হজে যাচ্ছেন ৭৮,৫০০ জন
১৪ মে ২০২৬ ১০:১৪
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই হিসাবে ২৭ মে সৌদিতে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। আর বাংলাদেশে ঈদ হতে পারে ২৮ মে। গত ১২ মে মঙ্গলবার সরকারি হজ বুলেটিং জানিয়েছে, এবার হজে এ পর্যন্ত ১৩৪টি হজ ফ্লাইটে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫২ হাজার ৩৩৪ বাংলাদেশি হজযাত্রী। হজে গিয়ে এই সময়ের মধ্যে ইন্তেকাল করেছেন ১৩ জন ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। জানা গেছে, ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় বেশ সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করা হয়েছে, যেখানে নারী হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা (ওয়াশরুম ও অজুখানা) এবং মানসম্মত খাবারের জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮,৫০০ হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪,৫৬৫ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩,৯৩৫ জন পবিত্র হজ পালন করবেন। এবার প্রথম ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল শুরু হয়েছে এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে সৌদি আরবে যাবে। ফিরতি ফ্লাইট ৩০ মে শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হবে।
৫২ হাজার বাংলাদেশি মুসল্লি সৌদিতে : এ পর্যন্ত ১৩৪টি হজ ফ্লাইটে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫২ হাজার ৩৩৪ বাংলাদেশি হজযাত্রী। গত মঙ্গলবার (১২ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে প্রকাশিত আইটি হেল্প ডেস্কের দৈনিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ পর্যন্ত পরিচালিত হজ ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৬৩টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৪৯টি ফ্লাইট, ফ্লাইনাস পরিচালনা করেছে ২২টি ফ্লাইট। এদিকে মক্কায় আরও এক হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ১৩ জন হজযাত্রীর মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং তিনজন নারী। তাদের মধ্যে মক্কায় ১১ জন ও মদিনায় দুজন মৃত্যুবরণ করেছেন। সর্বশেষ গত সোমবার (১১ মে) সাভারের নুসরাত শারমীন (৬২) মক্কায় মারা যান। তিনি বেসরকারি ব্যবস্থাপনার একজন হজযাত্রী ছিলেন।
আরাফাত ও মিনার তাঁবুর সার্বিক প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন
আসন্ন হজ পালনে সম্প্রতি সৌদি আরবের মিনা ও আরাফাত তাঁবু সার্বিক প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল। পরিদর্শনকালে হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলাম বলেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা নিয়মিত মিনা ও আরাফা তাবু নির্মাণ, টয়লেট, আসবাবপত্র ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ মনিটরিং করছেন। তিনি বলেন, আমরা মিনার তাঁবু নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছি। হাজিরা যেন আরামদায়কভাবে অবস্থান করতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই এবারের হজ ব্যবস্থাপনা আরও সুন্দর, সুষ্ঠু ও সাবলীল হোক। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব সার্বক্ষণিকভাবে পুরো কার্যক্রম মনিটরিং করছেন। সৌদি আরবে অবস্থানরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, যাতে কোনো ধরনের ত্রুটি না থাকে।
তাঁবু ব্যবস্থাপনা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশি হাজিদের জন্য নির্ধারিত জোনেই তারা অবস্থান করবেন। সরকারি ও বেসরকারি হাজিদের জন্য পৃথক জোন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আশ্বাস দিয়েছে। ড. আয়াতুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা আরাফাত ও মুজদালিফাও পরিদর্শন করেছি। তাঁবু নির্মাণের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা দেখে আমরা আশাবাদী যে এবার একটি সফল ও সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এবারের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত ও যাত্রীবান্ধব করতে সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। সৌদি সরকারের অধীনে কাজ করা বিভিন্ন কোম্পানিকেও এ বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং তারাও সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।