অঙ্গীকার করেও জুলাই বিপ্লব থেকে সরে যাচ্ছে বিএনপি
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৪৬
॥ জামশেদ মেহদী ॥
বিএনপি যে জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করে না, সেটি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল অনেক আগেই টের পেয়েছিলেন। দলটি কথার মারপ্যাঁচে সেটি নিয়ে একটি ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছিলো। কিন্তু সত্যকে আর কতদিন চাপা দিয়ে রাখা যায়? সত্য তার নিজস্ব রূপে একদিন না একদিন ভাস্বর হবেই। বিএনপি সরাসরি জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে না গিয়ে জুলাই সনদ নিয়ে ধানাই-পানাই করছিলো। কিন্তু অবশেষে যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে উঠলো, তখনই বিএনপির মুখোশ উন্মোচিত হলো। ঐ ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৪টি অধ্যাদেশ সংসদে ব্রুট মেজরিটির জোরে সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে সংশোধন করা হবে- এই বাহানা তুলে ১৬টি অধ্যাদেশ স্থগিত করেছে। যে সংবিধানের দোহাই বিএনপি কথায় কথায় পাড়ে, সেই সংবিধান মোতাবেক গত ১২ এপ্রিলের মধ্যে ড. ইউনূসের আমলে প্রণীত অধ্যাদেশসমূহ সংসদে গ্রহণ বা সংশোধন বা র্যাটিফাই না করলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে। আলোচ্য ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে সরকার উত্থাপন না করায় সেগুলোও ১৩ এপ্রিল থেকে অকার্যকর হয়ে গেছে। লক্ষ করার বিষয় হলো, বাতিল ৪টি অধ্যাদেশসহ এই ১৬টি অধ্যাদেশ, অর্থাৎ মোট ২০টি অধ্যাদেশ ছিল জুলাই সনদ সম্পর্কিত। এখন এগুলো বাতিল বা অকার্যকর হওয়ার ফলে জুলাই সনদের ঐ অনুচ্ছেগুলো হয় বাতিল হলো, না হয় অকার্যকর হলো। অকার্যকর হওয়াকেও বাতিল হওয়ার সাথে শামিল করা যায়। এই ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীত দমন কমিশন (সংশোধিত), সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।
এ সম্পর্কে দৈনিক প্রথম আলো গত ১০ এপ্রিল মন্তব্য করেছে, ‘বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকার বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল বা সংশোধনে কোনো পদক্ষেপ না নিলেও যে অধ্যাদেশগুলোয় জনগণের দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রাম ও আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে, সেগুলো বাতিল, স্থগিত বা সংশোধনের পথে গিয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সংবিধানের স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতাকাঠামোর টেকসই সংস্কার নিয়েও তৈরি করেছে অনিশ্চয়তা।’ যেসব অধ্যাদেশ জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছিলো, কিন্তু বিএনপি সরকার সেগুলো বাতিল বা অকার্যকর করেছে, তার কয়েকটি অতি সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো-
গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিধানাবলি মেনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এতে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এর সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে গুম প্রতিরোধে ‘আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি (বিএনপির ইশতেহার, পৃষ্ঠা ১০) দিলেও এখন গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চাচ্ছে না। সরকারের যুক্তি হলো, জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটকের ঘটনাকে গুমের সংজ্ঞা থেকে বাদ দিতে হবে। সেই সঙ্গে গুমের অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে।
এই অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি হচ্ছে, কমিশন কোনো মন্ত্রণালয়ের আওতায় না থাকায় তদারকি কীভাবে হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের আগে সরকারের অনুমতি লাগবে। গ্রেপ্তারে আদালতের পরিবর্তে সরকারের অনুমতি লাগবে। বাছাই কমিটিতে আরও সরকারি প্রতিনিধি যোগ করতে হবে।
সরকারের এসব যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ মানবাধিকার কমিশন যদি সরকারের মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকে, তাহলে আলাদা করে এই কমিশন করার প্রয়োজন থাকে না। কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যই হলো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে নির্বাহী বিভাগের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত করা।
এখন সরকারের যুক্তি মেনে এই কমিশনে যদি সরকারি প্রতিনিধি আরও বাড়ানো হয়, কমিশনের তদন্তে যদি সরকারের অনুমোদন লাগে, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও যদি আদালতের বদলে সরকারের অনুমতি লাগে, তাহলে এই কমিশনের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না।
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সাত সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করে দুদকে কমিশনার নিয়োগের বিধান করা হয়েছিল। এই বাছাই কমিটিতে অন্তত তিনজন সরকারি প্রতিনিধি থাকবেন। বিএনপি সরকার বাছাই কমিটিতে আরও বেশি সরকারি প্রতিনিধি যুক্ত করতে চায়। সাত সদস্যবিশিষ্ট সার্চ কমিটিতে তিনজনের বেশি সরকারি প্রতিনিধি যুক্ত করার অর্থ হলো, কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হবেন। ফলে সরকারের পছন্দের ব্যক্তি দুদকের কমিশনার হবেন। এতে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত আশা করা যায় না।
অথচ বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে দুদকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। দুদক সংস্কার-সংক্রান্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গৃহীত সংস্কারগুলো যথেষ্ট নয় বলে বিএনপি মনে করে।’ (বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, পৃষ্ঠা ৯)।
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি দুদক অধ্যাদেশে যে সংশোধনী চায়, তা দুদকের স্বাধীনতা বৃদ্ধির বদলে সংস্থাটিকে আরও আজ্ঞাবহ করে তুলবে।
বিচার বিভাগ সম্পর্কিত দুটি অধ্যাদেশ অকার্যকর করে বিএনপি তাদের ঘোমটা ছুড়ে ফেলেছে। সেই পাকিস্তান আমল থেকে আজ পর্যন্ত কয়েকটি বিষয়ে দাবি শুনে আসছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংবাদপত্র ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, রেডিও ও টেলিভিশনের স্বাধীনতা ইত্যাদি। এর মধ্যে বহুল আলোচিত বিখ্যাত মাসদার হোসেন মামলায় উচ্চ আদালত বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দাবিকে সমুন্নত করে। তার পর স্বাধীন বাংলাদেশে ৫৪ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অধরাই থেকে গিয়েছিলো।
যে দুটি অধ্যাদেশ ব্রুট মেজরিটির জোরে গত ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিএনপি সরকার বাতিল করলো তার একটি হলো, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ। আর একটি হলো, সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা। এই দুটি দাবিই কিন্তু সেই পাকিস্তান আমল থেকেই শুনে আসছি, যেগুলো আমি এই ভাষ্যের শুরুতেই বলেছি।
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যে কয়টি ভালো কাজ করেছে, তার মধ্যে এই দুটি অধ্যাদেশ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। গত ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার এই দুটি অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার ফলে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ আবার শেখ হাসিনার জমানার বিচার বিভাগে ফিরে গেল।
বিচার বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারে বর্তমান সংবিধানে যা আছে, সেই মোতাবেক প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। কিন্তু বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বিগত ৫০ বছর ধরে জনগণ যে দাবি উত্থাপন করে আসছিলেন, সেই পটভূমিতে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশ মোতাবেক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম প্রেসিডেন্ট বরাবর সুপারিশ করবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ঐ অধ্যাদেশ গত ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিএনপি সরকার রহিত করার ফলে বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলো। অর্থাৎ শেখ হাসিনা যেরূপ ইচ্ছামতো বিচারপতি নিয়োগ করতেন, এখন সেই একই ক্ষমতা বর্তমান বিএনপি সরকারকেও দেওয়া হলো।
অন্তর্বর্তী সরকার আরেকটি অধ্যাদেশ জারি করে, যেখানে বলা হয়, অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন। বৃহস্পতিবার এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের ফলে ফ্যাসিবাদী জমানার বিচার বিভাগে ফিরে গেল বাংলাদেশ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো এই যে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের পর অধ্যাদেশটি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছিলো। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সেই সচিবালয় উদ্বোধনও করেছেন। বেশ কয়েকজন অফিসার ও কর্মচারীও সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের কী হবে?
কয়েকদিন আগে হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছেন এবং বিচারপতি নিয়োগ ও সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সমুন্নত করেছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই আপিলের ফলাফল জানার আগেই এত তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশ দুটি বাতিল গভীর ষড়যন্ত্রমূলক এবং দুরভিসন্ধিমূলক।
সবচেয়ে বড় গণবিরোধী যে কাজটি বিএনপি সরকার করেছে, সেটি হলো, তারা গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটকে অবজ্ঞা করেছে। অথচ এই গণভোটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন এদেশের ৭০ শতাংশ ভোটার। আওয়ামী আমলে প্রণীত বর্তমান মুজিববাদী সংবিধান বিএনপির কাছে এতই প্রিয় হয়েছে যে, তারা সেই সংবিধানকে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা ও সার্বভৌমত্বেরও ওপরে স্থান দিয়েছে। অথচ জুলাই বিপ্লব সংবিধান মেনে হয়নি। যে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, সেই নির্বাচনও সংবিধান মোতাবেক হয়নি। বিএনপি এ সম্পর্কিত প্রেসিডেন্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
প্রেসিডেন্টের আদেশ অবৈধ এবং সেই কারণে বিএনপি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে অস্বীকার করেছে। অথচ সেই একই আদেশ বলে নির্বাচন হয়েছে এবং গণভোটও হয়েছে। এই গণভোটের পক্ষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণায় জনগণকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন যদি প্রেসিডেন্টের সেই আদেশ অবৈধ হয় তাহলে ঐ নির্বাচনও অবৈধ, বর্তমান জাতীয় সংসদ অবৈধ এবং বর্তমান বিএনপি সরকারও অবৈধ। কিন্তু এ ব্যাপারে বিএনপি আইনকানুনের ধার ধারছে না। জাতীয় সংসদে ব্রুট মেজরিটির জোরে তারা গণভোটকেও অশ্রদ্ধা করেছে।
আসলে বিএনপি সরকার কী চায়, কোথায় তার গন্তব্যস্থল, সে ব্যাপারে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সরকার ব্যাংক রেজ্যুলেশন এ্যাক্ট নামে একটি আইন পাস করেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৫টি ইসলামী ধারার ব্যাংককে একীভূত করে একটি ব্যাংক করা হয়েছিলো। এই ৫টি ব্যাংক হলো এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। এই ৫টি ব্যাংকের মধ্যে ৪টি ব্যাংকই এস আলম গ্রুপের। এই ৫টি ব্যাংকে লালবাতি জ¦লতে যাচ্ছিলো। নাসা গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ ইচ্ছামতো শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলোকে শেষ করে দেয়। শত শত অফিসার ও কর্মচারীকে বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা এবং আমানতকারীদের আমানতের হেফাজত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ঐ ৫ ব্যাংককে একীভূত করে একটি ব্যাংক করে। এরপর থেকে ঐ ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।
নতুন আইন অনুযায়ী সাবেক মালিকরা ব্যাংকে লগ্নিকৃত টাকার সাড়ে ৭ শতাংশ জমা দিয়ে ব্যাংকের মালিকানা ফেরত পাবেন। পরবর্তীতে অবশিষ্ট অর্থ ১০ শতাংশ সরল সুদে ২ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। নাসা গ্রুপের নজরুল এবং এস আলম গ্রুপের সাইফুল আলম উভয়েই আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ফিন্যান্সিয়ার এবং আওয়ামী সরকারের সাথে মিলে ব্যাংক লুণ্ঠনকারী। এখন আলোচ্য আইন পাস করে বিএনপি সরকার সেই ব্যাংকগুলো আওয়ামী মালিকদের ফেরত দেওয়ার পথ কেন করে দিলো, সেটি জনগণের বোধগম্য নয়।
ব্যাংক আইন ছাড়াও বিএনপি সরকার জামুকা সংশোধন বিল পাস করেছে। এই বিল মোতাবেক মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টিকে পাক বাহিনীর সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিলে নোট অব ডিসেন্ট দেয় জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা বলেছিলেন, ‘অধ্যাদেশটি বর্তমান অবস্থায় কোনো পরিবর্তন ছাড়া পাস হলে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামের মতো দলগুলো পাকিস্তানের দল হিসেবে বিদ্যমান থেকে যাবে, যা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।
বিএনপি সরকারের বিগত ২ মাসের কার্যকলাপে বিভ্রান্ত ও সংশয়বাদী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহলের একটি অংশ এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ। গত ১৩ এপ্রিল এক সেমিনারে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করলে গণভোটকে বিনা বাক্য ব্যয়ে এবং বিনা তর্কে গ্রহণ করতে হবে।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামীতে চূড়ান্তভাবে পরাজয় হবে ফ্যাসিবাদের, বিজয় হবে জনগণের। সেই চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এক পা কেটে ফেলার পরও জুলাইযোদ্ধার অনুভূতি হলো, প্রয়োজন হলে পুরো শরীরই দেবো। কিন্তু জুলাই কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেবো না।
Email:jamshedmehdi15@gmail.com