সাপ্তাহিক সোনার বাংলা আমার হৃদয়ে জাগায় প্রেরণা
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:১২
॥ আসাদুজ্জামান আসাদ ॥
আমি সাহিত্যিক বা লেখক কিছুই না। আমি একজন সোনার বাংলা পত্রিকার পাঠক। পাঠক হিসেবে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা আমার হৃদয়ে প্রেরণা, স্পন্দন ও আলোকবর্তিকা। এ পত্রিকাটি পাঠ না করলে আমার মনের মাঝে বিরাট এক শূন্যতা বিরাজ করে। মনের শূন্যতা দূর করার নিমিত্তে পত্রিকাটি নিয়মিত পাঠ করি। কেন পড়ি, কী পড়ি? তা জানতে হবে। দেশের সুনামখ্যাত লেখক, কবি ও সাহিত্যিকগণ তথ্য পুর্ণ তথ্যে নির্ভরশীল জ্ঞান প্রবন্ধের মাধ্যমে পত্রিকায় প্রকাশ করেন। এ সব লেখা দেশ ও জাতির মুল্যায়নের বড় বিষয় বস্তু। প্রতিটি প্রবন্ধ-নিবন্ধন জ্ঞানের সাগর। জ্ঞানে ভরা এক বিরাট তৈরি। প্রবন্ধের মননশীল ভাষা ও অর্থবহ শব্দমালা হৃদয় সাগরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ আলোড়নে হৃদয় সাগরে প্লাবন ওঠে। মনোযোগ সহকারে পাঠ করলে অনেক উপকার রয়েছে। এখানে এক সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ খবরাখবর সুস্পষ্ট ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। শুধু তাই না। এ পত্রিকায় ইসলামী প্রবন্ধ দীনি দাওয়াতের কার্যক্রম, ইসলামী ইতিহাস, অর্থনীতি, সমাজ নীতি, নবী-রাসূল, সাহাবী ও ইসলামী জ্ঞানি-গুণী ও মনীষীদের জীবনের ঘটমান ঘটনাবলি প্রকাশিত হচ্ছে। যা পাঠককে মনোমুগ্ধ ও আকর্ষণীয় করে তুলছে। যা দেশ ও জাতির কাছে উপদেশ, পরামর্শ ও বুদ্ধির মাইল ফলক হিসাকে কাজ করছে। সুস্পষ্ট মনো মুগ্ধকর ভাষা ও অর্থবহ শব্দমালা পাঠকের হৃদয়ে ঝড় তুলছে। জ্ঞানসমৃদ্ধ লেখা মনের শূন্যতা পূরণ করছে। পাঠক বুনিয়াদি শিক্ষা লাভ করছে। বাস্তব জীবনে সংশোধন ও সংবেদনশীল হিসেবে গড়ে তুলার সুযোগ প্রচেষ্টা চালাছে। আমি সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় বিভাগসহ মব প্রবন্ধ-নিবন্ধ যথাযথভাবে পাঠ করি। বাস্তব জীবনে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমরা মানুষ। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। মহান আল্লাহ সাহিত্যরস দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সাহিত্যরসকে সবাই প্রকাশ করতে পারি না। কেউ কথা দিয়ে আবার কেউ লিখিতভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি। তবে এ পত্রিকাটি মনের ভাব প্রকাশে সবার জন্য উন্মুক্ত। যে কেউ নিজের মনের ভাব করতে পারেন। সাহিত্যঙ্গন, মুক্ত ভাবনা, মহিলাঙ্গন, বিজ্ঞান বিভাগসহ সব বিষয়ের লেখাগুলো মনোযোগ সহকারে পাঠ করলে অনেক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক সোনার বাংলার গুণগতমান সার্বক্ষণিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পত্রিকাটি আমি নিজে পড়ি এবং অন্যকে পড়ার জন্য উৎসাহিত করি।
আমি সোনার বাংলা নিয়মিত পড়ি। সেখান থেকে জ্ঞান অর্জন করি। আমি নিয়মিতভাবে সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, সাহিত্য, পাতাবাহার, মহিলাঙ্গন, মুক্ত ভাবনা ও বিজ্ঞান বিভাগ সব বিভাগের লেখাগুলো মনোযোগ সহকারে পড়ি এবং বাস্তব জীবনে বাস্তবায়ন করার আপ্রাণ চেষ্টা করি। আমি পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করি। ভাবনা মানে হৃদয়ের টান। আমি ভাবনার মাঝে নিজে হারিয়ে ফেলি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করছি। একসময় ভাব থেকে লেখার উপকরণ উপস্থিত হয়। ছড়া, কবিতা প্রবন্ধ লিখে ফেলি। এভাবে লেখার লড়াই শুরু করি। একদিন কবি গোলাম মোহাম্মদ ভাইকে নিয়ে একটি ছড়া সোনার বাংলা পত্রিকায় পাঠাই। ছড়াটি হলো-
‘হিজল বনের কবি’
(কবি গোলাম মোহাম্মদ স্মরণে)
গোপাল পাড়ার ছেলে তুমি হিজল বনে কবি
কাব্য কথায় মধুর ভাষায় করতে লেখালেখি
পাখির খোজে শ্যামল সবুজ ঘন গহিন বনে
লোকান্তরে লুকিয়েছ কোন মান অভিমানে।
তোমার শোনিত রাঙানো ফিরে চলা এক নদি
তোমার বিরহে মাটি মা মানুষ কাঁদে নীরবধি
ছড়ায় ছড়ায় সুখের মিনার দুর আকাশের গায়
তারার মেলায় অদৃশ্য চিল যখন পরীরা গান গায়।
দুঃখ ভরা মনের কথা বলছ পাখির সনে
হারিয়ে গেলে অভিমানে চিরসবুজ বনে
পাখির খোঁজে খুঁজে ফেরা হিজল বনের কবি
কাব্য কথায় লিখেন তিনি গ্রাম বাংলার ছবি।
চমৎকার ছড়াটি ২০০৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার প্রথম পাতায় গোলাকৃতিভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আমি ছড়াটি পড়ে আনন্দের সাগরে হারিয়ে যাই। আমার হৃদয়ের গতিপথ যেন থমকে দাঁড়ায়। কারণ একজন লেখকের প্রথম লেখা যখন কোনো পত্রিকার ১ম পাতায় ছাপানো হয়, তখন কি যে আনন্দ তা ক্ষুদ্র জ্ঞানে বোঝানোর ভাষা জানা নেই। লেখা ছাপানোর কী মজা, তা সেই দিন আমি বুঝতে পেরেছি। তারপর আমার মনটা লেখালেখির জন্য পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকে। ছড়া-কবিতা, ফিচার ও প্রবন্ধ লেখালেখি বিরামহীনভাবে শুরু করি। লেখা পাঠাতে থাকি সোনার বাংলা, নয়া দিগন্ত ইনকিলাব, সংগ্রাম, সমকাল, আমার দেশ, করতোয়া, প্রতিদিনের সংবাদ, বাংলাদেশ সময়, মাসিক মদিনা, আদর্শ নারী, কিশোর কণ্ঠ, সবুজ পাতাসহ বিভিন্ন সাহিত্য ম্যাগাজিনে। আমার সব লেখা প্রকাশ না হলেও অধিকাংশ লেখাই প্রকাশ হতো। একজন পত্রিকার পাঠক থেকে, কবি, লেখক ও সাংবাদিক হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমার লেখা দুটি উপনাম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বই দুটির হলো ‘সন্ধ্যা প্রদীপ তুমি’ ও ‘নদীর জলে ঢেউ’। আরো একটি কাব্য ও একটি উপনাসের বই প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। ইউটিউবে আমার লেখা বেশ কয়েকটি ইসলামী সংগীত রয়েছে। এ দেশের খ্যাতিমান সুরকার ও কণ্ঠ শিল্প ওবায়দুল্লাহ তারেক নিজে সুর দিয়ে ইসলামী সংগীতটি পরিবেশন করেন। বাহ! কতই না মজার বিষয়। একদিন মোবাইলে ফোনে কথা হলো সাপ্তাহিক সোনার বাংলা সাহিত্য সম্পাদক হারুন ইবনে শাহাদাত ভাইয়ের সাথে। তিনি উপদেশ ও পরামর্শ দিয়ে বলেন, আসাদ ভাই আপনি ইচ্ছা করলে সোনার বাংলা পত্রিকায় পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারেন। যেই কথা সেই কাজ। শুরু করি প্রতিনিধির কাজ। তারপর ঘটনা ক্রমে আস্তে আস্তে ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, গল্প, ফিচার এবং গ্রন্থকার হয়ে উঠি। বিরামহীনভাবে লিখে যাচ্ছি। সাপ্তাহিক সোনার বাংলার একজন পাঠক থেকে লেখক হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
পরিশেষে যে কথাটি বলতে চাই, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা একটি বহুল প্রচারিত পত্রিকা। এখানে সংস্কৃতি সভ্যতা, সাহিত্য বিজ্ঞানসহ জ্ঞানসমৃদ্ধ লেখা প্রকাশিত হয়ে থাকে। লেখার বিষয়টি সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রবন্ধ-নিবন্ধ পাঠ করি এবং বাস্তব জীবন সংশোধন ও মুল্যবোধ সৃষ্টির চেষ্টা করি। ইসলামী মূল্যবোধ, রাজনীতি, সমাজনীতি, অথনীতি, শিক্ষাসহ সব বিষয়ের মূল্যায়ন সমগ্র জীবনে রাঙিয়ে তুলি। নিজে পড়ি এবং অন্যকে পড়ার জন্য উৎসাহ দিই। এই হোক আজকের প্রত্যাশা।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, গ্রন্থকার।