ঝরে পড়ছে বিপুল শিক্ষার্থী
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪২
৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য
অবকাঠামো থাকলেও নেই পর্যাপ্ত মনিটরিং
॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
নানা সমস্যায় জর্জরিত প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ক্রমাগত ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী। ৩৪ হাজারেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় নতুন করে আলোচনায় প্রাথমিক শিক্ষা খাত। পর্যাপ্ত মনিটরিং, বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাবে দিন দিন শিক্ষার ভিত গড়ার এ খাতে সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই, যার ফলে পাঠদান ও প্রশাসনিক তদারকি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি ও মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ৬৫ হাজার ৪৫৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৩৪ হাজার ১৫৯টি প্রধান শিক্ষকের পদই এখন শূন্য। বিশাল এই শূন্য পদ পূরণে বিধিমালা সংশোধন করা হলেও আইনি জটিলতায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে থাকায় সংকট কাটছে না।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার বিধান রয়েছে। গত বছর এই বিধিমালা চূড়ান্ত করা হলেও সিংহভাগ পদোন্নতিযোগ্য পদের জট খুলছে না একটি চলমান মামলার কারণে। ফলে যোগ্যতাসম্পন্ন হাজার হাজার সহকারী শিক্ষক পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ করেও দায়িত্ব পাচ্ছেন না।
গত বছর জারি করা নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতে হলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে মৌলিক প্রশিক্ষণ ও চাকরি স্থায়ীকরণ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সারা দেশে এমন কয়েক হাজার সহকারী শিক্ষক রয়েছেন, যাদের এই অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা আছে; কিন্তু আদালতের একটি মামলার স্থগিতাদেশের কারণে মন্ত্রণালয় তাদের পদোন্নতির আদেশ দিতে পারছে না।
ক্রমাগত ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঝরেপড়া। দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী প্রাথমিক পর্যায় থেকে ঝরে পড়ছে। ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রাথমিকে মোট শিক্ষার্থী ২ কোটি ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৯১ জন। ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৯০ হাজার ৫৭ জন। ২০২১ সালের তথ্যানুযায়ী ঝরে পড়ার হার ছিল ১৪ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা ২০২০ সালে ছিল ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ। এ থেকে বোঝা যায়, দেশে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার কিছুটা কমেছে। তবে এই হার এখনো উদ্বেগজনক।
দেশের প্রায় ১৮.৭% শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এদের বেশিরভাগই আবার গ্রামে (২০.৫%) বাস করে, যাদের অনেকেরই আর্থিক সামর্থ্য সীমিত। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হবার কারণে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে অল্প বয়স থেকে বিভিন্ন পেশায় সম্পৃক্ত করে। যার দরুন যে বয়সে পড়াশোনা করার কথা, সে বয়সে শিশুরা পরিবারের উপার্জনের কাজে নিয়োজিত থাকে। ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ এভাবে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো পিতা-মাতার অসচেতনতা। বাংলাদেশের গ্রামঞ্চলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক অভিভাবক এখনো শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে অসচেতন। সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারে তারা খুব বেশি জোর দেন না। ফলে সন্তানরা স্কুলে গেল কিনা, সে বিষয়ে তারা খেয়াল রাখেন না।
শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে যোগাযোগের অভাব ও সমন্বয়হীনতা। অনেক শিক্ষার্থী একটানা কয়েকদিন অনুপস্থিত থাকলেও শিক্ষকরা খোঁজ নেন না। বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকদের কোনো যোগাযোগ থাকে না। টানা কয়েকদিন একজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে সেই শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার পেছনে একটা বড় ভূমিকা রাখে। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রতিকূল ভেবে বিদ্যালয় ছেড়ে দেয়। দেখা যায়, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, কর্কশ ভাষা ব্যবহার করেন কিংবা কড়া শাসনের মধ্যে রাখেন। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। শিক্ষার্থীদের ভেতরে ভয় কাজ করলে তারা শেখার প্রতি আকৃষ্ট হয় না। এতে ভীত হয়ে দুর্বল শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করে।
মানসম্মত শিক্ষকের অভাব : ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভালো ভবন তৈরি করা হলেও নেই বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষক। এমনকি মোট বিদ্যালয়ের অর্ধেকগুলোতেই নেই প্রধান শিক্ষক। সর্বশেষ তথ্য মতে, ৩৪ হাজার ১৫৯টি প্রধান শিক্ষকের পদই এখন শূন্য। ফলে মুখ থুবড়ে পড়ছে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম। ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়গুলোয় শৃঙ্খলা কার্যক্রম। ব্যাহত হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষাদান। সহকারী শিক্ষকদের দিয়ে ওই বিদ্যালয়গুলো কোনোমতে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। সারা দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী ওসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ ও ৬৫ শতাংশ পদোন্নতিযোগ্য প্রধান শিক্ষক পদ রয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় সরাসরি নিয়োগ হওয়া প্রায় ২০ হাজার প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু বিগত ২০১৭ সালে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৮ হাজার প্রধান শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই অবসরে চলে গেছেন। এখন ৩৪ হাজার ১০৬টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। মূলত মামলা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় পূরণ করা যাচ্ছে না প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সূত্র জানায়, পদোন্নতি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষকরা আগ্রহ হারাতে বসেছেন পাঠদান কার্যক্রমে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদেই অনেকের চাকরি শেষ হওয়ার পথে। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী সাত বছরে শিক্ষকতা শেষে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওই পদোন্নতি হচ্ছে না।
এদিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানে অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের নজির নেই। সেজন্য সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষকসহ সব পদে শতভাগ পদোন্নতি দেয়া হোক এবং তরুণ ও মেধাবীদের প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানে উৎসাহিত করা হোক।
তবে সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ ব্যয় হলেও এর আশানুরূপ মানোন্নয়ন হচ্ছে না, এটা অবনতির দিকে। স্কুলগুলোয় শিক্ষক ও জনবল সংকটসহ নানা কারণে এ সংকট।
তিনি বলেন, আমরা শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে শুধু মুখে বলি কিন্তু মানি না এবং এর বাস্তব প্রয়োগও নেই। শিক্ষার উন্নয়নে যারা স্থায়ীভাবে কাজ করেন, এটার দায় তাদের। আমরা অস্থায়ীভাবে এসেছি, কদিন কাজ করে আবার চলে গিয়েছি। নির্বাচিত সরকারকেই এ সকল সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের ঢালাও জাতীয়করণের বিরূপ প্রভাব
প্রাথমিক শিক্ষার অনেক সমস্যার সমাধান না করেই হুট করে বিগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে একই সঙ্গে সারা দেশে ২৬ হাজার ১৯৩টি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। সেই থেকেই মূলত সমস্যার শুরু। বর্তমানে সব মিলিয়ে বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। উপযুক্ত দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু এ স্কুলগুলোয় আগে থেকেই দক্ষ শিক্ষকের অভাব প্রকট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক তাপস কুমার বিশ্বাস বলেন, ভালো পড়াশোনা, ভালো ফল, ভালো পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের বিশেষ যত্ন নিলেই অভিভাবকদের বিশ্বাস ও আস্থা ফিরবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
অভিভাবকরা বলছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়াতে ব্যয় অনেক বেশি। সংসারে চাপ পড়ে। কিন্তু সরকারিতে পড়ানোর ভালো মান না থাকায় বাধ্য হয়ে লোকজন বেসরকারির দিকে ঝুকছে। তবু সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তারা ‘ভালো স্কুলে’ ভর্তি করান। ঢাকার মিরপুরের সালমা ইসলাম বলেন, তার প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া সন্তানকে ভর্তি করাতে ২১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। মাসে বেতন দুই হাজার টাকা। এর বাইরে নানা ছুঁতোয় বেসরকারি স্কুলগুলো টাকা নেয়। তিনি বলেন, ‘আমি সন্তানকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিতে চাই। তবে পরিবেশ ও শিক্ষার মান ভালো করা দরকার।’ এই অভিভাবক আরও বলেন, ‘সেদিন খবরে দেখলাম দিল্লির সরকারি বিদ্যালয়গুলো বদলে গেছে। দেশেও সেই উদ্যোগ দরকার।’
‘মিড ডে মিলের’ বাস্তবায়ন
দেশের অনেক উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর বিস্কুট দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেটি বন্ধ রয়েছে। শোনা গিয়েছিল দেশে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড ডে মিল’ বা ‘দুপুরের খাবার’ চালু করা হবে। এই কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে গিয়েও বর্তমানে থমকে আছে। এর প্রভাব পড়ছে উপস্থিতিতে। যদি মিড ডে মিল চালু করা যায় যা প্রতিবেশী দেশে রয়েছে, তাহলে টেকসই প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব। অতএব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাথমিক এবং পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিকেও ‘মিড ডে মিল’ বাস্তবায়ন করা হোক।
পদোন্নতি
পদোন্নতি একটি চাকরিতে কাক্সিক্ষত বিষয়। প্রত্যেকেই চায় তার যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় পর পদোন্নতি পেতে। অথচ প্রাথমিকে যেন পদোন্নতি একটি দুরাশামাত্র। চাকরিকাল শেষের দিকেও পদোন্নতি বঞ্চিত প্রাথমিকের অসংখ্য শিক্ষক। সূত্র অনুযায়ী, ১৫ বছরেও পদোন্নতি পাননি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার লাখ শিক্ষক। বিগত সময়ে প্রাথমিকে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী শিক্ষক হিসেবে এসেছেন। কিন্তু তাদের অনেককেই ধরে রাখা যায়নি। এর কারণ মেধাবীদের ধরে রাখার মতো একটি বেতনকাঠামো, পদোন্নতির সম্ভাবনা এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় তারা অন্য চাকরিতে চলে গেছেন। অথচ মেধাবীদেরও এই খাতে সবচেয়ে বেশি দরকার। একজন শিক্ষক সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তার যোগ্যতা অনুযায়ী এবং ডিপার্টমেন্টের নিয়ম মেনে তার ওপরের পদে যাবেন এটাই স্বাভাবিক। এটা যদি সফট হয়, তাহলেই মেধাবীরা আশান্বিত হন। কিন্তু বাস্তব ভিন্ন। সুতরাং একজন সহকারী শিক্ষক যেন সহকারী শিক্ষা অফিসার এবং ন্যূনতম শিক্ষা অফিসার পর্যন্তও যেতে পারে সেই পথটুকু সফট করা প্রয়োজন। অতীতে এ ধরনের উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বহু বছর এ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন শিক্ষকরা। ফলে দিন দিন হতাশা বাড়ছে, যা শিক্ষার মান কমার পেছনে একটি উল্লেখযোগ্য কারণ।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গতানুগতিক ধারা বদলে আধুনিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তিনি শিক্ষকদের ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছ শিক্ষক নিয়োগ এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের কাজ চলছে, যা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়া ২০১৬ থেকে ২০২৬ মেয়াদে সারা দেশে চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচল এলাকায় নতুন বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আরও একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।