এখন টিভির ৪ সাংবাদিককে স্বপদে বহালে আলটিমেটাম না মানলে কঠোর কর্মসূচি


১৪ মে ২০২৬ ১০:১৮

স্টাফ রিপোর্টার : বেসরকারি টেলিভিশন এখন টিভির সাংবাদিক মাহমুদ রাকিব, মুজাহিদ শুভ, বেলায়েত হোসেন ও আজহার লিমন তিন মাস ধরে বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে রয়েছেন। কেন তাদেরকে অবসরে পাঠানো হয়েছে? তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কী কোনো ত্রুটি ছিল? নাকি কর্তৃপক্ষের নিয়ম-নীতি তারা লঙ্ঘন করেছিলেন? এসবের কিছুই নয়, মূলত তারা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজেদের মতপ্রকাশ করেছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিএনপি সরকার গঠনের দিন গণভোটের পক্ষে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন শুধু। নাগরিক হিসেবে এটা যে কেউ করতে পারেন, আর সাংবাদিক হিসেবে তো পারেনই। তারপরও কর্তৃপক্ষ এই চার সাংবাদিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং সাত দিনের জন্য কর্মস্থলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সাংবাদিকরা লিখিত ব্যাখ্যা দিলেও গত প্রায় তিন মাস ধরে তাদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিইউজে, ডিআরইউসহ বিভিন্ন সংগঠন এখন টিভি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। এর আগে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছিলেন, তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি, পেশাগত এক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন এই চার সাংবাদিক। এরই মধ্যে গত ১১ মে সোমবার প্রতিষ্ঠানটির সামনে মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা।
এখন টিভির চার সাংবাদিক মাহমুদ রাকিব, মুজাহিদ শুভ, বেলায়েত হোসেন ও আজহার লিমনকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বপদে বহাল না করা হলে এখন টিভি কার্যালয়ে তালা লাগানোর আলটিমেটাম দিয়েছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। গত সোমবার (১১ মে) দুপুরে এখন টিভির সামনে চার সাংবাদিককে প্রায় তিন মাস ধরে বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখার প্রতিবাদে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে তিনি এ ঘোষণা দেন। ওই সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে নতুন করে কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ডিইউজের আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন নির্যাতনের শিকার চার সাংবাদিকের সহকর্মীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী। এতে ডিইউজের পাশাপাশি বিএফইউজে, ডিআরইউ, জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতি এবং নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংহতি জানাতে অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব এসএমএস সাইফ মোস্তাফিজ, গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর এবং মিডিয়া সেল সদস্য ইয়াসির আরাফাত। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অবস্থান কর্মসূচি পরিচালনা করেন সাংবাদিক নেতা খন্দকার আলমগীর হোসেন ও গাজী আনোয়ার।
কর্মসূচিতে ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, এখন টিভি কর্তৃপক্ষ ও সিটি গ্রুপের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক এবং স্মারকলিপি দেওয়ার পরও কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তারা এ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত চার সাংবাদিককে কাজে ফিরিয়ে না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, চার সাংবাদিককে পুনর্বহাল না করা হলে ধারাবাহিক আন্দোলন চলবে। এখন টিভির সম্পাদকীয় প্রধান তুষার আব্দুল্লাহর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ আমলের মতো বর্তমান সময়েও তিনি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কিছু ‘তোষামোদকারী’ ও ‘অযোগ্য’ কর্মকর্তার কারণে অনেক মেধাবী সাংবাদিক অন্যায়ভাবে চাকরি হারাচ্ছেন। তার মতে, প্রকৃত সমস্যা মালিকপক্ষ নয়; বরং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে যোগ্য সাংবাদিকদের সরিয়ে দিচ্ছে।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য স্বাধীন প্রেস কাউন্সিল গঠনের নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের মতো এখনো গণমাধ্যমের ওপর ফ্যাসিবাদী প্রভাব রয়ে গেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের এজিএস মাসুদ রানা বলেন, পেশাদার সাংবাদিকদের এভাবে চাকরিচ্যুত করার ঘটনা প্রমাণ করে নিউজরুমে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা সক্রিয় রয়েছে। এ সময় জুলাই ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ইসরাফিল ফরাজি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে এখন টেলিভিশনের সম্পাদকীয় প্রধান তুষার আবদুল্লাহর সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানান।