গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজপথে বিরোধী জোট
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৭
২ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে কর্মসূচি
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ঐক্যবদ্ধ ১১ দলীয় জোট রাজপথে সরব হচ্ছে। সরকার গঠনের পর বিরোধী এই জোট কর্মসূচি ঘোষণা করে রাজপথে সক্রিয় রয়েছে। সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস হলো, এখনই কেন বিরোধীদল রাজপথেÑ এমন প্রশ্ন যখন সামনে আসছে, তখন বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে ঠেলে দিচ্ছি। কারণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। ওই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রণীত হয়েছে জুলাই সনদ। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণের কাছ থেকে আলাদাভাবে রায়ও (গণভোট) নেওয়া হয়েছে। জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রায় দিয়েছেন। একইভাবে সাংবিধান সংস্কারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ও তার মিত্র দলগুলোর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়নি। সরকার গঠন করার পর অন্তর্বর্তী সরকারের অনেকগুলো অধ্যাদেশ বাতিল করেছে বর্তমান সরকার। সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয় বাতিল করে দিয়েছে বিএনপি। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই বিএনপি জনগণের ইচ্ছা ও প্রত্যাশার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে রাজপথে যাওয়া ছাড়া বিরোধীদলগুলোর বিকল্প নেই। এখনো বিরোধীদলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংসদের ভেতরে বাইরে আলোচনার পথ খোলা, যদি আলোচনায় সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান না হয়, তাহলে রাজপথেই সমাধান খুঁজবে বিরোধীদলগুলো।
রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সংলগ্ন আল-ফালাহ মিলনায়তনে গত ১৬ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে ১১ দলীয় জোট। জোটের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আগামী ২ মে পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গত ১৮ এপ্রিল থেকে আগামী ২ মে পর্যন্ত কর্মসূচি পালিত হবে। কর্মসূচির মধ্যে গত ১৮ এপ্রিল শনিবার রাজধানী ঢাকায় ছিল গণমিছিল, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। আগামী ২৫ এপ্রিল ঢাকা বাদে অন্য বিভাগীয় শহরগুলোয় এবং ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ, সেমিনার আয়োজন অব্যাহত রাখবে ১১ দলীয় জোট। গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এসব কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও ২৫ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা সমাবেশ করবে জামায়াতে ইসলামী। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার প্রমুখ।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই ধাপ শেষে নেওয়া হবে পরবর্তী ধাপের কর্মসূচি। সেই ধাপে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে ১১ দলের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ হবে। সমাবেশসহ কর্মসূচির দিনক্ষণ পরবর্তী সময়ে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে ঠিক হবে। এরপর ১১ দল রাজধানীতে বিশাল সমাবেশ করবে। সেই সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকার গণরায় মানছে না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নই ১১ দলের আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। সে পর্যন্ত ১১ দল দফায় দফায় কর্মসূচি দেবে।
এর আগে গত ১৩ এপ্রিল রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হল মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রোডাক্ট (জুলাই আন্দোলনের ফসল)। তিনি বলেন, ‘জুলাই আছে আমরা আছি, জুলাই আছে সরকার আছে, জুলাই আছে বিরোধীদল আছে, জুলাই নাই কিছুই নাই। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না, ইনশাআল্লাহ। গণভোটের গণরায়ের মাধ্যমেই জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে।’ রাজপথের আন্দোলন সফল করেই বিরোধীদল ঘরে ফিরবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এই আন্দোলনে দেশবাসীকে পাশে থাকার আহ্বান জানান।