রিমান্ডে মামুন খালেদসহ ওয়ান-ইলেভেনের ৩ কুশীলব

বেরিয়ে আসছে ওয়ান-ইলেভেনের নেপথ্যের সব কাহিনী


১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪০

॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, তবে সেই নির্বাচনটি আর হয়নি। কিন্তু কেন হয়নি? ওই সময় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেনÑ এই ইস্যুতে শুরু হওয়া আন্দোলন ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয় আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা। এর জেরে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারিতে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিলো, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ওয়ান-ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলোর দাবি ও বিশেষ চাপে তখনকার প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। একই সাথে তিনি সে বছরের ২২ জানুয়ারি যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, সেটি বাতিল করেছিলেন। এর সূত্র ধরেই ক্ষমতায় এসেছিলো সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, যার প্রধান হয়েছিলেন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ। আর তখন সেনাপ্রধান ছিলেন জেনারেল মইন উ আহমেদ। ওয়ান-ইলেভেনের সেই সময়কার ক্ষমতার বেশ কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা এখন গ্রেফতার রয়েছেন, কেউ রিমান্ডেও রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে ওই সময়কার নানা অজানা তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।
জেনারেল মইন উ আহমেদ সে সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ‘শান্তির স্বপ্নে : সময়ের স্মৃতিচারণ’ নামক একটি বই লিখেছেন। সে বইতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি, নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের আল্টিমেটাম এবং বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের অবস্থান বিশেষ করে নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালাম। জাতিসংঘ মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হলে যে বিপর্যয় ঘটতে পারে, তা সবিস্তারে বর্ণনা করলাম। নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রেসিডেন্টকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে সচেষ্ট হলো।” সার্বিক বিবেচনায় সামরিক কর্মকর্তারা তখন জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে তাদের যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, যা তখনকার পরিস্থিতিতে উপেক্ষা করা প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ওই সময়কার প্রেসিডেন্টকে যে বাধ্য করা হয়েছিল নির্বাচন বাতিল করতে এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে জেনারেল মইন উ আহমেদের লেখা বইয়ে তারই ইঙ্গিত পান বিশ্লেষকরা।
কারা পরিকল্পনায় ছিলেন
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের মূল পরিকল্পনাকারী বা কুশীলব হিসেবে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ, ডিজিএফআই-এর তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারীকে প্রধানত দায়ী করা হয়। এছাড়া এ প্রক্রিয়ায় অনেকের সম্পৃক্ততা ছিল। জেনারেল মইন উ আহমেদ তৎকালীন সেনাপ্রধান, যিনি পর্দার আড়ালে থেকে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী- এই দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিকল্পনার বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। ওই সময়কার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ, যাকে এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তৎকালীন পরিস্থিতি বা মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের পেছনে প্রধানত সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা ও প্রভাব ছিল, এর সঙ্গে প্রভাবশালী কয়েক রাজনীতিক জড়িত ছিলেন, যারা রাজনীতির শীর্ষনেতেৃত্বে দুই নেত্রীকে চাচ্ছেন না। ওয়ান-ইভেলেন ঘটানোয় জেনারেল মইন উ আহমেদই শীর্ষে ছিলেন বলে উঠে আসছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।
রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের হেনস্তায় কারা ছিলেন
ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা, ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ টানা ১৫ দিন রিমান্ডে ছিলেন। এরপর গত ৯ এপ্রিল তাঁকে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে, যা শেষ হয়েছে গত ১২ এপ্রিল রোববার। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে জিজ্ঞাসাবাদে মামুন খালেদ এক-এগারোর ষড়যন্ত্র, এর মূল পরিকল্পনাকারী ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন। মামুন দাবি করেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভাঙন সৃষ্টির পরিকল্পনাও দুই সম্পাদকের। তাঁর মতে, বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। দুজনই বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সুবাদে মান্নান ভূঁইয়াকে সংস্কারের পক্ষে রাজি করাতে ভূমিকা রাখেন মতিউর রহমান। এক-এগারোর পরপরই প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার বিএনপিতে বেগম জিয়ার বিরোধীদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে তাঁদের লাইমলাইটে আনার চেষ্টা করে। মামুনের মতে, আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর সঙ্গেও মইন উ আহমেদের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন মতিউর রহমান। মামুন দাবি করেন, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এ দুই সম্পাদক। তাঁর মতে, মইন সে সময় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন না নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু এ দুই সম্পাদক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে সেনাপ্রধানের সঙ্গে মিটিংয়ে বসতেন।
গণমাধ্যমে কি নিউজ প্রকাশিত হবে, তাও ঠিক করা হতো সেনানিবাসে
মামুন খালেদ দাবি বরেন, তাঁকে ডিজিএফআইয়ে বদলি করা হয় এক-এগারোর মাঝামাঝি সময়ে। প্রথমে তিনি সেখানে পরিচালক মিডিয়া হিসেবে যোগদান করেন। পরে ফখরুদ্দিন সরকার যখন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে, তখন তাঁকে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। মিডিয়া পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের নেতৃত্বে একটি কোর গ্রুপ এক-এগারোর সরকার পরিচালনা করত। ওই সময়ের সেনাপ্রধান মইন সেনা সদরে তাঁদের নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠক করতেন। কার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে কী নিউজ করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো এ বৈঠকে। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের প্রেস সচিব ফাহিম মুনয়েম ওই বৈঠকে থাকতেন। ফাহিম মুনয়েম প্রেস সচিব হওয়ার আগে ডেইলি স্টারের ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মামুন জানান, কোন রাজনীতিবিদ বা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কখন কী লেখা হবে, তার প্রস্তাব করতেন প্রয়াত ফাহিম পরে বৈঠকে তা চূড়ান্ত হতো। মামুন খালেদ দাবি করেন, তিনি এক-এগারোর ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন না, ছিলেন বাস্তবায়নকারী।
সরকার পরিচালনায় দৃশ্যপটে ছিলেন ফখরুদ্দিন, নেপথ্যে ছিলেন…
ফখরুদ্দিন সরকারে প্রধান উপদেষ্টাসহ বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ছিলেন নামমাত্র। তাঁরা পুতুল ছিলেন। মূলত তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের নেতৃত্বে একটি কোর গ্রুপ এক-এগারোর সরকার পরিচালনা করত। মইন সেনা সদরে তাঁদের নিয়ে বৈঠক সব সিদ্ধান্ত নিতেন। সরকার কীভাবে চলবে, কাকে গ্রেপ্তার করা হবে, সব সিদ্ধান্তই নেওয়া হতো ওই বৈঠকে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। জেনারেল মইন উ আহমেদ, জেনারেল মাসুদ উদ্দিন, ব্রিগেডিয়ার বারী, ব্রিগেডিয়ার আমিন, দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান জেনারেল (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরী, তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সুজনের নির্বাহী পরিচালক বদিউল আলম মজুমদার, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের প্রেস সচিব ফাহিম মুনয়েম মইনের কোর গ্রুপের সদস্য ছিলেন। এরাই বৈঠক করে সব সিদ্ধান্ত নিতেন। রিমান্ডে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাইরের বক্তিবিশেষ কাছে এসব বলছেন ওই সময়কার ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদ।
উপদেষ্টা মইনুল হোসেনকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো?
বিখ্যাত সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। ১৯৪০ সালের ৩১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক ও আইনজীবী ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। ২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তথ্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ওই বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনি দায়িত্ব নেন, ২০০৮ সালের ৮ জানুয়ারি তাকে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। ফখরুদ্দিন ও মইন উ আহমেদ সরকারের বিভিন্ন অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় তাকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। এর আগে মইনুল হোসেন ১৯৭৩ সালে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ-১৭ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য মনোনীত হন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশালের প্রচলন করলে প্রতিবাদস্বরূপ তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।
গ্রেফতারের জন্য শীর্ষ রাজনীতিকদের তালিকা করতেন যারা
প্রথম আলো সম্পাদক ও ডেইলি স্টার সম্পাদকই সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজ ও শীর্ষ রাজনীতিদের গ্রেফতারে তালিকা তৈরি করেছিলেন বলে জানিয়েছেন মামুন খালেদ। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক্সিট প্ল্যান নিয়ে মইনের সঙ্গে বারী ও আমিনের বিরোধ হয়। এ সময়ে সেনাবাহিনীর মধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেনাসদস্যরা ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। মামুন বলেন, জেনারেল মইনের ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর এক-এগারো সরকারের পরিকল্পনা পরিবর্তন হতে শুরু করে। এ সময়ে উপদেষ্টা পদ থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচনের পথে হাঁটতে শুরু করে। ওয়ান-ইলেভেনের নেপথ্যের সব কাহিনী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মামুন খালেদ। গোয়েন্দা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
তিন কুশীলব মুখোমুখি
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছের গ্রেফতারের পর তাদের মুখোমুখি করা হচ্ছে। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন পর্বে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বহু ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে অর্থ আদায়, গুম ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে এই সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। জিজ্ঞাসাবাদের অংশ হিসেবে তাদের বিভিন্ন ‘প্লেস অব অকারেন্স’ বা নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত স্থানগুলোয়ও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা। তারা জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য দিয়েছেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তাদের মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
গোয়েন্দা পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা
ওয়ান-ইলেভেন ও পরবর্তী সময়ে নির্যাতনের শিকার কয়েকজন ব্যক্তি ইতোমধ্যে ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাদের আনুষ্ঠানিক মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত নতুন মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইনগত ব্যবস্থা নিতে হলে লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা প্রয়োজন। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুরো অভিযানের সমন্বয়কারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সে সময় তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমন অভিযান-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং প্রায়ই দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) যাতায়াত করতেন।
দুদক সূত্র বলছে, তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ এই কুশীলবদের নেতৃত্বে থাকলেও প্রকাশ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন খুবই তৎপর। দুদকের মামলায় কাউকে রিমান্ডে নেওয়া সম্ভব না হলে পুলিশের দায়ের করা অন্য মামলায় হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ওয়ান-ইলেভেনের এই কুশীলবদের বিরুদ্ধে। জরুরি অবস্থা চলাকালে সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করার সুযোগ ছিল না বলেও জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। এদিকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর নামে অতিরিক্ত ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আগেই মামলা করেছে দুদক। ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও মামুন খালেদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক মামলায় গ্রেফতার দেখাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিদেশে লোক পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামুন খালেদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।