বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মফস্বল সাংবাদিকতা


২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২১

॥ আবু জায়েদ আনসারী ॥
বস একটি নিউজ দিয়েছি, একটু দেখবেন। মেইলেও দিয়েছি। হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রল করতেই মেসেজটি চোখে পড়ল। আরেক সংবাদদাতার ফোন রিসিভের পর স্বভাবসুলভ কুশল বিনিময়। বললেন ভাই, কয়েক সংখ্যা থেকে তো আমার কোনো নিউজই ধরছেন না। মৃদু স্বরে জবাব দিয়ে বলতে হলো ভাই, গেছে দেখেন সিঙ্গেল কলামে ৫-এর পাতায়। আরেক সংবাদদাতা তো ফোন দিতে দিতে অস্থির। নিউজ পাঠিয়েছেন। অভিযোগ তাকে তো স্থানীয় নেতারা চাপ দিচ্ছেন যে তাদের নিউজ যাচ্ছে না। এজন্য তার প্রতি ক্ষুব্ধ। এবারও মৃদু স্বরে উত্তর, আচ্ছা দেখছি। আর বয়োজ্যেষ্ঠ সংবাদদাতার অনুরোধ ও আপত্তি শুনে তো অবাক হতে হয়েছে স্বল্পকালীন দায়িত্ব পালনের সময়ে। তিনি আখিরাত পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখলেন খবর না ছাপানোর কারণে। খবরের গুরুত্ব ও লেখার মান তো বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রিন্ট পত্রিকায় খবর ছাপানোর জায়গা থাকে নির্দিষ্ট। সারা দেশ থেকে সংবাদদাতারা খবর পাঠান প্রতিদিন। সেগুলোর গুরুত্ব অনুযায়ী বাছাই করে ছাপানো হয়।
অন্যদিকে প্রত্যন্ত সব অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর এবং বিশেষ ঘটনার খবর ছাপানোর তাগিদ অফিসের। কিন্তু মফস্বল সাংবাদিকরা কতটা সেটি তুলে আনতে পারবে রাজনৈতিক চাপ, নিরাপত্তা, পেশাগত যোগ্যতা কিংবা পরিবহন খরচ সামলিয়ে সেই প্রশ্নও থাকে। অবশ্য বিশেষ প্রতিবেদনের জন্য সামান্য কিছু সম্মানী দিয়ে থাকে অফিস। বার্তা সংস্থা ইউএনবিতে কাজ করার সময়ের একটি ঘটনা মনে পড়ে। চাঁদপুরের এক প্রতিবেদককে ফোন করে একটি ঘটনার সংবাদ চেয়েছিলাম। সেই সংবাদদাতা তখন অত্যন্ত ভদ্রভাবেই জানিয়েছিলেন, নিউজটি আনতে তার যাতায়াত খরচ হবে অন্তত ৮০০ টাকা। অনুরোধের সুরে যতটুকু বলা যায়, অফিসের বাজেট বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কথা ভেবে তাতেই থেমেছিলাম।
মফস্বল সাংবাদিকতার পথিকৃৎ চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন ছিলেন ব্যতিক্রম। আর্থিক চাপ দূরত্ব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোনো মহামারি তাকে ঘটনার গভীরে গিয়ে সংবাদ তুলে নিয়ে আসতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ছুটেছেন মাইলের পর মাইল, উত্তরাঞ্চলের জেলা থেকে জেলায়। বেশিরভাগ সময় রংপুর শহরের কেরাণীপাড়ার বাসায় থাকার সুযোগ হয়নি তার। সেসময়ে তার প্রতিবেদন মানেই পত্রিকার শীর্ষ খবর। ১৯৯৭ সালে তাকে একুশে পদকও দেয়া হয় প্রতিবেদনের জন্য।
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক গণমাধ্যমে কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন অনেকটাই সহজ হয়েছে, যা মফস্বল পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের প্রতিবেদন আজও অনুসরণীয় হয়ে আছে। তবে আধুনিক এই সময়ে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সেবা সহজলভ্য থাকায় আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারে ভালো সংবাদ পরিবেশনের।
মফস্বলে সাংবাদিকতায় নানা চ্যালেঞ্জ আগেও যেমন ছিল বর্তমানেও আছে। সাধারণত আর্থিক, রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক নানা জটিলতা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রভাবশালী মহলের চাপ মফস্বল সাংবাদিকতাকে জটিল করে তুলেছে। সংবাদপত্রগুলোয় প্রতিনিধি বা সংবাদদাতা নিয়োগে রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিদের প্রাধান্যও থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রতিনিধি নিয়োগ দিলেও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে না অফিস। ফলে দক্ষতার অভাবে যথাযথভাবে চালিয়ে যেতে পারে না সাংবাদিকতা। তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের সত্যতা যাচাই, রিপোর্টিং করা ইত্যাদি বিষয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় মফস্বল প্রতিনিধিরা। একজন পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য অবশ্যই প্রশিক্ষণ অপরিহার্য বিষয়। এছাড়া নিরাপত্তার অভাবও পরিলক্ষিত হয়। স্থানীয় পর্যায়ের দুর্নীতি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতারা হুমকি, শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক চাপের মুখে রাখে।
মফস্বল সাংবাদিকতার এসব সংকট মোকাবিলা করা অপরিহার্য। এর জন্য যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে এই পেশাকে দাঁড় করাতে হলে প্রথমত, স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতনকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিক সংগঠনগুলোর উচিত নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা। বিশেষত অনুসন্ধানী রিপোর্টিং ও ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে। তৃতীয়ত, মফস্বল সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা দিতে কার্যকর প্রেস কাউন্সিল ও সরকারি নীতিমালা প্রয়োজন। চতুর্থত, স্থানীয় বিজ্ঞাপনের বাজার তৈরি ও সরকারি বিজ্ঞাপন বরাদ্দে স্বচ্ছতা আনা দরকার। তাহলেই গ্রামীণ পর্যায়ের মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো সামনে আসবে এবং সমাধানের পথ খুঁজে পাবে। এতে করে সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হবে, শক্তি পাবে সাংবাদিকের কলম।
বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল মফস্বল এবং বৃহৎ জনগোষ্ঠীও এই মফস্বলে থাকেন। তাই তাদের চাহিদা ও সমস্যা এবং দুর্দশাগুলো তুলে আনতে গ্রামীণ সাংবাদিকতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। মফস্বলে একজন সাংবাদিক তার পেশাগত কারণে যখন কোনো প্রতিকূলতার মাঝে পড়ে, তখন তার নিয়োগকারী সংবাদমাধ্যম তাকে সহায়তার জন্য কতটা এগিয়ে আসে সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে। পাশাপাশি আর্থিক চাপ সামলাতে বহুমুখী পেশার সাথে স্থানীয় সাংবাদিকরা নিজেদের জড়িত করেন। ফলে ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত সংবাদ তুলে আনতে পারেন না। বাংলাদেশের এমন অনেক সংবাদপত্র আছে, যাদের জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিদেরও কোনো নিয়োগপত্র নেই। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম জেলা প্রতিনিধিদের কোনো মাসিক বেতন দেয়া হয় না। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়, এতে প্রশ্নও জাগে কতটুকু সাংবাদিকতার নীতি অবলম্বন করতে পারেন ওই জেলা কিংবা উপজেলা প্রতিনিধি। মফস্বলে যারা সাংবাদিকতা করেন, তারা অনেক বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী সবার হুমকি মোকাবিলা করে তাদের সাংবাদিকতা করতে হয়। মামলার ঝুঁকি কোনো ঝুঁকি না, কিন্তু হামলা, জীবনের ঝুঁকি তাদের মোকাবিলা করতে হয়।
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শামীম রেজা বলেন, যেসব জায়গায় বা পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা সহিংসতা কিংবা অন্যকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন, সেসব জায়গায় সাংবাদিকদের নিজস্ব কিছু প্রস্তুতি থাকা উচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে মফস্বল সাংবাদিকতায় নতুন করে আরও একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা ছাড়া কিভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে, যেখানে অধিকাংশ পত্রিকা, টেলিভিশন কিংবা অনলাইন গণমাধ্যম তাদের বেতন কিংবা সম্মানী দেয় না। নতুন ‘এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ জারি করার পর বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকতায় যুক্ত থাকা কয়েক হাজার মফস্বল সাংবাদিক। এই সংখ্যাটি প্রায় সাড়ে তিন হাজার। তারা বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করতে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নবগঠিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক সাংবাদিক গ্রুপ সূত্রে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত ৭ ডিসেম্বর এমপিওভুক্তির নতুন জনবল কাঠামো ও নীতিমালা-২০২৫ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না। এর মধ্যে সাংবাদিকতা বা আইন পেশাও আছে। এটি করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল করা যাবে। এই বিধান সন্নিবেশিত করায় বিপাকে পড়েছেন এসব সাংবাদিক।
বলা হয়, সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সেই স্তম্ভের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মফস্বল সাংবাদিকরা, যারা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করেও অবহেলিত।
পেশাগত শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ না থাকার চ্যালেঞ্জ : যেকোনো পেশায় প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মফস্বল পর্যায়ে নেই প্রয়োজণীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। ফলে অনেক মফস্বল সাংবাদিকই সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রেরণে নানারকম সমস্যায় পড়েন। ডিজিটাল এই যুগে অনেকেই দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের জন্য ভুলভাল তথ্য ও শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে থাকেন। এ ধরনের সাংবাদিকতা সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের অপসাংবাদিকতায় কারো জীবন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে যাচাই বাছাই করে একটু দেরিতে সংবাদ প্রকাশে সংবাদের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ে। সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দক্ষতা না থাকায় দায়িত্ব জ্ঞানও তৈরি হয় না। ফলে নিজের অজান্তেই অনেকে অপসাংবাদিকতা চর্চায় লিপ্ত হয়।
রাজনৈতিক দুর্বলতা
মফস্বলে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেকেই পারিবারিকভাবেই হোক আর সামাজিকভাবেই হোক রাজনৈতিক কোনো দল বা নেতা-কর্মীদের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। এটা সততার সাথে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রটি নষ্ট হয়ে যায়। সাংবাদিক স্থানীয় রাজনীতিমুক্ত না থাকলে সুষ্ঠু সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন অসম্ভব। মফস্বলে সাংবাদিকতার জন্য জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য আরও একটি দুর্বলতা হলো অনেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে দিনের সমস্ত কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে থাকে। অনেকে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতেও সাংবাদিকতা পেশায় এসে থাকে। তবে যারা গরিব বা অসচ্ছল তারা আরও বেশি ভয়ানক। অনেক সাংবাদিকের সংসারের অভাব অনটনে কিংবা বিলাসিতার কারণে তাকে নীতি বিচ্যুত করে ফেলে। সমাজের অসাধু লোকজন সাংবাদিকের আর্থিক দুর্বলতাকেও কাজে লাগিয়ে নানা অপকর্ম থেকে রেহাই পেয়ে থাকেন।
মফস্বল সাংবাদিকদের পেশাগত স্বচ্ছতা লোপ পাওয়ার অনেকগুলো কারণ থাকে। এর মধ্যে স্ত্রী সস্তানদের চাকরির নিরাপত্তা, ট্রান্সফার, হয়রানি, ব্যবসায়িক সুবিধা, ঠিকাদারি ইত্যাদি। এছাড়া পেশাগত কাজের স্বার্থে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনের সাথে ওঠাবসা ও সুসম্পর্কের সুবাধে অনেক মফস্বল সাংবাদিকই এলাকায় আদিপত্য বিস্তার করতে চায়। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে অনেকেই স্থানীয় ঠিকাদারিও করে থাকেন। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো মফস্বলের অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধেই এলাকায় মাদক বিক্রি বা সহযোগিতার অভিযোগ আছে। তবে সবকিছুর মূলে সাংবাদিকতা পেশাটির সত্যিকার বিকাশ সেভাবে হয়নি। এ খাতটিতে আর্থিক নিরাপত্তা না থাকায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে।
অতি সম্প্রতি একটি ঘটনা বেশ নাড়া দিয়েছে। ব্যক্তির মতাদর্শ যাই হোক, একটি বাস্তবতাকে সামনে এনেছে ঘটনাটি। সিনিয়র সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার মারা যাওয়ার আগে ‘জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন’ শিরোনামে অফিসে একটি লেখা পাঠিয়েছিলেন। সেই লেখায় তিনি জীবনের বেশকিছু কষ্টের কথা লিখেছিলেন।
তিনি একটি অংশে লিখেছিলেন, ‘আমি লিখি, কারণ আমি জানতাম সাংবাদিকতা মানে সাহস। সত্য প্রকাশ মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়ার নাম। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতা বলছে, সত্য লিখতে হলে কখনো কখনো ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য হারাতে হয়। আমি তেমন স্বাচ্ছন্দ্য চাইনি কখনো। তবে সারা জীবন হাত পেতে চলতে হবে এটাও চাইনি।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘নামে-বেনামে হাজার হাজার লেখা লিখেছি। সম্মানী কিন্তু পেয়েছি খুবই কম। কোনো কোনো পত্রিকা তো কয়েক বছর লেখার পরও একটা টাকা দেওয়ার গরজ বোধ করেনি। সেদিক থেকে অনলাইনগুলো অনেক ভালো। একটি বড় অনলাইনের কাছেও আমার মোটা টাকা এখনো পাওনা আছে। অথচ এখন আমার দৈনন্দিন জীবন শুরু হয় ওষুধ খেয়ে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিয়ে এবং ওষুধ কেনার টাকার চিন্তায়।’
মফস্বল সাংবাদিকদের এমন করুণ অবস্থা দেশে অহরহ। সাংবাদিকতা পেশাকে মহান করে তুলতে হলে রাষ্ট্রকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। সুষ্ঠু নীতিমালা, প্রশিক্ষণ, আর্থিক নিরাপত্তা বিধান করাসহ এ খাতটিকে শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তবেই আরও বেশি মেধাবীরা এ পেশায় আসবেন। মূলত সাংবাদিকতাকে জাতির শিক্ষকও বলা হয়। কেননা একজন সাংবাদিকের প্রতিবেদন বা লেখা থেকে সকল শ্রেণির মানুষ জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করে থাকেন, সমাজকে বোঝার চেষ্টা করে থাকেন।