হবে। উৎখাত করা হবে, নির্মূল করা হবে। তারপরও যদি তারা এদেশে থাকতে চায়, তাহলে তাদের হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করতে হবে।
নির্বাচনে জয়লাভ করে তারা এখন যা করছে, তা নতুন কিছু নয়। সবই পুনরাবৃত্তি। সবই চিরকালের চিরচেনা দুষ্কর্ম, জঙ্গি আচরণ বা গুণ্ডামি। হিন্দু ধর্মের সাথে এর কোনো মিল নেই। শুধু হিন্দু ধর্ম কেন, কোনো ধর্মের সাথেই এসব নিকৃষ্ট আচরণের কোনো মিল নেই। মিল আছে জঙ্গিপনার সাথে। মিল আছে গুণ্ডামির সাথে। মিল আছে পশুত্বের সাথে। মিল আছে হিংসা-বিদ্বেষের সাথে। মিল আছে মনুষ্যত্যহীনতার সাথে। জিঘাংসার সাথে। অমানবিকতার সাথে। হাজার হাজার বছর থেকে হিন্দু ধর্ম কি এসব জঘন্য মানবতাহীন কুৎসিত কুকর্মের জন্য টিকে আছে? নিশ্চয়ই নয়। ইতিহাস সাক্ষী, মুসলমানরা গোটা ভারতবর্ষ কয়েক শতাব্দী শাসন করেছে, সেই শাসকরা কখনো বলে যাননি যে, তারা এত নিকৃষ্ট! এত নীচ! এত কুলাঙ্গার!
দুনিয়ায় ধর্মের সাথে উগ্রবাদ বলে কিছু নেই। উগ্রবাদ আলাদা বিষয়। জঙ্গি বিষয়, গুণ্ডামির বিষয়, লুটপাটের বিষয়, পরস্বাপহরণের বিষয়, পরশ্রীকাতরার বিষয়, কাম-ক্রোধ-লোভ-মোহ-মাৎস্যর্যের বিষয়। এর সাথে উগ্র হিন্দুত্ববাদ, উগ্র মুসলমানবাদ, উগ্র খ্রিস্টানবাদ বা উগ্র বৌদ্ধবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
উপর্যুক্ত মানবতাহীন কর্মকাণ্ডগুলো অন্যকিছু নয়, জঙ্গিবাদের বিষয়। ডিপস্টেটকে সেভাবেই
ভাবতে হবে।