সোনার বাংলা : সাপ্তাহিক পত্রিকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৬
॥ প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ ॥
সাপ্তাহিক সোনার বাংলা। বাংলা ভাষায় সবচেয়ে আলোচিত ও নিয়মিতভাবে প্রকাশিত সাপ্তাহিক। বাংলা সাপ্তাহিক পত্রপত্রিকার ইতিহাসে দীর্ঘ পথচলার সাক্ষী এই কাগজটি। বয়সের দিক থেকে অন্য কোনো সাপ্তাহিক নিজেকে এগিয়ে রাখার দাবি করতে পারলেও নিরবচ্ছিন্নভাবে লাখো পাঠকের ঘরে এভাবে নিয়মিত ওঠাবসার সৌভাগ্য অন্য কোনো সাপ্তাহিক কাগজের হয়নি- একথা দৃঢ়তার সাথেই বলা যায়। সাপ্তাহিক সোনার বাংলা সেক্ষেত্রে একটি অনন্য ইতিহাসের মাইলফলক স্পর্শ করার গৌরব অর্জন করেছে নিঃসন্দেহে।
বাংলা অঞ্চলে সাময়িকপত্র প্রকাশের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। প্রাচীন বাংলায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে রাজ-কর্মচারী নিয়োজিত ছিল। কৌটিল্যের তথ্য অনুযায়ী মৌর্য শাসনকালে একশ্রেণির কর্মচারীর কাজ ছিল রাজ্যের যাবতীয় খবরাখবর রাজদরবারে পেশ করা। মোগল আমলে প্রচলিত নিউজলেটার, রাজকীয় বিজ্ঞপ্তি এবং অন্যান্য লিখিত যোগাযোগের কথাও ইতিহাসের পাতায় উল্লেখ আছে। এছাড়া মোগল আমলেই প্রশাসনিক জেলায় নিয়োজিত ছিলেন অন্তত একজন ওয়াকিয়ানবিশ, যার দায়িত্ব ছিল অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিবরণ ও সংকলন রাজদরবারে প্রেরণ করা।
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম সংবাদপত্র চালু হয় ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জানুয়ারি কলকাতায়। জেমস অগাস্টাস হিকি কর্তৃক প্রকাশিত দুই পাতার এই ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকার নাম ছিল ‘বেঙ্গল গেজেট’ বা ক্যালকাটা জেনারেল অ্যাডভার্টাইজার। হিকি ছিলেন মুদ্রণ ব্যবসায়ী। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে দুই হাজার রুপি খরচ করে তিনি কলকাতায় ছাপাখানা স্থাপন করেন। সেখান থেকেই বেঙ্গল গেজেট মুদ্রিত হয়। পরবর্তী ছয় বছরে কলকাতা থেকে চারটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ক্যালকাটা গেজেট, ফেব্রুয়ারি ১৭৮৪; সরকারি উদ্যোগে প্রকাশিত বেঙ্গল জার্নাল, ফেব্রুয়ারি ১৭৮৫; ওরিয়েন্টাল ম্যাগাজিন অব ক্যালকাটা অ্যামিউজমেন্ট, এপ্রিল ১৭৮৫ এবং ক্যালকাটা ক্রনিকল, ফেব্রুয়ারি ১৭৮৬।
সংবাদপত্র প্রকাশের পথ মসৃণ ছিলো না। ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়তে হতো প্রায়ই। কোনো পত্রিকার সঙ্গে কোম্পানি প্রশাসনের বিরোধ ঘটলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। এই প্রক্রিয়াতেই ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে হিকির ছাপাখানা আটক করে বিক্রয় করে দেওয়া হয় এবং হিকিকে সর্বস্বান্ত করা হয়। বেঙ্গল জার্নাল এবং পরবর্তীকালে ইন্ডিয়ান ওয়ার্ল্ড-এর সম্পাদক উইলিয়ম দুয়েনকে ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে গ্রেফতার করা হয় এবং জোরপূর্বক জাহাজে চড়িয়ে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এমনি ঘটনা ঘটেছে ১৭৯৮ সালে বেঙ্গল হরকরার স্বত্বাধিকারী চার্লস ম্যাকলিয়েন, ১৮২৩ সালে ক্যালকাটা জার্নালের সম্পাদক জেমস সিল্ক বাকিংহাম, পত্রিকাটির পরবর্তী সম্পাদক আর্নটসহ অনেকের ক্ষেত্রে।
উপমহাদেশে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে ‘দিগ্দর্শন’ নামে বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। এই মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশ করে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন। একই বছর মে মাসে শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারিরা আরেকটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করে। এটি ছিল জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত ‘সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ’। এটি প্রায় ২০ বছর চালু ছিল। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দেই বাঙালি মালিকানায় প্রথম সংবাদপত্র বাঙ্গাল গেজেটি প্রকাশিত হয়। মাঝে মধ্যে এতে ইংরেজি ও হিন্দিতে কিছু নিবন্ধ মুদ্রিত হলেও সাধারণভাবে এর ভাষা ছিল বাংলা। ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দের ১ মে জেমস সিল্ক বাকিংহাম সম্পাদিত ক্যালকাটা জার্নাল অর্ধ-সাপ্তাহিক থেকে দৈনিকে রূপান্তরিত হয়। ক্যালকাটা জার্নালই ছিল উপমহাদেশের প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র।
বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলে ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে জেলা শহর রংপুর থেকে প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ‘রংপুর বার্তাবহ’ প্রকাশিত হয়। এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কুন্ডির জমিদার কালীচরণ রায় চৌধুরী। ১৮৬০-৬১ খ্রিস্টাব্দে পূর্ববঙ্গ থেকে অন্তত চারটি সাপ্তাহিক বা মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এগুলো ছিল রংপুরের কাকিনা থেকে প্রকাশিত ‘রংপুর দিকপ্রকাশ, ঢাকা থেকে ‘কবিতা কুসুমাবলী, ‘মনপঞ্জিকা’ এবং পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক ‘ঢাকা প্রকাশ’।
১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মোট ৩৮টি সংবাদপত্র ছিল, যার মধ্যে ১০টি প্রকাশিত হতো পূর্ববঙ্গ থেকে। এ সময়ে অধিকাংশ পত্রিকাই পরিচালিত হতো হিন্দু মালিকানায়। মুসলমান সমাজ ক্রমে শিক্ষিত হয়ে ধীরে ধীরে সংবাদপত্রজগতে প্রবেশ করতে আরম্ভ করে। ১৯০০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত জাতীয় জাগরণ ও ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক তৎপরতার বছরগুলোয় বাংলাদেশ অঞ্চলে সংবাদপত্র শিল্প বিকাশের ভিত্তি প্রস্তুত হয়। এ সময়ে বাংলা থেকে প্রকাশিত ১৭৩টি সংবাদপত্রের মধ্যে প্রায় ৬৫টি পূর্ববঙ্গ থেকে মুদ্রিত হয়। এদের অধিকাংশই ছিল মতামতধর্মী, যেগুলোর উপজীব্য ছিল সাহিত্য, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সমস্যা, সংস্কার এবং ধর্ম।
পাকিস্তান আমলে বেশকিছু সংবাদপত্র প্রকাশিত হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় সংবাদপত্র শিল্প ব্যাপক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। বেশকিছু সংবাদপত্র এ সময় হারিয়ে যায়। অনেকগুলো ছিল দখলদার বাহিনীর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের অধীনে। এর অধিকাংশ আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই প্রকাশিত হতো। প্রায় সবগুলো ছিল সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা মাসিক। কয়েকটি একবার বা দুবার মাত্র প্রকাশিত হয়েছে। অধিকাংশেরই; এমনকি নিজস্ব ভবন পর্যন্ত ছিল না। প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শাশ্বত বাংলা, স্বাধীন বাংলা, জয় বাংলা, সোনার বাংলা, বাংলার বাণী, বিপ্লবী বাংলা, দ্য নেশন, মুক্ত বাংলা, দ্য পিপল, দুর্জয় বাংলা, মুক্তি, একতা ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো ছিল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার এক নতুন ধারার প্রবর্তক।
১৯৭৫ সালের পর থেকে পুরনো পত্রিকাগুলো একে একে আবার প্রকাশিত হতে থাকে। প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সংবাদপত্র ছিল নিয়ন্ত্রিত। সরকারের সমালোচনামূলক খবর ছাপানোর অভিযোগে এ সময় প্রায় ৫০টি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৮৪ সালে ‘যায়যায়দিন’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। পাঠক জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকে এ পত্রিকাটি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশনাকে মেকআপ ও পরিবেশনার ভঙ্গিসহ বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রভাবিত করেছে। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬, ১৭, এবং ১৮নং ধারা অবলুপ্ত করে সেন্সরশিপ ও প্রকাশনা নিষিদ্ধ সংক্রান্ত কালো আইনের বিলুপ্তি ঘটায়। এছাড়া এ সময় প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন অ্যাক্টেরও সংশোধনী আনা হয়। বিশ শতকের নববইয়ের দশকে বিভিন্ন মতের রেকর্ডসংখ্যক পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হয়।
বাংলাদেশে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকাগুলোর মধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রধান সকল পত্রিকা নিয়মিত সাইজের, আর দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে প্রকাশিত অধিকাংশ পত্রিকাই ট্যাবলয়েড আকারের। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকেই ডেস্কটপ পাবলিকেশন প্রযুক্তি বিকশিত হতে থাকে। দৈনিক পত্রিকাগুলো সাধারণত ছাপা হয় অফসেট মেশিনে। ১৯৯৫ সাল থেকে সংবাদপত্রে রঙিন ছবি মুদ্রণও চালু হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য দৈনিক পত্রিকার মধ্যে ছিল ইত্তেফাক, জনকণ্ঠ, ইনকিলাব, আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ, বাংলাবাজার পত্রিকা, মুক্তকণ্ঠ, প্রথম আলো, সংবাদ, মানবজমিন, সংগ্রাম, দ্য বাংলাদেশ অবজার্ভার, দ্য ডেইলি স্টার, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং নিউ নেশন। ২০০০-এর দশকে সংবাদপত্রজগতে উল্লেখযোগ্য নতুন সংযোজন ছিল: যুগান্তর, সমকাল, যায়যায়দিন, আমার দেশ, নয়া দিগন্ত, কালের কণ্ঠ, দি নিউজ টুডে, নিউএজ এবং আমাদের সময়। বিভিন্ন জেলা শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিকসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত আজাদী ও পূর্বকোণ, বগুড়া থেকে করতোয়া, খুলনা থেকে পূর্বাঞ্চল এবং সিলেট থেকে যুগভেরী।
স্বাধীনতার পর যে সকল সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়েছে তাদের মধ্যে বিচিত্রা ও ‘যায়যায়দিন, হলিডে, রোববার, সচিত্র সন্ধানী, পূর্ণিমা, সোনার বাংলা, ঢাকা কুরিয়ার, খবরের কাগজ, আগামী, সাপ্তাহিক ২০০০, সাপ্তাহিক এখন, সাপ্তাহিক প্রতিচিত্র, শীর্ষকাগজ ও শৈলী। মহিলা পাঠকের পত্রিকা সাপ্তাহিক বেগম পাকিস্তান আমল থেকেই প্রকাশিত হচ্ছে। বেগম-এর অনুপ্রেরণায় ১৯৮৭ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে পাক্ষিক অনন্যা। সাংবাদিকতার প্রধান স্রোতের বাইরে বিশেষ বিষয়ের পত্রিকা প্রকাশের ধারা স্বাধীনতার পর থেকে গড়ে উঠেছে। এ ধারার উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহ হলো চলচ্চিত্র, বিনোদন, ক্রীড়া, সাহিত্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি, উন্নয়ন, সমাজ, অর্থনীতি, গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, অপরাধ ও কার্টুন।
১৯৯০-এর দশকের দ্বিতীয়ার্ধ্ব থেকে ইন্টারনেট অনলাইনে সংবাদপত্র ও সাময়িকীর প্রকাশ বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সংবাদপত্র ও সাময়িকীর দেশব্যাপী সার্কুলেশন সংক্রান্ত কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব না থাকলেও, দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইয়ার বুক ১৯৯৮-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে সারা দেশে দৈনিক সংবাদপত্রের সার্কুলেশন ছিল ২২,৩৭,৯৬০ এবং সাময়িকীর সার্কুলেশন ছিল ৯,৮৭,৮১০। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮ সালে সারা দেশে ৪১২টি দৈনিকসহ মোট ৭১২টি সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছে। পত্রপত্রিকার ৯০ শতাংশেরও অধিক বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হয়। বর্তমানে বেশিরভাগ দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার অনলাইন প্রকাশনা রয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি অনেক পাঠক এসব সংবাপত্র এবং সাময়িকী পড়তে পারে।
বাংলাদেশে প্রায় ১,০০০ দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকী প্রকাশিত হলেও ২০০৮ সালে পরিচালিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, গোটা দেশের মাত্র ২৫.০ শতাংশ লোক সপ্তাহে একবার পত্রিকা পাঠ করে থাকে। শহরাঞ্চলে পাঠক সংখ্যার হার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও সর্বসাকুল্যে ৪৩ শতাংশ এবং পল্লী অঞ্চলে এ হার শতকরা মাত্র ১৬.০ ভাগ। সাপ্তাহিক পত্রিকার ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৩ শতাংশ। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের একটি সমীক্ষায় দেখা যায় যে, মাত্র ১২ শতাংশ পাঠক পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন এবং মাত্র ৫৫ শতাংশ পাঠক মনে করেন যে দেশের পত্রিকাগুলোর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। এ আস্থাহীনতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সরকারি হস্তক্ষেপ, প্রি-সেন্সরশিপ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন মহলের বাধা, মালিকের খেয়াল-খুশি, নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অভাব ও সরকারি বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীলতা। এমন সংকটের মধ্যেও সাপ্তাহিক ‘সোনার বাংলা’ তার অবস্থানকে যথাযথভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সাপ্তাহিক ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকার চেয়েও প্রাচীন বেশকিছু সাপ্তাহিক সংবাদপত্র বাংলাদেশে এখনো চালু আছে। তবে ধারাবহিকতা এবং সার্কুলেশন সংখ্যায় সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকাটি এখনো এগিয়ে।
পরিশেষে বলা যায়, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা সমাজ-সংস্কৃতি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আদর্শের চুলচেরা বিশ্লেষণের পাশাপাশি জীবনঘনিষ্ঠ নানা বিষয়ে বিশ্লেষণমূলক লেখালেখি প্রকাশ করে থাকে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকৃতি ও গতিপথ নির্ধারণেও ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করে চলেছে। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের মেলবন্ধন এবং মফস্বলের সঙ্গে বাইরের জগতের সংযোগের সেতু প্রতিষ্ঠায় এ সাপ্তাহিক পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। সর্বোপরি বাংলাদেশের বিশ্বাসী ঘরানার গণমানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাবলির সমান্তরালে লুপ্তপ্রায় জীবন-সংস্কৃতির আবিষ্কার, সৃষ্টিশীলতা ও মননচর্চা, শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের সাধারণ নাগরিকের জীবনবোধে আদর্শিক ধারা সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে চলেছে।
লেখক : কবি ও গবেষক; প্রফেসর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।