হজযাত্রীদের জন্য কিছু পরামর্শ


২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫৪

॥ একেএম রফিকুন্নবী ॥
ইসলামের ৫ খুঁটির মধ্যে একটি হলো হজ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে মুসল্লিরা হজের উদ্দেশে কাবার দিকে রওনা শুরু করেছেন। আমরা এবারের সব দেশের মুসল্লিদের জন্য দোয়া করছি- যাতে তারা হজের সময়টাতে সুস্থ থাকেন এবং তাদের হজ যাতে মহান আল্লাহ কবুল করেন।
বর্তমানে হজ ব্যবস্থা অনেক সহজ হয়েছে। বিশেষ করে সব দেশের হজ ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন হজ এজেন্সির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করার কারণে ভালো ভূমিকা রাখছে। তবে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হজ এজেন্সির মাধ্যমেই হজে গেলে থাকা-খাওয়া, দর্শনীয় এলাকা পরিদর্শন সবই ঠিকঠাকমতো হবে। যারা আগেই কাবায় যাবেন, তারা শুধুমাত্র হজের দিকেই নজর দেবেন। কেনাকাটা মদিনা থেকেই করবেন। এতে আপনার সময় ঠিকমতো কাজে লাগবে এবং মদিনায় তুলনামূলক কম দামে জিনিসপত্র কিনতে পারবেন। আপনাদের মনে রাখতে হবে, হজ আপনার জন্য ফরজ। আবার কাবায় এক রাকাত নামাজে লাখ রাকাতের সওয়াব মহান আল্লাহ দেবেন। তাই অবশ্য ৫ ওয়াক্ত নামাজ কাবায় জামাতের সাথে পড়তে হবে। কারণ আপনি কষ্ট করে হজে গেছেন আপনার গুনাহ মাপের জন্য এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান জান্নাতুল ফেরদাউস পাওয়ার জন্য। তাই কাবায় থাকার সময় ২৪ ঘণ্টাই আপনাকে ইবাদতের আওতায় থাকতে হবে। ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ছাড়াও শেষ রাতের তাহাজ্জুদ, কিয়ামুল লাইল নামাজ জামাতে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া উঠতে-বসতে চলার সময় সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু! আকবার পড়তে হবে। ঘুমের সময়টাকেও ইবাদতের আওতায় আনার জন্য এশার নামাজ ও ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়তে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় নিয়ত করে ঘুমাতে হবে যে, হে আল্লাহ আমাকে ফজরের নামাজ জামাতে পড়ার তাওফিক দাও। এভাবে যদি আমরা সময় কাটাতে পারি মক্কা-মদিনায়, তবে আমাদের সব সময়টাই ইবাদতের আওতায় আনা যাবে।
হজের মূলত সময় মাত্র ৫ দিন। মিনা, আরাফাত, মুজদালিফায় এ সময় কাটাতে হবে। আপনার হজ এজেন্টরা আপনাদের সঠিক সময় এবং দিকনির্দেশনা দেবে। তবে মনে রাখতে হবে, হজের সময়টা যেহেতু আপনার জন্য নতুন এবং আবহাওয়া আপনার জন্য অনুকূল নয়, তাই আপনার কিছু অসুবিধা হবেই। বাসা থেকে রওনা দেয়ার সময় থেকে শুরু করে ফিরে আসা পর্যন্ত আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
যারা স্ত্রী-মেয়ে সাথে নিয়ে যাবে, তাদেরও প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে- তারা এক সাথেও থাকতে পারবেন আবার ছেলেরা ও মেয়েরা আলাদা রুমে থাকতে পারবেন। এতে হজের কোনো অসুধিা হবে না। তবে মনে রাখতে হবে, মাহারাম ব্যক্তির সাথেই মেয়েরা হজে যাবেন।
হাজী সাহেবদের সজাগ থাকতে হবে যাওয়া-আসার সময় এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে সব জায়গায় জামাতে নামাজ পড়ার সুবিধা আছে। একটু সজাগ থাকলেই আপনারা জামাতে নামাজ পড়তে পারবেন। এমনকি প্লেনেও আপনারা জামাতে নামাজ পড়তে পারবেন। বিমানের লোকদের বললেই তারা জায়গা দেখিয়ে দেবে। আমাদের কিন্তু সব জায়গায়ই জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে।
হজে যাওয়ার সময় বড় কোনো লাগেজ না নেয়াই ভালো। ছেলে বা মেয়েরা ২-৩ সেট কাপড় নিলেই হবে। যেখানে আপনারা থাকবেন, সেখানে কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা আছে। আপনাদের দেশের মতোই পানির কোনো অভাব নেই। শুধু নদী-নালা, পুকুর আমাদের দেশের মতো দেখতে পাবেন না। আবার আপনারা যারা জায়নামাজ থেকে শুরু করে কোনো ভারী জিনিসপত্র টেনে না এনে যার যার দেশেই এগুলো পাওয়া যায়। তাই আত্মীয়-স্বজনদের গিফট দিতে চাইলে দেশের বাজার থেকেই আপনারা সংগ্রহ করতে পারবেন। অতিরিক্ত ভারী বোঝা না টানাই ভালো।
আমাদের হজযাত্রীদের দুটি জিনিস খুবই প্রয়োজনীয়। এক. পাসপোর্ট, দুই. ডলার বা রিয়াল। এ দুই জিনিস আপনার লাগবেই। তাই এ দুটি জিনিস যত্নে রাখতে হবে। হজের সময় লোকসমাগম প্রচুর। তাই সঙ্গীদের হারিয়ে যাবার ভয় থাকে। যেহেতু বর্তমানে আপনাদের সবারই মোবাইল হাতে থাকে, তাই ভয়ের কোনো কারণ নেই। তবে একটা জিনিস যদি আপনার ঠিক করে রাখেন যে, পথ ভুলে গেলে একে অপরকে জানিয়ে রাখবেন কাবার হজরে আসওয়াদ বরাবর ওপরের দিকে সবুজ বাতি জ¦লতে থাকে। তাই কেউ পথ ভুলে গেলে ঐ সবুজ বাতির পাশে দাঁড়ালে অন্যরা ফলো করতে পারবেন।
হজের সময় জমজমের পানি পান একটা বড় পাওয়া। জমজমের পানি মক্কা-মদিনায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। কাবাঘর ও মদিনার মসজিদে সারি সারি জমজমের পানির পাত্র সাজানো আছে। কোনটা নরমাল, কোনটা ঠাণ্ডাÑ লেখা আছে। তবে আমি আপনাদের পরামর্শ দেব অতি ঠাণ্ডা পানি না পান করার। গরমের মধ্যে ঠাণ্ডা পানি পান করলে গলা বসে যেতে পারে। হাজী সাহেবদের জন্য বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য ফিরতি ফ্লাইটের পথেই টাকা জমা দিলে জমজমের পানির পাত্র পেয়ে যাবেন।
মহান আল্লাহ এই জমজমের পানির ভাণ্ডার হাজার হাজার বছর যাবৎ সরবরাহ করে যাচ্ছেন। আপনাদের মনে থকার কথা নবী ইবরাহীম আ.-এর বৃদ্ধকালের ছেলে ইসমাইল আ.-এর জন্মের পর বিবি হাজেরাকেসহ এই প্রান্তরে খোলা আকাশের নিচে রেখে গিয়েছিলেন। শিশু ইসমাইল আ.-এর জন্য পানি খোঁজার জন্য বিবি হাজেরা সাফওয়া-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে ৭ বার চক্কর দেয়ার পর হঠাৎ দেখতে পেলেন তার শিশুসন্তান ইসমাইল আ.-এর পায়ের পাশে পানির মতো কিছু দেখা যায়, তিনি এসে দেখেন, ইসমাইল আ.-এর পায়ের গুঁতায় একটি ছিদ্র হয়েছে এবং ওখান থেকে পানি বের হচ্ছে। তিনি এই পানির গর্ত চার দিক থেকে বাঁধ দিয়ে দিলেন। তখন এটি পানির জন্য সংরক্ষিত হতে থাকে। যা আজকে পর্যন্ত জমজম কূপ নামে পরিচিত। হাজার হাজার বছর যাবত এই কূপ থেকে মানুষ পানি খাচ্ছে এবং দেশে দেশে নিয়ে যাচ্ছে। পানির কোনো ঘাটতি নেই। জাপানি একদল পানি বিশেষজ্ঞ এ পানি পরীক্ষা করে দেখেছেন, কেউ যদি এক বালতির মধ্যে জমজমের একটু পানি দিয়ে দেয়, তবে গোটা পানিই জমজমের পানির গুণ অর্জন করে। আমি একজন বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারকে হজ থেকে ফিরে আসার পর জানতে চাইলাম, সৌদি আরব জ¦ালানি তেল ও গ্যাসের ওপর ভাসছে, কিন্তু এই যে জমজম দীর্ঘদিন যাবত ফ্রেস পানি সরবরাহ করছে, তাতে তো তেল ও গ্যাস মিশে যায় না। তিনি বললেন, এটা মহান আল্লাহ তায়ালার কুদরত। এতে মানুষের কোনো হাত নেই। আমরা যখন ১৯৯০ সালে হজে গিয়েছিলাম, তখন কাবার অদূরে নিচে নেমে জমজমের কূপ দেখেছিলাম এবং পানি পান করেছিলাম। এখন কিন্তু ঐ কূপ ঢেকে দেয়া হয়েছে। কূপের নিশানা দেখা যায় না। তবে ঠিকই মেশিনের মাধ্যমে অনবরত পানি উঠানো হচ্ছে এবং খাওয়ার জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। সবই আল্লাহর কেরামতি।
মক্কা মদিনা, আরাফা ময়দান, মিনা, মুজদালিফা কোথাও পানির অভাব নেই। সৌদি সরকার হাজী সাহেবদের জন্য প্রচুর পরিমাণ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। হজের সময় ট্রাকে ট্রাকে হাজী সাহেবদের জন্য সড়কে সড়কে পানি সরবরাহ করে থাকে বিভিন্ন দাতা সংস্থাগুলো। মহান আল্লাহ তাঁর মেহমানদের কোনো অভাবই অপূরণ রাখে না। এখন তো মিনার তাঁবুগুলোয় এসির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ইসমাইল আ. যখন যুবক, তাঁর বাবা ইবরাহীম আ.-এর সাথে চলাফেরা করতে পারেন। ওইসময় মহান আল্লাহ নবী ইবরাহীম আ.-কে তাঁর প্রিয় বস্তুকে কুরবানি দেওয়ার স্বপ্ন দেখালেন। সবকিছু চিন্তাভাবনা করে তিনি তাঁর প্রিয় ছেলে ইসমাইল আ.-কে কুরবানির দেওয়ার জন্য মক্কার অদূরে নিয়ে গেলেন এবং তাঁকে স্বপ্নের কথা জানালেন। ইসমাইল আ. স্বেচ্ছায় বললেন, আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। তিনি আরো বললেন, আপনার চোখ বেঁধে নেনÑ যাতে আমার গলায় ছুরি চালাতে আপনার মায়া না হয়। যে কথা সেই কাজ। নবী ইবরাহীম আ. ছেলেকে শুইয়ে গলায় ছুরি চালাতে গেলেন। রক্ত বের হলো। চোখ খুলে দেখলেন, ইসমাইল আ. পাশে দাঁড়িয়ে আছে আর একটি দুম্বা জবাই করা অবস্থায় পড়ে আছে। এটাই আল্লাহর পরীক্ষা। তখন থেকে এখন পর্যন্ত মুসলমানদের কুরবানি দেওয়ার রেওয়াজ চালু আছে।
হজ তাদের ওপর ফরজ যাদের সারা বছরের নিজের খরচের পর মক্কা-মদিনায় যাতায়াতের ভাড়া ও খাওয়ার খরচ মেটাতে পারবে, তাদের ওপর হজ ফরজ। তাদের সুস্থও হতে হবে। সফরের জন্য শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই কেবল তাদের জন্য হজ ফরজ। বয়সের দিক থেকে বালেগ হতে হবে।
হজের সময় হাজী সাহেবরা মহান আল্লাহর কাছে হাজিরা দেয়। তাই বলে অনবরত লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াহ নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুলক লা শারিকা লাক। ‘হে আল্লাহ! আমরা হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই। আমরা তোমারই গুণগান গাই, তুমিই এ জাহানের মালিক, তোমার নিয়ামত চাই, তোমার কোনো শরিক নেই।’ এ দোয়া অনবরত পড়তে হবে হজকালীন।
আমরা যখন কাবাঘর তাওয়াফ করব তখন এ দোয়া বেশি বেশি পড়তে হবে। রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতা ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানা। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান কর। সূরা ফাতেহাও কিন্তু বড় দোয়ার সূরা।
হজ মুসলমানদের জন্য বিশ্ব সম্মেলন। এ সময় গোটা দুনিয়া থেকে মানুষ কাবার ঘরে আসে, আরাফা ময়দানে উপস্থিত হয়ে আল্লাহর কাছে হাজিরা দেয় এবং আল্লাহর প্রশংসা করে। এ সময়ে আমরা যদি গোটা দুনিয়ার মুসলমানদের প্রতিনিধি নিয়ে হজের পরপরই মক্কায় একটি মিলনমেলা করে দুনিয়ার ভালোমন্দ নিয়ে আলোচনা করি এবং দুনিয়ার কল্যাণের জন্য গোটা বছরের জন্য পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হই, তবে মুসলমানদের জাতি হিসেবে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
মুসলমানদের হাতে সম্পদের অভাব রাখেনি মহান আল্লাহ। এ সম্পদ বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজে লাগাতে পারলে দুনিয়া শাসন করা খুবই সহজ হবে। আমেরিকা-ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া ইরানের সাথে যুদ্ধ একটি অন্যায় এবং অগ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ। মুসলিম শাসকগণ একত্রিত হয়ে আওয়াজ তুললে আমেরিকা-ইসরাইল মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। এক ইরানের ভয়েই দুনিয়ার বড় মাস্তান পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে।
আমরা এই হজের সময় যেমন মহান আল্লাহর কাছে কায়মনে দোয়া করব গোটা দুনিয়ার কল্যাণের জন্য এবং দুনিয়াব্যাপী অমুসলিমদের কাছে এক আল্লাহর দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য। ইরান, সৌদি আরব, মিশর, তুরস্ক, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া বাংলাদেশসহ সব মুসলিম দেশকে এগিয়ে আসতে হবে ঐক্য করে দুনিয়ার শাসনের পরিকল্পনা করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন কোনো সন্দেহ নেই। মুসলমানরা আল্লাহর দিকে এক পা এগোলে মহান আল্লাহ তার দিকে রহমতের দরজা খুলে দেন।
হজ জীবনে একবারই ফরজ। বারবার হজে না গিয়ে ঐ টাকা সমাজসেবায় কাজে লাগালে আল্লাহর রহমত পাওয়া সহজ হবে। দরিদ্র মানুষকে কর্মক্ষম করতে পারলে আল্লাহর রহমত পাওয়ার দরজা খুলে যাবে।
হজের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। গোটা দুনিয়া থেকে সক্ষম মুসলমানরা কাবার দিকে রওনা হয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। নির্দিষ্ট দিনেই আরাফা ময়দানে সমবেত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে হাজিরা দিতে হবে এবং আল্লাহর একাত্মতা এবং তার প্রশংসা করতে হবে এবং দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করা আমাদের অন্যতম কাজ। হজের এ সময়ে দেশে দেশে সব মুসলমানদের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিত হবে। একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে। জনশক্তি ও সম্পদের আদান-প্রদান করে দুনিয়ায় ভারসাম্য কায়েম করতে হবে। মহান আল্লাহ এই হজ মৌসুমে গোটা মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার ও প্রসারের কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। সাথে সাথে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-ফাসাদ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার উদ্যোগ নিলে মহান আল্লাহ হজের মৌসুমে কবুল করবেন, কোনো সন্দেহ নেই।
লেখক : সাবেক সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল : rnabi1954@gmail.com