আমাদের গৌরবময় সোনালি অতীতকে স্মরণ করে আবার স্বমহিমায় জেগে উঠতে হবে
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৪
॥ আবদুল হালীম খাঁ ॥
বিশ্বসভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সবচেয়ে সংকটময় ও অসভ্য সামাজিক রীতিনীতির যুগ হিসেবে যে অন্ধকার যুগটিকে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে, মানবেতিহাসে তা ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত’ নামে পরিচিত। আর সেই অন্ধকার যুগেই মহানবী সা.-এর বিশ্বজনীন রিসালাত ও পবিত্র কুরআনের বৈপ্লবিক অবদান সেই অন্ধকার বর্বর যুগকে বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে উন্নত, মানবিক ও সোনালি যুগে পরিণত করেছিল।
আর রাসূল সা. মানবতার মুক্তির সনদ তথা ইসলাম নামক জীবন ব্যবস্থা প্রবর্তন করার মাধ্যমে দুনিয়ার বুকে মানবসভ্যতার ইতিহাসে যে সোনালি যুগের সূচনা করেছিলেন, সেই অতুলনীয় সভ্যতার অগ্রযাত্রা কোনোরকম বিরতি ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে তৎপর খোলাফায়ে রাশেদীন, অতঃপর উমাইয়া খেলাফত, তারপর আব্বাসীয় খেলাফত, তারপর উসমানীয় খেলাফত এভাবে একের পর এক প্রায় বারোশ’ বছর স্বগৌরবে সমগ্র বিশ্বসভ্যতায় সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন ব্যবস্থা ও শাসনতন্ত্র হিসেবে দুনিয়ার দুই-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড অত্যন্ত সফলতার সাথে মুসলমানরা শাসন করেছে। অর্থাৎ খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দী থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি ও সমরনীতিসহ মানবসভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে নিবেদিত সফল কল্যাণকর জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অবদানের একক নির্মাতা হচ্ছে মুসলমানগণ। এই সুদীর্ঘ সময়কালের মধ্যে মানবসভ্যতার বিস্ময়কর উৎকর্ষ সাধন ও বিশ্ববাসীর কল্যাণে আবিষ্কৃত সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের জনক হচ্ছে কালজয়ী মুসলিম শাসক, বিজ্ঞানী ও মনীষীবৃন্দ।
মানবসভ্যতার সকল ক্ষেত্রে মুসলমানদের এই কল্যাণকর নেতৃত্ব ও ঈর্ষণীয় অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করতে তৎকালীন অসভ্য বর্বর খ্রিস্টানগণ মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে একের পর এক ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ পরিচালিত করে। অবশেষে কালজয়ী মুসলিম সেনাপতি সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবী পশ্চিমা বিশ্বের সেই আগ্রাসী আক্রমণের এমন দাঁতভাঙা জবাব দেন, যার ফলে ক্রুসেডারদের পাজরে সবগুলো হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। পশ্চিমা বিশ্বের ক্রুসেডের সেই শোচনীয় পরাজয়ের গ্লানি আজো নিজেদের চিন্তা-চেতনায় বহন করে চলেছে। আর এরই ফলে মুসলমানদের নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞান সাধনা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় যে সময়টাতে সমগ্র বিশ্ব; বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশ অজ্ঞতা ও বর্বরতার অন্ধকার থেকে সভ্যতার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছিল। সেই সোনালি চার শতাব্দী বা যুগকেই খুব সুপরিকল্পিত উপায়ে মুসলিমবিদ্বেষী পশ্চিমা বিশ্ব (গবফরবাধষ) বা মধ্যযুগ হিসেবে চিহ্নিত করে বিগত দুই শতাব্দী যাবত ইতিহাস চর্চার নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার-প্রোপান্ডার মাধ্যমে কলঙ্কিত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
বলাবাহুল্য যে, পশ্চিমা দুনিয়া তথা ইহুদি খ্রিস্টান বিশ্বের এই চরম মুসলিমবিদ্বেষ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং মুসলিম জাহানের চরম উত্থানের যুগেই স্পেন থেকে ইন্দোনেশীয় পর্যন্ত এই বিরাট ভূ-ভাগ থেকে ইসলামী শক্তিকে মুছে ফেলার হিংস্র উগ্রতা নিয়ে ইউরোপের সমগ্র ইহুদি-খ্রিস্টান শক্তি ক্রুসেড যুদ্ধের সূচনা করেছিল। ক্রুসেডারদের অমানুষিক হিংস্রতা এবং কলহে লিপ্ত মুসলিম জাহানকে একের পর এক পদানত করার ইতিহাস কোনো মুসলিম সন্তানের পক্ষেই ভুলে যাওয়া সম্ভবপর নয়। স্পেনে মুসলিম শক্তির প্রায় আটশ’ বছরের রাজত্বই শুধুমাত্র ক্রুসেডারদের হাতে বিধ্বস্ত হয়নি, কত মসজিদ, কত বিদ্যালয় কত গ্রন্থগার এবং কত জ্ঞান কেন্দ্র যে জ¦লে-পুড়ে খাক হয়ে তার সঠিক হিসাব দেয়া প্রায় অসম্ভব। সঙ্গে সঙ্গে এই বিরাট ভূ-ভাগ থেকে একটি একটি করে মুসলিম সন্তানকে হয়তো হত্যা অথবা চিরতরে নির্বাসিত করে দেয়া হয়েছে। অনেক খ্রিস্টান ইতিহাসবেত্তা পর্যন্ত বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে ক্রুসেডরদের সেই অমানুসিষক হিংস্রতার কাহিনী বর্ণনা করেছেন। বিগত শতাব্দীতে সংঘটিত নাৎসি বর্বরতার কাহিনী স্মরণ করে যাদের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে, খ্রিস্টানদের দ্বারা অনুষ্ঠিত স্পেনের সেই বর্বর হিংস্রতার ইতিহাস পাঠ করে তারা বরদাশত করতে পারবেন না আমাদের মনে হয়।
স্পেন ধ্বংসের পর থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক খ্রিস্টবাদ মুসলিম জাহানকে চূড়ান্তভাবে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলার প্রচেষ্টায় সমান তৎপর রয়েছে। বিগত শতাব্দীতে এসে মুসলিম শৌর্যের শেষ চিহ্ন তুরস্কের উসমানীয় খেলাফত ধ্বংস করে দেয়ার পর খ্রিস্ট মতবাদের হামলার রূপ বদলে যায়। দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধারাবাহিক চতুর্মুখী আক্রমণে ক্ষত-বিক্ষত মুসলিম জাহানের বুকের ওপর তারা গণতন্ত্র ও উন্নয়নের নামে অবশিষ্ট সম্পদ লুটপাট করার বদ মতলবে ইতিহাস বিকৃত করে গোয়েবলীয় কায়দায় সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার-প্রোপাগান্ডা চালিয়ে মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাস বা মনস্তাত্ত্বিক ক্রুসেড নেমে পড়ে। যার সর্বশেষ অস্ত্র হচ্ছে ইসলামোফোবিয়া এবং ধর্মীয় জঙ্গিবাদ। এক নিরপেক্ষ সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, পূর্বেকার সেই ক্রুসেডিয় হিংস্র হামলার চেয়ে শেষোক্ত মোলায়েম হামলা অধিক কার্যকরী বলে প্রতিপন্ন হয়েছে। কেননা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনুন্নত মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে তারা উন্নয়ন সহযোগী ও শিক্ষা বিস্তারের নামে নিজেদের দানবীয় মতবাদ অনেকটা দৃঢ়মূল করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। আজ মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র মুসলমান নামধারী অনুগত শাসক সম্প্রদায় ও সুশীল সমাজ নামের পদলেহী যে শ্রেণিটি পশ্চিমারা তৈরি করেছে, তাদের দ্বারাই মূলত মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা কারিকুলাম ও ইতিহাসের পাঠ বিকৃত করে (গবফরবাধষ) বা মধ্যযুগ নাম ধারণাটি প্রচার করে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ মুসলমানদের সোনালি অতীতকে অন্ধকার বর্বর যুগ হিসেবে সত্য বানানোর কী ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ও নীলনকশা পশ্চিমা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে প্রণয়ন করে চলেছে, তা যে কোনো বোধসম্পন্ন মানুষকে যুগপৎ হতবাক ও বিস্মত করে। যেমন বিশ্বব্যাপী একের পর এক মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের জন্ম দিচ্ছে পশ্চিমারা আর দোষ চাপানো হচ্ছে নিরপরাধ মুসলমানদের ওপর। ফিলিস্তিন, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, আফগানিস্তান, কাশ্মীর, ইরাক, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন, উইঘুর ও আরাকানসহ মুসলিম বিশ্বের প্রায় আশি শতাংশ অঞ্চলের অধিবাসী নিরপরাধ মুসলমানদের ওপর বিগত অর্ধশতাব্দী যাবত পশ্চিমা শক্তি হয় নিজেরা সরাসরি অথবা অভিশপ্ত ইহুদিদের দ্বারা মুসলমানদের ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। এতদসত্ত্বেও তাদের প্রচারমাধ্যমগুলোয় অনবরত মুসলমানদেরই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হিসেবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ নির্মোহ বাস্তবতা হচ্ছে সন্ত্রাস তথা জঙ্গিবাদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।
সম্প্রতি জার্মানির এক লাইভ টিভি টকশোতে একজন জার্মান মুসলিম স্কলারকে যখন উপস্থাপক প্রশ্ন করেছিল, মুসলমানরা কেন সন্ত্রাস করে? তখন তিনি উক্ত প্রশ্নের জবাব এভাবে উল্টো প্রশ্নের মাধ্যমে দিয়েছিলেন :
১. যারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
২. যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা মুসলিম ছিল?
৩. যারা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের পর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য কুড়ি মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীকে হত্যা করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
৪. যারা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণু বোমা নিক্ষেপ করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
৫. যারা আমেরিকা আবিষ্কারের পর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য উত্তর আমেরিকায় একশ’ মিলিয়ন এবং দক্ষিণ আমেরিকায় পঞ্চাশ মিলিয়ন রেড-ইন্ডিয়ানকে হত্যা করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
৬. যারা ১৮০ মিলিয়ন আফ্রিকান কালো মানুষকে কৃতদাস বানিয়ে আমেরিকা নিয়ে গিয়েছিল। যাদের ৮৮ ভাগ সমুদ্রেই মারা গিয়েছিল এবং তাদের মৃতদেহগুলো আটলান্টিক মহাসাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
এবার আসুন, প্রমাণ করি প্রকৃত সন্ত্রাসী কারা- মুসলমানরা নাকি অন্য ধর্মাবলম্বীরা? আসুন, সন্ত্রাস ও গণহত্যার সেই পরিসংখ্যানটিও নির্মোহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একবার দেখে নিই।
১. হিটলার ষাট লাখ ইহুদিকে হত্যা করেছিল। অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীসহ মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ১০ লাখ। তারপরও তাকে টেররিস্ট বলা হয় না, কারণ সে মুসলিম নয়।
২. জোসেফ স্টালিন একজন কমিউনিস্ট, সে ১০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে। মিডিয়া একবারও তাকে টেররিস্ট বলেনি, কারণ সে খ্রিস্টান।
৩. মাওসেতং একজন নন-মুসলিম। তিনি ১৪ থেকে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছেন। মিডিয়া তাকে বলেনি সে টেররিস্ট।
৪. মুসোলিন (ইতালিয়ান) চল্লিশ হাজার ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যা করেছে, কই মিডিয়া তাকে সন্ত্রাসী বলেনি।
৫. রাজা অশোক শুধু কনিঙ্গ বেটলে তিন লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে হিন্দু টেররিস্ট।
৬. জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাক ও আফগানিস্তানে ১.৫ মিলিয়ন নিরপরাধ নারী-শিশু হত্যা করেছে। কোনো মিডিয়া তাকে টেররিস্ট বলে না। সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তি দেখা গেছে সে রয়েছে ঘৃণিত মানুষের শীর্ষে।
৭. আর হায়দরাবাদ ও গুজরাটে নরেন্দ্র মোদি শত শত নিরপরাধ মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, যা সবারই জানা। তারপরও কেউ তাকে বলেনি হিন্দু টেররিস্ট।
৮. মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর চলছে গণহত্যা, গণধর্ষণ, নির্যাতন-নিপীড়ন। অথচ অত্যাচারীদের বৌদ্ধ জঙ্গি বলা হচ্ছে না।
ভূপৃষ্ঠের যত হত্যা ও সন্ত্রাস হয়েছে, তা সবই করেছে অমুসলিমরা। অবিশ্বাসীদের অপরাধের তুলনায় মুসলমানরা শিশু। তারপরও আপনি বলবেন মুসলমানরা সন্ত্রাসী, জঙ্গি, টেররিস্ট?
মোটকথা পশ্চিমা বিশ্বের এই সকল ঘৃণ্য প্রচার-প্রোপাগান্ডা ও নির্লজ্জ মিথ্যাচারের পেছনে উদ্দেশ্য একটাই আর তা হচ্ছে মধ্যযুগ (Medieval) নামে পরিচিত মুসলিম উম্মাহর সোনালি যুগকে ইতিহাস বিকৃতির ন্যায় ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে কালো থাবায় আচ্ছাদিত করার মাধ্যমে একদিকে যেমন বিশ্বসভ্যতায় মুসলিম উম্মাহর ঈর্ষণীয় সাফল্য এবং অবদানকে অস্বীকার করা হচ্ছে; অন্যদিকে তেমনি নিজেদের পরাজিত অন্ধকার অতীতকে বিশ্ববাসীর চেতনা থেকে বিস্মৃত করে দেয়ার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।
কারণ কোনো জাতির অতীত ইতিহাস ঐতিহ্য ও সাফল্যকে বিকৃতির মাধ্যমে উল্টো করে চিত্রায়িত করে সে জাতির বর্তমান প্রজন্মকে অর্থাৎ তরুণদের মেধা-মনন ও সম্ভাবনাকে দাবিয়ে রাখার এটি একটি পশ্চিমা অপকৌশল। আর এটাই হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির চলমান বাস্তবতায় মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব কর্তৃক পরিচালিত সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ক্রুসেড। অতএব চলমান এই ক্রুসেড যুদ্ধে মুসলিম উম্মাহকে বিজয়ী হতে হলে নিজেদের সোনালি অতীতকে জানতে হবে এবং চেতনায় ধারণ করে স্বমহিমায় জেগে উঠতে হবে।
জাতীয় জাগরণের মহাকবি আল্লামা ইকবাল এ বিষয়টি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে-
বিশ্বজোড়া খ্যাতি ভরা
অতীতকে মোর সামনে রাখি,
অতীতের সেই আরশিতে মোর
ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি।