সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪৫
চীনের দিকে ঝুঁকছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিগুলো ক্রমেই চীনের দিকে ঝুঁকছে, এমনটাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক তথ্যগুলোয়। গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার প্রকাশিত সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের স্টেট অব সাউথইস্ট এশিয়া: ২০২৬ সার্ভে রিপোর্ট’ অনুসারে, পক্ষ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে উত্তরদাতাদের একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনকেই বেছে নেবে বলে জানিয়েছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার আগে, ৫ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিচালিত এ সমীক্ষায়, দুটি প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার কাল্পনিক পরিস্থিতিতে ২ হাজরেরও বেশি উত্তরদাতার মধ্যে ৫২ শতাংশই চীনকে বেছে নেওয়ার কথা বলেছেন। এটি ফলে গত বছরের প্রতিবেদনে চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যে সামান্য ব্যবধান ছিল, তা উল্টে দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, তিমুর-লেস্তে, থাইল্যান্ড এবং ব্রুনাইসহ বিভিন্ন দেশে চীনের প্রতি সমর্থন বিশেষভাবে শক্তিশালী। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন (আসিয়ান) জুড়ে প্রায় ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে তারা চীনকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়া ১৫ দশমিক ৩ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এ অঞ্চলে চীনই সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি হিসেবে বিবেচিত, এরপরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং আসিয়ানের অবস্থান। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৫১.৯ শতাংশ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন নেতৃত্বকে তাদের প্রধান ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যেসব উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসিয়ানের সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা করছেন, তারা ওয়াশিংটনের প্রতি আন্তর্জাতিক আইন ও এর প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মান করার এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে দুর্বল না করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। আইএসইএএস-ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের আসিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ও সমন্বয়কারী এবং এ জরিপের গবেষক জোয়ান লিন বলেছেন, ‘এ বছরের জরিপ থেকে বোঝা যায় যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন প্রভাবের ভিত্তি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।’ প্রতিবেদনটি প্রকাশের জন্য গত ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে, প্রতিষ্ঠান বাওয়ার-গ্রুপ এশিয়ার উর্ধ্বতন উপদেষ্টা এবং সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও পরামর্শক স্কট মার্সিয়েল বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মার্কিন নেতৃত্ব নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হলো ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতার ওপর আস্থা কমে গেছে।’ মার্সিয়েল বলেছেন, উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কারোপ এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন, যা এই বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় দেখা গেছে, তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। মার্সিয়েল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে মিলে ইরান সংঘাত শুরু করেছে, যা স্পষ্টতই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং এ অঞ্চলে ও বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের ভূমিকা পালন করছে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।’ এদিকে জরিপটিতে দেখা গেছে, আসিয়ানজুড়ে চীনের সাথে সম্পর্কের উন্নতির প্রত্যাশা বাড়ছে, কারণ ৫৬.৬ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে, আগামী তিন বছরে চীনের সাথে তাদের দেশের সম্পর্ক উন্নত হবে বা উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হবে, যেখানে মাত্র ৩২.৮ শতাংশ মনে করেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই অঞ্চলের সম্পর্কের উন্নতির আশা করেন। এছাড়া প্রায় ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক পদক্ষেপকে অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে অস্বস্তির প্রাথমিক উৎস হিসেবে ভূ-অর্থনৈতিক উদ্বেগের দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনকে চিহ্নিত করে। প্রতিবেদনটিতে দেখা গেছে, চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্বজনীন প্রতারণা চক্র, দক্ষিণ চীন সাগর, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংকট এবং আসিয়ানের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন- এসব বিষয়ও উত্তরদাতাদের প্রধান আগ্রহের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। এশিয়ান অবজারভার।
২০২৭ সালের মধ্যে গোটা রাখাইনের দখল নেয়ার ঘোষণা আরাকান আর্মির
আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জনের ঘোষণা দিয়েছে সেখানকার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। গত ১০ এপ্রিল শুক্রবার আরাকান আর্মির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই লক্ষ্যের কথা জানান সশস্ত্র গোষ্ঠীটির প্রধান মেজর জেনারেল তোয়াই ম্রা নাইং। দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘মিয়ানমার নাউ’ এ খবর দিয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের ১৪টি টাউনশিপ এবং দক্ষিণ চিন রাজ্যের পালেতওয়া দখল করেছে আরাকান আর্মি। বর্তমানে রাখাইনের মাত্র তিনটি টাউনশিপ, রাজধানী সিত্তুয়ে, কিয়াকফিউ এবং মানাউং মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ভাষণে তোয়াই ম্রা নাইং বলেন, ‘আমরা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাব।’ তিনি আরও জানান, মিয়ানমারের নিপীড়ক সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে যৌথ লড়াই অব্যাহত রাখবে তার বাহিনী। ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর রাখাইনে জান্তা-বিরোধী জোরালো অভিযান শুরু করে আরাকান আর্মি। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যে ‘অপারেশন ১০২৭’ শুরু করেছিল ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’। আরাকান আর্মি এই জোটেরই সদস্য। সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোয় ইতোমধ্যে নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তুলেছে তারা। তবে জান্তা বাহিনীর অব্যাহত বিমান ও নৌ-হামলার কারণে রাজ্যে বেসামরিক নাগরিকদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। ২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল মিয়ানমার-চীন সীমান্তের লাইজায় মাত্র ২৬ জন সদস্য এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল আরাকান আর্মি। ১৭ বছরের ব্যবধানে তারা এখন মিয়ানমারের অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ইরাবতী।
যুদ্ধে চরম দারিদ্র্য ঝুঁকিতে ৩২ মিলিয়ন মানুষ : জাতিসংঘ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহ অর্থনৈতিক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি ও খাদ্যের উচ্চমূল্য বিশ্বকে এক ‘ত্রিমুখী ধাক্কার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইউএনডিপির প্রশাসক ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, ‘এই যুদ্ধ উন্নয়নের গতিকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। যুদ্ধ এখনই থেমে গেলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থেকে যাবে। বিশেষ করে যারা দারিদ্র্য থেকে দীর্ঘ চেষ্টায় উঠে এসেছিলেন, তারাই আবার নতুন করে এর শিকার হচ্ছেন- এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে হামলার পর গত ছয় সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে সার উৎপাদন ও শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ‘খাদ্য নিরাপত্তা টাইমবোম’ তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী (দৈনিক আয় ৮.৩০ ডলারের নিচে) দারিদ্র্যের এই হার গণনা করা হয়েছে। ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- যদি যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবে। এছাড়া আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোসহ মোট ৩৭টি জ্বালানি আমদানিকারক দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সংকট মোকাবিলায় ইউএনডিপি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলারের নগদ অর্থ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে দেখা যাচ্ছে, উন্নত দেশগুলো (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি) নিজেদের সামরিক ব্যয় বাড়াতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সাহায্য কমিয়ে দিচ্ছে। ২০২৫ সালে উন্নত দেশগুলোর এই সাহায্যের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ১৭৪.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আলেকজান্ডার ডি ক্রু সতর্ক করে বলেন, ‘উন্নয়নে বিনিয়োগ করা মানে হলো যুদ্ধের বিরুদ্ধে আগাম প্রতিরোধ গড়ে তোলা। যদি আমরা দারিদ্র্যবিমোচন ও জলবায়ু অভিযোজনে বিনিয়োগ না করি, তবে বিশ্ব স্থিতিশীলতা হারাবে। রয়টার্স।
তুরস্কই হতে যাচ্ছে ‘নতুন ইরান’ : ইসরাইল
সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্সের গবেষক বেন মেনাখেম সতর্ক করেছেন যে, তুরস্ক এখন ইসরাইলের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান কৌশলগত হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। তার মতে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের নীতিগুলো কেবল বাগাড়ম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি সোজাসুজি দাবি করেছেন, ‘তুরস্কই হলো নতুন ইরান।’ মেনাখেমের দাবি, আঙ্কারা নিঃশব্দে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন সুন্নি ব্লক গঠনের কাজ করছে। তাদের ধারণা, ইরানি শাসনব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে বা ভেঙে পড়বে। শিয়া অক্ষের পতনের ফলে যে আঞ্চলিক শূন্যতা তৈরি হবে, তুরস্ক তা পূরণ করতে চায়। এই পরিকল্পনায় তুরস্কের সাথে সৌদি আরব, মিশর এবং পাকিস্তানকে যুক্ত করে আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনের লক্ষ্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আঙ্কারার নেওয়া পদক্ষেপগুলো মেনাখেমের এই মূল্যায়নের সাথে মিলে যায়। ফিলিস্তিনি ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি স্বার্থের বিরোধিতা করার মাধ্যমে তুরস্ক নিজেকে আঞ্চলিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। রয়টার্স।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান