৩৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ খুঁজছে সরকার


১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:২২

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার মাত্র দুই মাসের মাথায় আর্থিকভাবে বেশ চাপে পড়েছে। বাইরে থেকে এই চাপ বোঝা না গেলেও পরিস্থিতি সামলাতে জরুরিভাবে ৩০০ কোটি ডলার (প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা) ঋণ খুঁজছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এমন চাপে পড়েছে সরকার। পণ্য আমদানির দায় মেটানো ও ভর্তুকির জন্য এই অর্থের প্রয়োজন।
একটি সূত্র বলছে, গত মার্চ থেকে আগামী জুন সময়ের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছ থেকে এই ঋণ নিতে চায় সরকার। ঋণ পাওয়া যায় কি না, তা আলোচনা করে দেখতে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে
(ইআরডি) চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি শাখা।
সূত্র আরও জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য চাপের মুখে পড়েছে। এছাড়া এই ঋণ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ধরে রাখা এবং জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানি নিশ্চিতে সহায়তা করা, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সহায়তা দিতে ভূমিকা রাখবে এবং দেশে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সারসহ অন্যান্য পণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে তা ব্যয় করা যাবে।
জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ১৪ কর্মকর্তা গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভায় যোগ দিতে গেছেন। এই সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছে বাড়তি ঋণ চাওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আমদানি ব্যয় মেটানোর চাপে পড়েছে। আমদানি করা জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারে মার্চ-জুন (২০২৬) সময়ে ৩৮ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা বাড়তি ভর্তুকির প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে ভর্তুকি দাঁড়াবে ৯৭ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। বাজেটে ভর্তুকি বরাদ্দ আছে ৫৯ হাজার কোটি টাকা।
ইআরডি সূত্র জানিয়েছে, জরুরি ঋণের জন্য বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ বাড়ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫১ কোটি মার্কিন ডলার। এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা।