ইরান যুদ্ধ কি আরও দীর্ঘ হবে?


২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:০২

মার্কিন রাডারবিমান ধ্বংস, মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারি সংকটে যুক্তরাষ্ট্র
৫০ অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পবিরোধী ৯০ লাখ মার্কিন নাগরিকের বিক্ষোভ
যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি ফেরাতে পাঁচ দফার প্রস্তাব চীন ও পাকিস্তানের

স্টাফ রিপোর্টার : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলার এক মাস অতিক্রম করেছে দুদিন আগেই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথমে ইরানে হামলা হয়, পরে পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করে ইরান। হামলার শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এরপর ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ করে হামলা শুরু করে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা এক মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। এর মধ্যে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরব যুদ্ধ বন্ধে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ইরান আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতার কথা বলছে। এদিকে ইরানে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ জোরদার হচ্ছে। দেশটির ৫০টি রাজ্যে অন্তত ৯০ লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রেডিও তেহরান। এরই প্রেক্ষিতে ইরানি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিজের ঘর সামলাতে মনোযোগী হতে পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ সহজে থামছে না, আরও দীর্ঘ হতে পারে। তবে আশা জাগাচ্ছে চীন ও পকিস্তান। দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি ফেরাতে পাঁচ দফার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। একইসঙ্গে আরও কয়েকটি দেশ যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা শুরু করছে।
৫০ অঙ্গরাজ্যে ৯০ লাখ মার্কিন নাগরিকের বিক্ষোভ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো প্রধান শহরে ট্রাম্পের ঘরোয়া ও বিদেশনীতিসহ নানা নীতির বিরুদ্ধে গত ২৮ মার্চ শনিবার তিন হাজার ২০০’রও বেশি বিক্ষোভ-মিছিল বের করেছেন নাগরিকরা। ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতি তথা বিদেশি অভিবাসীদের গণহারে বহিষ্কারের নীতি ও যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধিরও প্রতিবাদ জানান তারা। ‘নো কিংস’ শীর্ষক মূল সমাবেশটি হয়েছে সেন্ট পল মিনিসোটায়, যেখানে গত শীতকালে অভিবাসনবিরোধী পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছিল। একই উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ সমাবেশ হয় ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, বোস্টন, মিনিয়াপোলিস, শিকাগো, পোর্টল্যান্ড, লস এঞ্জেলস, ফ্লোরিডা, ওরিগেন ও সান ফ্রানসিসকোসহ আরও অনেক শহর ও অঙ্গরাজ্যে। বারমুন্ট অঙ্গরাজ্যের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স প্রতিবাদী সব মার্কিন নাগরিকের উদ্দেশে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেছেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ সম্পর্কে মার্কিন নাগরিকদের কাছে মিথ্যা কথা বলা হয়েছে, ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কে আমাদের মিথ্যা বলা হয়েছে, আর এখন ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে আমাদের মিথ্যা বলা হচ্ছে। এসব বিক্ষোভ মিছিলের অন্যতম সংগঠক সারা পার্কার মার্কিন গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমগুলোকে বলেছেন, ‘নো কিংস’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবাদ সমাবেশগুলোর পর আমরা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও খাদ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করছি, মার্কিন জনগণ ক্ষুব্ধ, তারা কোনো ধরনের রাজতন্ত্র চান না।
মার্কিন রাডারবিমান ধ্বংস, মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারি সংকটে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের হামলায় সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ রাডারবিমান ধ্বংস হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে দূর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার মার্কিন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গত সোমবার (৩০ মার্চ) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণ করা প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ধ্বংস হওয়া বিমানটির লেজ ভেঙে গেছে এবং এর ওপর থাকা বিশেষ গোলাকার রাডারটি মাটিতে পড়ে আছে। আকাশপথের আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এডব্লিউএসিএস)-এর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এ রাডার। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। সাবেক মার্কিন কর্নেল সেড্রিক লেইটন বলেন, এ বিশেষ রাডারবিমান ধ্বংস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতার জন্য একটি বড় আঘাত। এর ফলে মার্কিন যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ করা এবং শত্রুবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে সেগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ রাডারবিমানগুলো দশকের পর দশক ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে। এটি আকাশ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে নজরদারি চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন ১৭টি বিমান রয়েছে, যা তাদের জন্য এক বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংস হওয়া বিমানটির ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে মিলিয়ে সিএনএন নিশ্চিত করেছে যে হামলাটি সৌদি আরবের ওই বিমানঘাঁটিতেই হয়েছে। সিএনএনের আগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এ হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তবে কেউ মারা যাননি।
নিজের ঘরের বিক্ষোভে নজর দিন, ট্রাম্পকে ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র, তখন দেশটির মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। সেই দিকটি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দিকে মনোযোগ ঘোরাতে বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইসরাইলপন্থী নীতিকে ঘিরে সে দেশের জনমনে বাড়তে থাকা ক্ষোভ সম্পর্কে দেশটির প্রশাসনের আরও সজাগ হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে এক মাস ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে গত ২৯ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন পেজেশকিয়ান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গত শনিবারের ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের কথা তোলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, মার্কিন সমাজের একটি অংশ এখন দেশের নীতিনির্ধারণে বাইরের প্রভাব নিয়ে ক্রমে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। পেজেশকিয়ান এ বিক্ষোভকে মার্কিন সমাজের গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। এই বাস্তব পরিস্থিতির কথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক (এআই) বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এআই বিশেষজ্ঞদের উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানানো যে তার দেশের মানুষ ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে। মার্কিন নাগরিকেরা ‘ইসরাইলকে অগ্রাধিকার’ দেওয়ার নীতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ।’ ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘মার্কিন গণতন্ত্রের ওপর রাজত্ব চালানো ‘ইসরাইলি রাজাদের’ ব্যাপারে তারা (মার্কিন নাগরিকেরা) ক্লান্ত।’
পাকিস্তান-চীনের পাঁচ দফার প্রস্তাব
ইরানের সঙ্গে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ ও শিগগিরই এ বিষয়ে শান্তি আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে চীন এবং পাকিস্তান। গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার বেইজিংয়ে পাকিস্তান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক বৈঠকের পর ওই আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে পাঁচ দফার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং এবং ইসলামাবাদ। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত বলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত হয়েছেন। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীর জলসীমায় আটকেপড়া জাহাজ ও ক্রুদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যে প্রকাশিত পাঁচ দফার যৌথ উদ্যোগে উভয় দেশ ওই আহ্বান জানিয়েছে।
চীন ও পাকিস্তানের ৫ দফা উদ্যোগ
বেইজিংয়ে আলোচনার পর পারস্য উপসাগর ও ইরানে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের’ লক্ষ্যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ৫ দফার একটি উদ্যোগ প্রকাশ করেছেন। এক. মধ্যপ্রাচ্যে ‘অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ’ এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় চীন ও পাকিস্তান। দুই. ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিগগিরই শান্তি আলোচনা শুরু করা উচিত। উভয় দেশ বলেছে, এই আলোচনা শুরু করার উদ্যোগে সব পক্ষকে সমর্থন জানাবে চীন এবং পাকিস্তান। তিন. বেসামরিক নাগরিক এবং সামরিক নয়; এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। চার. হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল পথ নিরাপদ করতে হবে। পাঁচ. জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি বিস্তৃত শান্তি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সূত্র: আল-জাজিরা, ডন।
‘নিজেদের তেল নিজেরা বুঝে নাও’, পশ্চিমাদের উদ্দেশে ট্রাম্পের বিদ্রুপ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দামের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে উদ্দেশ করে বিদ্রুপ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যোগ দেয়নি, তারা প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালি থেকে ‘নিজেদের তেল নিজেরাই নিয়ে নিক।’ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালীর কারণে যেসব দেশ জ্বালানি সংকটে পড়েছে বিশেষ করে যুক্তরাজ্য তাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনা অথবা সরাসরি প্রণালিতে গিয়ে তা নিয়ে নেওয়া। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যেসব দেশ হরমুজ প্রণালীর কারণে জেট ফুয়েল পাচ্ছে না, তাদের জন্য আমার পরামর্শ প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনুন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত আছে। দ্বিতীয়ত, সাহস সঞ্চয় করুন, প্রণালীতে যান এবং নিয়ে নিন।’ এর পরের আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ফ্রান্সের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ফ্রান্স তাদের আকাশসীমা দিয়ে সরবরাহবাহী বিমান চলাচলের অনুমতি না দিয়ে ‘খুবই অসহযোগিতা’ করেছে। ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণে অনীহা দেখানো ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প এর আগেও বারবার কড়া সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাদের ভূমিকা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান শুরু করলে ইরানে যাবে দুর্ধর্ষ চেচেন আর্মি!
যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন দিতে দেশটিতে মোতায়েন হতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে চেচেন সামরিক ইউনিটগুলো। বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। প্রতিবেদন অনুসারে, রাশিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান রমজান কাদিরভের অনুগত বাহিনীগুলো ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধকে একটি ধর্মীয় যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করে।
তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য সরাসরি হস্তক্ষেপকে ‘জিহাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানকে রক্ষার জন্য ভালোর পক্ষে মন্দের বিরুদ্ধে লড়াই। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে ও অবৈধ মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ তীব্রতর হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, গত কয়েক সপ্তাহের বিমান অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এ যুদ্ধের সূচনা হয়, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলছিল। ওই সময় ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার এবং দক্ষিণ ইরানের মিনাব এলাকায় ১৭০ জনেরও বেশি শিশুসহ (স্কুলে হামলায়) সাধারণ নাগরিকদের হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রেস টিভি বলছে, এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন পর্যন্ত ৮৬ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা ইসরাইলের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনীয় বাহিনীর উপস্থিতি, যারা প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সমর্থন দিচ্ছে, বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। তাদের এই সম্পৃক্ততা রাশিয়ার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই যুদ্ধের বিস্তৃত প্রভাব মস্কো ও কিয়েভের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। সূত্র: প্রেস টিভি।
যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় চার দেশের বৈঠক শুরু
ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দুই দিনের এই আলোচনায় তারা ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করবেন। এ বৈঠকে যোগ দিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি। ইতোমধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফা প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠিয়েছে। ইরানও তার অবস্থান তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।